দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
জীবনের কম্পাস

 এক. আমাদের আগাগোড়া জীবনটাকে যদি পরখ করি, তাহলে অবাক বিস্ময়ে দেখতে পাবো, আমাদের জীবনে যা কিছু লাভ-ক্ষতি, যা কিছু প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, প্রায...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

জীবনের কম্পাস

 এক.

আমাদের আগাগোড়া জীবনটাকে যদি পরখ করি, তাহলে অবাক বিস্ময়ে দেখতে পাবো, আমাদের জীবনে যা কিছু লাভ-ক্ষতি, যা কিছু প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, প্রায় সবকিছুর মূলে প্রথম এবং প্রধান নিয়ামক হিশেবে যা ছিলো তা হচ্ছে—সময়।


যে ছাত্রটা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, তার অকৃতকার্যের কারণ অনুসন্ধান করলে আমরা দেখতে পাবো—সে পরীক্ষার আগের সময়গুলোকে ভালোভাবে কাজে লাগায়নি। নিয়মিত এবং নিয়ম মাফিক পড়াশোনা করেনি।

যে ব্যবসায়ী ব্যবসায়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার কেইস স্ট্যাডি যদি আমরা সামনে রাখি, তাহলে আমরা দেখবো—তার ক্ষতির পেছনে যতগুলো কারণ বেরিয়ে আসছে, সবখানে কোনো না কোনোভাবে সময় জড়িত। হয়তো সে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, যার কারণে মার্কেটে সে টিকতে পারলো না। অথবা এমনও হতে পারে সঠিক সময়ে পণ্যের জোগান দিতে তার প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু তার এই জায়গাটা তার-ই মতো অন্য কোনো ব্যবসায়ী দখল করতে সমর্থ হয়েছে কেবল সঠিক সময়ে পণ্যের জোগান দিতে পারার ফলে।

যে লোকটা ট্রেন মিস করেছে, আমরা যদি তার ট্রেন মিসের কারণ জানতে চাই, সেও আমাদের সময়ের কথা জানাবে। সঠিক সময়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে স্টেশানে আসতে না পারায় গন্তব্যের ট্রেন তাকে ছেড়ে চলে গেছে।

মোদ্দাকথা, জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রকে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, জীবনের প্রতিটা অর্জন আর ব্যর্থতাকে যদি আমরা নিক্তিতে ফেলে পরিমাপ করি, তাহলে আমরা দেখতে পাবো—আমাদের জীবনের সবটা জুড়ে যা সত্য ও স্বতঃসিদ্ধ হয়ে আছে, তা হলো সময়। সময় মানুষকে গড়ে এবং সময়-ই মানুষকে ভেঙে চুরমার করে দেয়৷ ঠিক এজন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুরা আসরে সময়ের শপথের পর পরই, আমরা যে আদতে ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত আছি, তা আমাদের স্পষ্ট করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সময় হচ্ছে এমন এক অস্পশা বস্তু, যা স্পর্শ করা যায় এমন সবকিছুকে হয় পূর্ণ করে তোলে, নতুবা তাতে মেখে দেয় অপূর্ণতার গ্লানি।

সময় এমন এক নিরেট ‘বাস্তববাদী বন্ধু, যে মুহূর্তের অবহেলায় পরিণত হতে পারে সবচেয়ে জঘন্য শত্রুতে। একজন মানুষ একজীবনে সবচেয়ে বেশি যে জিনিস অপচয় করে, তা হলো সময়। আর সময় এমন এক সম্পদ, যা একবার হারালে, ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই শূন্য। সময় অপচয় করে একজীবনে একজন মানুষ সবচেয়ে বড় যে নিয়ামত হারাতে পারে, তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য। কারণ সময়ের ব্যাপারে সচেতন না হলে তার দুনিয়া যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার আখিরাতও। এইজন্যই ইমাম ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'সময়ের অপচয় মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ, কেননা মৃত্যু মানুষকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে, আর সময় অপচয় মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় তার রব থেকে।

জীবনে সফল হতে হলে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চাইতে দ্বিতীয় কোনো ভালো বিকল্প আমাদের সামনে নেই। মৃত্যুর আগে আমাদের আল্লাহর প্রিয় হয়ে উঠতে হবে। তার মানে, মৃত্যু চলে আসার আগের সময়টাকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। অনেক বেশি আমল করতে হবে। এজন্য সময়কে কাজে লাগাতে হবে। বাড়তি আমলের জন্য বাড়তি সময় বের করতে হবে। ধীরে ধীরে, যুশু-খুযুর সাথে সালাত আদায় করতে হবে। মানে সময় নিয়ে, ধীরস্থিরভাবে সালাত আদায় করতে হবে। তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ইসলামি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তার জন্য ইসলামি বইপত্র পড়তে হবে। কুরআন-হাদিস-তাফসির-সিরাহ পড়তে হবে। এরজন্য তো সময় দরকার। সময় বের করতে হবে। অকাজের সময়কে কাজে পরিণত করতে পারতে হবে।

অর্থাৎ, আমরা যা-ই করি না কেন, সময় কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের পিছু ছাড়ছে না। আমাদের বাঁচতে হয় সময়ের মাঝে, সময়ের মধ্যে, সময়কে নিয়ে। তাই বলা হয় — "Time is very mystical character. If you use it properly, it'll be your best companion. If you misuse it, it'll be your worst enemy.

দুই.

তাহলে সময়কে আমরা কাজে লাগাবো কীভাবে? আমরা যারা ইসলাম প্র্যাক্টিস করি, সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে, আমাদের জন্য সবচাইতে ভালো উপায় হচ্ছে ‘সালাতকেন্দ্রিক' জীবনযাপন। সালাতকে জীবনের কম্পাস বানিয়ে, সেই অনুযায়ী আমাদের জীবনকে আবর্তিত করা গেলে সময়কে সুন্দরভাবে কাজে লাগানো আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে আমাদের জন্য ফরয করেছেন, তা আমরা সবাই জানি। এই পাঁচ ওয়াক্তের সালাতকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ আমাদের সামনে নেই। আগেও বলেছি, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো আমাদের জন্য অক্সিজেন গ্রহণের মতো। অক্সিজেন গ্রহণ না করলে যেমন আমাদের দেহের মৃত্যু ঘটবে, ঠিক সেভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ছেড়ে দিলে মৃত্যু ঘটবে আমাদের আত্মার। তাই অক্সিজেন গ্রহণ করার মতন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ও আমাদের জন্য জরুরি। অবশ্য কর্তব্য।

এখন সালাতের বাইরে আমাদের যাবতীয় যা কাজ, সেই কাজগুলোকে আমরা সালাতের সময়ানুযায়ী ভাগ করে নিতে পারি। আমি যদি ঠিক করি, এই মাসে আমি সুরা বাকারার অনুবাদ আর তাফসির পড়ে শেষ করবো-ই করবো, তাহলে ফজরের পরের যে সময়টুকুতে সাধারণত আমার ঘুমোতে মন চায় কিংবা আমি ঘুমোই, ওই সময়টাকে আমি চাইলেই সহজে কাজে লাগাতে পারি। এখন থেকে ফজরের পর আমার আর ঘুমোনো চলবে না। ঘুমোনোর সময়টাকে যেহেতু আমি আমার পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ করেছি, তাই এই সময়টাতে আমার চোখজুড়ে যত ঘুমই নামুক, নরম বিছানা যতই লোভাতুর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকুক, আমি জানি যেকোনো উপায়েই হোক, আমাকে এই ডাক, এই আহ্বান উপেক্ষা করতে হবে। চোখ থেকে ঘুম তাড়াতে যা যা করতে হয় করবো। হাঁটাহাঁটি করা, চা-কফি পান করা, ব্যায়াম বা শরীরচর্চা—যেকোনো উপায়েই আমাকে জেগে থাকতে জামার লক্ষ্য পূরণের জন্য। শুধু যে গড়গড় করে পড়ে চলে গেলে হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়। সুরা বাকারা থেকে নতুন এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো, যেগুলোকে আমার জীবনোপকরণের, জীবন-গঠনের জন্য দরকারি মনে হবে, সেগুলোকে রঙিন পেন্সিল বা মার্কার দিয়ে দাগিয়ে, নোট করে করে আমি এগোতে পারি। সচেতন পাঠক-মাত্রই বুঝে ফেলবেন এই পদ্ধতির কার্যকারিতা।

এভাবে সুরা বাকারা শেষ হলে অন্য যেকোনো সুরা, যা আমার জন্য বোঝা জরুরি এবং তা অনেক সহজও, এমন অন্য একটা সুরা নিয়ে বসে পড়তে পারি অথবা এমনও হতে পারে—এই মাসে সুরা বাকারা শেষ করলাম তো পরের মাসে সিরাহ তথা নবিজির জীবনী নিয়ে বসে গেলাম। লক্ষ্য হবে একমাসের মধ্যে অন্তত নবিজির হিজরত পর্যন্ত পড়ে ফেলা। পরের মাসে হয়তো-বা বসতে পারি রিয়াযুস সালিহিন নিয়ে। মোদ্দাকথা, আমার সুবিধে অনুযায়ী আমি নির্ধারণ করে নিতে পারি, কোন মাসে কী পড়ব; তবে যা-ই পড়ি আর যেটাই পড়ি, পড়ার সিলসিলা আমাকে জারি রাখতেই হবে, এই দৃঢ় অঙ্গীকার আমার মধ্যে থাকা চাই।

ফজরের পরের যে সময়টা এত দিন আমার অলস কাটতো, কোনো কাজ না পেয়ে এত দিন যে সময়গুলোতে আমি নাক ডেকে ঘুমোতাম, সেই সময়গুলো এখন থেকে প্রোডাক্টিভ কাজে লাগছে।

অফিস অথবা স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে যারা পড়ে কিংবা পড়ায়, তাদের হাতে ফজরের পরের এই সময়টুকু ছাড়া অতিরিক্ত সময় সাধারণত থাকে না। যেহেতু অফিস গমন কিংবা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে আর কোনো সময় হাতে অবশিষ্ট থাকছে না, আপনাকে দেখতে হবে যুহরের পরের সময়টুকু আপনার কীভাবে কাটে। আমার মতে—যুহরের সালাত, খাওয়া এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য আমাদের দেশে ভালো রকমের একটা বিরতি নির্ধারণ করা থাকে। সালাত আদায় এবং খাওয়া-দাওয়ার বাইরে যেটুকু সময় হাতে থেকে যায়, সেই সময়টুকু আপনি চাইলে দুইভাবে কাজে লাগাতে পারেন। যদি ঘুমোনোর অভ্যাস থাকে এবং পর্যাপ্ত বন্দোবস্তও থাকে, তাহলে আমার পরামর্শ হবে এই সময়টায় আপনি হালকা ঘুমিয়ে নিন। গভীর কোনো ঘুম নয় কিন্তু। মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন। বিশ মিনিট বা আধ ঘণ্টার। যদি ঘুম নাও আসে, তথাপি চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন। আপনার মস্তিষ্ককে একটু স্থির হতে দিন।

কারো কারো জন্য এটা বেশ কঠিন কাজ। পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের রাতেই যেখানে স্বাভাবিক ঘুম হয় না, সেখানে দিনে চোখ ভেঙে ঘুম নামানো যে বেশ শ্রমসাধ্য এবং সাধনালব্ধ ব্যাপার-ই হবে, তা তো অবশ্যই। যদি আপনি দুপুরের এই হালকা ঘুমে অভ্যস্ত না হোন, তাহলে আপনার জন্য আমার দ্বিতীয় বিকল্প পরামর্শ হচ্ছে—এই সময়টায় আপনি ভালো কোনো বই, সেটা হতে পারে ইসলামের ইতিহাসের কোনো বই কিংবা আমলের অথবা ইসলামিক কোনো ফিকশন নিয়ম করে পড়তে পারেন। এই সময়টুকুতে প্রতিদিন দশ বা পনেরো পৃষ্ঠা কিংবা নিদেনপক্ষে পাঁচ পৃষ্ঠা পড়ার একটা দৈনিক অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে যদি দৈনিক দশ পৃষ্ঠা পড়া যায়, তাহলে মাস শেষে আপনার তিনশো পৃষ্ঠার যেকোনো ঢাউস সাইজের বই পড়া হয়ে যাবে অনায়াসে। আগে যে সময়টা আপনি হয়তো-বা বেহুদা গল্প-গুজব কিংবা ফেইসবুকে কাটাতেন, এখন সে সময়টাকে কাজে লাগিয়ে মাসে অন্তত একটা ভালো বই আপনি পড়ে শেষ করতে পারছেন।

আসরের পরের সময়টুকু সাধারণত আমাদের নিয়মতান্ত্রিক অলসতায় কাটে। সারাদিনের ক্লান্তি, দৌড়ঝাঁপ শেষের এই সময়টা যেন গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠার আগেই ফুরিয়ে যায়। আমাদের শরীর ও মনকে চাঙা রাখতে এই সময়ে আমরা ভিন্ন কিছু করতে পারি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে চা কিংবা কফি হাতে, আদিগন্ত নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা তলিয়ে যেতে পারি ভাবনার অতলে। আকাশের রংধনু, পাখিদের ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাওয়া দেখতে দেখতে আমরা উপভোগ করতে পারি অবসরের অবশিষ্ট সময়টুকু। সবুজের সান্নিধ্যে যাওয়ার সাধ্য যাদের আছে, বাগানে পায়চারি করা, কিংবা শান বাঁধানো পুকুর-ঘাটে বসে নিজের আদি এবং আসল গন্তব্যের কথা স্মরণ করে কাটাতে পারি পড়ন্ত বিকেলের এই স্বল্প সময়।

সময়টা পরিবারের সাথেও কাটানো যায়। কাজের চাপে কত দিন মনখুলে কথা বলা হয় না মায়ের সাথে। বাবার সাথে শেষ কবে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছি মনে করা। কঠিন। স্ত্রী-সন্তানদের সাথেও গড়পড়তা কথাবার্তা ব্যতীত আলাপ হয় না। তাই অবসরের এই সবটা সময়, আমরা ইচ্ছে করলে আমাদের পরিবারের জন্য বরাদ্দ করতে পারি।

এর বাইরেও যে-সকল আত্মীয়স্বজনের সাথে সময় স্বল্পতার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে, এই সময়টাতে আমরা তাদের সাথেও সংযুক্ত হতে পারি নতুনভাবে। টেলি-কমিউনিকেশনের এই যুগে, এই কাজ করতে আমাদের নিশ্চয় কারো কারো জন্য এটা বেশ কঠিন কাজ। পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের রাতেই যেখানে স্বাভাবিক ঘুম হয় না, সেখানে দিনে চোখ ভেঙে ঘুম নামানো যে বেশ শ্রমসাধ্য এবং সাধনালব্ধ ব্যাপার-ই হবে, তা তো অবশ্যই। যদি আপনি দুপুরের এই হালকা ঘুমে অভ্যস্ত না হোন, তাহলে আপনার জন্য আমার দ্বিতীয় বিকল্প পরামর্শ হচ্ছে—এই সময়টায় আপনি ভালো কোনো বই, সেটা হতে পারে ইসলামের ইতিহাসের কোনো বই কিংবা আমলের অথবা ইসলামিক কোনো ফিকশন নিয়ম করে পড়তে পারেন। এই সময়টুকুতে প্রতিদিন দশ বা পনেরো পৃষ্ঠা কিংবা নিদেনপক্ষে পাঁচ পৃষ্ঠা পড়ার একটা দৈনিক অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে যদি দৈনিক দশ পৃষ্ঠা পড়া যায়, তাহলে মাস শেষে আপনার তিনশো পৃষ্ঠার যেকোনো ঢাউস সাইজের বই পড়া হয়ে যাবে অনায়াসে। আগে যে সময়টা আপনি হয়তো-বা বেহুদা গল্প-গুজব কিংবা ফেইসবুকে কাটাতেন, এখন সে সময়টাকে কাজে লাগিয়ে মাসে অন্তত একটা ভালো বই আপনি পড়ে শেষ করতে পারছেন।

আসরের পরের সময়টুকু সাধারণত আমাদের নিয়মতান্ত্রিক অলসতায় কাটে। সারাদিনের ক্লান্তি, দৌড়ঝাঁপ শেষের এই সময়টা যেন গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠার আগেই ফুরিয়ে যায়। আমাদের শরীর ও মনকে চাঙা রাখতে এই সময়ে আমরা ভিন্ন কিছু করতে পারি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে চা কিংবা কফি হাতে, আদিগন্ত নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা তলিয়ে যেতে পারি ভাবনার অতলে। আকাশের রংধনু, পাখিদের ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাওয়া দেখতে দেখতে আমরা উপভোগ করতে পারি অবসরের অবশিষ্ট সময়টুকু। সবুজের সান্নিধ্যে যাওয়ার সাধ্য যাদের আছে, বাগানে পায়চারি করা, কিংবা শান বাঁধানো পুকুর-ঘাটে বসে নিজের আদি এবং আসল গন্তব্যের কথা স্মরণ করে কাটাতে পারি পড়ন্ত বিকেলের এই স্বল্প সময়।

সময়টা পরিবারের সাথেও কাটানো যায়। কাজের চাপে কত দিন মনখুলে কথা বলা হয় না মায়ের সাথে। বাবার সাথে শেষ কবে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছি মনে করা। কঠিন। স্ত্রী-সন্তানদের সাথেও গড়পড়তা কথাবার্তা ব্যতীত আলাপ হয় না। তাই অবসরের এই সবটা সময়, আমরা ইচ্ছে করলে আমাদের পরিবারের জন্য বরাদ্দ করতে পারি।

এর বাইরেও যে-সকল আত্মীয়স্বজনের সাথে সময় স্বল্পতার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে, এই সময়টাতে আমরা তাদের সাথেও সংযুক্ত হতে পারি নতুনভাবে। টেলি-কমিউনিকেশনের এই যুগে, এই কাজ করতে আমাদের নিশ্চয় খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। এতে করে আমাদের প্রায় বিলুপ্ত আত্মীয়তার বন্ধনগুলো সুদৃঢ়, মজবুত হয়ে ওঠবে। টার্গেট করা যায়—আগামি ত্রিশ দিনে এই সময়টাতে আপনি অন্তত ত্রিশজন আত্মীয়ের সাথে কথা বলবেন।

অথবা এর কোনোটাই যদি সম্ভব না হয়, আপনি নতুন আরেকটা টার্গেট নিজের জন্য তৈরি করে নিতে পারেন। আপনি যদি স্থির করেন, প্রতিদিন আসরের পরের এবং মাগরিবের আগের সময়টুকুতে অন্তত একটা করে দুআ শিখবেন, তাহলে মাস শেষে দেখা যাবে আপনি গুনে গুনে ত্রিশটা এমন দুআ শিখে ফেলেছেন, যা আপনি আগে জানতেন না। দুআ আমাদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আর সেই দুআ যদি হয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শিখিয়ে দেওয়া, নবি-রাসুলগণের মুখনিঃসৃত, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! প্রতিদিনকার হেলায় নষ্ট করা সময় থেকে কিছু সময় বাঁচিয়ে যদি আমরা আখিরাতের কাজে লাগাতে পারি, তার চাইতে বড় অর্জন আর কিছু হতে পারে কি?

মাগরিবের পরের সময়টুকুর কথা যদি বলি, আমাদের সাধারণ বাঙালি পরিবারগুলোতে এই সময়টা বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল, টিভি-শো দেখতে দেখতেই পার হয়ে যায়; তবে একজন সচেতন মুসলিম নিজেকে এসব থেকে সতর্কতার সাথে বাঁচিয়ে রাখে। তাই এই সময়টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হলে আমরা আমাদের কাজগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী ভাগ করে নিতে পারি। যাদের পড়াশোনা আছে, এই সময়টায় পড়াশোনায় মন দেওয়া যায়। লেখালেখি যাদের কাজ, তারা এই সময়টায় লেখালেখিতে ডুব দিতে পারেন। সময়টা বই পড়ে, বাসার কাজকর্ম করেও কাটানো যায়।

ইশার সালাতের পরের সময়টা আমরা সাধারণত ফেইসবুকে কাটাই। ফেইসবুক এমন এক আজব জিনিস, যেখানে আমরা পাঁচ মিনিট থাকার সংকল্প নিয়ে ঢুকি, পাঁচ ঘণ্টা চলে যাওয়ার পরে আমাদের বোধোদয় ঘটে। এই বাজে অভ্যাস থেকে আমাদের দ্রুতই বেরিয়ে আসতে হবে। ফেইসবুক যেহেতু জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়ে গেছে এবং একে বাদ দিয়ে চলাটা একপ্রকার অসম্ভব, তাই এর ব্যবহার সীমিতকরণ করা খুব জরুরি; নয়তো আমাদের প্রোডাক্টিভিটিকে অঙ্কুরে বিনাশ হতে দেখা ছাড়া আমাদের হাতে করার আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।

ইশার সালাতের পরে হাতে ভারী কোনো কাজ না রাখাই উত্তম। ভারী কাজ করতে

গিয়ে যদি ঘুমোতে দেরি হয়ে যায়, তাহলে ফজরের সালাতের জন্য জাগাটা কষ্টকর খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। এতে করে আমাদের প্রায় বিলুপ্ত আত্মীয়তার বন্ধনগুলো সুদৃঢ়, মজবুত হয়ে ওঠবে। টার্গেট করা যায়—আগামি ত্রিশ দিনে এই সময়টাতে আপনি অন্তত ত্রিশজন আত্মীয়ের সাথে কথা বলবেন।

অথবা এর কোনোটাই যদি সম্ভব না হয়, আপনি নতুন আরেকটা টার্গেট নিজের জন্য তৈরি করে নিতে পারেন। আপনি যদি স্থির করেন, প্রতিদিন আসরের পরের এবং মাগরিবের আগের সময়টুকুতে অন্তত একটা করে দুআ শিখবেন, তাহলে মাস শেষে দেখা যাবে আপনি গুনে গুনে ত্রিশটা এমন দুআ শিখে ফেলেছেন, যা আপনি আগে জানতেন না। দুআ আমাদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আর সেই দুআ যদি হয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শিখিয়ে দেওয়া, নবি-রাসুলগণের মুখনিঃসৃত, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! প্রতিদিনকার হেলায় নষ্ট করা সময় থেকে কিছু সময় বাঁচিয়ে যদি আমরা আখিরাতের কাজে লাগাতে পারি, তার চাইতে বড় অর্জন আর কিছু হতে পারে কি?

মাগরিবের পরের সময়টুকুর কথা যদি বলি, আমাদের সাধারণ বাঙালি পরিবারগুলোতে এই সময়টা বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল, টিভি-শো দেখতে দেখতেই পার হয়ে যায়; তবে একজন সচেতন মুসলিম নিজেকে এসব থেকে সতর্কতার সাথে বাঁচিয়ে রাখে। তাই এই সময়টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হলে আমরা আমাদের কাজগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী ভাগ করে নিতে পারি। যাদের পড়াশোনা আছে, এই সময়টায় পড়াশোনায় মন দেওয়া যায়। লেখালেখি যাদের কাজ, তারা এই সময়টায় লেখালেখিতে ডুব দিতে পারেন। সময়টা বই পড়ে, বাসার কাজকর্ম করেও কাটানো যায়।

ইশার সালাতের পরের সময়টা আমরা সাধারণত ফেইসবুকে কাটাই। ফেইসবুক এমন এক আজব জিনিস, যেখানে আমরা পাঁচ মিনিট থাকার সংকল্প নিয়ে ঢুকি, পাঁচ ঘণ্টা চলে যাওয়ার পরে আমাদের বোধোদয় ঘটে। এই বাজে অভ্যাস থেকে আমাদের দ্রুতই বেরিয়ে আসতে হবে। ফেইসবুক যেহেতু জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়ে গেছে এবং একে বাদ দিয়ে চলাটা একপ্রকার অসম্ভব, তাই এর ব্যবহার সীমিতকরণ করা খুব জরুরি; নয়তো আমাদের প্রোডাক্টিভিটিকে অঙ্কুরে বিনাশ হতে দেখা ছাড়া আমাদের হাতে করার আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।

ইশার সালাতের পরে হাতে ভারী কোনো কাজ না রাখাই উত্তম। ভারী কাজ করতে গিয়ে যদি ঘুমোতে দেরি হয়ে যায়, তাহলে ফজরের সালাতের জন্য জাগাটা কষ্টকর হয়ে ওঠে। ফজরের সালাতের গুরুত্ব একজন মুমিনের জীবনে সর্বাধিক।

অধিকতর হালকা কাজগুলো এই সময়ে করার জন্য আমরা রাখতে পারি, যেমন: পত্রিকা, ম্যাগাজিন বা কোনো বই পড়া, শিশুদের দ্বীনি ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা, পরিবারের সকলের সাথে দ্বীন নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা ইত্যাদি।

সারকথা হলো— আমাদের যার যা কাজ, সেই কাজ অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকেন্দ্রিক একটা নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া। সালাতকে কেন্দ্রে রেখে জীবনটাকে সাজাতে পারলে আমাদের ভেতরে একটা তাড়না কাজ করবে। নিজেকে সমৃদ্ধ করার তাড়না। সালাতগুলো আমাদের একটা রিমাইন্ডার দেবে। আমাদের মনে হবে— যুহরের পরে তো আমার দশ পৃষ্ঠা বই পড়তে হবে, ‘আসরের পর তো আমার অমুক দুআটা শিখতে হবে’, ‘মাগরিবের পর তো অমুককে ফোন করতে হবে।

সালাতকে জীবনের কম্পাস বানিয়ে নিয়ে, জীবনটাকে একটা নির্দিষ্ট ফ্রেমে নিয়ে আসুন। জীবন বড়োই সংক্ষিপ্ত এক সফরের নাম। জীবনের এই অপর্যাপ্ত সময়গুলো যেন অকাজে নষ্ট না হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

✍️ আমাদের ব্লগ
জীবনের কম্পাস

 এক. আমাদের আগাগোড়া জীবনটাকে যদি পরখ করি, তাহলে অবাক বিস্ময়ে দেখতে পাবো, আমাদের জীবনে যা কিছু লাভ-ক্ষতি, যা কিছু প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, প্রায...