দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
এবার ভিন্ন কিছু হোক

 এক. একটা চিরাচরিত বৃত্তে কেমন উদাসভাবে কেটে যাচ্ছে আমাদের দিনগুলো। একটা গতানুগতিক সকাল, একটা হাঁপিয়ে ওঠা দুপুর, বিষণ্ণ বিকেল, মিইয়ে আসা স...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

এবার ভিন্ন কিছু হোক

 এক.

একটা চিরাচরিত বৃত্তে কেমন উদাসভাবে কেটে যাচ্ছে আমাদের দিনগুলো। একটা গতানুগতিক সকাল, একটা হাঁপিয়ে ওঠা দুপুর, বিষণ্ণ বিকেল, মিইয়ে আসা সন্ধ্যে আর দিনশেষে দীর্ঘশ্বাসের একটা রাত— যেন যাচ্ছেতাই একটা জীবন!


মাঝে মাঝে আমি ‘সময়' নিয়ে চিন্তা করি। কী দুর্দান্ত এক সম্পদ এই জিনিসটা! প্রতিদিন নিয়ম করে চব্বিশটা ঘণ্টার ঝুঁড়ি হাতে নিয়ে সে আমাদের দুয়ারে চুপচাপ এসে দাঁড়ায়, কিন্তু কিছুই বলে না। যেন তার কথা বলতে মানা অথবা আমাদের ব্যাপারে সে খুব বেখেয়াল। সে শুধু ঝুড়িটা আমাদের সামনে তুলে ধরে আর বলে— ‘এই নাও, তোমার আজকের দিনের চব্বিশ ঘণ্টা।

আমাদের সামনে দৈনিক ঘণ্টার ঝুড়ি ঝুলিয়ে দিয়ে সে একেবারে চুপ মেরে যায়। আর কোনো কথা তার মুখ দিয়ে বেরোয় না।

আমি ভাবি—দৈনিক এই চব্বিশ ঘণ্টা হাতে পেয়ে একজন মানুষ আসলে কী কী করে?

একজন মানুষ তার দৈনিক চব্বিশ ঘণ্টা থেকে আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। বাকি ষোলো ঘণ্টার মধ্যে বেশ লম্বা একটা সময় তাকে পার করতে হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর বাইরে সিনেমা-নাটক দেখা, গান শোনাসহ অন্য অনেক কাজে তার আরো বেশকিছু সময় ব্যয় হয়। এসবকিছুর পরে যেটুকু সময় মজুত থাকে, সেটুকু নিজের কাজে, পড়াশোনায়, পরিবারে দিতে গিয়ে তাকে রোজ রোজ হতে হয় গলদঘর্ম।

তাকে যখন জিগ্যেশ করা হয়, কেমন যাচ্ছে দিন?' সে বলে, “এই তো,

চলছে...।'

কিন্তু এটাকে কি সত্যিই ‘চলা’ বলে?

মানবজীবন বড় রহস্যময়! মানুষ জানে না, দুনিয়ায় তার ঠিক কত দিন থাকা হবে। সে শুধু জানে, তাকে একদিন ঠিক ঠিক এই রঙিন দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। সে আরো জানে—এই একটা জীবনই দুনিয়ায় তার শেষ জীবন। সে আর চাইলেও কোনোদিন দুনিয়ার আলো-হাওয়া-জলে ফিরতে পারবে না। হাজার ইচ্ছে হলেও মৃত্যুর পর দুনিয়ায় এসে সে তার আপনজনের সাথে কাটাতে পারবে না একটা মুহূর্ত। যে সকালটা সে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতো রোজ, সেই সকালটাকে কর্মমুখর করে কাটানোর একটা সুযোগ সে আর কোনোদিন পাবে না। যে দুপুর অলসতায় কেটে যেতো তার, সেই দুপুরকে চাঞ্চল্যতায় ভরে তোলার অভিপ্রায় তার আর পূরণ হবে না। সে কাটাতে পারবে না একটা যথার্থ বিকেল, একটা মনে রাখার মতো সন্ধ্যে কিংবা ভুলতে না পারার মতো একটা রাত। কারণ— মৃত্যুর পরে তার সাথে দুনিয়ার সকল হিশেব-নিকেশ চুকে যাবে।

তবে কর্মমুখর সকাল, চঞ্চল দুপুর, যথার্থ বিকেল, মনে রাখার মতো সন্ধ্যে আর ভুলতে না পারার মতো রাত—এসবকিছু উপভোগ সে করতে পারতো, যদি না একটা আস্ত মানবজীবন সে অনায়াসে অপচয় করতো।

দুই.

দুটো দৃশ্যপট আমি আপনার সামনে সাজাতে পারি। দুই জায়গাতে আপনার দুই অবস্থা সহজেই আপনি ধরতে পারবেন।

ধরা যাক, একই অফিসের দুইজন লোকের ডিউটি আগামীকাল সকাল আটটায় শুরু এবং যেভাবেই হোক সকাল সাড়ে সাতটার ট্রেন তাদেরকে অবশ্যই ধরতে হবে।

এই দুই লোকের একজন জেগে আছে রাত দুটো পর্যন্ত। দুটো পর্যন্ত জেগে সে কী করেছে? মাইলের পর মাইল ফেইসবুক স্কুল করেছে, ইউটিউব ব্রাউজ করে। কোনো বক্স অফিস হিট করা মুভি কিংবা বেশ তাক লাগানো কোনো নাটক দেখেছে। রাত দুটোর দিকে ঘুমিয়ে সে জেগেছে সকাল সাতটায়। পাক্কা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমের চক্র পূরণ করতে সে মোটেও ভুল করেনি, কিন্তু তার ট্রেন তো সাড়ে সাতটায়। আধ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত হয়ে তাকে থাকতে হবে স্টেশনে। এই আধ ঘণ্টার মধ্যে তার সে কী ছুটোছুটি!

অন্যদিকে দ্বিতীয়জন দশটা বাজতেই ঘরের বাতি নিভিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। রাত আটটার দিকে সে ফেইসবুকে একটু ঢুঁ মেরেছে বটে, তবে তা সাকুল্যে পনেরো মিনিটের জন্য। সাড়ে আটটার পর সে আর সোশ্যাল মিডিয়ায় আসেনি। দশটার দিকে বিছানায় এলে চোখে ঘুম নামতে তার সাড়ে দশটা বেজে যায় প্রতিদিন। এই আধ ঘণ্টার মাঝে সে রাতের যিকির-আযকারগুলো নিয়ম করে সেরে নেয়। এরপর সাড়ে দশটার দিকে ঘুমিয়ে যাওয়ার পর তার অ্যালার্ম যখন বাজে, তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে তিনটে।

ফজরের ওয়াক্ত হয় সাড়ে চারটায়। এক ঘণ্টা সময় আগে জেগে সে চার রাকআত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করেছে, ছয় পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করেছে এবং শেষ রাতে করতে পেরেছে অধিক পরিমাণ ইস্তিগফার। মসজিদগুলোতে আযান হলে সে মসজিদে চলে গেলো। ফজর সালাত পড়ে সেখানে বসে পুনরায় কুরআন তিলাওয়াত করে, যিকির-আযকার সেরে, সালাতুল ইশরাক পড়ে নিয়ে ঘরে ফিরেছে সে। এতসবের পরেও তার হাতে যেন অফুরন্ত সময়! গা শীতল করা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল সেরে, কাপড়-চোপড় পরে সে রওনা করলো স্টেশনের দিকে। তার কাজগুলোতে কোনো তাড়াহুড়ো নেই কিন্তু।

খেয়াল করলে দেখবেন—দৃশ্যপটের প্রথম ব্যক্তি ঘুমিয়েছে পাক্কা পাঁচ ঘণ্টা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিও কিন্তু তার চেয়ে কম ঘুমায়নি। সে-ও পাঁচ ঘণ্টা ঘুমের চক্র পূরণ করে নিয়েছে, কিন্তু দৈনন্দিন রুটিনটাকে কেবল একটুখানি বদলে নিয়ে দ্বিতীয়জন যেখানে গভীর রাতে তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত, আযকার, ফজরের সালাত, সালাতুল ইশরাক পড়েও খুব ধীরস্থিরভাবে অফিসে যেতে পেরেছে; একই পরিমাণ ঘুমিয়ে প্রথম ব্যক্তি তাহাজ্জুদ দূরে থাক, ফজরটা পর্যন্ত কাযা করে ফেলেছে। আর এই রুটিন মানতে গিয়ে অফিসে যেতেও তাকে রোজ হিমশিম খেতে হয়।

সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহারের এই এক উপকারিতা। এটা যেমন আপনার জীবনকে সহজ করবে, বাড়তি চিন্তা-টেনশান থেকে আপনাকে মুক্ত রাখবে, তেমনি জীবনের সবদিকে সময় ব্যয় করার জন্য অফুরন্ত রাস্তা দেখিয়ে দেবে। আপনার কখনোই মনে হবে না যে, আপনি একজন ব্যর্থ মানুষ কিংবা আপনার জীবনটা বড্ড জটিল। অন্যদিকে যদি সময়ের সঠিক ব্যবহার আপনি নিশ্চিত না করতে পারেন, সময়ের অবাধ অপচয়ে আপনি যদি অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, আপনার জীবন ধীরে ধীরে জটিল থেকে জটিলতর হতে শুরু করবে। নিজেকে তখন আপনার কাছে ভীষণ ব্যর্থ মানুষ বলে মনে হবে। মনে হবে, একজীবনে যা কিছু করার ছিলো, তার কিছুই যেন আপনার করা হচ্ছে না। মানসিকভাবে আপনি খুব বিপর্যস্ত থাকবেন।

তিন.

ইমাম ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ তার কিতাবুর রুহ গ্রন্থে একটা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'একজন পিতা একদিন তার মৃত মেয়েকে স্বপ্নে দেখলেন। স্বপ্নে তিনি মেয়ের কাছে জানতে চাইলেন, 'মা, আমাকে আখিরাতের ব্যাপারে কিছু বলো'।

তার মেয়ে বললো, “বাবা, আমাদের সামনে খুবই গুরুতর বিষয় এসে হাজির হয়েছে। আমরা দুনিয়ায় সবকিছু জানতাম ঠিক, কিন্তু মানতাম না কিছুই। আল্লাহর কসম করে বলছি বাবা, এখানে এসে যেসব বিষয়ের মুখোমুখি আমরা হচ্ছি, তা এড়াতে আমার আমলনামায় কেবল একটা তাসবিহ অথবা দুই রাকআত সালাত যদি যোগ করা যেতো, গোটা পৃথিবী লাভের চাইতেও তা আমার কাছে অধিক প্রিয় আর দরকারি হতো’ (কিতাবুর রুহ, খণ্ড : ১; পৃষ্ঠা: ২২৫)

‘আমরা জানতাম কিন্তু মানতাম না!’ খেয়াল করে দেখুন তো আমরা কী কী জানি। আমরা জানি, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আমাদের জন্য ফরয। ‘ফরয’ হালকা কোনো শব্দ নয়। মন চাইলে পাশের টঙ দোকানে গিয়ে এককাপ চা খাওয়া কিংবা ইচ্ছে করলে রমনা পার্কে ঘুরে বেড়ানোর মতো ব্যাপার নয় এটা। ফরয শব্দের ভারত্ব এতবেশি, যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করতে পারে, কেবল সেই তার মর্ম বোঝে। অক্সিজেন গ্রহণ করা ছাড়া আপনাকে যদি পাঁচ মিনিট বাঁচতে বলা হয়, আপনার দ্বারা কি তা আদৌ সম্ভব? আপনি বলবেন—তা আবার হয় নাকি! সত্যিই হয় না।।

ঠিক একইভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বাদ দিয়ে একজন মুসলিমের দিন কল্পনা করা যায় না। সালাত তার কাছে অক্সিজেন গ্রহণের মতোই জরুরি। অক্সিজেন তার দৈহিক সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখে, আর সালাত বাঁচিয়ে রাখে তার আত্মিক সত্তাকে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যে আমাদের জন্য ফরয করা হয়েছে এবং তা আদায় করা যে অত্যাবশ্যকীয় এক দায়িত্ব, তা আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু তবু ঠুনকো কারণে অথবা কারণ ব্যতিরেকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আমরা মসজিদে যাই না, জায়নামায বিছিয়ে বসি না। আমরা জানি মুসলিমদের জন্যই সালাত, কিন্তু আমরা তা মানছি কই? দুনিয়ার সমস্তকিছুর জন্যে আমরা সময় করতে পারি, সময় বের করতে পারি, কিন্তু সালাত আদায়ের জন্য সময় করা আমাদের হয়ে ওঠে না।

‘আমরা জানি সবই, কিন্তু মানি না কিছুই'—এটা যেন আমাদের জীবনের পরতে পরতে লেপটে থাকা এক অমোঘ সত্য বাণী। আমরা জানি, আমাদের জীবন ঠিক স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে না, কিন্তু সঠিক স্রোতে ফিরে আসার তাড়নাও আমাদের মাঝে নেই। আমরা জানি, আমাদের ইনকাম হালাল পথে আসে না, আমরা অফিসের কাজে ফাঁকি দিয়ে অন্যের হক নষ্ট করি; আমরা জানি, ঘুষ ও সুদ দুটোই হারাম—তথাপি এসবের সাথে আমাদের নিত্য ওঠাবসা। পরনিন্দা করা, অন্যের ক্ষতি করা, অন্যকে খাটো করা, অপমান করা, মিথ্যা বলা, হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, অশ্লীল জিনিস দেখা, গান-বাজনায় মত্ত থাকা—এসবকিছুই আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তা থেকে ছিটকে দেয় জেনেও আমাদের সংবিৎ ফেরে না। আমরা জানি, কিন্তু মানি না। এই না মানার যে কোনো খেসারত হবে না, এটা যেদিন বুঝবো আমরা, সেদিন সত্যিকার অর্থেই অনেক দেরি হয়ে যাবে। স্বপ্নে সেই মৃত মেয়েটা যেরকমভাবে তার পিতাকে বললো, “একটা তাসবিহ, অর্থাৎ—একবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে তা আমলনামায় যোগ করাটা আজ আমার কাছে গোটা দুনিয়া লাভের চাইতেও বেশি মূল্যবান’, আমাদেরকেও একদিন এভাবে আফসোস করতে হবে। আমাদের মনে হবে—‘ইশ! রাতের পর রাত যে সময়গুলো আমি ফেইসবুক স্ক্রল করে কাটিয়েছি, তার কিছুটা সময় যদি শেষ রাতে উঠে জায়নামাযে পার করতাম, তাহলে আজ আমাকে এই দুর্দশায় পড়তে হতো না। ইউটিউবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুভি দেখেছি, নাটক দেখেছি, কমেডি শো উপভোগ করেছি, হায়, তার কিছু সময় যদি আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করে কাটাতাম! যে রমণীর উত্তরের আশায় ব্যাকুল নয়নে আমি ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকেছি, সেরকম ব্যাকুলতা নিয়ে যদি আল্লাহর যিকির-আযকারে মশগুল থাকতে পারতাম! আমাদের এমন আফসোস যে নিশ্চিতভাবেই হবে, তা কুরআন কর্তৃক স্বীকৃত। সুরা আল-ফাজরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন—

হায়, এই জীবনের জন্য আমি যদি আগে কিছু পাঠাতাম। [সুরা ফাজর, আয়াত : ২৪]

চার.

চোখের সামনে দিয়ে একটা মানবজীবন এমন ব্যর্থতায় কেটে যাবে, তা কি দেখে সহ্য করা যায়? দুনিয়ায় এই একটাই আমাদের সুযোগ। আর কোনো দ্বিতীয়, তৃতীয় সুযোগের ব্যবস্থা নেই। এই জীবনটা যেনতেনভাবে কাটিয়ে দিয়ে, পরের জীবনটায় খুব গোছানো হয়ে যাব, অনেক কর্মমুখর থাকব—এমন চিন্তার জায়গা এখানে নেই। এটাই প্রথম এবং এটাই সর্বশেষ। কাজে লাগাতে হলে এটাকেই লাগাতে হবে, আর যদি অপচয়ের ইচ্ছে অটুট থাকে মনে, এই জীবনটাই কেবল বরাদ্দ।

অনেক তো ঘোর লাগা সময় পার করা হলো। অহেতুক কাজ আর ভাবনায়, অনর্থ কোলাহলে আর অদরকারি আড্ডায়। জীবনের বাকি মুহূর্তগুলো নিয়ে আমরা কি একটু নতুনভাবে ভাবতে পারি না? পারি না আগামীকাল থেকে একটা নতুন ভোরের সাক্ষী হতে, যেখানে থাকবে না আল্লাহর অবাধ্যতা? যেখানে আমাদের জীবনকে রাঙিয়ে তুলবো আল্লাহর রঙে? আমরা ছেড়ে আসবো সমস্ত অন্ধকার। হৃদয়ে জমে থাকা সকল কালিমা দূর করে আমরা ছুটবো হেরার আলোর পানে। আমরা ধরবো তাদের পথ, যারা আমাদের আগে আগে চলে গেছেন সিরাতুল মুস্তাকিমের রাস্তা ধরে। আমরা ত্যাগ করবো সমস্ত পিছুটান। ছুঁড়ে ফেলবো সমস্ত জঞ্জাল। জীবনের পরবর্তী সূর্যোদয়টা হবে আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন অধ্যায়।

'এবার ভিন্ন কিছু হোক জাগরণের এই জাগ্রত জোয়ারে এবার নতুন করে লেখা হোক জীবনের জ্যামিতি।'

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

✍️ আমাদের ব্লগ
এবার ভিন্ন কিছু হোক

 এক. একটা চিরাচরিত বৃত্তে কেমন উদাসভাবে কেটে যাচ্ছে আমাদের দিনগুলো। একটা গতানুগতিক সকাল, একটা হাঁপিয়ে ওঠা দুপুর, বিষণ্ণ বিকেল, মিইয়ে আসা স...