দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর

 এক. বনশ্রীর যে বাসায় আমি থাকতাম, ও বাসার নিচে আমার স্ত্রী এক হাফিযা মহিলার কাছে প্রতিদিন সকালে হিফয করতে যেতেন। তাদের সাথে, এক থুরথুরে বৃদ...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর

 এক.

বনশ্রীর যে বাসায় আমি থাকতাম, ও বাসার নিচে আমার স্ত্রী এক হাফিযা মহিলার কাছে প্রতিদিন সকালে হিফয করতে যেতেন। তাদের সাথে, এক থুরথুরে বৃদ্ধা মহিলা, বয়স কম করে হলেও সত্তর-পঁচাত্তরের কোঠায়, দেখতাম তিনিও রোজ কুঁজো হয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে চলে আসতেন আরবি পড়তে।

আরবি পড়া মানে একেবারে আলিফ, বা দিয়ে শুরু করা। এমন বয়সে একজন অতি-বৃদ্ধা মহিলা রোজ নিয়ম করে শিশুদের মতন কায়দা পড়ছে— তা দেখে শুরুর দিকে আমি খানিকটা বিস্মিত হয়েছিলাম বৈকি! কিন্তু পরে বৃদ্ধা মহিলার কুরআন দেখে দেখে পড়তে পারার যে অদম্য স্পৃহা, তা দেখে ভেতরটা সম্মান আর শ্রদ্ধায় কানায় কানায় ভরে উঠলো।

আমাদের একটা বাতিক আছে। বয়স কম থাকলে আমরা বলি, ‘এই বয়সেই তোমাকে কেন ওসব শিখতে হবে বাপু? জীবন তো এখনো অ-নে-ক পড়ে আছে। বয়স বাড়ুক, আস্তে আস্তে না হয় শিখবে।'

আবার যাদের বয়স বেড়ে গেছে, তারা ভাবে, ‘জীবনের আর ক'টা দিনই তো বাকি! এই জীবন সায়াহ্নে বসে আমি আর কী এমন শিখতে পারবো? সময় যে ভারি অল্প।'

আমার ধারণা, ওপরের এই দুই ভাবনাই শয়তানের প্ররোচনা। শয়তান ভালো। মানুষের মতন, দেখতে ভালো এবং যৌক্তিক ধারণা দুটো মানুষের মস্তিষ্কে এমনভাবে গেঁথে দেয়, যেন সে জ্ঞান অর্জনে নিজেকে ডুবিয়ে না রাখে। মানুষকে জ্ঞান আহরণের রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে শয়তান এখনো বয়স হয়নি। কিংবা আর কি সময় আছে?’ –ধরনের প্ররোচনাগুলোকে আমাদের সামনে রঙচঙ মাখিয়ে উপস্থাপন করে, যাতে আমরা বিভ্রান্ত হই এবং জ্ঞানের সাগরে ডুব না দিতে পারি।

আমি এমন অনেককে চিনি, যারা শয়তানের এই প্ররোচনায় প্ররোচিত না হয়ে জ্ঞান আহরণের চেষ্টায় নিবিড়ভাবে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। আমার বাবার বয়সী অনেক মানুষকে চিনি, যারা সারাদিনের কাজকর্ম সেরে, সন্ধ্যার অবসরে আরবি ভাষা শেখার জন্য হয়তো-বা অনলাইন কোর্স কিংবা অফলাইন ক্লাশে গিয়ে খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়েন। আমি এমন অনেক জুনিয়র ভাই-বন্ধুকে চিনি, যারা জ্ঞান অর্জনের প্রতিযোগিতায়, শেখার প্রতিযোগিতায়, নিজেকে সমৃদ্ধ করার দৌঁড়ে আমার চাইতে আলোকবর্ষ এগিয়ে। তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ইতিহাস, সাহিত্যে তারা আমার চেয়ে ঢের অগ্রগামী। এই দুই ভিন্ন বয়সী, যারা শেষে এসেও হতোদ্যম হয়নি, আর যারা আগেভাগেই নিজেদেরকে নিয়ে এসেছে সঠিক স্রোতে, তাদের উভয়ের জন্যই আমার অফুরান ভালোবাসা।

দুই.

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু নিঃসন্দেহে এই উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। মানবজাতি এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি না আগে কখনো হয়েছে, না পরে আর হবে। আসমান থেকে প্লাবিত হয়েছে রহমতের যে ফল্গুধারা, যাকে বিশ্ব-মানবতার জন্য মুক্তি-দূত বানিয়ে পাঠানো হয়েছে, তার মৃত্যু অতি অবশ্যই আমাদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা! আসমানি এই রহমত কখনো ফুরিয়ে যেতে পারে, কখনো তা মৃত্যুর হাত ধরে অলক্ষ্যে চলে যেতে পারে, এই ভাবনাটুকুও অনেক সাহাবি ভাবতে পারতেন না। তাই তো আমরা দেখি, নবিজির প্রয়াণ-দিবসে, নবিজিকে মৃত্যুর বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে হতবিহ্বল চিত্তে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, ‘কখনোই নয়। নবিজি তো মৃত্যুবরণ করতেই পারেন না। যে বলবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু হয়েছে, তাকেই আমি হত্যা করবো।”

প্রিয়মুখ, প্রিয়জন গত হলে আমরা যেভাবে ভেঙে পড়ি, শোকের সাগরে হাবুডুবু খাই, সাহাবিদের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু-দিনটাও ছিলো এমনই এক ঘোরতর শোকের সময়; কিন্তু সেদিন শোক আর বিষণ্নতার মাঝেও, দুঃখ আর দুঃসহ যন্ত্রণার দিনে এমন এক সাহাবি ছিলেন, যিনি সবকিছু সত্ত্বেও, সবকিছুকে ছাপিয়ে একটি অনন্য দিকেও নিবন্ধ রেখেছিলেন নিজের। সবটুকু মনোযোগ।

তার নাম আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু। নবিজির চাচা আব্বাস রাখি আনহুর সন্তান। নবিজির মৃত্যুকালে আবদুল্লাহর বয়স ছিলো মাত্র তেরো বছর। শৈশবের পাঠ চুকিয়ে কৈশোরে পা রাখা এক দুরন্ত বালক আবদুল্লাহ। তিনি ছিলেন নবিজির বিশেষ স্নেহধন্যদের একজন। শিশুদের সাথে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিষ্টি-মধুর সম্পর্কের কথা তো সর্বজনবিদিত। তার ওপর নিজের পরিবারের একজন হওয়ায় আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস নবিজিকে কাছে পেয়েছিলেন অন্যদের চাইতে অনেক বেশি। খুব কাছ থেকে নবিজিকে দেখা, তার কথা শোনা, তার কাছ থেকে জ্ঞান আহরণের এক অনুপম ও অনন্য সুযোগ ছিলো ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর সামনে এবং তা তিনি হেলায় নষ্ট করেননি মোটেও।

নবিজির মৃত্যুর দিন সবাই যখন শোকাহত, বিষণ্ণতার ভীষণ ভারে যখন নুইয়ে আছে উম্মাহর তনু-মন, সেদিন ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু ভাবলেন একেবারে ভিন্ন কিছু। যা হয়তো-বা ঘুণাক্ষরেও কারো মনে আসতো না, তেমন একটা কাজ তিনি করেছিলেন সেদিন।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়েই ইসলামি সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ শুরু করে। আরব-ভূমির বাইরেও মুসলিমরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে থাকে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। যেহেতু দ্বীনের মশাল পৃথিবী-ব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, তাই নতুন করে যারাই ইসলামকে আপন করে নিচ্ছিলো আপন আলয় হিশেবে, তাদের মাঝে দ্বীনের বার্তাটুকু এবং আসমানি আলোর প্রভাটুকু বিলিয়ে দিতে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অনেক সাহাবিকে দীক্ষা দিয়ে ওই-সমস্ত অঞ্চলগুলোতে পাঠিয়েছিলেন। তারা কুরআনের সুমহান বার্তা, রিসালাতের অমিয় বাণী মানুষের দ্বারে দ্বারে, যেভাবে নবিজির কাছ থেকে তারা রপ্ত করেছিলেন, সেভাবেই তাদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

কিন্তু যখন প্রিয় নবিজির মৃত্যুসংবাদ তাদের কাছে পৌঁছালো, তারা কি আর সেখানে থাকতে পারেন? সবচেয়ে প্রিয় এবং সবচাইতে আপন মানুষটার বিদায়-বেলায় যদি হাজির না থাকা যায়, যদি চর্মচক্ষু দিয়ে প্রিয় মুখখানা শেষবারের মতন নাই-বা দেখা গেলো, তাহলে যে বন্ধুত্ব, যে ভ্রাতৃত্ব, যে প্রেম আর প্রণয়ের সম্মেলন হয়েছিলো হৃদয়ে, তা কি অপূর্ণতার গ্লানিতে ভরে উঠবে না?

তাই নবিজিকে শেষবারের মতন বিদায় জানাতে, শেষ দেখাটুকু দেখতে এসেছিলেন সাহাবিরা। যারা দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, তারা দলে দলে আসতে লাগলেন প্রিয় নবিকে ‘আল-বিদা’ জানাতে।

নবিজির প্রয়াণ-দিনে শোকে একেবারে আবিষ্ট হয়েও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু ভাবলেন—দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া সাহাবিরা যখন নবিজিকে শেষ দেখা দেখতে মদিনায় ফিরছে, তাহলে জীবিত সব সাহাবিকে একত্রে, একসাথে পাওয়ার এই তো সুযোগ! এমন সুযোগ আর পাওয়া যাবে, এমনটা বলা যায় না কোনোভাবে। আজ এমনসব সাহাবিরা মদিনায় ফিরছেন, যারা নবিজিকে কাছ থেকে দেখেছেন, নবিজির কাছ থেকে শিখেছেন। কুড়িয়ে নিয়েছেন রত্নের আকর। যেহেতু সবাই আজ দলে দলে মদিনায় ফিরে আসছেন, তাই নবিজির কাছ থেকে তারা যা পেয়েছেন, তা কুড়িয়ে নেওয়ার, সংগ্রহ করে ফেলার এই তো সুবর্ণ সুযোগ!

জ্ঞান অর্জনের প্রতি কতটা প্রবল আগ্রহ, অনির্বাণ ইচ্ছে, অদম্য প্রেরণা থাকলে এমন বেদনাহত দিনেও এমনকিছু কেউ ভাবতে পারে? অন্য কোনো সাহাবির মানসপটে যে ভাবনার বিন্দু-বিসর্গ পর্যন্ত ছিলো না, তা-ই কিনা ভেবে বসলেন মাত্র তেরো বছরের এক কিশোর!

তবে এ কথা ভাববার অবকাশ নেই যে— আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রয়াণে কাতর ছিলেন না। অন্য সবার মতন তিনিও শোকাহত ছিলেন। নবিজির বিদায়ে তারও হৃদয় ভেঙে চৌচির। এই বিপর্যয়ে তার মনেও কালবোশেখির ঝড়, কিন্তু সেই শোকের আবহ থেকে, সেই কালবোশেখির অন্ধকারেও তিনি জ্ঞান অর্জনের চিন্তা থেকে নিবৃত হননি। বিপদের মাঝেও তিনি আশা খুঁজে নিতে চেয়েছেন। শোকের মাঝেও খুঁজে নিতে চেয়েছেন সান্ত্বনার বস্তু।

তিনি ভেবেছিলেন মদিনার বাইরে ছড়িয়ে পড়া সাহাবিরা, তাদের মাঝে এমন জ্ঞানের সন্ধান মিলতে পারে, যা হয়তো-বা আমার জানা নেই। হতে পারে নবিজির কাছ থেকে তারা এমনসব জ্ঞান আহরণ করেছিলেন, যা আর অন্য কেউ জানে না। এই সুযোগে আমি যদি তাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের কাছ থেকে সেই দুর্লভ মণিহার আহরণ করে নিতে পারি, তাহলে আমার জানার জগৎ আরো সমৃদ্ধ, আরো পোক্ত হবে।

তিনি তা-ই করলেন। নবিজির মৃত্যু উপলক্ষে মদিনার বাইরে থেকে আগত অসংখ্য সাহাবির দরোজায় দরোজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস। তাদের বলতেন, ‘আমি ইবনু আব্বাস। আমি জানি আপনি নবিজির প্রিয় একজন সাহাবি। আপনি তো দিন কয়েক বাদেই মদিনা ছেড়ে চলে যাবেন, তাই আমি আপনার কাছ থেকে এই ফাঁকে কিছু শিখতে এসেছি। আপনি আমাকে এমনকিছু শেখান, যা নবিজি আপনাকে শিখিয়েছেন। হতে পারে, আপনার আহরিত জ্ঞানে এমন অসংখ্য মণি-মুক্তো আছে, যা আমার জানা নেই। আমি শিখতে চাই।”(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ৩২৮)

তেরো বছরের এক কিশোর, যার স্বভাব-স্নিগ্ধ কোমল চেহারা থেকে এখনো মোছেনি কৈশোরের দ্যুতি, সেই বালক জ্ঞানের তৃষ্ণা নিবারণের তাগিদে কী অদম্য প্রয়াসেই না মানুষের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিতে এলো!

ইনিই সেই আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু, যিনি কুরআনের তাফসির করার জন্য ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তাকে বলা হয় তাফসিরকারকদের শিরোমণি। তাফসিরশাস্ত্রে তার মতন প্রজ্ঞা আর পাণ্ডিত্য আর কারো মাঝেই ছিলো না। পৃথিবীর যেখানেই, যে-কেউই কুরআনের তাফসির করতে গেলে, তাকে অবশ্যই অবশ্যই আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে সামনে রাখতে হবে। তার মত ডিঙিয়ে তাফসির করা একপ্রকার অসম্ভব। জ্ঞান অর্জনে তার যে ব্রত ছিলো, যে অনির্বাণ, অনিঃশেষ স্পৃহা নিজের মাঝে তিনি ধারণ করেছিলেন, তা-ই তাকে এই মর্যাদায় আসীন করেছে নিঃসন্দেহে।

‘বয়স কম, এখনো তো জীবনের অনেক সময় বাকি’ এই অজুহাত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর জ্ঞানার্জনের অদম্য স্পৃহাকে দমাতে পারেনি। যে বয়সটা হেসেখেলে পার করবার, সেই বয়সে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জ্ঞানের এক অনন্য বাতিঘর! একদিনের চমৎকার এক ঘটনা থেকে আমরা যার প্রমাণ পাই।

উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু তখন মুসলিম জাহানের খলিফা। রাষ্ট্রের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তিনি শুরা বৈঠক ডাকতেন এবং অভিজ্ঞ, প্রবীণ কিন্তু দূরদর্শী—এমন সব সাহাবিদের সাথে শলা-পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতেন। এমন এক বৈঠকে, যখন প্রবীণ ও প্রসিদ্ধ সাহাবিরা বসে আছেন, তখন সেখানে একদিন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু এসে উপস্থিত। সাধারণত এমন বৈঠকে তার উপস্থিত হওয়ার কথা নয়। একে তো আবদুল্লাহ বয়সে অনেক ছোটো, সবে কৈশোর যায়। যায় করছে, তার ওপর, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এমন এক বৈঠকে হঠাৎ করে তার আগমনে সবাই বেশ বিস্মিত! কেউ কেউ প্রশ্নও উত্থাপন করে বসলেন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে। বললেন, 'আমিরুল মুমিনিন! মার্জনা করবেন। আমাদের শুরা মজলিসে বালক আবদুল্লাহর উপস্থিতির কারণ আমাদের কারো বোধগম্য হয়নি। আপনি কি আমাদের জানাবেন, কেন এমন একটা বৈঠকে আবদুল্লাহকে ডাকা হলো?

উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আবদুল্লাহ বয়সে ছোটো, কিন্তু জ্ঞানের দিক থেকে সে আপনাদের অনেকের চেয়ে এগিয়ে।

উত্তরটা উপস্থিত অনেকের মনপূত হলো না। আবদুল্লাহর বয়েসী অনেক ছেলেপিলে তাদেরও আছে। তাদের কাউকে তো এখানে ডাকা হয় না। তাহলে আবদুল্লাহকেই বা কেন ডাকা হবে?

অন্য আরেকদিন আবারও শুরা মজলিসের ডাক পড়লো। মজলিসের প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ সকল সাহাবি উপস্থিত। উপস্থিত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুও। উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু উপস্থিত সকল সাহাবির দিকে তাকিয়ে সুরা আন-নাসর তিলাওয়াত করে বললেন, ‘আচ্ছা, আপনাদের কাছে আমি একটা বিষয় জানতে চাই। আপনাদের কেউ কি বলতে পারবেন, এই সুরা নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?'

মজলিসে শুরার প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ সাহাবিদের অনেকে বললেন, 'আমি জানি না; আর অনেকে চুপ করেই থাকলেন। এরপর উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর দিকে ফিরে বললেন, ‘আবদুল্লাহ, তুমি কি কিছু বলতে পারো এই ব্যাপারে?

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই সুরার মাধ্যমে আমাদের খুব সূক্ষ্ম একটা ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। ‘যখন বিজয় আসবে এবং মানুষেরা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করবে? —এই কথাগুলোর মাধ্যমে তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, ইসলামের বিজয় যখন অত্যাসন্ন হবে, ঠিক তখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরও দুনিয়ার জীবনের সময়কাল ফুরিয়ে আসবে। এই সুরা থেকে ইসলামের বিজয়ের সাথে সাথে আমরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুরও একটা পূর্বাভাস পাই।'

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর উত্তর শুনে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আবদুল্লাহ, এই ব্যাপারে আমি যা জানতাম, তুমিও ঠিক তা-ই জানো।(আল আকিদা ফি আহলিল বাইত বাইনাল ইফরাত ওয়াত তাফরিত, পৃষ্ঠা : ৩২৪-৩২৫; সহিহ্রল বুখারি : ৪২৯৪)

খেয়াল করা যাক—মজলিসে শুরায় কত প্রবীণ, অভিজ্ঞ সাহাবিরা ছিলেন, তথাপি সুরা আন-নাসরের মাঝে থাকা এই সূক্ষ্ম বিষয়, এই সুপ্ত জ্ঞান তাদের কেউই কিন্তু জানতেন না; অথচ তারা সকলে যা জানতেন না, তা জানতেন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু। অতোটুকুন বয়সে, জ্ঞানের শাখায় কীরকম বুৎপত্তি লাভ হলে তিনি এই সূক্ষ্ম বিষয়টা জানতে পারেন, তা কি অনুমান করা যায়? এই হচ্ছে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাসের কুরআনকেন্দ্রিক অর্জিত জ্ঞান ও চিন্তা। আর এই কারণেই, বয়সে সর্বকনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও, মজলিসে শুরার অন্যতম সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য তিনি লাভ করেছিলেন।

‘বয়স কম’–এই অজুহাতে আমরা যারা নিজেদের জ্ঞানার্জন থেকে নিবৃত করতে চাই কিংবা আমাদের পরিবার-সমাজ, যারা আমাদের দমিয়ে রাখতে চায় ‘বয়স হয়নি’ বলে, সবার জন্যই একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ আছে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর এই ঘটনায়। কম বয়স যে শেখার পথে কোনো বাধা নয় বরং উৎসাহ—সেটা আমরা উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর মজলিসে শুরার ঘটনায় আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর অনন্য সাধারণ মেধার পরিচয় থেকে অনুধাবন করতে পারি।

তিন.

বয়স বেশি হয়ে গেছে বলেও আমাদের অনেকসময় মনোকষ্টে, অসহায়ত্বে ভুগতে দেখা যায়। যদি ভেবে থাকেন যে, জ্ঞান অর্জনের বয়স আপনি পার করে এসেছেন, এই বয়সে আপনি আর কতই-বা জানতে পারবেন, শিখতে পারবেন, যদি মনে করেন জ্ঞানার্জনে আপনি অন্যদের চাইতে পিছিয়ে পড়েছেন, আর কোনোভাবেই আপনি জ্ঞানার্জনের ধারায় অগ্রগামীদের কাছাকাছি আসতে পারবেন না, তাহলে আপনাকে জাগিয়ে তুলতে, ফিরিয়ে আনতে আপনার হারানো আত্মবিশ্বাস আমার কাছে একটা চমৎকার উপায় আছে।

সাহাবি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর নাম শুনেছেন নিশ্চয়? হাদিসের গ্রন্থগুলোর পাতা উল্টালে কিংবা অন্য অনেক জায়গায়, যখনই আপনি হাদিস পড়তে গেছেন, অসংখ্য অসংখ্যবার আপনি এই নামখানা দেখেছেন অবশ্যই। আপনি পড়েছেন, ‘আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন...।'

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হলেন সেই সাহাবি, যিনি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করেছিলেন। সাহাবিদের মধ্যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস সবচেয়ে বেশি মুখস্থ করেছিলেন তিনিই। পরবর্তী সময়ে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন উম্মাহর মাঝে। এমনকি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি এগিয়ে আছেন নবিজির স্ত্রী, উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহার চাইতেও। এ এক অনন্য, অসাধারণ কীর্তি!

কিন্তু জানলে অবাক হতে হয়, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গ পেয়েছিলেন মাত্র তিনবছর। নবিজির গোটা তেষট্টি বছরের জীবন থেকে কেবল তিনটে বছর তার সংস্পর্শে থাকার সৌভাগ্য হয় আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর। তার ইসলাম গ্রহণের তিন বছর পরেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন।

মাত্র তিনটি বছর কাছে পেয়েছিলেন নবিজিকে। নবিজির সাথি হওয়ার সময়কালটা তার জন্য বড়োই সংক্ষিপ্ত; অথচ এই তিন বছরেই তিনি কিনা হয়ে উঠলেন জ্ঞানের এক অনন্য উদাহরণ! এই তিন বছরেই তিনি নিজেকে নিয়ে গেলেন এমন এক উচ্চতায়, যেখান থেকে আজ গোটা মুসলিম উম্মাহ নিত্যদিন, নিত্য-নিয়ম করে তাকে পড়ে, তার নাম উচ্চারণ করে। হোক হাদিসের ছাত্র কিংবা সাধারণ তালিবুল ইলম, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে চেনে না, তার নাম শোনেনি কোনোদিন—এমন ঘটনা ঘটা একেবারে অসম্ভব।

‘অন্যেরা অনেকদূর এগিয়ে গেছে, আমি পিছিয়ে পড়েছি, কিংবা 'জীবনের সূর্যটা অস্তগামীপ্রায়, আর কি সময় হবে নতুন করে শেখার – ভাবনার এমন দোলাচলে আমরা যারা দোদুল্যমান আছি, আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য বাতিঘর হলেন সাহাবি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু। কত কম সময়ে কতকিছু যে শিল্পে

ফেলা যায়, তা আমরা এখান থেকে শিখতে পারি। তাই, শেখার শুরুটা আপনি কবে করছেন তা বিবেচ্য নয়। করছেন কি না, আর করলেও তাতে কতখানি আন্তরিকতা বিদ্যমান, তা-ই হচ্ছে ব্যাপার।

বয়সের ভার যদি জ্ঞানার্জনের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, একবার মনে করুন সাহাবি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর কথা। মাত্র তিনটে বছর-ই তো! এর পরেরটুকু ইতিহাস!

চার.

সময় ফুরিয়ে যায়নি। দরকার একটা ইস্পাত-কঠিন সংকল্প আর অদম্য ইচ্ছের। আপনার বয়স কম, সেটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। ব্যাপার হচ্ছে, আপনার ভেতরে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর মতন সবুজ-সতেজ চেতনা আছে কি না, যেই চেতনা গভীর শোকের মাঝেও খুঁজে নেবে শেখার উপকরণ। যে চেতনা আপনাকে আন্দোলিত করবে নতুন করে শিখতে। নতুন কিছু শিখতে।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেলেও ঘাবড়াবেন না, চিন্তিত হবেন না। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের জন্য বরাদ্দ আছে অবারিত সুযোগ। আরবি পড়তে পারেন না কিংবা এককালে পারলেও এখন ভুলে গেছেন, তা কোনো সমস্যা না। সমস্যার তখনই যখন শেখার জন্য আপনার মাঝে কোনো তাড়না না থাকে। বনশ্রীর সেই বৃদ্ধা, যাকে আমি দেখতাম কুঁজো হয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে রোজ আরবি পড়তে আসতেন, তার দৃঢ়তা আর ধৈর্যকে আমার কাছে কখনোই নুইয়ে পড়া কিংবা স্নান হয়ে আসা কোনোকিছু মনে হতো না; বরং মনে হতো—থুরথুরে শরীরের আড়ালে একটা অদম্য যৌবনশক্তি কোথায় যেন লুকিয়ে আছে, যা তাকে জীবনের শেষলগ্নে এসেও কাবু হতে দেয়নি। বয়সের ভার কিংবা সময়ের স্বল্পতা কখনোই শেখার পথে বাধা নয়। সাহাবি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর মতন যাদের অন্তরে আছে শেখার অদম্য তৃষ্ণা, তাদের জন্য জীবনের শেষ দিন, এমনকি শেষ মুহূর্তটাও সুবর্ণ সুযোগ। কবি বলেছিলেন, “বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।' ছাত্র হওয়ার একটা দারুণ মজা আছে! শিখতে পারার মজা!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

✍️ আমাদের ব্লগ
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর

 এক. বনশ্রীর যে বাসায় আমি থাকতাম, ও বাসার নিচে আমার স্ত্রী এক হাফিযা মহিলার কাছে প্রতিদিন সকালে হিফয করতে যেতেন। তাদের সাথে, এক থুরথুরে বৃদ...