Subscribe Us

header ads

রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০৮) সংবাদ সংগ্রহে হযরত হুজায়ফা রা.

সংবাদ সংগ্রহে হযরত হুজায়ফা রা.

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দু‘আর বদৌলতে আমার অন্তর থেকে ভয় একেবারে দূর হয়ে গেল। আমি নিশ্চিন্ত নির্ভাবনায় প্রফুল্ল অন্তরে বেরিয়ে পড়লাম। যখন বের হচ্ছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হুযাইফা, নিজের পক্ষ থেকে কিছু করো না।
আমি যখন কাফেরদের এলাকায় পৌঁছুলাম, তখন বাতাস এত তীব্র গতিতে চলছিল যে, কোনকিছু কোথাও স্থির থাকার সুযোগ ছিল না। সেই সাথে এত অন্ধকার যে, কোন কিছুই দেখার উপায় নেই। এমনি পরিস্থিতিতে আমি শুনলাম আবু সুফিয়ান বলছে, হে কুরাইশ বাহিনী, এখানে দাঁড়িয়ে থাকার উপায় নেই। আমাদের সব জন্তু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বনু কুরাইযাও আমাদের সাহায্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। আর এই ঝঞ্ঝাবায়ু আমাদের পেরেশান ও অস্থির করে দিচ্ছে। আমাদের চলাফেরা, ওঠা বসা সবকিছু বড় কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এটিই ভালো যে, আমরা ফিরে যাই। আবু সুফিয়ান এই কথাগুলো বলেই উটের পিঠে চড়ে বসলো।
হযরত হুযাইফা রা. বলেন, আমার অন্তরে তখন এ কথার উদয় হলো যে, তীর দিয়ে তাকে মেরে ফেলি। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হওয়ার সময় আমাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিজের পক্ষ থেকে কিছু করো না। এ নির্দেশের কথা স্মরণ থাকায় আমি এ কাজ থেকে বিরত থেকে ফিরে এলাম। (যুরকানী, ২:১১৮) 

اَلْانَنَغْزُوْهُمْوَلَايَغْزُوْنَنَانَحْنُنَسِيْرُاِلَيْهِمْ
ফিরে এসে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এসব তথ্য জানালাম। এরপর সকালে যখন দেখলেন কাফের বাহিনীর সবাই রাতেই পালিয়ে গিয়েছে। ময়দান একেবারেই মানবশূন্য। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন,
‘এখন থেকে আমরাই মোকাবেলায় এগিয়ে যাবো; তারা আর আমাদের দিকে এগিয়ে আসবে না। আমরাই তাদের দিকে এগিয়ে যাবো।
অর্থাৎ কুফর এখন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, তারা এগিয়ে এসে ইসলাম ও মুসলিমদের উপর হামলা করবে সে সাহস আর তাদের নেই। বরং এর বিপরীত অবস্থা এসে গেছে। এখন আমরাই এগিয়ে যাবো এবং তাদের উপর হামলা করবো। (বুখারী শরীফ, হা. নং ৪১১০)
ভোরবেলায় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় ফিরে এলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ছিলেন, 
لَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ ائِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ سَاجِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ صَدَقَ اللهُ وَعْدَه وَنَصَرَ عَبْدَه وَهَزَمَ الْاَحْزَابَ وَحْدَه
আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তার কোন শরীক নেই। রাজত্ব তারই। প্রশংসা কেবল তার জন্যই। তিনিই সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা সফর থেকে ফিরে আসছি। গুনাহ থেকে তাওবা করছি, ইবাদতের ইরাদা করছি। আমাদের প্রতিপালককে সিজদা করছি ও প্রশংসা করছি। আল্লাহ তা‘আলা তার অঙ্গীকার পূরণ করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং গোটা সম্মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন। (বুখারী শরীফ, হা. নং ১৭৯৭)
ইবনে সা‘দ এবং বালাযুরী বলেন, অবরোধ মোট পনের দিন স্থায়ী হয়। ওয়াকেদী বলেন, এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত। প্রখ্যাত তাবেয়ী সায়িদ ইবনে মুসাইয়াব বলেন, কাফেরদের মদীনা অবরোধ মোট চব্বিশ দিন ছিল। আল্লাহ ভালো জানেন। এই যুদ্ধে মুশরিকদের তিন ব্যক্তি নিহত হয়। 
১. আমর ইবনে আবদুদ। 
২. নাওফাল ইবনে আবদুল্লাহ। 
৩. মুনিয়া ইবনে উবাইদ। 


অপরদিকে মুসলিমদের ছয়জন শাহাদাত লাভ করেন। 
১. সা‘দ ইবনে মুয়ায রা.। 
২. আনাস ইবনে উয়াইস রা.। 
৩. আবদুল্লাহ ইবনে সাহর রা.। 
৪. তুফাইল ইবনে নুমান রা.। 
৫. সা‘লাবা ইবনে আনামাহ রা.। 
৬. কা‘ব ইবনে যায়েদ রা.। 

হাফেজ দিময়াতী আরো দুটি নাম বর্ণনা করেছেন, 
১. কায়স ইবনে যায়েদ রা.।
২. আবদুল্লাহ ইবনে আবু খালেদ রা.।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

//