Subscribe Us

header ads

রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০৭) গাযওয়ায়ে আহযাবের পরবর্তী ঘটনা

গাযওয়ায়ে আহযাবের পরবর্তী ঘটনা


ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, মক্কার সকল গোত্রের কাফেররা একজোট হয়ে মদীনায় আগমন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে তাদের খতম করার জন্য। তদুপরি তারা নানা প্রলোভনে মদীনার ইহুদী সম্প্রদায় বনী কুরাইযাকে কবজা করে নিয়ে সম্মিলিত কাফের বাহিনীরূপে মুসলিমদের উপর এক যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আবার মুসলিমদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা মুনাফিকরাও তাদের সহায়তা দেয়।
এভাবে ইহুদী ও মুনাফিক দল মুসলিমদের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করে। ফলে মুসলিমরা বহিঃশত্রু ও অন্তঃশত্রু এ উভয় শত্রুর অবরোধ ও আক্রমণের শিকার হয়।


মদীনা মুনাওয়ারা অবরোধ


কাফের বাহিনী মুসলিমদের পরিখা খননের কারণে সরাসরি আক্রমণে বাধাগ্রস্ত হয়ে এবার কঠোর অবরোধ জারি করলো। মদীনাকে তারা চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে রাখলো এবং কোন এক ফাঁকে পরিখা অতিক্রম করে ভিতরে ঢুকে আক্রমণ করার সুযোগ খুঁজতে লাগলো।
এভাবে কয়েকদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেল। শত্রুরা পুরো মদীনা কঠোরভাবে অবরোধ করে রাখলো। মুসলিমদের কাছে সেই পরিস্থিতি খুবই কঠিন মনে হতে লাগলো।
এমনকি কারো কারো কাছে তা বড় অসহনীয় মনে হতে লাগলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে উদয় হলো, অবরোধের প্রচন্ডতার দরুন সাধারণ মুসলিমরা ঘাবড়ে যেতে পারে। তাই তিনি গাতফান গোত্রের দুই সরদার ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি উয়াইনা ইবনে হিসন ও হারেস ইবনে আউফ-এর সাথে সন্ধি করার চিন্তা করলেন। সেই মোতাবেক এক ব্যক্তিকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠালেন, তারা যদি যুদ্ধ না করে মদীনা ত্যাগ করে চলে যায়, তা হলে মদীনার একতৃতীয়াংশ আবাদী তাদের দিয়ে দেয়া হবে।
কাফেররাও সম্মুখ আক্রমণে না পেরে চাইছিল, কোনভাবে যদি এ সংকট থেকে মান রক্ষা করে উদ্ধার পেত! তাই সন্ধির প্রস্তাব পাওয়ার সাথে সাথে গাতফান এ প্রস্তাব আনন্দের সাথে মেনে নিল।
অতঃপর কথা পাকা করার জন্য তারা এক ব্যক্তিকে অন্যান্য গোত্রের নিকট পাঠালো। কিন্তু তারা এক- তৃতীয়াংশ নয়, বরং অর্ধেক আবাদী দাবি করলো। কিন্তু কাফের বাহিনীর সরদার আবু সুফিয়ান এ ব্যাপারে কিছুই জানলো না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধি চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে সা‘দ ইবনে মুয়ায ও সা‘দ ইবনে উবাদাহর সাথে পরামর্শ করলেন। তাদের এ বিষয়টি জানালে তারা বললেন, আল্লাহর রাসূল, এটা যদি আল্লাহর সিদ্ধান্ত হয়, তা হলে আপত্তি করার তো কিছু নেই। তেমনি যদি আপনার ইচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত হয়, তা-ও শিরোধার্য। কিন্তু যদি আমাদের লোকদের প্রতি দয়া ও দরদবশত আপনি এ চিন্তা করে থাকেন, তা হলে সবিনয় কিছু নিবেদন করি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তো তোমাদের সুবিধার জন্যই করছি। আরবরা এখন এক জোট হয়ে এক নির্দেশের আওতায় তোমাদের মোকাবেলা করছে। আমি চাচ্ছি, এ পন্থায় তাদের ঐক্য ও জোট ভেঙ্গে হীনবল করে দিতে।
হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রা. বললেন, আল্লাহর রাসূল, যখন তারা ও আমরা সবাই কাফের-মুশরিক ছিলাম, মূর্তিপূজা করতাম, আল্লাহ তা‘আলাকে জানতাম না, তখনও এ লোকগুলোর আমাদের একটা খোরমা পর্যন্ত নেওয়ার সাহস ছিল না। হয়ত আমরা মেহমানদারি হিসেবে দিতাম বা তারা আমাদের থেকে কিনে নিত। এ ছাড়া নেওয়ার কোন সুযোগ ছিল না। এখন যখন আল্লাহ তা‘আলা হেদায়েতের অমূল্য দৌলত দান করেছেন, ইসলাম দান করে আমাদের সৌভাগ্যশালী ও সম্মানিত করেছেন, এখন আমরা তাদের এমনিই দিয়ে দিব? তা কখনো হতে পারে না। আল্লাহর কসম, তাদের কোন কিছুই দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আল্লাহর কসম, আমরা তাদের তরবারি ব্যতীত কিছুই দিব না, তারা যা করতে পারে করুক। এ কথা বলে হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রা. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইশারায় সব লেখা মুছে ফেললেন।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হিম্মত দেখে খুবই আনন্দিত হলেন এবং সন্ধির ইচ্ছা ত্যাগ করলেন। ফলে গাতফানদের লোকটি ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেল। (সীরাতে ইবনে হিশাম, ২:১৪১)
এরপর যতই দিন যেতে লাগলো, অবস্থা ততই খারাপ হতে লাগলো। কষ্টের পর কষ্ট বেড়েই চললো। রাতে ঘুমান পর্যন্ত হারাম হয়ে গেল। প্রতি মুহূর্তেই ছিল বিপদের ঘনঘটা।
সেসময় মুসলিমবাহিনীতে যেসব কপট ও মুনাফিক ছিল, তারা বেচাইনী ও অস্থির ভাব দেখাতে লাগলো। তারা বারবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে যার যার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করতে লাগলো। তারা বারবার বলতে লাগলো, আমাদের বাড়ি-ঘর সুরক্ষিত নয়, বাল-বাচ্চারাও বিপদের সম্মুখীন। আমাদের বাড়িতে ফিরে যেতে দিন। তারা নিজেরা যেমন, তেমনই মুসলিমদেরও বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য উসকে দিতে লাগলো। তাদের মধ্যে হতাশা ও মৃত্যু ভয় ঢুকিয়ে দিতে লাগলো। বলতে লাগলো, মুহাম্মাদ তো আমাদের খুবই আশার বাণী শোনালেন। খুব ভাল ভাল বাগ-বাগিচা দেখালেন। বললেন, কায়সার ও কিসরার সম্পদ তোমরা পেয়ে যাবে। অথচ আজ অবস্থা এতই খারাপ যে, দানা-পানি পর্যন্ত পাচ্ছি না। আর জীবন তো হাতের মুঠোয় এসে গেছে। উল্লিখিত আয়াতসমূহে তাদের এ অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

কাফেরদের সম্মিলিত আক্রমণ


পরিখা অতিক্রম করে মদীনায় প্রবেশের জন্য কাফেররা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করলো। কিন্তু মুসলমানদের প্রতিরোধের মুখে নিষ্ফল হলো। পরিশেষে তারা সিদ্ধান্ত নিল, প্রসিদ্ধ সেনানায়ক ও বীরগণ সমস্ত সৈন্যকে সমবেত করে সকলে একযোগে পরিখার নির্দিষ্ট একটি স্থানে আক্রমণ করবে।
সালাআ পাহাড়সংলগ্ন পরিখার একটি স্থান অপেক্ষাকৃত অপ্রশস্ত ছিল। আক্রমণের জন্য তারা এই স্থানটিই নির্বাচন করলো। তারা অতি দ্রুত অগ্রসর হলো। ঘোড়া লাফ দিয়ে পরিখার অপর পারে চলে গেল। তারা উন্মত্ত হয়ে উঠলো। তাদের মধ্যে আবু জাহেলের পুত্র ইকরিমা এবং জিরারও ছিল। সেই সাথে আরবের বিখ্যাত বীর আমর ইবনে আবদুদও ছিল। তাকে এক হাজার অশ্বারোহীর সমকক্ষ মনে করা হতো। সে প্রথমেই অগ্রসর হয়ে চিৎকার করে বললো, আমার মুকাবিলায় কে এগিয়ে আসতে চায়?
হযরত আলী উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আমি। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে থামালেন। হযরত আলী বসে পড়লেন। আমর আবার চিৎকার করলো। অন্য কেউ সাহস করলো না। হযরত আলী আবার বললেন, আমি। তৃতীয়বারেও একই কথার পুনরাবৃত্তি হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কি জানা আছে, সে আমর? হযরত আলী রা. বললেন, হ্যাঁ, আমার খুব ভাল করে জানা আছে, সে আমর। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিয়ে পবিত্র হাতে তার মাথায় পাগড়ি বেঁধে হাতে তলোয়ার তুলে দিলেন। 
হযরত আলী রা. এবার আমরের মোকাবেলায় অবতীর্ণ হলেন। আমরের মুখোমুখি হলে সে বললো, দুনিয়ার কেউ যদি আমার নিকট তিনটি জিনিস প্রার্থনা করে তা হলে আমি একটা অবশ্যই মনযুর করবো। হযরত আলী রা. বললেন, ভাল কথা, তুমি তা হলে ইসলাম গ্রহণ করো। সে বললো, এটা অসম্ভব ব্যাপার। হযরত আলী রা. বললেন, তা হলে তুমি যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ফিরে যাও। আমর বললো, আমি কুরাইশ মহিলাদের তিরস্কার শুনতে পারবো না। হযরত আলী বললেন, তা হলে আমার সাথে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হও। আমর বললো, আকাশের নিচে এমন কথা আমাকে কেউ বলতে পারে তা আমি ইতোপূর্বে বিশ্বাসও করতাম না। আচ্ছা বেশ, আমি সম্মত আছি। কিন্তু আমি অশ্বারোহী তুমি পদাতিক। অশ্বে আরোহণ করে পদাতিকের সাথে যুদ্ধ করা বীরের ধর্ম নয়, এই বলে আমর ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে তরবারির এক আঘাতে ঘোড়ার পা কেটে অচল করে দিল। 
তারপর সে বললো। যুদ্ধের পূর্বে তোমার পরিচয়টা জানা দরকার। বরো, তোমার নাম কী? হযরত আলী নিজের নাম বললেন, আমর বললো, আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করতে চাই না। হযরত আলী বললেন, কিন্তু আমি তো চাই। এ কথা শুনে আমর গর্জে উঠলো এবং তরবারি কোষমুক্ত করে বীরবিক্রমে হযরত আলীর উপর প্রচন্ড আঘাত করলো। তিনি ঢালের সাহায্যে আঘাত প্রতিহত করলেন, কিন্তু ঢাল ভেঙ্গে দ্বিখণ্ডিত হয়ে তরবারির সম্মুখভাগ তার কপালে বিদ্ধ হলো।  
আল্লাহর সিংহ হযরত আলী রা. আমরের আঘাত সামলে নিয়ে সিংহ গর্জনে অগ্রসর হয়ে হায়দারি হাঁক ছেড়ে আমরের উপর প্রচন্ড আঘাত হানলেন। এক আঘাতেই আমর দ্বিখণ্ডিত হয়ে ভূপতিত হলো। তাকবির ধ্বনিতে খন্দক প্রান্তর মুখরিত হয়ে উঠলো। সাহাবায়েকেরাম আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুললেন।
আমর নিহত হওয়ার পর নাওফিল, ইকরিমা, জিরার, জুবাইর প্রমুখ বীর হযরত আলীর উপর সম্মিলিত আক্রমণ করলো। কিন্তু জুলফিকারের চাকচিক্যে অনতিবিলম্বে তারা রণে ভঙ্গ দিয়ে পলায়ন করলো। হযরত উমর ফারুক জিরারের পশ্চাদ্ধাবন করলেন। জিরার ঘুরে তাকে বর্শাবিদ্ধ করতে চাইলো, কিন্তু আবার ক্ষান্ত হয়ে বললো, উমর, এই অনুগ্রহের কথা মনে রেখো। নাওফিল পলায়ন করতে যেয়ে খন্দকের মধ্যে পতিত হলে মুসলিমবাহিনী তার উপর তীর-পাথর বর্ষণ করতে শুরু করলো। সে চিৎকার করে বললো, তোমরা আমাকে কুকুরের মতো মের না। আমি সম্মানজনক মৃত্যু কামনা করছি। হযরত আলী রা. তার আবেদন মনযুর করলেন। খন্দকের মধ্যে নেমে তরবারির আঘাতে তার মস্তক ছিন্ন করলেন।



হযরত সাফিয়া রা. এর বাহাদুরি


এদিকে মুসলিম নারী ও শিশুদের দুর্গে রাখা হয়েছিল। সেটি ছিল বনু কুরাইযার আবাস ভূমি সংলগ্ন। সক্ষম পুরুষরা পরিখা পাহারায় ব্যস্ত ছিল। সারা মদীনা জনমানবশূন্য। ইহুদীরা ভাবলো, এই সুযোগে দুর্গে আক্রমণ করে নারী ও শিশুদের অনায়াসে হত্যা করা যায়। তাই তারা আক্রমণের লক্ষ্যে দুর্গ-অভিমুখে রওয়ানা হলো। জনৈক ইহুদী দুর্গের ফটকে গিয়ে আক্রমণের পথ খুঁজছিল। এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফু হযরত সাফিয়া রা. লোকটিকে দেখতে পেয়ে সেখানে অবস্থানরত সাহাবী হাসসান বিন সাবিতকে বললেন, লোকটিকে হত্যা করুন, নতুবা সে ফিরে গিয়ে শত্রু পক্ষকে সব জানিয়ে দিবে।
হযরত হাসসানের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যাতে তিনি এতই ভীত হয়ে পড়েছিলেন যে, লড়াই ও যুদ্ধ বরদাশত করতে পারতেন না। এ কারণে তিনি অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। বাধ্য হয়ে হযরত সাফিয়া রা. তাঁবুর একটি খুঁটি উপড়ে নিয়ে ইহুদীর মাথায় প্রচন্ড এক আঘাত করলেন। এক আঘাতেই তার ভবলীলা সাঙ্গ হলো। তিনি ফিরে এসে হযরত হাসসানকে নিহত ইহুদীর সাজ-সজ্জা, অস্ত্র ইত্যাদি খুলে আনতে বললেন। এবারও তিনি অপারগতা প্রকাশ করলেন। হযরত সাফিয়া রা. বললেন, তা হলে তার মাথাটা কেটে বাইরে ফেলে দিন। সেটা দেখে ইহুদীরা ভয় পেয়ে যাবে। কিন্তু তাও তার দ্বারা সম্ভব হলো না। অবশেষে হযরত সাফিয়া রা. নিজেই এটা সমাধা করলেন। ইহুদীরা দুর্গের বাইরে কর্তিত মস্তক দেখে মনে করলো, দুর্গে নিশ্চয় সৈন্য মোতায়েন করা আছে। তাই তারা আর দুর্গ আক্রমণের সাহস পেল না।
এদিকে শত্রুরা মুসলমানদের অনুমতি নিয়ে নাওফিলের লাশ উঠিয়ে নিয়ে গেল। কিন্তু তবু তারা যুদ্ধের মনোবাঞ্ছা ত্যাগ করলো না। দিনরাত তারা পরিখা অতিক্রম করার চেষ্টা করতে লাগলো। সেজন্য তারা সৈন্যদের ছোট ছোট দলেও ভাগ করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিয়ে পরিখা পার করানোর চেষ্টা করতে লাগলো। এভাবে একটি দল ব্যর্থ হয় আরেকটি দল চেষ্টা করে। এভাবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলো।
মুসলমানদের উপর দিয়ে কয়েকটি বিনিদ্র রজনী অতিক্রান্ত হয়ে গেল। ঘরে ঘরে মহিলা ও শিশুরা বড় উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। এ দুঃসহ অবস্থার কথা ভাবতেও কষ্ট হয়। 
শত্রুপক্ষ অনবরত তীর বর্ষণ করতে লাগলো। আর তারা জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে রাখতে জীবনের কর্তব্য পালন করে চললেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামও বীরত্বের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে চললেন। তিনি পরিখার বিভিন্ন অংশে সেনা মোতায়েন রাখলেন। যাতে শত্রুদের হামলা হওয়া মাত্র মোকাবেলা করতে পারে। একটা অংশ তিনি নিজেই রক্ষা করে চলেছিলেন। তিনি তীর দিয়ে শত্রুবাহিনীকে প্রাণপণে রুখে চললেন।
এ দিনটি খুব জটিলতার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়ে গেল। সারাটি দিন শত্রুদের সাথে চূড়ান্ত মোকাবেলা করে যেতে হলো। শত্রুদের পাকাপোক্ত তীরন্দাজরা তীর বর্ষণ করে যাচ্ছিল। মুসলিম বাহিনী নাজেহাল হয়ে পড়ছিলেন। ক্ষুধা-পিপাসায় তারা কাতর হয়ে পড়ছিলেন কিন্তু নিজেদের স্থানে তারা ছিলেন পাহাড়ের মত সুদৃঢ়, অটল, অনড়। বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি তারা।
এ লড়াইয়ে মুসলিম শহীদের সংখ্যা কম হলেও আনসারদের মধ্য থেকে কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবী শহীদ হয়ে গেলেন। আউস গোত্রের নেতা হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রা. বড় বীরত্বের সাথে লড়াই করছিলেন। শত্রুরা তাকে হত্যার সুযোগ খুঁজছিল। সুযোগ পেতেই তারা তার হাতে তীর মারলো। ফলে তার হাতের মূল রগ কেটে গেল। তা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে লাগলো। সেসময় সা‘দ রা. আকাশের দিকে দু’হাত তুলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উদ্দেশ্যে মর্মস্পর্শী ভাষায় দু‘আ করলেন, আয় আল্লাহ, কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ এখনো বাকি। তুমি আমাকে জীবিত রাখো। যে জাতির লোকেরা তোমার মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যারা তাকে দেশ ছাড়া করেছে, তাদের চেয়ে বেশি লোকের সাথে লড়াই করার ইচ্ছা আমার নেই। কিন্তু তাদের সাথে যদি আর যুদ্ধ না হয় তা হলে তুমি আমাকে এই আঘাতেই শাহাদাত দাও। আর যতক্ষণ পর্যন্ত বনু কুরাইযার বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম না দেখতে পাই ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে মৃত্যু দিয়ো না।
এদিন হামলার ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের চার ওয়াক্ত নামায কাজা হয়ে গেল, যা পরর্বতী সময়ে একসাথে কাজা পড়ে নিয়েছিলেন।

কাফেরদের আত্মকলহ


অবরোধ চলাকালে একদিন গাতফান গোত্রের এক দলপতি নুয়াইম ইবনে মাসউদ আশজায়ী নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমীপে উপস্থিত হয়ে বললেন, আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার প্রতি ঈমান এনেছি। তবে আমার গোত্র এ ব্যাপারে কিছু জানে না। এ অবস্থায় আপনি যদি অনুমতি দেন, তা হলে আমি একটা পদক্ষেপ নিতে পারি, যার দ্বারা এই অবরোধ শেষ হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিয়ে বললেন, ঠিক আছে, তুমি একজন অভিজ্ঞ লোক। যদি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারো, করো। কেননা, লড়াই তো হচ্ছে কৌশল ও চালাকির নাম।
নুয়াইম ইবনে মাসউদ রা. প্রিয়নবীর কাছ থেকে ফিরে এসে চিন্তা করতে লাগলেন। এখন কী করা যায়, কীভাবে শত্রুদের ব্যর্থ করে দেওয়া যায়। হঠাৎ তার মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন শত্রুদের ঐক্য বিনাশ করে দিবেন। এ ছাড়া উত্তম কোন উপায় তিনি দেখলেন না।
নুয়াইম তাড়াতাড়ি উঠে পড়লেন। তারপর অতি দ্রুত বনু কুরাইযার কাছে গেলেন। প্রথম থেকেই বনু কুরাইযা তাকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখতো। সেখানকার ইহুদীরা তাকে খুব মানতো। তার কথাবার্তা খুব মনোযোগ সহকারে শুনতো। তার সঙ্গলাভ করাটা খুব মর্যাদার ব্যাপার বলে মনে করতো। নুয়াইম রা. তাদের কাছে পৌঁছতেই তারা খুব সম্মানের সাথে তাকে অভ্যর্থনা জানালো। এবং মর্যাদার সাথে বসালো। ইহুদীদের সমস্ত নেতাই তার কাছে এসে জমায়েত হলো। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলো তার কথাবার্তা। নুয়াইম কিছুক্ষণ ধরে এ-কথা সে-কথা বললেন। তারপর আসল কথায় এলেন। বললেন, তোমরা জানো, তোমাদের সাথে আমার সম্পর্ক কত গভীর ও কত দিনের। তা ছাড়া তোমাদের আমি কত ভালোবাসি তাও তোমরা জানো। সবাই একসাথে বলে উঠলো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, তা তো আমরা ভালোই জানি।
নুয়াইম বললেন, তোমরা তো মুহাম্মাদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে কুরাইশ ও গাতফানদের সাথে যোগ দিয়েছ। কিন্তু এর পরিণাম কী ভেবে দেখেছ? জিতে গেলে তো কোন সমস্যা থাকবে না। কিন্তু হেরে গেলে? তখন কী অবস্থা হবে? তারা তো নিজেদের পথ বেছে নিবে আর তোমরা একেবারেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়বে। তখন তো মুহাম্মাদের সাথে তোমাদের একাই মোকাবেলা করতে হবে। সেসময় তো তোমাদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়বে। তখন তো বনী কায়নুকা ও বনী নাজিরের মতো দুর্ভাগ্য তোমাদেরও বরণ করতে হবে। 
লোকেরা উদ্বেগের সাথে সমস্বরে বলে উঠলো, তা হলে এখন আমরা কী করব, নুয়াইম!
নুয়াইম বললেন, আমার মনে হয় আগে তাদের কিছুলোক তোমাদের কাছে জামিন হিসেবে রেখেই তবে তাদের সঙ্গী হওয়া উচিত। জামিনের লোকদের উচ্চ বংশ হতে হবে। এভাবে তাদের উপর তোমাদের বিশ্বাস থাকবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তারা মুহাম্মাদকে মেরে না ফেলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ফিরে যেতে পারবে না।
লোকেরা এই যুক্তি শুনে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলো। তারা বললো, বাহ, নুয়াইম, তোমার যুক্তি একেবারেই সঠিক। আমরা এখন এটাই করবো। 
নুয়াইম বললেন, আচ্ছা আমি এখন যাই। তবে সাবধান, এ কথা কাউকে বলবে না। লোকেরা বললো, না, না, কখনই বলবো না। তুমি পূর্ণ আস্থা রাখো। আমরা কারো সাথেই বলবো না।
নুয়াইম ওখান থেকে বেরিয়ে পড়লেন। কিন্তু এরা তখনো পর্যন্ত নুয়াইমের প্রশংসা করতে লাগলো এবং বলতে লাগলো, নুয়াইম কত সাবধানী লোক, তিনি কত চিন্তাশীল! তিনি আমাদের প্রতি কত খেয়াল রাখেন।
এরপর নুয়াইম আবু সুফিয়ানের কাছে পৌঁছলেন সেখানে কুরাইশদের অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। নুয়াইম বললেন, তোমরা জানো, আমি তোমাদের কত ভালোবাসি। আমি একটা কথা জানতে পারলাম, তাই সেই খবরটা তোমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা জরুরী মনে করে ছুটে এলাম। যাতে তোমরা সাবধান হয়ে যাও।
লোকেরা হতভম্ব হয়ে সমস্বরে বললো, নুয়াইম, কী হয়েছে? কী ব্যাপার?
নুয়াইম বললেন, আমি জানতে পারলাম, বনু কুরাইযা মুহাম্মাদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। তাঁরা মুহাম্মাদের কাছে তাদের অপরাধ মিটিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছে। মুহাম্মাদ শর্তসাপেক্ষে তাদের মাফ করে দিয়েছেন। তা হলো বনু কুরাইযা কুরাইশ ও গাতফানের কাছ থেকে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে তার নিকট পাঠাবে। তিনি তাদের হত্যা করবেন। দেখ ভাই, সাবধান থেকো। যে কোনো বাহানায় তারা তোমাদের কাছে লোক চাইলে মনের ভুলেও দিয়ো না।
এ কথা বলে নুয়াইম বেরিয়ে পড়লেন। কুরাইশ নেতারা তার অনেক প্রশংসা করলো এবং তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা জানালো।
সেখান থেকে ফিরে নুয়াইম গাতফানদের কাছে গেলেন। তাদের সাথেও তিনি ঐ একই কথা বললেন।
নুয়াইমের এই কথায় কুরাইশ ও গাতফান খুবই হতবিহ্বল হয়ে পড়লো। সমস্ত নেতা একত্র হয়ে চিন্তা করতে লাগলো, বনু কুরাইযার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিল। সবশেষে সিদ্ধান্ত হলো, দুই গোত্রের কিছু নেতা সেখানে যাক। গিয়ে বলুক, ভাই, এখানে আমাদের অনেকদিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর বেশিদিন অবস্থান করার ইচ্ছা আমাদের নেই। এ ব্যাপারে একটা ফায়সালা হয়ে যাওয়া উচিত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমরাও আমাদের সাথে মিলে যাও। সবাই মিলে আমরা একসাথে বড় রকমের একটা হামলা চালিয়ে দিই।
কুরাইশ ও গাতফানের একটি দল বনু কুরাইযার কাছে গিয়ে এসব কথা বললো। বনু কুরাইযা বললো, আগামীকাল তো শনিবার। শনিবার আমাদের যুদ্ধ-বিগ্রহ করা নিষেধ। অন্য কোনদিন ঠিক করো। হ্যাঁ, আর একটা কথা আছে। আমরা তোমাদের সাথে এক হয়ে লড়তে রাজি আছি, তবে আমাদের কাছে তোমাদের বিশিষ্ট কিছুলোককে জামিনস্বরূপ রাখতে হবে। যাতে আমাদের বিশ্বাস জন্মায় যে, মুহাম্মাদের সাথে যুদ্ধে পরাজয় হলে তোমরা আমাদের ছেড়ে পালিয়ে যাবে না।
কুরাইশ ও গাতফানদের নুয়াইমের কথার প্রতি বিন্দুমাত্র সন্দেহ রইলো না। তাদের পূর্ণ বিশ্বাস জন্মালো, বনু কুরাইযার উদ্দেশ্য সত্যিই খারাপ। তাই জামিন হিসেবে তাদের কাছে কাউকে রাখতে অস্বীকৃতি জানালো। তখন বনু কুরাইযারও নুয়াইমের কথার প্রতি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলো না। ফলে দুইপক্ষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়ে গেল। ফলে এত বিশাল লোকবল সত্ত্বেও শত্রুরা সাহস হারিয়ে হীনবল হয়ে পড়ল।

গায়েবি মদদ

কাফের বাহিনীর দীর্ঘ এক মাসের অবরোধে মুসলমানদের দুরবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোমল প্রাণ কেঁদে উঠলো। তিনি তাদের এ সীমাহীন কষ্ট লাঘব করে কাফের বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দু‘আ করলেন। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু সায়িদ খুদরী রা. বলেন, আমরা যুদ্ধের কঠোর অবস্থা আলোচনা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দু‘আর দরখাস্ত করলাম। তিনি এই পরিপ্রেক্ষিতে দু‘আ করলেন,
اَللّٰهُمَّ اسْتُرْعَوْرَاتِنَاوَامِنْرَوْعَاتِنَا
আয় আল্লাহ, আপনি আমাদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন এবং আমাদের ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ রাখুন।
বুখারি শরীফে এ সময়ের অপর একটি দু‘আ বর্ণিত হয়েছে। তা হচ্ছে, 
اَللّٰهُمَّ مُنْزِلَالْكِتَابِوَمُجْرِيَالسَّحَابِوَهَازِمَالْاَحْزَابِاهْزِمْهُمْوَانْصُرْهُمْوَانْصُرْنَاعَلَيْهِمْ
আয় আল্লাহ, হে কিতাব নাযিলকারী, হে বৃষ্টি ও মেঘ প্রেরণকারী, কাফের দলগুলোকে পরাজয় দানকারী, আপনি তাদের পরাজয় দিন এবং তাদের বিপরীতে আমাদের বিজয় দান করুন। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৯৬৬)
আল্লাহ তা‘আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আ কবুল করলেন। শীতকালের পরিষ্কার আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ দেখা দিল। মুহূর্তেই শুরু হয়ে গেল প্রচণ্ড রকমের ঝড়। সেই সাথে নামলো প্রবল বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবহাওয়া ভয়ংকর রূপ ধারণ করলো। প্রচণ্ড বৃষ্টি, ঝড়, বিদ্যুৎচমক একসাথে শত্রুদের মনপ্রাণ আতঙ্করগ্রস্ত হয়ে পড়লো। তারা তাদের তাঁবুর দিকে ছুটে যেতে লাগলো। কিন্তু আবহাওয়া বড় নির্মম ও ভয়ংকর হয়ে উঠলো। ঝড়-তুফান অনবরত বেড়েই চললো। ঝড়ের সাঁ সাঁ শব্দে ভয়ে তাদের প্রাণ উড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তাঁবুর দড়িগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। জিনিসপত্র এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়লো। চুলা ও হাঁড়ি-পাতিল সব ওলট-পালট হয়ে গেল। ঝড় শুধু একা আসেনি, সাথে নিয়ে এসেছে বালি আর কাঁকর। ফলে শত্রুদের চোখ-মুখ সব অন্ধকার করে দিলো। কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। প্রচণ্ড ভয়ে তারা চিৎকার ও আর্তনাদ করতে লাগলো। হায় সর্বনাশ! হায় সর্বনাশ! সব শেষ হয়ে গেল। এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেন,
یٰۤاَیُّهَاالَّذِیْنَاٰمَنُوااذْكُرُوْانِعْمَۃَاللهِ عَلَیْكُمْ اِذْجَآءَتْكُمْ جُنُوْدٌفَاَرْسَلْنَاعَلَیْهِمْ رِیْحًا وَّجُنُوْدًالَّمْتَرَوْ هَاؕوَکَانَاللهُ بِمَاتَعْمَلُوْنَ بَصِیْرًا○  
হে মুমিনগণ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রদত্ত নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন কাফেরদের বহুদল তোমাদের মাথার উপর এসে পড়ে, সে সময় আমি তাদের বিপরীতে পাঠালাম ঝঞ্ঝাবায়ু এবং আকাশ থেকে এমন সেনাদল, যাদের তোমরা দেখতে পাও না। তোমরা যা-কিছু করো, আল্লাহ তার সবই দেখেন। (সূরা আহযাব, আয়াত:৯)
وَجُنُودًالَمْتَرَوْهَا
“এমন সেনাদল, যাদের তোমরা দেখতে পাও না”- দ্বারা ফেরেশতার দলকে বুঝানো হয়েছে, যারা কাফেরদের অন্তরে ভয়-ভীতির সঞ্চার করেছে। এর বিপরীতে তারাই মুসলিমদের অন্তরে সাহস ও দৃঢ়তা সৃষ্টি করেছে। ফলে কাফেরদের দশ হাজার সেনাদল ভীত-সন্ত্রস্ত ও অস্থিরচিত্ত পেরেশান অবস্থায় ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, 
وَرَدَّاللهُ الَّذِیْنَ کَفَرُوْابِغَیْظِهِمْ لَم ْیَنَالُوْاخَیْرًاؕوَ  کَفَی اللهُ الْمُؤْمِنِیْنَالْقِتَالَؕوَ     کَانَ اللهُ قَوِیًّاعَزِیْزًا○ 
আল্লাহ তা‘আলা কাফেরদের ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোন কল্যাণ লাভ করেনি, যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী। (সূরা আহযাব, আয়াত:২৫)
হযরত হুযাইফা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিলেন, যাও, কাফেরদের খবর নিয়ে এসো। আমি বললাম, আমাকে আবার আটকে না ফেলে। শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাকে ধরতে পারবে না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দু‘আ করলেন,
اَللّٰهُمَّ احْفَظْهُ مِنْ بَيْن ِيَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ وَِمنْ يَمِيْنِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَمِنْ فَوْقِهِ وَمِنْ تَحْتِهِ
হে আল্লাহ, আপনি তাকে হেফাজত রাখুন, তার সামনে থেকে, তার পিছন থেকে, তার ডান দিক থেকে, তার বামদিক থেকে, তার উপর দিক থেকে, তার নিচ থেকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য

//