দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০৪) ধনসম্পদের অপব্যবহার ও তার পরিণাম

ধনসম্পদের অপব্যবহার ও তার পরিণাম وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللّٰهَ لَئِنْ اٰتَانَا مِنْ فَضْلِه لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُوْنَنَّ مِنَ ال...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০৪) ধনসম্পদের অপব্যবহার ও তার পরিণাম

ধনসম্পদের অপব্যবহার ও তার পরিণাম


وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللّٰهَ لَئِنْ اٰتَانَا مِنْ فَضْلِه لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُوْنَنَّ مِنَ الصَّالِحِيْنَ○فَلَمَّا اٰتَاهُمْ مِّنْ فَضْلِه بَخِلُوْا بِه وَتَوَلَّوْا وَّهُمْ مُّعْرِضُوْنَ○فَاَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِىْ قُلُوْبِهِمْ اِلٰى يَوْمِ يَلْقَوْنَه بِمَا اَخْلَفُوْا اللّٰهَ مَا وَعَدُوْهُ وَبِمَا كَانُوْا يَكْذِبُوْنَ○اَلَمْ يَعْلَمُوْا اَنَّ اللّٰهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَاَنَّ اللّٰهَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ ○
তাদের (নিফাক অবলম্বনকারীদের) মধ্যে কেউ কেউ এমন রয়েছে, যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে ওয়াদা করেছিল, তিনি যদি আমাদের নিজ অনুগ্রহে ধনসম্পদ দান করেন, তবে অবশ্যই আমরা তা আল্লাহর পথে ব্যয় করবো এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। অতঃপর যখন তিনি তাদের নিজ অনুগ্রহে সম্পদ দান করলেন, তখন তারা তা থেকে দান করতে কার্পণ্য করলো এবং আল্লাহর হুকুম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। আর তারা তো মুখ ফিরাতেই অভ্যস্ত। তারপর এর পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত- যেদিন তারা আল্লাহর সাথে গিয়ে মিলবে। তা এ জন্য যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লংঘন করেছে এবং এ জন্য যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো। তারা কি জানে না, আল্লাহ তা‘আলা তাদের মনের কথা ও শলা-পরামর্শ সম্পর্কে অবগত এবং আল্লাহ তা‘আলা খুব ভালো করেই জানেন সমস্ত গোপন বিষয়? (সূরা তাওবা, আয়াত:৭৫-৭৮) 

এ দু’ আয়াতে ধনসম্পদ পেলে দান-খয়রাতের ব্যাপারে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা এই অঙ্গীকার করেছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে। যেহেতু দীনের বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ওয়াদা করা আল্লাহর সাথে ওয়াদা করার শামিল, তাই আয়াতটিতে আল্লাহর সাথে ওয়াদা করার কথা বলা হয়েছে।
এই আয়াতের শিক্ষা হলো, আল্লাহ তা‘আলা যাকে মাল-সম্পদ দিয়েছেন, তার উচিৎ মাল-সম্পদকে আল্লাহ তা‘আলার পরীক্ষা মনে করে এর সুষ্ঠু ব্যবহার ও শরী‘আত নির্দেশিতভাবে ব্যয় করতে সচেষ্ট থাকা। কখনও আল্লাহ তা‘আলার হুকুম পালনে অনীহা বা অনাগ্রহ দেখানো কিংবা দীনের পথে খরচ করতে বা যাকাত, ফিতরা, কুরবানী ইত্যাদি আদায়ে কিংবা হকদারদের হক পূরণ করতে কার্পণ্য করা কিছুতেই উচিত নয়।
যদি আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ তাঁর নির্দেশিত পন্থায় ব্যয় না করা হয় এবং আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ না থাকা হয় তাহলে এর শাস্তি হিসেবে অন্তরে মুনাফেকী চিরস্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

আয়াতের শানে নুযুল হিসেবে প্রসিদ্ধ একটি অনির্ভরযোগ্য ঘটনা

এই আয়াতের শানে নুযুল হিসেবে একটি ঘটনা প্রসিদ্ধ রয়েছে। ঘটনার সার সংক্ষেপ হলো, সা‘লাবা ইবনে হাতেব আনসারী, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে ধনসম্পদ প্রাপ্তির জন্যে দু‘আ কামনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিরুৎসাহিত করে ফিরিয়ে দেন।
কিন্তু তিনি পরে আবার এসে একই নিবেদন করলেন এবং এই অঙ্গীকার করলেন, যদি আমি মালদার হই, তবে আমি প্রত্যেক হকদারকে তার হক বা প্রাপ্য পৌঁছে দিব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ সত্ত্বেও তার জন্য দু‘আ করলেন, আয় আল্লাহ, আপনি সা‘লাবাকে সম্পদশালী বানিয়ে দিন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আর ফলে সা‘লাবার ছাগল-ভেড়া তড়িৎগতিতে বাড়তে আরম্ভ করলো। এমনকি একসময় মদীনায় বসবাসের জায়গাটি তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে উঠলো। তখন তিনি মদীনা শহরের বাইরে চলে যান। শুধু যুহর ও আসরের নামায মদীনায় এসে আদায় করতেন।
তার ছাগল-ভেড়ার আরো বেড়ে গেলে তিনি মদীনার শহরতলী থেকে আরো দূরবর্তী এক স্থানে চলে যান। সেখান থেকে শুধু জুম‘আর নামাযের জন্য তিনি মদীনায় আসতেন এবং অন্যান্য পাঞ্জেগানা নামায সেখানেই পড়ে নিতেন।
তারপর ক্রমশ এসব ছাগল-ভেড়া বহুগুণে বেড়ে গেলে সেই জায়গাও তাকে ছাড়তে হলো এবং তিনি মদীনা থেকে বহুদূরে চলে গেলেন। সেখানে যাওয়ার পরে মসজিদে নববীতে কোন ওয়াক্তের জন্যও আসতে পারলেন না। ফলে জুম‘আ ও জামা‘আত সবকিছু থেকেই তাকে বঞ্চিত হতে হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘লাবার এ অবস্থা শুনে সা‘লাবার প্রতি আফসোস প্রকাশ করেন।
কিছুদিন পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে যাকাত উসুলকারীগণ সা‘লাবার কাছে যাকাত নেয়ার জন্য হাজির হলে সে যাকাতকে জিযিয়া (অমুসলিমদের থেকে উসুলকৃত কর) সাব্যস্ত করে যাকাত প্রদান করতে অস্বীকার করে। 
যাকাত উসুলকারীগণ মদীনায় ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো সা‘লাবার প্রতি আফসোস প্রকাশ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আফসোসের কথা শুনে সা‘লাবা ঘাবড়ে গেলো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে নিবেদন করলো, আল্লাহর রাসূল, আমার যাকাত কবুল করে নিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা‘আলা আমাকে তোমার যাকাত গ্রহণ করতে বারণ করেছেন।
মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর সা‘লাবা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা.-এর নিকট উপস্থিত হয়ে যাকাত কবুল করার আবেদন জানালে আবুবকর সিদ্দিক রা. ও তার যাকাত কবুল করতে অস্বীকৃতি জানান। আবু বকর সিদ্দিক রা. এর ওফাতের পর হযরত উমর ফারুক রা. এবং হযরত উসমান রা. ও সা‘লাবার যাকাত গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। হযরত উসমান রা.-এর খিলাফতকালেই সা‘লাবার মৃত্যু হয়।” (তাফসীরে ইবনে কাসীর)  দীর্ঘ এ ঘটনাটি মানুষের মধ্যে বেশ প্রসিদ্ধ। ধন-সম্পদের লোভের চরম শাস্তির কথা বুঝাতে গিয়ে অনেকেই এ ঘটনাটি বর্ণনা করেন। বেশ কয়েকটি তাফসীরের কিতাবেও এর উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনাটি হাদীসের কোন নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায় না। ধন-সম্পদ আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় ব্যয় না করার পরিণতি আয়াতের তরজমা থেকেই সুস্পষ্ট। এটা বুঝানোর জন্য বা নিছক ঘটনা হিসাবে হযরত সা‘লাবা রা. সংক্রান্ত ঘটনাটি বর্ণনা করার কোন সুযোগ নেই। 

এ পর্যায়ে আমরা দু’ভাবে ঘটনাটির বিশ্লেষণ করবো-

প্রথম আলোচনা: সা‘লাবা রা. সংক্রান্ত রিওয়ায়েতের সনদ যাচাই:
হযরত সা‘লাবা রা. সংক্রান্ত ঘটনাটি তিনজন সাহাবীর বর্ণনায় পাওয়া যায়। 
১. হযরত আবূ উমামা রা. 
তাঁর রিওয়ায়েতটি আবার তিনটি সূত্রে পাওয়া যায়। (ক) মুহাম্মাদ ইবনে শু‘আইব, (খ) মিসকীন ইবনে বুকাইর। (গ) ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম। উল্লিখিত তিনজনই হযরত মুআন ইবনে রিফা‘আর ওয়াসেতায় হযরত আলী ইবনে ইয়াযীদ  হতে বর্ণনা করেন। এই আলী ইবনে ইয়াযীদের ব্যপারে ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ‘মুনকারুল হাদীস’। (আত-তারীখুল কাবীর: ৬/৩০১) 
অন্যত্র বলেন, আমি যার ব্যাপারে মুনকারুল হাদীস বলবো, তার থেকে রিওয়ায়েত করা জায়েয নেই। (মীযানুল ইতিদাল: ১/২; ৬/২০২) 
ইমাম দারাকুতনী তার ব্যাপারে বলেছেন, ‘মাতরূক’। [আয-যু‘আফা ওয়াল মাতরুকীন: ১/৭৭; (মীযানুল ইতিদাল: ৩/১৬১)]

২. হযরত ইবনে আব্বাস রা. :
তাঁর থেকে  শুধুমাত্র একটি সূত্রে রিওয়ায়েতটি পাওয়া যায়। সেখানে একজন রাবী আছেন হুসাইন ইবনে হাসান ইবনে আতিয়্যাহ, তাঁর ব্যাপারে ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, তার রিওয়ায়েত দ্বারা দলীল পেশ করা জায়েয নেই। আবূ হাতিম ও ইবনে সা‘দ রহ. বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলেন। (লিসানুল মীযান: ৩/১৫৫) 
ইবনে মাঈন রহ.ও তার ব্যপারে একই মত পোষণ করেছেন। (তারীখে বাগদাদ: ৮/৫৫২)

৩. হযরত হাসান রা. :
তাঁর থেকে শুধু একটি সূত্রে রিওয়ায়েতটি পাওয়া যায়। আর তাতে পাঁচটি ইল্লত (সমস্যা) রয়েছে। 
সূত্র: এ সূত্রটির (ইল্লত) সমস্যাগুলোর শাস্ত্রীয় আলোচনা নিম্মরূপ:
ومنهم من عاهد الله لئن آتانا من فضله الآية، وكان الذي عاهد الله منهم: ثعلبة بن حاطب، ومعتب بن قشير، وهما من بني عمرو بن عوف.

أخرجه ابن جرير الطبري في جامع البيان 740/33  من طريق ابن حميد قال، حدثنا سلمة، عن ابن إسحاق، عن عمرو بن عبيد، عن الحسن.
هذا إسناد ضعيف جدا؛ فيه خمس علل:
1. الإرسال؛ فإن الحسن )وهو : البصري ( تابعي، وقد أرسله،ومراسيل الحسن لا يحتج بها.
وقال الحسن البصري كنت إذا اجتمع لي أربعة نفر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم تركتهم وأسندته إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا فإذا كان هذا شأن مراسيل الحسن وهي عندكم من أضعف المراسيل فكيف بمراسيل غيره من كبار التابعين كابن المسيب .جامع التحصيل :ص  .5وان مراسيل عطاء والحسن البصري لا يحتج بها لأنهما كانا يأخذان عن كل أحد.جامع التحصيل :ص 4
2. عمرو بن عبيد بن باب ويقال: بن كيسان التميمي أبو عثمان البصري مولى بني تميم هو المعتزلي المشهور الهالك ، كان داعية إلى بدعته،تهذيب الكمال في أسماء الرجال: برقم  4406 
محمد بن إسحاق بن يسار مدلس، وقد عنعن .سير أعلام النبلاء ط الحديث
2/501
3. سلمة بن الفضل الأبرش ،صدوق كثير الخطأ . قال أبو حاتم : محله الصدق، في حديثه إنكار، لا يمكن أن اطلق لساني فيه بأكثر من هذا. يكتب حديثه ولا يحتج به. وقال محمد بن سعد : كان ثقة صدوقا، وهو صاحب مغازي محمد بن إسحاق روى عنه"المبتدأ"و"المغازي". وكان مؤدبا، وكان يقال: أنه من أخشع الناس في صلاته. )تهذيب الكمال في أسماء الرجال  11/308:
4. محمد بن حميد بن حيان، أبو عبد الله الرازي وهو مكثر عن سلمة بن الفضل الأبرش، وله مناكير وغرائب كثيرة. تاريخ الإسلام ت بشار5/1221: 

দ্বিতীয় আলোচনা: ঘটনাটির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
হযরত সা‘লাবা সংক্রান্ত ঘটনাটি বাতিল হওয়ার ব্যাপারে অনেক উলামায়ে কেরামের সুস্পষ্ট মত পাওয়া যায়।
১. ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, তাঁর ব্যপারে বর্ণিত ঘটনাটি  সহীহ নয়। আবূ উমর বলেন, হযরত সা‘লাবার ব্যপারে যাকাত না দেয়া সংক্রান্ত যে ঘটনাটি বলা হয়, তা সহীহ নয়। (আল জামি’ লি আহকামিল কুরআন: ৮/২১০)
২. শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ রহ. বলেন, হযরত সা‘লাবা রা. সংক্রান্ত ঘটনাটি গ্রহণযোগ্য নয়। (আত তালিকাতুল হাফিলাহ, পৃষ্ঠা: ১০৮) 
৩. শায়েখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ. বলেন, হযরত সা‘লাবা রা. সংক্রান্ত ঘটনাটির সনদ যয়ীফ যিদ্দান। (সিলসিলাতুল যয়ীফা: ৯/৮০)
৪. মুহাক্কিক আব্দুল হুমাইদ সাদানী বলেন, ঘটনাটি সহীহ নয়। (মারেফাতুস সাহাবা লি আবী নু‘আইম: ১/৪১৪)
হযরত সা‘লাবা রা. সংক্রান্ত ঘটনাটির সনদ তথা বর্ণনাসূত্রের অবস্থা এবং এ ব্যাপারে হাদীস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরামের বক্তব্যের আলোকে এ কথা স্পষ্ট যে, ঘটনাটি নির্ভরযোগ্য ও বর্ণনার উপযুক্ত নয়। তাই এটি বর্ণনা করা থেকে আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

✍️ আমাদের ব্লগ
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০৪) ধনসম্পদের অপব্যবহার ও তার পরিণাম

ধনসম্পদের অপব্যবহার ও তার পরিণাম وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللّٰهَ لَئِنْ اٰتَانَا مِنْ فَضْلِه لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُوْنَنَّ مِنَ ال...