দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০১) আসহাবে ফীলের ঘটনা

আসহাবে ফীলের ঘটনা: আল্লাহর ঘরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ভয়াবহ শাস্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে আল্লাহ সুবহানাহু ...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০১) আসহাবে ফীলের ঘটনা

আসহাবে ফীলের ঘটনা:

আল্লাহর ঘরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ভয়াবহ শাস্তি
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ইরশাদ করেন,
 اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفِيْلِ ○ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيْلٍ ○ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابِيْلَ ○ تَرْمِيْهِم بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍ ○ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّاْكُوْلٍ 
আপনি কি দেখেননি, আপনার পালনকর্তা হস্তিবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ করে দেননি? আর তিনি তাদের উপর পাঠালেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, যারা তাদের উপর কংকর জাতীয় পাথর নিক্ষেপ করছিল। ফলে আল্লাহ তাদের ভক্ষিত ভূষিসদৃশ করে দেন। (সূরা ফীল, আয়াত: ১-৫)

এই সূরায় আসহাবে ফীল বা আবরাহার হস্তি বাহিনীর ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। তারা কাবা ঘর ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে হস্তি বাহিনী নিয়ে মক্কা মুকাররমায় অভিযান পরিচালনা করে ইয়ামান থেকে মিনা পর্যন্ত পৌঁছে ছিল। আল্লাহ তা‘আলা নগণ্য ও ক্ষুদ্র পাখিদের মাধ্যমে তাদের বাহিনী নিশ্চিহ্ন করে তাদের কু-মতলব ধুলায় মিশিয়ে দেন।

খাতামুল আম্বিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের বছর মক্কা মুকাররমার অদূরে এই ঘটনা ঘটেছিল। বেশ কিছু রেওয়ায়েত দ্বারা এটা প্রমাণিত এবং এটাই প্রসিদ্ধ বর্ণনা। (তাফসীরে ইবনে কাসীর) 

হাদীস বিশারদগণ এ ঘটনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একপ্রকার মুজিযারূপে আখ্যায়িত করেছেন। মুজিযা বলতে সাধারণত এমন কোন অলৌকিক ঘটনাকে বুঝানো হয় যেটা নবুওয়্যাত প্রাপ্তির পর নবীগণের দাবিকে সত্য প্রমাণিত করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ করে থাকেন। তবে আম্বিয়া আলাইহিস সালামের নবুওয়্যাত দাবির পূর্বে বরং তাঁদের জন্মেরও পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা মাঝে মধ্যে পৃথিবীর বুকে এমন কিছু ঘটনা ও নিদর্শন প্রকাশ করেন, যা অলৌকিকতায় মুজিযার অনুরূপই হয়ে থাকে। এধরনের নিদর্শনকে হাদীসবিদগণের পরিভাষায় ইরহাসাত (اِرْحَاصَاتْ) বলা হয়। اِرْحَاصَاتْ এর শব্দ رَحْصٌ (রহসুন) অর্থ ভিত্তি ও ভূমিকা। এসব নিদর্শন নবীর নবুওয়্যাত প্রকাশের ভিত্তি ও ভূমিকা হিসেবে সংঘটিত হয় বিধায় এগুলোকে ‘ইরহাসাত’ বলা হয়।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়্যাত এমনকি জন্মেরও পূর্বে এ ধরনের কয়েকটি ইরহাসাত প্রকাশ পেয়েছে। উল্লিখিত সূরা ফীলে বর্ণিত হস্তি বাহিনীকে কুদরতী গজব দ্বারা প্রতিহত করার নিদর্শন এ সবের অন্যতম।

আসহাবে ফীল-এর ঘটনা

হাদীস ও ইতিহাসশাস্ত্রের ইমাম আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. বর্ণনা করেন, ইয়ামানের উপর হিমইয়ারী শাসকদের কর্তৃত্ব ছিল, যারা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করতো। তাদের প্রধান বাদশা যু-নাওয়াস তৎকালীন আহলে হক তথা ‘ঈসা ‘আলাইহিস সালামের দীনের অনুসারী তাওহীদপন্থীদের উপর খুব জুলুম করেছিল। সে বিশাল আকারে এক গর্ত খনন করে তাতে অগ্নি প্রজ্বলিত করে এবং যে সমস্ত দীনদার তাওহীদপন্থী মূর্তিপূজা ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদত করতেন, তাদের সকলকে উক্ত প্রজ্বলিত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেয়। যাদের সংখ্যা বিশ হাজারের কাছাকাছি ছিল। এটা ঐ অগ্নিকুন্ডের ঘটনা, যা ‘আসহাবে উখদুদ’-এর আলোচনায় সূরা বুরুজে উল্লেখ হয়েছে।

এদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তি যে কোনো উপায়ে তার কবল থেকে উদ্ধার পেয়ে ছুটে এসে পারস্য-সম্রাটের কাছে ফরিয়াদ করে, হিমইয়ারী শাসনকর্তা দীনদার তাওহিদপন্থীদের উপর এরূপ অত্যাচার চালাচ্ছে। আপনি তার প্রতিশোধ নিন।

তখন পারস্য-সম্রাট ‘ঈসা ‘আলাইহিস সালামের দীনের অনুসারী হাবশার শাসনকর্তার কাছে চিঠি লিখলেন, আপনি এই জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করুন। তিনি এই নির্দেশ পেয়ে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী দুই কমান্ডার তথা আরবাত ও আবরাহার নেতৃত্বে ইয়ামানের ঐ বাদশার মোকাবেলা করার জন্য প্রেরণ করেন। উক্ত সেনাবাহিনী তার দেশের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং গোটা ইয়ামানকে হিমইয়ার সম্প্রদায়ের কবজা থেকে স্বাধীন করে।

তখন হিমইয়ার শাসনকর্তা যু-নাওয়াস পালিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে নদীতে ডুবে মারা যায়। এভাবে আবরাহার মাধ্যমে ইয়ামান অঞ্চল হাবশার শাসনকর্তার দখলে চলে আসে।

পরবর্তীকালে আরবাত ও আবরাহার মধ্যে লড়াই হয়। তখন আরবাত নিহত হয় এবং আবরাহা জয়ী হয়। এতে আবরাহা ইয়ামানের উপর এককভাবে দখলদারিত্ব কায়েম করে।

আবরাহার ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের বক্তব্য হলো, সে শাহী গোত্রের ছিল। তার নাম ছিল আবরাহা। কিন্তু যেহেতু তার নাক কাটা ছিল, তাই আরবরা তাকে ابرهة الاشرم  (আবরাহা আলআশরাম) বলতো। আরবিতে اشرم শব্দের অর্থ নাক কাটা।

কারো কারো মতে, আবরাহা ৫২৫ খ্রিস্টাব্দে রাজত্ব শুরু করে। আর কোন কোন ঐতিহাসিক ৫৪৩ খ্রিস্টাব্দের কথা উল্লেখ করেছেন। ‘আরদুল কুরআন’ প্রণেতা দ্বিতীয় মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

আবরাহা কট্টর খ্রিস্টান ছিল, যার কারণে সে গোটা সাম্রাজ্যে ঈসায়ী মুবাল্লিগ নিযুক্ত করেছিল এবং শহরে-বন্দরে বড় বড় গির্জা নির্মাণ করেছিল। শেষ পর্যন্ত আবরাহা ইচ্ছা করলো, ইয়ামানে এমন একটি শানদার গির্জা নির্মাণ করবে, যার কোন নযীর পৃথিবীর বুকে থাকবে না। এর দ্বারা তার এই উদ্দেশ্য ছিল যে, ইয়ামানসহ সারা বিশ্বে যে সমস্ত আরব-অনারব মক্কা মুকাররমায় উপস্থিত হয়ে বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করে, তারা যেন এই গির্জার শান-শওকতে প্রভাবিত হয়ে কাবার পরিবর্তে এই গির্জায় আগমন করে।

এই খেয়ালে সে একটি সুউচ্চ আলীশান গির্জা নির্মাণ করলো, তার চূড়ায় দাঁড়ালে নিচের মানুষজন দেখা যেত না। সম্পূর্ণ গির্জাটি সে সোনা-রুপা, হীরা, মণি-মুক্তা ও হাতির দাঁত দিয়ে নকশা করে সাজিয়েছিল।

সুহায়লী রহ. বর্ণনা করেন, এই গির্জা নির্মাণের ক্ষেত্রে আবরাহা ইয়ামানের অধিবাসীদের উপর খুব অত্যাচার করেছিল। সে সেখানকার অধিবাসীদের জোরপূর্বক শ্রমিক বানিয়েছিল এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এর পিছনে অঢেল সম্পদ ব্যয় করেছিল।

গির্জা-নির্মাণ সমাপ্ত করার পর আবরাহা হাবশার সম্রাট নাজাশীর কাছে এই মর্মে পত্র প্রেরণ করলো, আমি ইয়ামানের রাজধানী সানআয় আপনার জন্য ‘আলকালিস’ নামক এমন এক নযীরবিহীন গির্জা নির্মাণ করেছি, বিগত ইতিহাস যার কোন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারেনি। এখন আমার আকাঙ্ক্ষা হলো গোটা বিশ্বের যে সকল আরব-অনারব মক্কা মুআজ্জমায় হজ্জ পালন করার জন্য একত্র হয়, তাদের সকলের অন্তরাত্মা এই গির্জার দিকে ফিরিয়ে দিব, আর এখন থেকে এটাই হবে তাদের সবার হজ্জব্রত পালন করার স্থান।

সমস্ত আহলে আরব তথা ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষ সকলেই পবিত্র কাবার খুব সম্মান ও শ্রদ্ধা করতো এবং প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ আকীদা-বিশ্বাস অনুযায়ী বায়তুল্লাহর হজ্জ ও যিয়ারত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত মনে করতো। এ জন্যই আহলে আরবরা যখন আবরাহার এই উদ্দেশ্যের কথা জানতে পারলো, তখন আদনান, কাহতান ও কুরাইশ গোত্রের লোকেরা রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলো। এমনকি এদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রাতের আঁধারে ঐ গির্জায় প্রবেশ করে তাতে মলমূত্র ত্যাগ করে তা অপবিত্র করে দিল। কোন কোন বর্ণনামতে, মুসাফিরদের একটি দল নিজেদের প্রয়োজনে উক্ত গির্জার পাশে আগুন জ্বালালে তা থেকে ঐ গির্জায় আগুন ধরে যায় এবং তার অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।

আবরাহা যখন জানতে পারলো, কোন আরবীয় লোকের দ্বারা এ কাজ হয়েছে, তখন সে শপথ করলো, আমি তাদের কাবাগৃহের ইট একটা একটা করে খুলে ফেলবো এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তা না করতে পারবো, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি শান্ত হবো না। এরই ভিত্তিতে আবরাহা বায়তুল্লাহ অভিমুখে রওয়ানার প্রস্তুতি শুরু করলো এবং এই মর্মে বাদশা নাজাশীর কাছে অনুমতি চাইলো। নাজাশী তার ‘মাহমুদ’ নামক বিশেষ হাতিটি আবরাহার জন্য প্রেরণ করলো, যাতে করে সে সওয়ার হয়ে কাবা শরীফে আক্রমণ করতে পারে।

কোন কোন বর্ণনামতে, এটা খুব বড় ও শক্তিশালী হাতি ছিল, তৎকালীন সময়ে যার কোন দৃষ্টান্ত পাওয়া যেত না। এর সাথে সাথে হাবশা সম্রাট অন্যান্য সেনা সদস্যের জন্য আরও আটটি হাতি প্রেরণ করেছিল। সে এই উদ্দেশ্যে এসব হাতি প্রেরণ করেছিল যে, বায়তুল্লাহ শরীফ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করে যেন সহজেই কার্যসিদ্ধি করা যায়। সে ভাবলো, বায়তুল্লাহর খাম্বাগুলো লোহার শক্ত শিকল দিয়ে আটকিয়ে ঐ শিকলগুলো হাতির গলায় বেঁধে হাতি হাঁকানো হলে, হাতিগুলোর টানের তোড়ে সম্পূর্ণ বায়তুল্লাহ সাথে সাথে ভেঙ্গে পড়বে। (নাউযুবিল্লাহ)।

আরবরা যখন দুর্ধর্ষ আবরাহার এ কাবা আক্রমণের কথা শুনতে পেলো, তখন তারা সকলেই তার মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলো। সর্বপ্রথম যু-নাযার নামক আরব-বংশোদ্ভূত এক ইয়ামানী সরদার ইয়ামান থেকে বের হয়ে আরবের বিভিন্ন গোত্রের কাছে এই সংবাদ দিয়ে দূত প্রেরণ করলেন যে, আমি আবরাহার মোকাবেলা করতে চাই। সুতরাং আপনাদের উচিত হলো এই সৎকাজে আমাকে সহযোগিতা করা। এই বলে তিনি আরবদের একটি দলসহ আগে বেড়ে আবরাহা বাহিনীর মোকাবেলায় যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। কিন্তু তাতে তিনি পরাজয় বরণ করলেন এবং গ্রেফতার হলেন।

আবরাহা পথ অতিক্রম করে যখন ‘খাসআম’ গোত্রের এলাকায় পৌঁছালো তখন ঐ গোত্রের সরদার নুফায়েল ইবনে হাবিব নিজ গোত্রের লোকজন নিয়ে আবরাহা-বাহিনীর মোকাবেলা করলো। কিন্তু সেও পরাজিত হলো এবং গ্রেফতার হলো। তারপর সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য আবরাহার পথপ্রদর্শকের দায়িত্ব গ্রহণ করলো।

অতঃপর আবরাহা বাহিনী তায়েফের নিকটে পৌঁছালো। সেখানকার অধিবাসী সাকিফ গোত্র পূর্ব থেকেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে লড়াইয়ে আবরাহা বাহিনীর বিজয়ের কথা শুনেছে। তাই এত বড় শক্তির মোকাবেলা করতে পারবে না মনে করে তাদের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত না হয়ে নিজেদের সরদার মাসউদ ইবনে মুআত্তাবকে একটি প্রতিনিধিদলসহ আবরাহার সাথে সাক্ষাত করতে প্রেরণ করে। সে আবরাহার সাথে সাক্ষাত করে বললো, আপনার সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। সেজন্য আমাদের এ বিশ্বাস আছে, আপনি আমাদের উপাস্য ‘লাত’-এর মন্দিরের কোন ক্ষয়-ক্ষতি করবেন না। বিনিময়ে আমরা আপনার সহযোগিতা ও পথপ্রদর্শনের জন্য আমাদের এক সরদার আবু রিগালকে প্রেরণ করছি, তিনি আপনাকে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিবেন। আবরাহা এই প্রস্তাব গ্রহণ করে আবু রিগালকে সাথে নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হলো।

পথিমধ্যে ‘মাগমাস’ নামক উপত্যকায় আবু রিগাল মারা গেলো। বর্ণিত আছে, আবরাহাকে পথ দেখানো ছিল আবু রিগালের বিশ্বাস ঘাতকতামূলক অপরাধ। তাই তার মৃত্যুর পর সে যুগে আরবের লোকেরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত তার কবরের উপর পাথর নিক্ষেপ করে।

এই ‘মাগমাস’ নামক স্থানে মক্কার কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্রের ভেড়া-বকরি ও উটের চারণভূমি ছিল। আবরাহার সৈন্যবাহিনী এখানে পৌঁছে সর্বপ্রথম এসব পশুপালের উপর আক্রমণ করে তা থেকে অনেক ভেড়া-বকরি ও উট লুট করে নিয়ে গেল। এ গুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত পিতামহ কুরাইশ-নেতা আবদুল মুত্তালিবেরও দুইশ উট ছিল।

অতঃপর এই স্থানে অবস্থান নিয়ে আবরাহা তার হানাতা হামিরী নামক দূতকে মক্কা মুকাররমায় প্রেরণ করলো, যেন সে মক্কায় গিয়ে কুরাইশ সরদারের নিকট এই পয়গাম পৌঁছায় যে, আমরা তোমাদের সাথে লড়াই করতে আসিনি। বরং কাবাঘর বিধ্বস্ত করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। সুতরাং এ ব্যাপারে যদি তোমরা আমাদের বাধা না দাও, তা হলে আমরা তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করবো না।

আবরাহার পয়গাম নিয়ে হানাতা হামিরী যখন মক্কা মুয়াজ্জমায় প্রবেশ করলো, তখন সকলেই আবদুল মুত্তালিব-এর দিকে ইঙ্গিত করে বললো, ইনিই হলেন মক্কার প্রধান সরদার। তখন হানাতা আবদুল মুত্তালিব-এর সাথে সাক্ষাত করে আবরাহার উক্ত পয়গাম পৌঁছালো।

ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী, আবদুল মুত্তালিব জবাব দিলেন, আমরা কখনোই আবরাহার সাথে লড়াই করতে চাই না। আর না আমাদের তার সাথে লড়াই করার মতো শক্তি আছে। তবে হ্যাঁ, আমি নির্দ্বিধায় এতটুকু বলতে পারি, কাবা আল্লাহর ঘর, যা তার খলীল ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নির্মাণ করেছেন। তিনি নিজেই এর হেফাজত করবেন। আর যে আল্লাহর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, সে দেখতে পাবে, আল্লাহ তার সাথে কিরূপ আচরণ করেন।

অতঃপর হানাতা আবদুল মুত্তালিবের কাছে প্রস্তাব পেশ করলো, আপনি আমার সাথে চলুন। আমি আপনাকে আবরাহার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিব। তিনি এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আবরাহার সাথে দেখা করতে গেলেন।

আবদুল মুত্তালিব অতিশয় সুশ্রী, বলিষ্ঠ ও ব্যক্তিত্ববান লোক ছিলেন। আবরাহা তাকে দেখে খুবই প্রভাবিত হলো এবং নিজের সিংহাসন থেকে উঠে এসে তার পাশে বসলো। অতঃপর আবরাহা জিজ্ঞেস করলো, আপনি কী উদ্দেশ্যে এসেছেন? তিনি বললেন, আমার প্রয়োজন শুধু এতটুকু যে, আমার যে সমস্ত উট লুণ্ঠন করে আনা হয়েছে, সেগুলো ফেরত দেওয়া হোক। আবরাহা বললো, আমি আপনাকে দেখে খুবই উচ্চ মনের অধিকারী ও বিচক্ষণ নেতা মনে করেছিলাম। কিন্তু আপনার এই কথার দ্বারা আমার সেই ধারণার পরিবর্তন ঘটলো। কেননা, আপনি কেবল আপনার দুইশ উট ফেরত নেওয়ার ব্যাপারেই আমার সাথে কথা বললেন, অথচ আপনি জানেন যে, আমি আপনার পিতৃধর্মের কেন্দ্রস্থল কাবাঘর ধ্বংস করার জন্য মক্কায় এসেছি। কিন্তু আপনি সে ব্যাপারে কোন কথাই বললেন না। আবদুল মুত্তালিব জবাব দিলেন, এই উটগুলোর মালিক আমি, তাই সে গুলোর ব্যাপারে আমাকেই চিন্তা করতে হবে। আর বায়তুল্লাহর ব্যাপারে কথা হচ্ছে, তারও একজন মহান মালিক আছেন। তিনি নিজেই এর হেফাজত করবেন।

তখন আবরাহা বললো, আপনার প্রভু তাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন না। তা শুনে আব্দুল মুত্তালিব বললেন, আমার বলার দরকার বললাম, এবার আপনার ইচ্ছা। আপনি যা চান, করতে পারেন।

কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, আবদুল মুত্তালিবের সাথে আরো কয়েকজন কুরাইশ সরদার আবরাহার সাথে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আপনি যদি বায়তুল্লাহর উপর হস্তক্ষেপ না করে ফিরে যান, তবে আমরা প্রতি বছর আমাদের উৎপাদিত শস্যের এক-তৃতীয়াংশ আপনাকে কর হিসেবে প্রদান করবো। কিন্তু আবরাহা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো।

আলোচনার পরে আবরাহা আবদুল মুত্তালিব-এর উটগুলো ফিরিয়ে দিল। তিনি তার উট নিয়ে চলে এলেন।

অতঃপর আবদুল মুত্তালিব কুরাইশদের বিশাল একদল সাথে নিয়ে বায়তুল্লাহ শরীফের দরজার কড়া ধরে সকলে মিলে আল্লাহর দরবারে দু‘আ করতে লাগলেন, আয় আল্লাহ, আবরাহার এত বড় শক্তিশালী বাহিনীর মোকাবেলা করার সামর্থ আমাদের নেই। তাই আপনি নিজেই আপনার ঘরের হেফাজত করার ব্যবস্থা করুন।

খুব কাকুতি-মিনতির সাথে দু‘আ করার পর আবদুল মুত্তালিব মক্কা মুকাররমার লোকদের নিয়ে আশপাশের পর্বতমালায় আশ্রয় গ্রহণ করলেন। কারণ, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আবরাহার সৈন্যবাহিনীর উপর আল্লাহর গজব নাযিল হওয়া অবধারিত। এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই আবদুল মুত্তালিব আবরাহার কাছে শুধু তার উট ফেরত চেয়েছিলেন। তখন বায়তুল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা করা এ জন্য পছন্দ করেননি যে, একে তো তাদের মোকাবেলা করার মতো শক্তি-সামর্থ ছিল না, অপরদিকে এই বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর রহম করে স্বীয় কুদরতে কাবার দুশমনদের নাস্তানাবুদ করে দিবেন।

পরের দিন সকালে আবরাহা তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করার জন্য অগ্রসর হলো। সে তার ‘মাহমুদ’ নামীয় হাতিটি সামনে চালানোর জন্য প্রস্তুত করলো। তখন নুফায়েল ইবনে হাবিব, যাকে আবরাহা রাস্তা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছিল, সে এই সময় সামনে অগ্রসর হয়ে উক্ত হাতির কান ধরে বললো, তুমি যেখান থেকে এসেছো, সেখানেই সহীহ-সালামতে ফিরে যাও। কেননা, তুমি আল্লাহ তা‘আলার নিরাপদ শহরে (بَلَد اَمِيْن) অবস্থান করছো। এই বলে সে হাতির কান ছেড়ে দিল। এটা শোনামাত্র উক্ত হাতি বসে পড়লো।

হাতির মাহুতরা অনেক চেষ্টা করে তাকে উঠিয়ে সামনে অগ্রসর করাতে চাইলো। কিন্তু কি আশ্চর্য, সে উঠলো না। এমনকি হাতিটিকে খুব প্রহার হলো, বড় বড় চাবুক দিয়ে আঘাত করা হলো এবং আঘাত করতে করতে তাকে আহত করা হলো। আবার হস্তিটির নাকে লোহার আংটা লাগিয়ে তাকে উঠানোর চেষ্টা করা হলো। কিন্তু এতো কিছু সত্ত্বেও সে এক বিন্দুও সামনে বাড়লো না।

আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, সেই হাতিটি যখন বিপরীত দিকে অর্থাৎ উত্তর, দক্ষিণ বা পূর্ব দিকে চালানোর চেষ্টা করা হতো, তখন সে দৌড় শুরু করতো। পক্ষান্তরে মক্কার দিকে ফিরিয়ে চালানোর চেষ্টা করা হলে, সাথে সাথে বসে পড়তো। তখন কোনক্রমেই সম্মুখের দিকে চালানো সম্ভব হতো না।

চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

✍️ আমাদের ব্লগ
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ০১) আসহাবে ফীলের ঘটনা

আসহাবে ফীলের ঘটনা: আল্লাহর ঘরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ভয়াবহ শাস্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে আল্লাহ সুবহানাহু ...