দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১৬) বাইতুল্লার চাবি গ্রহণ ও তাতে প্রবেশ

বাইতুল্লার চাবি গ্রহণ ও তাতে প্রবেশ এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে তালহা যিনি বাইতুল্লাহর চাবি হেফাজতের দায়িত্...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১৬) বাইতুল্লার চাবি গ্রহণ ও তাতে প্রবেশ

বাইতুল্লার চাবি গ্রহণ ও তাতে প্রবেশ


এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে তালহা যিনি বাইতুল্লাহর চাবি হেফাজতের দায়িত্বে ছিলেন, তার কাছে থেকে চাবি নিয়ে বাইতুল্লায় প্রবেশ করেন। (তাবারানী কাবীর, হা. নং ৮৩৯৫; যাদুল মা‘আদ, ৩:৩৫৮)

কাবা অভ্যন্তরের মূর্তি অপসারণ


কাবার অভ্যন্তরে কিছু ছবি ছিলো দেয়ালে অঙ্কিত আর কিছু ছিলো ভাস্কর্য বা মূর্তির আকারে। কাবার আশেপাশের মূর্তি অপসারণের আগে নবীজী যখন ‘বাতহা’ অবস্থান করছিলেন, তখনই সাহাবাদেরকে কাবার অভ্যন্তরে থাকা মূর্তিসমূহ বের করার এবং স্তম্ভে ও দেয়ালে অঙ্কিত ছবিহসমূহ মুছে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন। 
তবে মোছার পরও কিছু প্রতিকৃতির ছাপ রয়ে গিয়েছিলো। যেগুলো সহজে অপসারণ করা যাচ্ছিলো না। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন, তখন নিজে এবং সাহাবাদের মাধ্যমে সেই রয়ে যাওয়া ছবিগুলো পানি, মাটি ও জাফরানের মাধ্যমে মুছে ফেলেন। (ফাতহুল বারী, ৭:৬৫৪)
হযরত জাবের রা. বলেন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা ঘরে প্রবেশের পূর্বে ‘বাতহা’ স্থানে থাকাকালীন উমর রা. কে নির্দেশ দিলেন, যেন তিনি কাবার অভ্যন্তরে থাকা সকল ছবি মিটিয়ে দেন। উমর রা. নির্দেশ পালন করলেন, এরপর নবীজী কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। (আবু দাউদ, ৪১৫৬)
উসামা ইবনে যায়দ রা. এর বর্ণনামতে কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের পর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রতিকৃতি দেখতে পেলেন, তখন আমাকে পানি আনতে বললেন, আমি এক বালতি পানি নিয়ে এলাম, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে পানি দ্বারা সে প্রতিকৃতি মুছতে লাগলেন। আর বলতে লাগলেন,
«قَاتَلَ اللهُ قَوْمًا يُصَوِّرُونَ مَا لَا يَخْلُقُونَ»
“আল্লাহ তা‘আলা ধ্বংস করুন ঐ সকল লোককে, যারা এমন বস্তুর প্রতিকৃতি তৈরি করে, যারা কোন কিছুর মধ্যে প্রাণ দানে সক্ষম নয়!” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হা. নং ২৫৭২২)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণনামতে কাবার অভ্যন্তরের ছবিগুলোর মধ্যে হযরত ইবরাহীম আ. ও মারইয়াম আ. এর ছবি ছিল। (অপর বর্ণনামতে ইসমাইল আ. এর ছবিও ছিলো।) নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবরাহীম আ. ও মারইয়াম আ. এর ছবি দেখে বললেন, এঁরা (ইবরাহীম আ. ও মারইয়াম আ.) তো (আল্লাহর এ বিধান) শুনেছেন যে, ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যাতে কোনো চিত্র থাকে। (অর্থাৎ ছবির ব্যাপারে তাঁরা কখনও সম্মত থাকতে পারেন না।) (বুখারী শরীফ, হা. নং ৩৩৫১)
ইসমাইল আ. এর পরিবর্তে ইবরাহীম আ. যে জান্নাতী দুম্বাটি কুরবানী করেছিলেন, তার দুটি শিং কাবার অভ্যন্তরে ঝুলানো ছিলো। ফাতহে মক্কার দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার অভ্যন্তর হতে বের হওয়ার পর কাবা ঘরের চাবি রক্ষক উসমান ইবনে তালহা কে ডেকে বললেন,
انِّي كُنْتُ رَايْتُ قَرْنَيِ الْكَبْشِ حِينَ دَخَلْتُ الْبَيْتَ، فَنَسِيتُ انْ امُرَكَ انْ تُخَمِّرَهُمَا، فَخَمِّرْهُمَا فَانَّهُ لَا يَنْبَغِي انْ يَكُونَ فِي الْبَيْتِ شَيْءٌ يَشْغَلُ الْمُصَلِّيَ
‘বাইতুল্লায় প্রবেশের সময় আমি তোমাকে দুম্বার শিং দুটো ঢেকে দেওয়ার আদেশ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি। সেগুলো ঢেকে দিও, কেননা ঘরে এমন কোনো বস্তু থাকা উচিত নয়, যা নামাযীর মনোযোগ বিনষ্ট করে!’ (মুসনাদে আহমাদ, হা. নং ১৬৬৩৭)


একটি বানোয়াট বর্ণনা


আযরাকী রহ. (মৃত্যু ২৫০ হি.) তার কিতাব ‘আখবারু মক্কা’ (প্রকাশনা: দারুল আন্দালুস, বৈরুত) গ্রন্থে কাবা ঘরের অভ্যন্তরে মূর্তি ভাঙা প্রসঙ্গে একটি বর্ণনা এনেছেন। যাতে রয়েছে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার অভ্যন্তরে প্রতিকৃতি অপসারণের সময় সব প্রতিকৃতিই মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দান করেন, তবে কেবল ঈসা আ. ও মারইয়াম আ. এর প্রতিকৃতি না মিটিয়ে রেখে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। (আখবারু মক্কা, ১:১৬৮-১৬৯)
আযরকী রহ. -এর এ বর্ণনাটি মুহাদ্দিসীনে কেরামের দৃষ্টিতে ‘মুনকার’ (চরম আপত্তিকর) এবং অগ্রহণযোগ্য।


‘মতন’ মুনকার হওয়া প্রসঙ্গ


কাবা ঘরের অভ্যন্তরের এবং আশেপাশের মূর্তি ভাঙার বিষয়ে আমরা ইতোপূর্বে যে হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি, সে সবগুলো বর্ণনার সনদ গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের। পক্ষান্তরে আযরকী রহ. এর বর্ণনাটি ঐ সকল বর্ণনার পরিপন্থী হওয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়। উপরন্তু তা শরী‘আতের মানশা ও রুচিরও বিপরীত। কেননা, যেখানে ছবি নির্মাণের কারণে সর্বোচ্চ শাস্তির কথা এসেছে, এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে তিনশত ষাটটি মূর্তি ভাঙলেন, এমনকি কাবায় ঢোকার আগেই উমর রা. কে পাঠালেন অভ্যন্তরের মূর্তি অপসারণের জন্য, নিজ হাতে পানি দ্বারা অঙ্কিত ছবি মুছলেন, সেখানে এটা কীভাবে সম্ভব হতে পারে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈসা আ. ও মারইয়াম আ. এর ছবি রেখে দেবেন? অথচ বুখারী শরীফের এর বর্ণনামতে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোদ মারইয়াম আ. এর ছবির উপরও আপত্তি করেছিলেন! (বুখারী শরীফ, হা. নং ৩৩৫১)
সারকথা হলো, ফাতহে মক্কার সময় কাবার অভ্যন্তরে মারইয়াম আ. এর ছবি থাকার কথাটি যদিও সঠিক কিন্তু সে ছবি অপসারণ না করার যে বর্ণনা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বর্ণনা। বরং অন্যান্য সহীহ বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন অন্য সব ছবি অপসারণ করেছিলেন, তেমনি মারইয়াম আ. এর ছবিও অপসারণ করেছিলেন।
দুঃখজনক কথা হলো, ২০০৮ সালে ঢাকা বিমানবন্দরের অদূরে হাজী ক্যাম্পের সামনে থেকে যখন লালন ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলা হলো, তখন এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রয়াত একজন খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক দৈনিক প্রথম আলোতে (২৭ অক্টোবর ২০০৮ ঈ.সোমবার) ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করতে গিয়ে এই বানোয়াট বর্ণনাটি উদ্ধৃত করে এ কথা বুঝাবার অপপ্রয়াস চালিয়েছিলেন যে, ইসলামে ভাস্কর্য সংস্কৃতি স্বীকৃত। দীন ও শরী‘আতের মেযায ও রুচির বিপরীতে গিয়ে তিনি কেবল অনাধিকার চর্চার দোষেই দুষ্ট হয়েছেন, তা নয়; বরং কাবা ঘরের মূর্তিভাঙ্গা সংক্রান্ত সহীহ বর্ণনাসমূহ এড়িয়ে ‘একটি বানোয়াট বর্ণনা’ তুলে এনেছেন।
অথচ মুহাদ্দেসীনে কেরামের দৃষ্টিতে উল্লিখিত বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য না হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। সুতরাং এ বর্ণনা নিয়ে কোন বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।


কাবার অভ্যন্তরে নবীজীর নামায আদায় ও তাকবীর প্রদান


নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লায় প্রবেশের পর প্রথমত অভ্যন্তরের প্রতিকৃতিসমূহের রয়ে যাওয়া ছাপ অপসারণ করেন। এরপর সেখানে নামায আদায় করেন এবং প্রত্যেক প্রান্তে তাকবীর বলেন। (যাদুল মা‘আদ, ৩:৩৫৮)
নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উসামা ইবনে যায়দ রা. বেলাল রা. ও বাইতুল্লার চাবি রক্ষক উসমান ইবনে তালহা এ তিনজনকে নিয়ে বাইতুল্লায় প্রবেশ করেন। দরজা দিয়ে প্রবেশ করে সোজা পশ্চিম দেয়ালের দিকে এগিয়ে যান। পশ্চিম দেয়াল থেকে তিন হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে ডানদিকে দু’স্তম্ভ , বামদিকে এক স্তম্ভ এবং পেছন দিকে তিন স্তম্ভ রেখে দু’রাকা‘আত নামায আদায় করেন। বাইতুল্লাহ সে সময়ে ছয় স্তম্ভ বিশিষ্ট ছিলো। (বুখারী শরীফ, হা. নং ৩৯৭, ৫০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা. নং ৫০৬৫)
ইবনে আব্বাস রা. বলেন, বাইতুল্লায় প্রবেশের পর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রত্যেক প্রান্তে তাকবীর বলেন। (বুখারী শরীফ, হা. নং ৪২৮৮)


ঐহিহাসিক খুতবা : ক্ষমা ও উদারতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত


নামায শেষ করে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাহিরে আসেন তো দেখতে পান যে, কুরাইশরা তাদের ব্যাপারে নবীজীর সিদ্ধান্ত জানার জন্য অপেক্ষা করছে। 
নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লার দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে একটি খুতবা পড়লেন। যাতে সর্বপ্রথম তিনি মক্কা বিজয়ের উপর আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করলেন। কিছু আহকাম বয়ান করলেন এবং যারা তাকে দীর্ঘ দশ বছর অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছিলো, সেই কাফের কুরাইশদের ব্যপারে তাঁর ক্ষমার সিদ্ধান্তের ঘোষণাও দিলেন। 
এ ছিলো এক ঐতিহাসিক ক্ষমা। কেননা, কোষমুক্ত তরবারীর নির্দয় আঘাতে দীর্ঘদিনের জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচারের প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিরোধ যেখানে ছিল না, সেখানে সবকিছু ভুলে গিয়ে ক্ষমা ও উদারতার এমন উন্মুক্ত ঘোষণা তো কেবল সর্বোত্তম মানবের পক্ষেই সম্ভব ছিল। 
ঐতিহাসিক সে খুতবায় নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لَا الَهَ الَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، صَدَقَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْاحْزَابَ وَحْدَهُ، الَا كُلُّ مَاثُرَةٍ  اوْ دَمٍ اوْ مَالٍ يُدَّعَى فَهُوَ تَحْتَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ الَّا سَدَانَةَ الْبَيْتِ وَسِقَايَةَ الْحَاجِّ، الَا وَقَتِيلُ الْخَطَا شِبْهِ الْعَمْدِ بِالسَّوْطِ وَالْعَصَا، فَفِيهِ الدّية مُغَلّظَة، مائَة مِنْ الْابِلِ، ارْبَعُونَ مِنْهَا فِي بُطُونِهَا اوْلَادُهَا... (رواه احمد وابن اسحاق)
(وفي رواية ابن اسحاق) يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، انَّ اللهَ قَدْ اذْهَبَ عَنْكُمْ نَخْوَةَ الْجَاهِلِيَّةِ، وَتَعَظُّمَهَا بِالْابَاءِ، النَّاسُ مِنْ ادَمَ، وَادَمُ مِنْ تُرَابٍ، ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْايَةَ: يَا ايُّهَا النَّاسُ انَّا خَلَقْناكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَانْثى، وَجَعَلْناكُمْ شُعُوبا وَقَبائِلَ لِتَعارَفُوا، انَّ اكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ اتْقاكُمْ  ... الْايَةَ كُلَّهَا.
(وفي رواية البيهقي):مَا تَقُولُونَ وَمَا تَظُنُّونَ "؟ قَالُوا: نَقُولُ: ابْنُ اخٍ وَابْنُ عَمٍّ حَلِيمٌ رَحِيمٌ. قَالَ: وَقَالُوا ذَلِكَ ثَلَاثًا , فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " اقُولُ كَمَا قَالَ يُوسُفُ: لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللهُ لَكُمْ وَهُوَ ارْحَمُ الرَّاحِمِينَ. قَالَ: فَخَرَجُوا كَانَّمَا نُشِرُوا مِنَ الْقُبُورِ فَدَخَلُوا فِي الْاسْلَامِ.
এক-অদ্বিতীয় আল্লাহ তা‘আলা ব্যতিত কোনো মা‘বুদ নেই। তিনি তাঁর (বিজয়ের) প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে দেখিয়েছেন। তার ‘বান্দা’ কে সাহায্য করেছেন এবং কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীকে একাই পরাজিত করেছেন। 
শুনে রাখো! (জাহেলী যুগের) সমস্ত অভ্যাস ও জান-মালের দাবি আমার পায়ের নিচে (অর্থাৎ তা বাতিল করা হলো), তবে বাইতুল্লার দাড়োয়ানী এবং হাজীদেরকে যমযমের পানি পান করানোর অভ্যাসটি পূর্ববৎ বহাল থাকবে।
শুনে রাখো! যে ব্যক্তি কারো চাবুক কিংবা লাঠির আঘাতে ভুলবশতঃ নিহত হবে, তার রক্তপণ হলো একশত উট, যার মধ্যে চল্লিশটি উটনী হতে হবে গর্ভবতী। 
হে কুরাইশ লোকসকল! আল্লাহ তা‘আলা জাহেলী যুগের অহমিকাবোধ ও পূর্বপুরুষের নামে অহংকারবোধ বাতিল করে দিয়েছেন। সকল মানুষ এক আদম এর সন্তান, আর আদম আ. হলেন মাটির তৈরি।
এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনে কারীমের এ আয়াত পড়লেন,
یٰۤایُّهَا النَّاسُ انَّا خَلَقْنٰكُمْ مِّنْ ذَکَرٍ وَّ انْثٰی وَ جَعَلْنٰكُمْ شُعُوْبًا وَّ قَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوْا ؕ انَّ اكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ اتْقٰكُمْ ؕ انَّ اللهَ عَلِیْمٌ خَبِیْرٌ ○
(আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন), (হে মানুষ!) আমি তোমাদের সকলকে এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অন্যকে চিনতে পারো। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মুত্তাকী। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছু সম্পর্কে অবহিত। (সূরা হুজরাত, আয়াত:১৩)
এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন,..‘হে কুরাইশ লোকসকল! আজকে আমার কাছ থেকে তোমরা কেমন আচরণ আশা করো? (কুরাইশরা যদিও নিজেদের অপরাধের ব্যাপারে সচেতন ছিলো, তদুপরি নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদারতার অবগতিও তাদের যথেষ্ট ছিলো। কাজেই তারা বললো-) আপনি আমাদের একজন (সম্ভ্রান্ত) ভাইয়ের সন্তান, এবং সম্ভ্রান্ত চাচার সন্তান। আপনি সহনশীল এবং দয়ালু! 
নবীজী তাদেরকে বললেন, ‘আমি তোমাদেরকে সেটাই বলবো, যেটা ইউসুফ আ. তার (অপরাধী) ভাইদেরকে (ক্ষমা প্রদানকালে) বলেছিলেন,
لَا تَثْرِيْبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللهُ لَكُمْ وَهُوَ ارْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ○
‘আজ তোমাদের উপর কোনো অভিযোগ আনা হবে না। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি সকল দয়ালু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (মুসরানাদে আহমাদ, হা. নং ১৫৩৮৮; সীরাতে ইবনে হিশাম, ৪:৬০)
নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরে লোকেরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো।


হত্যার দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত কতিপয় কাফের


নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেও কাফেরদের মধ্যে এমন কিছু দাগী আসামী রয়ে গিয়েছিলো, যারা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি সাধনে কাফেরদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছিলো। তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া ‘ইনসাফ’ পরিপন্থি ছিলো। কাজেই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার পরেও নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুনির্দিষ্ট এ সকল কাফেরদেরকে হারামের যেখানেই পাওয়া যায়-এমনকি যদি তারা বাইতুল্লার গিলাফও ধরে থাকে, তবে সেখানেই তাদেরকে হত্যা করার হুকুম দান করেন। 
উল্লেখ্য, মক্কা বিজয়ের দিন আল্লাহ তা‘আলা তার নবীর শানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হারামের সীমানায় হত্যাকার্যের নিষিদ্ধতার হুকুম উঠিয়ে নিয়েছিলেন। যার বর্ণনা সামনে আসছে। 
হত্যার দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত এ সকল কাফেরদের অধিকাংশই ইসলাম গ্রহণ করে নেওয়ায় নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে মাফ করে দিয়েছিলেন। তারা হলেন,
১. আব্দুল্লাহ ইবনে খতল। যাকে আবু বারযা রা. হত্যা করেন।
২. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সারাহ। হত্যা দণ্ডাদেশ পাওয়ার পর যে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলো। হযরত উসমান রা. এর সুপারিশে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাফ করে দেন। 
৩. ইকরামা ইবনে আবু জাহল। যে ইয়ামানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিলো। তার স্ত্রী উম্মে হাকীম যে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলো, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামর কাছ থেকে স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। দরবারে রিসালাতে পৌঁছে ইকরামা ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেও মাফ করে দেন।
৪. হুয়াইরিস ইবনে নুকাইদ। যে মক্কার জীবনে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছিলো। হযরত আলী রা. তাকে হত্যা করেন।
৫. হাব্বার ইবনে আসওয়াদ। মক্কার জীবনে মুসলমানদের উপর নির্যাতনে সে অগ্রণী ছিলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা হযরত যয়নব রা. যখন হিজরত করেন, তখন পথিমধ্যে এই হাব্বার নবীজীর কন্যাকে উট থেকে ফেলে দিয়েছিলো। সে আঘাতেই পরবর্তীতে যয়নব রা. ইন্তেকাল করেন। এতদ্বসত্ত্বেও ফাতহে মক্কার দিনে হাব্বার যখন ইসলাম গ্রহণ করলো তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাফ করে দিলেন। 
৬.৭. ইবনে খতল এর দু’বাঁদি, যাদের নাম ছিলো ফারতানা ও ক্বরীনা। তাদের একজনকে হত্যা করা হয়। আর আরেকজন ইসলাম গ্রহণ করে নেয়।
৮. সারা। সে ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। 
৯. হারেস ইবনে তলাতিল। হযরত আলী রা. তাকে হত্যা করেন।
১০. কা‘ব বিন যুহায়র। সে ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছিলো। 
১১. ওয়াহশী। যে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা হযরত হামজা রা. কে ওহুদের যুদ্ধে নির্মমভাবে শহীদ করেছিলো। সেও ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছিলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেও মাফ করে দেন। 
১২. হিন্দ বিনতে উতবা (আবু সুফিয়ানের স্ত্রী।) সেও ইসলাম গ্রহণ করে নেওয়ায় নবীজী তাকে মাফ করে দেন। 
১৩. আরনাব। ইবনে খতলের বাঁদি। তাকে হত্যা করা হয়।
১৪. উম্মে সা‘দ। তাকে হত্যা করা হয়। 
এই সর্বমোট আটজন পুরুষ ও ছয়জন নারীকে হত্যার আদেশ দেয়া হয়। (ফাতহুল বারী, ৭:৬৪৮; ৪:৭২; সীরাতে মুস্তফা, ৩:৪৬)
✍️ আমাদের ব্লগ
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১৬) বাইতুল্লার চাবি গ্রহণ ও তাতে প্রবেশ

বাইতুল্লার চাবি গ্রহণ ও তাতে প্রবেশ এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে তালহা যিনি বাইতুল্লাহর চাবি হেফাজতের দায়িত্...