দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১৫) মক্কায় প্রবেশ

মক্কায় প্রবেশ সাহাবী হযরত ইবনে উমর রা. বলেন, دَخَلَ مَكَّةَ مِنْ كَدَاءٍ مِنَ الثَّنِيَّةِ العُلْيَا الَّتِي بِالْبَطْحَاءِ، وَخَر...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১৫) মক্কায় প্রবেশ

মক্কায় প্রবেশ


সাহাবী হযরত ইবনে উমর রা. বলেন,
دَخَلَ مَكَّةَ مِنْ كَدَاءٍ مِنَ الثَّنِيَّةِ العُلْيَا الَّتِي بِالْبَطْحَاءِ، وَخَرَجَ مِنَ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى
নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘সানিয়্যায়ে উলইয়া’ এর ‘বাতহা’ এর অন্তরগত ‘কাদা’ নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন। আর ‘সানিয়্যায়ে সুফলা’ দিয়ে বের হয়ে যান। (বুখারী শরীফ, হা. নং ১৫৭৬)
নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়ের ইবনে আওয়াম রা. কে মুহাজির সাহাবাদের আমীর বানিয়ে ‘হাজুন’ নামক স্থানে তার ঝান্ডা লাগানোর নির্দেশ দিয়ে তাকে মক্কার উঁচু অঞ্চল “কাদা” দিয়ে প্রবেশ করতে বললেন। আর তাকে নির্দেশ দিলেন যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম “কাদা” দিয়ে প্রবেশ করে ‘হাজুন’ নামক স্থানে না আসা পর্যন্ত সে যেন স্থান ত্যাগ না করে। অপরদিকে হযরত খালিদ রা. কে অপর কিছু গোত্রের আমীর বানিয়ে লোকালয়ের নিকটবর্তী কোনো অঞ্চলে তার ঝান্ডা স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে মক্কার নিচু অঞ্চল ‘কুদা’ দিয়ে প্রবেশ করতে বললেন। আর সা‘দ ইবনে উবাদা রা. কে আনসারদের একটি বাহিনীর সাথে প্রেরণ করলেন। সাথে সাথে এ নির্দেশও দিয়ে দিলেন যে, যারা লড়াই থেকে বিরত থাকে, তাদের সাথে যেন লড়াই না করা হয়।
নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবায়েকেরামকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না। হাকেম রহ. বলেন,
وَلم يَخْتَلِفُوا انه دَخلهَا وَهُوَ حَلَال
এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের ঐক্যমত্য রয়েছে যে, ফাতহে মক্কার সময় মক্কায় প্রবেশকালে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না।   
ইহরাম গ্রহণ না করার কারণ হলো যে, ফাতহে মক্কার সময় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলা তার নবীর জন্য মক্কাকে হালাল করে দিয়েছিলেন। (উমদাতুল কারী, ৭:৫৩৭)

ফাতহে মক্কার সফরে নবীজীর অবস্থানস্থল

ফাতহে মক্কার এ সফরে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানস্থল ছিলো ‘হাজুন’ নামক স্থানে। যেখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়ের ইবনে আওয়াম রা. কে তার ঝান্ডা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ স্থানকে ‘শিআবে আবু তালেব’, ‘মুহাস্সাব’, ‘খাইফে বনু কিনানা’, ‘আবত্বহ’ প্রভৃতি নামেও অভিহিত করা হয়। এ স্থানেই মক্কার কাফেররা কুফরের উপর শপথ নিয়েছিলো। এখানে নবীজীর জন্য চামড়া দ্বারা তৈরিকৃত একটি তাবু টানানো হয়, নবীজী সে তাবুতেই অবস্থান নেন। (ফাতহুল বারী, ৬:১১৭; তাবাকাতে ইবনে সা‘আদ, ২:৩১৮) 
ইমাম নববী রহ. বলেন, ‘কুফরের উপর শপথ করা’ এর অর্থ হলো, মক্কার কাফেররা হিজরতের পূর্বে নবুওয়্যাতের সপ্তম বছরে যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফেরদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন, এবং নবীজীর খান্দানও নবীজীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হয়, তখন নবীজীকে এবং নবীজীর খান্দান বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিবকে মক্কা থেকে বয়কট করে ‘খাইফ’ এ নির্বাসিত করে। যেটা ছিলো মূলত বনু হাশেমের মালিকানাধীন পাহাড়ের এক ঘাটি, যাকে ‘শিআবে আবু তালেব’ বলা হতো। (উমদাতুল কারী, ৭:১৫০)

খান্দামা লড়াই!

মক্কায় প্রবেশের সময় কাফেররা বড় ধরণের কোনো প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে না পারলেও ‘খান্দামা’ নামক স্থানে খালিদ রা. এর বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা কিছুটা ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের চেষ্টা করে। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগেই সাহাবাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। ফলে কাফেরদের এ প্রতিরোধ ছিল মূলত হেরে যাওয়া লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। খালিদ রা. তাদেরকে নির্মমভাবে পরাজিত করেন।
হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, ফাতহে মক্কার দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আনসারদের ডেকে আনতে বললেন। আনসার সাহাবীরা সমবেত হলে বললেন,
«تَرَوْنَ الَى اوْبَاشِ قُرَيْشٍ، وَاتْبَاعِهِمْ»، ثُمَّ قَالَ بِيَدَيْهِ احْدَاهُمَا عَلَى الْاخْرَى «احْصُدُوهُمْ حَصْدًا»ثُمَّ قَالَ: «حَتَّى تُوَافُونِي بِالصَّفَا»،
“কুরাইশ ও তাদের অনুসারীদের দলসমূহ তোমরা দেখতে পাচ্ছো”, এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম করণীয় সম্পর্কে হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন, ‘তোমরা তাদেরকে কর্তিত ফসলের ন্যায় কেটে ফেলো’, এরপর বললেন, “এরপর তোমরা আমার সাথে সাফা পাহাড়ে মিলিত হবে”। (মুসলিম শরীফ, হা. নং ১৭৮০)
এ লড়াইয়ে কুরাইশদের ২৪ জন এবং তাদের সহযোগী হুজাইল গোত্রের ৪ জন নিহত হয়। সাহাবায়ে কেরামের মধ্য হতে মাসলামা জুহানী রা. ও কুরয ইবনে জাবের ফিহরী রা. শহীদ হন। (বুখারী শরীফ, হা. নং ৪২৮০; ফাতহুল বারী, ৭:৬৪৭)

‘বিনয়ী’ বেশে ‘বিজয়ী’ র পদার্পণ!

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার রাজা বাদশাদের রীতি-নীতি সম্পর্কে উল্লেখ করে ইরশাদ করেন,
انَّ الْمُلُوْکَ اذَا دَخَلُوْا قَرْیَۃً افْسَدُوْهَا وَجَعَلُوْۤا اعِزَّۃَ اهْلِهَاۤ اذِلَّۃًۚ 
‘রাজা-বাদশাগণ যখন কোনো জনপদে ঢুকে পড়ে, তখন তাকে ধ্বংস করে ফেলে, এবং তার মর্যাদাবান বাসিন্দাদেরকে লাঞ্চিত করে ছাড়ে।’ (সূরা নামল, আয়াত:৩৪)
যদি ইতিহাসের পাতা উল্টানো হয়, তবে ইসলামের আলো বঞ্চিত সম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বাদশাহদের ক্ষেত্রে আল্লাহর এ বাণীর সত্যতা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হবে। এর বিপরীতে এ সত্যও উদ্ভাসিত হবে যে, ইসলামের আলোয় আলোকিত অন্তকরণের অধিকারী কোনো মর্দে মুজাহিদ যখন বিজয়ী বেশে কোনো জনপদে প্রবেশ করেছেন, তখন তা ধ্বংস করার পরিবর্তে ইসলামের শাশ্বত বিধানমতে সেখানকার অধিবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করেছেন। ক্ষমা, উদারতা আর মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে ব্রতী হয়েছেন। 
ইসলামের এ সোনালী ইতিহাস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটাই ইসলামের শিক্ষা এবং ইসলামের নবীর দীক্ষা, দশ বছর কাফেরদের অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে যিনি আপন মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং মদীনার ভূমিতেও কাফেররা যাকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি, সেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামই যখন আত্মোৎসর্গী সাহাবাদেরকে নিয়ে যারা তার কথায় প্রাণ বিলিয়ে দেওয়াকেও সামান্য জ্ঞান করতো, বিজয়ী বেশে আপন মাতৃভূমিতে প্রবেশ করলেন, তখন ঔদ্ধত্য, অহংকার আর প্রতিশোধস্পৃহার স্থলে স্থাপন করলেন বিনয়-নম্রতা এবং ক্ষমা ও উদারতার এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত। 
আজকের দুনিয়া কি পারবে বিজাতীয়দের ইতিহাস ঘেটে এমন একটিমাত্র তুলনা পেশ করতে? কখনই তা পারবে না। এ গৌরবের অধিকার শুধু ইসলামের নবীর, এ সম্মানের প্রাপ্তিটুকু কেবল সে নবীর অনুসারীদের।  
মক্কায় প্রবেশকালে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণে-উচ্চারণে ঔদ্ধত্য কিংবা অহংকার তো ছিলই না; বরং প্রতিটি পদক্ষেপে ঝরে পড়ছিলো বিনয়-নম্রতা আর আল্লাহ তা‘আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা। এ যেন বিজয়ী সেনাপতির বেশে বিনয়ী বান্দা। 
হযরত আনাস রা. বলেন, ফাতহে মক্কার সময় নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এমন অবস্থায় প্রবেশ করেন যে, বিনয়বশতঃ তার থুতনী সওয়ারীর পিঠের সাথে লেগে যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন কৃতজ্ঞতার সেজদায় পড়ে আছেন! (মুসতাদরাকে হাকেম, হা. নং ৭৮৮৮)
নবীজীর বিনয়মাত্রা এতটা ছিলো যে, প্রবেশকালে তিনি তেজস্বী ঘোড়ার পরিবর্তে সাধারণ উটনীতে আরোহণ করেন এবং উঁচু স্তরের কোনো সাহাবীর পরিবর্তে নিজের পেছনে গোলাম পালকপুত্র যায়দ রা. এর ছেলে উসামা রা. কে বসিয়ে প্রবেশ করেন! (বুখারী শরীফ, হা. নং ৪২৮৯)

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন ও কাবা ঘরের তাওয়াফ

এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে হারামে প্রবেশ করেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। এরপর বাইতুল্লাহর তওয়াফ করেন। (মুসলিম শরীফ, হা. নং ১৭৮০)
হযরত ইবনে উমর রা. বলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতহে মক্কার দিন তার উটনী ‘কাসওয়া’তে আরোহণ করে তওয়াফ করেন। এবং হাতে থাকা বক্র মাথা বিশিষ্ট লাঠি দ্বারা ‘রুকন’ স্পর্শ করেছিলেন। (সহী ইবনে খুজাইমা, হা. নং ২৭৮১; যাদুল মা‘আদ, ৩:৩৫৮)

কাবার আশেপাশের মূর্তি অপসারণ

ইসলাম তাওহীদ ও একত্ববাদের ধর্ম। পৌত্তলিকতা আর মূর্তিপূজার কোনো অবকাশ ইসলামে নেই। এ কারণেই ইসলামে সবচেয়ে বড় গুনাহ যা আল্লাহ তা‘আলা কখনো ক্ষমা করবেন না তা হলো “শিরক”। ছবি আঁকা বা ভাষ্কর্য তৈরি করা সহ ‘শিরক’ এর সকল চোরাপথ ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফাতহে মক্কার সময় কাবা ও তার আশেপাশের এবং সমগ্র মক্কার মূর্তি ও পূজামণ্ডপগুলো নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কঠোরতার সাথে নিশ্চিহ্ন করেছিলেন, তা দ্ব্যর্থহীনভাবে পৌত্তলিকতা সম্পর্কে ইসলামের সেই অনঢ় অবস্থানকেই প্রমাণিত করে।
শিরক ও পৌত্তলিকতা বিরোধী একত্বাবাদের ধর্ম ইসলামের অনঢ় অবস্থানকে সুস্পষ্ট করার নিমিত্তেই এতদ্বসংক্রান্ত হাদীসের বর্ণনাগুলো আমরা পাঠক সম্মুখে কিছুটা বিস্তারিত উদ্ধৃত করার প্রয়াস পাবো। পরিশেষে একটি বানোয়াট বর্ণনার অসারতা তুলে ধরতেও সচেষ্ট হবো।
ফাতহে মক্কার সময় কাবার চতুর্পার্শ্বে সর্বমোট তিনশত ষাটটি মূর্তি রাখা ছিলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাতের লাঠির দ্বারা মূর্তিগুলোর দিকে ইশারা করেন, তখন মোজেজা স্বরূপ স্পর্শ করা ছাড়া শুধু ইশারাতেই মূর্তিগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে থাকে।
ইবনে মাসউদ রা. বলেন ফাতহে মক্কার দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন বাইতুল্লার চারপাশে তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের একটি লাঠি দ্বারা মূর্তিগুলোকে আঘাত করছিলেন এবং যবানে এ আয়াত পড়ছিলেন,
"جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ انَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوْقًا"○  "جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيْدُ"○
‘সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা এমন জিনিস, যা বিলুপ্ত হওয়ারই।’ সত্য এসে গেছে আর মিথ্যা না পারে কিছু শুরু করতে আর না পারে কিছু পুনরাবৃত্তি করতে!’ (মুসলিম শরীফ, ১৭৮১)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন,
«دَخَلَ رَسُولُ اللهِ  صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَى الْكَعْبَةِ ثَلَاثُمِائَةٍ وَسِتُّونَ صَنَمًا، وَقَدْ شَدَّ لَهُمْ ابْلِيسُ اقْدَامَهُمْ بِالرَّصَاصِ، فَجَاءَ وَمَعَهُ قَضِيبُهُ فَجَعَلَ يَهْوِي بِهِ الَى كُلِّ صَنَمٍ مِنْهَا فَيَخِرُّ لِوَجْهِهِ،
ফাতহে মক্কার দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মসজিদে হারামে) প্রবেশ করলেন, তখন কাবার পাশে তিনশত ষাটটি মূতি রাখা ছিলো, যেগুলোর পা ইবলিস শয়তান (মাটির সাথে) সীসা দ্বারা বেঁধে রেখেছিলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের লাঠির দ্বারা মূর্তিগুলোর দিকে ইশারা করা মাত্রই তা মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে লাগলো। (তাবারানী কাবীর, হা. নং ১০৬৫৬; মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, হা. নং ১০২৫৪)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

✍️ আমাদের ব্লগ
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১৫) মক্কায় প্রবেশ

মক্কায় প্রবেশ সাহাবী হযরত ইবনে উমর রা. বলেন, دَخَلَ مَكَّةَ مِنْ كَدَاءٍ مِنَ الثَّنِيَّةِ العُلْيَا الَّتِي بِالْبَطْحَاءِ، وَخَر...