দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ

এইচ এম শরীফ

🕌 ইমাম ও খতীব 🎓 আলেম ও শিক্ষক 💻 সল্যুশন ডেভেলপার
আসসালামু আলাইকুম, আমি এইচ এম শরীফ। ১৩+ বছর ধরে ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষাদান ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছি। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সমন্বয়ে সমাজসেবাই আমার লক্ষ্য। আমি শরীফ মাল্টিমিডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি।
Sharif
✨ দক্ষতা ও পরিচিতি

দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত

🎓 আলেম (দাওরা হাদীস) 🕌 ইমাম ও খতীব 📖 শিক্ষকতা (উচ্চ শিক্ষা) 🤝 সমাজসেবক ও পরিচালক

প্রশিক্ষণ ও আইটি কনসাল্টিং

💻 কম্পিউটার ট্রেইনার ⚙️ অটোমেশন কনসালট্যান্ট 💼 মাল্টিমিডিয়া আইটি উদ্যোক্তা

প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপার

JavaScript (ES6) Google Apps Script HTML5 & CSS3 App Dev (PWA) Web UI Design

ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেম

Google Sheets Automation Microsoft Excel VBA Firebase Cloud SQL Database
Excel/Sheets
JavaScript
Apps Script
PWA App
HTML5/CSS3
Firebase
SQL DB
GitHub
UI Design
🏢 ব্যবসায়ী উদ্যোগ

শরীফ মাল্টিমিডিয়া

সেবা ও বিশ্বস্ততার ৫ বছর (২০২১ - বর্তমান)

শরীফ মাল্টিমিডিয়া একটি আধুনিক ও প্রফেশনাল কম্পিউটার এবং ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অফিশিয়াল, গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং কাজ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, দ্রুত ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করে থাকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ৫০+ প্রাতিষ্ঠানের আইটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিদিন শত শত কাস্টমারকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই আমাদের মূল সাফল্য।

৩০০০+

হ্যাপি কাষ্টমার

৫০০+

সফল প্রজেক্ট

মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট এবং বাংলাদেশের যেকোনো সিম কার্ডে দ্রুত ফ্লেক্সিলোড সুবিধা।

টেলিকম ও সিম সার্ভিস

সকল অপারেটরের নতুন সিম বিক্রয় এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম কার্ড উত্তোলন।

অফিস ও ডকুমেন্ট রাইটিং

বাংলা ও ইংরেজি নিখুঁত কম্পিউটার কম্পোজ, কালার বা সাদাকালো ফটোকপি এবং উন্নত মানের ডকুমেন্টস লেমিনেটিং।

অনলাইন আবেদন ও ট্রাভেল চেক

যেকোনো চাকুরীর সরকারি-বেসরকারি অনলাইন আবেদন, ইমিগ্রেশন ভিসা ও এয়ার টিকিট চেকিং এবং প্রিন্ট সুবিধা।

📖 শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

মাদরাসা শিক্ষকতা ও উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা

২০২১ - বর্তমান

দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি ২০২১ ইং থেকে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-য় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করে আসছেন। কওমি মাদরাসার উচ্চতর ক্লাসে আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও হাদীস শাস্ত্রে পাঠদানের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তাঁর মূল শিক্ষকতার ক্ষেত্রসমূহ:
📖
হাদীস শাস্ত্র ও ব্যাখ্যা (Hadith Studies):

হাদীসের মূল কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক পঠন, অর্থ এবং সমসাময়িক বাস্তবমুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

⚖️
ফিকহ ও ইসলামি আইনশাস্ত্র (Fiqh):

ইসলামি আইন, মাসয়ালা-মাসায়িল এবং দৈনন্দিন জীবনে দ্বীনের বাস্তবমুখী বিধানের বিশ্লেষণ।

✍️
আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য:

আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ), অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাত-ফাসাহাত) এবং আরবী ভাষায় অলঙ্কৃত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তৈরি।

বর্তমানে তিনি হোসাঈনাবাদ মাদরাসার মূল মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠান "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র সর্বোচ্চ তাকমিল (মাস্টার্স সমমান/দাওরায়ে হাদীস) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

তাঁর ভিশন: দ্বীনি ইলমের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও সমসাময়িক আধুনিক মূল্যবোধের সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ বিনির্মাণে সুযোগ্য ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও আইটি প্রফেশনাল

২০২৩ - বর্তমান

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে মাথায় রেখে তরুণ ও পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি মূলত ২০২৩ সাল থেকে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ অফিশিয়াল কম্পিউটার ট্রেইনার ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন।

তাঁর মূল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ:
💻
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন:

কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার এবং অফিশিয়াল কাজের দক্ষতা তৈরি।

🌐
ওয়েব ডিজাইন (Web Design):

আধুনিক ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট তৈরির প্রফেশনাল গাইডলাইন।

📊
এক্সেল ও অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন:

(Excel & Apps Script Automation) অ্যাডভান্সড এক্সেল এবং ডেটা অটোমেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজকে সহজ ও গতিশীল করার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ।

তাঁর ভিশন: সঠিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শতভাগ যোগ্য ও দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা।

🕌 ইমাম ও খতীব খিদমত

মসজিদ খিদমতের ইতিহাস

ইমাম ও খতীব

বাইতুন নূর জামে মসজিদ খড়িয়া, শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর (চলমান)
শুকুন্দী দ. পাড়া জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৩ বছর
সেকান্দরদী জামে মসজিদ পলাশ, নরসিংদী। ২ বছর
তেলিয়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ২ বছর
মসজিদে কোবা তাতারকান্দী, শিবপুর, নরসিংদী। ১ বছর
কুমরাদী জামে মসজিদ শিবপুর, নরসিংদী। ৬ মাস
মোট ১১+ বছর খিদমত

জুমার খুতবা ও আলোচনা

সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় দূরীকরণে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান।

শিশু মক্তব ও কোরআন শিক্ষা

কচি-কাঁচা শিশুদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দু’আ ও বুনিয়াদি ইসলামি মূল্যবোধ শিক্ষা দান।

দ্বীনি পরামর্শ ও সমাজ সংস্কার

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন দ্বীনি ও ফিকহী সমস্যার সঠিক সমাধান ও নৈতিক পথপ্রদর্শন।

বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য কাউন্সিলিং

পবিত্র ইসলামি শরিয়তের নিয়মে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা এবং দম্পতিদের জন্য islamic দাম্পত্য কাউন্সিলিং প্রদান।

সাপ্তাহিক তাফসির ও ফিকহী দরস

সাধারণ মুসল্লি ও যুবকদের মাঝে দ্বীনের বুনিয়াদি জ্ঞান ও মাসয়ালা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ তাফসির মজলিশ পরিচালনা।

🤝 সমাজসেবা ও পরিচালনা

হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তাঁর হাত ধরে নরসিংদীতে এই মানবিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মূল দর্শন হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি স্বনির্ভর ও স্বস্তিময় সমাজ গঠন করা।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনাই তাঁদের মূল শক্তি।

বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা

সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁদের টিম মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়।

ঈদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুকুন্দী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাসিমুখ ফোটাতে নিয়মিত উন্নত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

শিক্ষা ও কুইজ প্রতিযোগিতা শিশু ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণ ও সুপ্ত মেধা বিকাশে নিয়মতান্ত্রিক কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।

💼 সম্পন্ন প্রজেক্ট

Narsingdi Connect

নরসিংদী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে তৈরি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জরুরি সেবামূলক অফলাইন পোর্টালে যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এতে জরুরি রক্তদানকারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং অ্যাম্বুলেন্সের নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ডিরেক্টরি রয়েছে।

Fuel Tracker

জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি প্রতিটি গাড়ির তেল ক্রয়ের হিসাব-নিকাশ ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে, রিয়েল-টাইম কাস্টম ড্যাশবোর্ড আপডেট করে এবং রসিদ ও অটো-মেসেজ জেনারেট করে।

Madrasha Portal

বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনলাইন ভর্তি, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ডাটাবেজ, পরীক্ষার রেজাল্ট শিট জেনারেশন এবং মাসিক ফিস কালেকশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করার একটি স্বনামধন্য ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড ।

Google Sheets Apps Script Admin Web
✍️ সাম্প্রতিক লেখা
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১১) খায়বার বিজয়ের পর মুসলিমদের সচ্ছলতা লাভ

খায়বার বিজয়ের পর মুসলিমদের সচ্ছলতা লাভ খায়বার বিজয়ের পর গরিব মুসলিমদের জীবন-জীবিকায় সচ্ছলতা চলে আসে। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে সূর...

💬 মানুষের মতামত

"শরীফ আমাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন ছাত্র ও সুযোগ্য আলেম। সে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের মাদরাসার দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডাটাবেজ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মাদরাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আইটি সলিউশনে উনার কাজ ও আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করে।"

আমানুল্লাহ সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হোসাঈনাবাদ মাদরাসা

"হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসার অনলাইন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের প্রিয় ছাত্র শরীফ অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলাচ্ছে। ইলমে দ্বীন অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আইটি প্রযুক্তিতে উনার এই পারদর্শিতা প্রশংসনীয়। উনার তৈরি করা ড্যাশবোর্ড ও সফটওয়্যার সল্যুশন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।"

মাহমুদুল হক সাহেব
মুফতী মাহমুদুল হক মামুন

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আবু বকর সিদ্দীক রা. মাদরাসা

"সহপাঠী হিসেবে শরীফকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে উনার অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। আমাদের 'আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড'-এর অনলাইন ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের সকল ক্ষেত্রে শরীফ আমার বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে বড় সহযোগী। উনার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বন্ধুবৎসল আন্তরিক সাপোর্ট আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।"

আমির হোসাইন সাহেব
হাফেজ মাওলানা আমির হোসাইন

প্রতিষ্ঠাতা, আল মদিনা ন্যাচারাল ফুড

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. এইচ এম শরীফ কে এবং তাঁর মূল লক্ষ্য কী?
এইচ এম শরীফ একজন আলেম, ইমাম-খতীব, শিক্ষক এবং সল্যুশন ডেভেলপার। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি ও দ্বীনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। দ্বীনি জ্ঞান ও আধুনিক ডিজিটাল সলিউশনের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজসেবা এবং একটি নৈতিক ও আদর্শিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২. "দ্বীন ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ" বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
এর অর্থ হলো দ্বীনি মূল্যবোধ ও জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা। যেমন—মাদরাসা ব্যবস্থাপনার জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা, যুবসমাজের কল্যাণে ডিজিটাল ডিরেক্টরি বা অ্যাপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কাজগুলোকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
৩. ইমাম ও খতীব হিসেবে তাঁর খিদমতের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর শিবপুরের খড়িয়ায় অবস্থিত "বাইতুন নূর জামে মসজিদ"-এ ইমাম ও খতীব হিসেবে খিদমত করছেন। খুতবা ও জুমার আলোচনার মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৪. মাদরাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী?
তিনি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী "হোসাঈনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা"-র বালিকা শাখা "জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা"-র দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) এবং উচ্চতর জামাতসমূহে আরবী সাহিত্য ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করছেন। তাঁর মূল পাঠদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এবং আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও সাহিত্য।
৫. একজন আইটি ট্রেইনার হিসেবে তিনি কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?
২০২৩ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান "প্যারাডাইম শিফট এডুকেশন ইঙ্ক" (Paradigm Shift Education Inc.)-এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি মূলত বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন (Web Design), এবং এক্সেল ও গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট অটোমেশন (Excel & Apps Script Automation) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
৬. তাঁর তৈরি করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিজিটাল প্রজেক্ট কী কী?
তাঁর তৈরি করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট হলো:
Narsingdi Connect: নরসিংদী অঞ্চলের জরুরি সেবা ও যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি অফলাইন ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।
Madrasha Portal: মাদরাসাগুলোর ভর্তি পরীক্ষা, রেজাল্ট শিট ও ফিস কালেকশন অটোমেশনের জন্য তৈরি একটি ক্লাউড পোর্টাল ড্যাশবোর্ড।
Fuel Tracker: জ্বালানি ফিলিং স্টেশনের হিসাব-নিকাশ ও ট্র্যাকিংয়ের একটি ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৭. একজন ডেভেলপার হিসেবে তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতাগুলো কী কী?
তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে JavaScript (ES6), Google Apps Script, HTML5 & CSS3, PWA App Development এবং Web UI Design। এছাড়া ডাটাবেজ ও ক্লাউড সিস্টেমের জন্য তিনি Google Sheets Automation, MS Excel VBA, Firebase Cloud এবং SQL Database ব্যবহার করে কাজ করেন।
৮. "শরীফ মাল্টিমিডিয়া" কী ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যা ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। এখানে মূলত অফিশিয়াল ডকুমেন্ট রাইটিং (কম্পোজ, কপি, লেমিনেটিং), সরকারি-বেসরকারি অনলাইন চাকরির আবেদন, ট্রাভেল ভিসা ও টিকিট চেকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এবং বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মতো দৈনিক প্রয়োজনীয় আইটি ও রিটেইল সেবা প্রদান করা হয়।
৯. "হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ" এর সামাজিক কার্যক্রমগুলো কী কী?
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদী অঞ্চলে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেধা বিকাশে কুইজ ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১০. কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি বা অটোমেশন সেবা নিতে চায়, তবে কীভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে?
মাদরাসা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজাল্ট ও হিসাব-নিকাশের অটোমেশন সলিউশনের জন্য "যোগাযোগ করুন" বাটনে ক্লিক করে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ইমেইল, মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও তাঁর সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব।
📞 যোগাযোগ করুন
মোবাইল / হোয়াটস্অ্যাপ / টেলিগ্রাম / ইমো +880 1747-878233
অফিশিয়াল ইমেইল admin@hmsharif.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.hmsharif.com
প্রধান কার্যালয় / অফিস তেলিয়া বাজার, শিবপুর, নরসিংদী।

রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১১) খায়বার বিজয়ের পর মুসলিমদের সচ্ছলতা লাভ

খায়বার বিজয়ের পর মুসলিমদের সচ্ছলতা লাভ

খায়বার বিজয়ের পর গরিব মুসলিমদের জীবন-জীবিকায় সচ্ছলতা চলে আসে। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে সূরা ফাতহে গনীমত প্রদানের যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূর্ণ করে দেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন,
لَمَّافُتِحَتْخَيْبَرُقُلْنَااَلْاَنَنَشْبَعُمِنَالتَّمْرِ

খায়বার বিজয়ের পর আমাদের জন্য খেজুর দ্বারা পরিতৃপ্ত হওয়ার সুযোগ হয়ে গেল। (বুখারী, হা.নং ৪২৪২)

আনসারদের প্রদত্ত বাগান ও শষ্যক্ষেত ফেরত প্রদান

হিজরতের পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের ভ্রাতৃত্ব-বন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছিলেন। নিঃস্ব মুহাজির সাহাবায়েকেরামের জীবন-জীবিকার নিমিত্তে আনসাররা নিজেদের শস্যক্ষেত ও বাগানের বাৎসরিক উৎপাদিত ফসলে তাদের শরীক করে নিয়েছিলেন।
আনসারী সাহাবী হযরত আনাস রা. এর মাতা উম্মে সুলাইম রা. তার একটি খেজুর বাগান মুহাজির সাহাবীয়া হযরত উম্মে আইমান রা. কে দিয়েছিলেন। খায়বার বিজয়ের পর যখন মুহাজির সাহাবীরাও সচ্ছল হয়ে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বাগানসমূহ ফেরত দিয়ে দিলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইম এর বাগানও তাকে ফেরত দিয়ে দিলেন। এবং উম্মে আইমানকে সন্তুষ্ট করার নিমিত্তে তাকে নিজের একটি বাগানও দিয়ে দিলেন। (বুখারী, হা.নং ২৬৩০; সীরাতে মুস্তফা, ২:৪২৩)

গনিমতের সম্পদ বণ্টন

হুদায়বিয়ার ঘটনায় যেসকল সাহাবা শরীক ছিলেন কেবল তাদেরই খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল। খায়বারযুদ্ধের গনীমত কেবল তাদের মাঝেই বণ্টন করা হয়। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪:২২০)
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, জিহাদে জয় লাভের পর গনিমতের সম্পদ বণ্টনকালে আমি উপস্থিত হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো আমাকে বঞ্চিত করেননি। তবে খায়বার যুদ্ধ এর ব্যতিক্রম ছিল। কেননা, এ যুদ্ধের গনীমত কেবল আহলে হুদায়বিয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। (মুসনাদে আহমাদ, হা.নং ১০৯১২)
এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবান ইবনে সায়িদ ও তার সাথীদের, যারা খায়বারযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি, তাদের চাওয়ার পরও কোন অংশ দেননি। (বুখারী, হা.নং ৪২৯৮)

বণ্টন পদ্ধতি:

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমত হিসেবে প্রাপ্ত খায়বারের সমস্ত ফসলি জমিন মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করেননি; বরং এসব জমিনের অর্ধেক তিনি মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করেন। বাকি অর্ধেক সাধারণ মুসলিমদের নাগরিক-সুবিধা পূরণের নিমিত্তে রাষ্ট্রায়ত্ত করে রাখেন। 
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতিবা, ওয়াতিহ ও সুলালিম নামক স্থানগুলোর জমিনসমূহ রাষ্ট্রায়ত্ত করে রাখেন। আর শাক, নিতাহ ও তার পার্শ্ববর্তী জমিনগুলো বণ্টন করে দেন। বণ্টনের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমিনগুলো মোট আঠারো ভাগ করেন। অতঃপর প্রত্যেক অংশ একশত ভাগ করেন। (আবু দাউদ, হা.নং ৩০১০-৩০১৫)
এরপর এ আঠারোশত অংশ সকল মুজাহিদের মাঝে কীভাবে বণ্টন করা হলো, এ ব্যাপারে একাধিক মত রয়েছে।
কারো মতে, মুসলিমদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১৪০০। তার মধ্যে ১২০০ পদাতিক এবং ২০০ অশ্বারোহী। প্রত্যেক পদাতিককে এক অংশ এবং প্রত্যেক অশ্বারোহীকে তিন অংশ করে দেওয়া হয়। 
আর কারো মতে, মুসলিমদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১৫০০। তার মধ্যে ১২০০ পদাতিক আর ৩০০ আশ্বারোহী। প্রত্যেক পদাতিককে এক অংশ এবং প্রত্যেক অশ্বারোহীকে দুই অংশ করে দেওয়া হয়েছে। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪:২১৮-২২০; সীরাতে মুস্তফা, ২:৪২১-৪২২)

‘ফাদাক’ বিজয়

ফাদাক মদীনা হতে দু’দিনের দূরত্বে খায়বারের নিকটবর্তী একটি জনপদের নাম। (মুজামুল বুলদান, ২:২৭০)
ফাদাকের ইহুদীরা যখন জানতে পারলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার জয় করে নিয়েছেন তখন তারা কোন প্রকার যুদ্ধে না জড়িয়ে মুহায়িসাহ ইবনে মাসউদের মধ্যস্থতায় সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে পাঠালো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথেও খায়বারের ইহুদীদের ন্যায় বাৎসরিক অর্ধেক ফসল প্রদান করার শর্তে সন্ধি প্রস্তাব মেনে নিলেন। এবং বললেন, ‘যখন ইচ্ছা আমরা তোমাদের এবং খায়বারবাসীদের এখান থেকে বের করে দেব।’ (সীরাতে ইবনে হিশাম)
হাফেয ইবনে কাসীর রহ. বলেন, খায়বার যুদ্ধের গনীমত থেকে প্রাপ্ত নির্ধারিত অংশ, ফাদাক (সম্পূর্ণরূপে) এবং মদীনা হতে বহিষ্কৃত ইহুদী গোত্র বনু কুরাইযার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একক মালিকানা। অন্যান্য মুসলমানের তাতে কোন অংশ ছিল না। কেননা, ফাদাক ও বনু কুরাইযার সম্পদ মুসলিমরা যুদ্ধ করে জয় করেনি বরং আল্লাহ তা‘আলা বিনা যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা দিয়েছিলেন। এসব সম্পদ থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনীনকে বাৎসরিক ব্যয়ভার বহন করতেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪:২২০)

‘ওয়াদিয়ে কুরা’ বিজয়

‘ওয়াদিয়ে কুরা’ সিরিয়া ও মদীনার মধ্যবর্তী বহু জনপদ বিশিষ্ট একটি এলাকা। (মুজামুল বুলদান, ৫:৩৯৭)
হাফেয ইবনে কাসীর রহ. ইমাম ওয়াকিদী ও ইবনে ইসহাক রহ. থেকে বর্ণনা করেন, ফাদাক বিজয়ের পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদিয়ে কুরার দিকে যাত্রা করেন। ওয়াদিয়ে কুরার লোকেরা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা পরাজয় তাদের ভাগ্যে লিখে রেখেছিলেন। এ যুদ্ধে তাদের এগারজন লোক নিহত হলো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারদিন ওয়াদিয়ে কুরায় অবস্থান করে গনিমতের সম্পদ সাহাবীদের মাঝে বণ্টন করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় চলে আসেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪:২৩৬; সীরাতে মুস্তফা, ২:৪৩৬)

অন্যের সম্পদে খেয়ানতের মন্দ পরিণতি

হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন যে, ওয়াদিয়ে কুরায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক গোলাম ছিল, যার নাম ছিল ‘মিদআম’। যুবাইব গোত্রের ‘রিফাআ’ নামক এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ গোলাম হাদিয়া দিয়েছিলেন। অজানা কোন শত্রুর তীরের আঘাতে এ গোলাম নিহত হয়। সাহাবীরা তাকে শহীদ ঘোষণা করলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন,
بل والذى نفسى بيده ان الشملة التى اصابها يوم خيبر من المغانم لم تصبها المقاسم لتشتعل عليه نارا
(না, সে শহীদ নয়!) বরং শপথ ঐ সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয় গনিমতের সম্পদ বণ্টনের পূর্বেই যে শামলা (আলখেল্লার মতো ঢিলা পোশাক) সে খেয়ানত করেছিল তার কারণে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। [সূত্র: গনীমতের সম্পদ বন্টনের পূর্বে সকল মুসলমানের হক। কাজেই বন্টনের পূর্বে আমীরের অনুমতি ছাড়া তার কোন অংশ নেয়া খেয়ানত] (বুখারী শরীফ, হা.নং ৬৭০৭)

ইহুদী ষড়যন্ত্রের আরেক পর্ব

কুরআন মজীদে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের সর্বাধিক কঠিন শত্রু হিসেবে ইহুদীদের কথা উল্লেখ করেছেন। ইতিহাসও এ সত্যতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। 
খায়বারের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইহুদী সাল্লাম ইবনে মিশকামের স্ত্রী যায়নাব বিনতে হারিস কোন এক কৌশলে বিষ মিশ্রিত বকরির গোশত নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাদিয়া হিসেবে পেশ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মুখে দেওয়ামাত্র গোশতই তাকে বিষ মেশানোর কথা বলে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে সাথে নিবৃত্ত হলেন। ইতোমধ্যে সঙ্গী সাহাবী হযরত বিশর ইবনে বারা রা. তা গলাধঃকরণ করে ফেলেছিলেন। 
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদী মহিলাটিকে ডেকে বিষ দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বললো, ‘আপনি সত্য নবী কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য বিষ দিয়েছিলাম। কেননা, যদি আপনি সত্য নবী হন, তবে বিষ আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি মিথ্যাবাদী হন তবে আমরা আপনার থেকে নাজাত পাবো!’
ইমাম যুহরী রহ. বলেন, এরপর এই ইহুদী নারী ইসলাম গ্রহণ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু কারো থেকে ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না, তাই নিজের ব্যাপারে তাকে মাফ করে দিলেন। কিন্তু সঙ্গী সাহাবী বিশর উক্ত বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই নারীকে কিসাসরূপে হত্যা করার নির্দেশ প্রদান করলেন। এ ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষক্রিয়ায় কিছুটা আক্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে চিকিৎসাস্বরূপ তিনি সিংগা লাগান। এর পরেও জীবনসায়াহ্নে যখন মৃত্যুরোগে আক্রান্ত হন, তখনও তিনি নিজের মাঝে উক্ত বিষক্রিয়া অনুভব করেছিলেন। (আবু দাউদ, ৪৫১১, ৪৫১২; আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, ১৬০০৭, ১৬০১; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪:২২৭-৪২৮; সীরাতে মুস্তফা, ২:৪১৯)

খায়বারযুদ্ধের কয়েকটি শিক্ষণীয় ঘটনাঃ শহীদ নাকি জাহান্নামী

হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন যে, (খায়বারযুদ্ধে) মুসলিমরা যখন কাফেরদের মুখোমুখি হলো তখন মুসলিমদের পক্ষ হতে এক ব্যক্তি বীরত্বের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে চললো। যে কাফেরই তার সামনে আসছিল সেই তার তরবারির আঘাতে লুটিয়ে পড়ছিল। সাহাবীরা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ওহীর মাধ্যমে অবগত হয়ে) বললেন, ‘এই ব্যক্তি জাহান্নামী।’
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। আকসাম ইবনে আবুল জুন নামক এক সাহাবী উক্ত ব্যক্তিকে জখমের তীব্রতায় অস্থির হয়ে আত্মহত্যা করতে দেখতে পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ঘটনা শুনে বললেন,
يَا بِلاَلُ، قُمْ فَاَذِّنْ : لاَ يَدْخُلُ الجَنَّةَ اِلاَ مُؤْمِنٌ، وَاِنَّ اللهَ لَيُؤَيِّدُ هَذَا الدِّينَ بِالرَّجُلِ الفَاجِرِ
হে বিলাল, দাঁড়াও! ঘোষণা করে দাও! জান্নাতে কেবল মুমিন বান্দাদেরই প্রবেশাধিকার থাকবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ‘ফাজের’ (গুনাহগার) ব্যক্তির মাধ্যমেও তার দীনের সাহায্য নিয়ে থাকেন। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৬০৬; সহী ইবনে হিব্বান, ৪৫১৯)

হাফেয ইবনে হাজার রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে তীন রহ. এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেন, ‘আত্মহত্যাকারী ঈমানদারের জাহান্নামী হওয়ার অর্থ হলো, যদি আল্লাহ তা‘আলা তার আত্মহত্যার এ অপরাধ ক্ষমা না করেন তবে সে (নির্দিষ্ট সময়ের জন্য) জাহান্নামী হবে। অথবা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জাহান্নামী বলার কারণ হলো, আত্মহত্যাকে সে গুনাহ মনে করেনি; বরং বৈধ মনে করে সে এতে লিপ্ত হয়েছিল এবং (একটি হারামকে হালাল তথা বৈধ মনে করার কারণে) মৃত্যুর পূর্বে সে বেঈমান হয়ে গিয়েছিল। কাজেই সে চিরকালের জন্য জাহান্নামী হবে। (ফাতহুল বারী, ৭:৫৮৩-৫৮৬)
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসের পেরিপ্রেক্ষিতে আলেমগণ বলেন, দীনের কাজ করতে পারাই কারো জন্য ঈমানদার এবং জান্নাতী হওয়ার দলীল নয়। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা তো ফাসেক এবং কাফের ব্যক্তির মাধ্যমেও দীনের কাজ নিয়ে থাকেন। ইহুদীর সহযোগিতায় দুর্গ বিজয়ের ঘটনা এর সুস্পষ্ট দলীল। কাজেই দীনের কাজ করতে পারলে শুকরিয়া আদায় করা এবং সাথে সাথে নিজের ঈমান, ইখলাস ও আমলের শুদ্ধতার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া চাই। (কাশফুল বারী; খায়বার যুদ্ধ অধ্যায়)

জান্নাতের ধনভাণ্ডার

খায়বারযুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনকালে এক উপত্যকায় পৌঁছলে সাহাবীরা উচ্চঃস্বরে আল্লাহু আকবার বলতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন,
يَا اَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى اَنْفُسِكُمْ، فَاِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ اَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا، اِنَّهُ مَعَكُمْ اِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ، تَبَارَكَ اسْمُهُ وَتَعَالَى جَدُّهُ
তোমরা নিজেদের উপর রহম কর। (এত উচ্চঃস্বরে তাকবির বলো না) নিশ্চয় তোমরা যে সত্তাকে ডেকে থাকো, তিনি বধির কিংবা অনুপস্থিত নন। বরং তিনি তো তোমাদের নিকটেই আছেন। এবং তিনি সবকিছু শুনেন।
এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মুসা আশআরী রা. কে
لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ اِلاَ بِاللهِ
পড়তে শুনে বললেন,
يَا عَبْدَ اللهِ بْنَ قَيْسٍ : اَلا اَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ
হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস, আমি তোমাকে জান্নাতের একটি ধনভাণ্ডারের কথা বলে দিব কি?
আবু মুসা আশআরী রা. জবাবে বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক! নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (জান্নাতের একটি ধনভাণ্ডার হলো)
قُلْ : لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ اِلاَ بِاللهِ
তুমি বলো,
 لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ اِلاَ بِاللهِ 
(আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ছাড়া বান্দার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকারও কোন ক্ষমতা নেই, নেকির কাজ করারও কোন শক্তি নেই।) (মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৪; বুখারী, হা. নং ২৯৯২)

ঈমানের মূল্য

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. এর সূত্রে এক বর্ণনায় রয়েছে, খায়বার যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরাম এক বকরি চালক রাখালকে ধরে নিয়ে এলো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলে লোকটা মুসলমান হয়ে গেল এবং সাহাবী হওয়ার মর্যাদা লাভ করলো! ইসলাম গ্রহণের পরমুহূর্তেই রণাঙ্গনের যুদ্ধসারিতে গিয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়লো। যুদ্ধ করতে করতে একটি তীরের আঘাতে এই নবীন সাহাবী শাহাদাত বরণ করলেন। অথচ ইসলাম গ্রহণের পর তার একটি সেজদা করারও সুযোগও হয়নি! শুধু ঈমানের বদৌলতে আল্লাহ তা‘আলা তাকে এমন সম্মানিত করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের একটি জুব্বা দ্বারা কাফন দিলেন এবং বললেন, 
لَقَدْ حَسُنَ اِسْلَامُ صَاحِبِكُمْ، لَقَدْ دَخَلْتُ عَلَيْهِ وَاِنَّ عِنْدَهُ لَزَوْجَتَيْنِ لَهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ
তোমাদের এ নবীন সাথীর ইসলাম উত্তম হয়েছে। আমি তার কাছে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম, তাকে দুজন হুর স্ত্রী দেওয়া হয়েছে। (দালায়িলুন নুবুওয়াহ লিল বায়হাকী, ২:২২০)

খায়বারযুদ্ধে নাযিলকৃত হুকুম-আহকাম

১. এ যুদ্ধে গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অবকাশের হুকুম অবতীর্ণ হয়। (তবে অন্যান্য হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোড়ার গোশত খাওয়ার বৈধতার ব্যাপারে ফকিহদের মতবিরোধ রয়েছে।) (বুখারী শরীফ, হা.নং ৪২১৯)
২. এ যুদ্ধেই “মুত‘আ বিবাহ” (নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তি করে বিবাহ) সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা হয়। (বুখারী শরীফ, হা.নং ৫১১৫)
৩. হারাম তথা সম্মানিত মাসসমূহে (জিলকদ, জিলহজ্জ, মুহাররম ও রজব) কাফেরদের সাথে জিহাদ করার বৈধতা অবতীর্ণ হয়। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খায়বার অভিযান হয়েছিল ‘সফর’ মাসে। 
৪. হিংস্র জীব-জন্তু এবং পাঞ্জা দ্বারা শিকার করে আহার করে, এমন শিকারি পাখির গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। (আবু দাউদ, হা. নং ৩৮০৫)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

✍️ আমাদের ব্লগ
রাসূল সা. এর জীবনি (পর্ব - ১১) খায়বার বিজয়ের পর মুসলিমদের সচ্ছলতা লাভ

খায়বার বিজয়ের পর মুসলিমদের সচ্ছলতা লাভ খায়বার বিজয়ের পর গরিব মুসলিমদের জীবন-জীবিকায় সচ্ছলতা চলে আসে। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে সূর...