এই বইটি পড়লে আপনার জীবন সুন্দর থেকে সুন্দর হবে। আমি নিজেই গ্যারান্টি দিতে পারি।

★ গ্রন্থালোচনা ★
.
বই: সুখময় জীবনের সন্ধানে
লেখক: ড. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আরিফী
অনুবাদক: মাদানী নগর মাদরাসার জামাতে তাকমিল (২০১৩-১৪) ছাত্রবৃন্দ।
প্রকাশনায়: আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানী নগর।
মূদ্রিত মূল্য: চারশত বিশ টাকা মাত্র। (তবে এখান থেকে বইটি একদম ফ্রীতেই ডাউনলোড করতে পারবেন।)
পৃষ্ঠা: 480
নিচে ডাউনলোড লিংক দেয়া আছে। 

লেখক পরিচিতি:
ড. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আরিফী সউদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ৷ যিনি বহু গবেষণামূলক গ্রন্হের লেখক, মনোবিজ্ঞানী, দাঈ, শিক্ষক, খতিব, ও রাবেতায়ে আলমে ইসলামী এবং মুসলিম ঐক্য পরিষদের অন্যতম সদস্য ৷ তিনি 1970 সনের 16ই জুলাই আরবে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন ৷ দাম্মামে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ৷ পরবর্তীতে 2001 সনে কিং সউদ বিশ্যবিদ্যালয় থেকে ইসলামী নীতিমালা বিষয়ক ও অন্যান্য ধর্মেও তুলনামূলক বিশ্লেষণে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন ৷

ইতোমধ্যেই তিনি বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই লিখেছেন, যে গুলো আরব বিশ্বসহ অন্যান্য দেশে বহুল প্রচারিত ও প্রশংসিত, ৷ আর সেগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুদিতও হয়েছে৷ সেগুলোর মধ্য থেকে এবইটি তার অন্যতম ৷

গ্রন্থালোচনা:
বইটির আরবি নাম হলো, “استمتع بحياتك ” আর ইংরেজি নাম হলো, “Enjoy Your Life ” একাধিক ব্যক্তি বইটির বঙ্গানুবাদ করেছেন বিধায় নামও একাধিক রয়েছে; কেউ এর নাম নির্বাচন করেছেন, “জীবনকে উপভোগ করুন ” কেউবা করেছেন, “সুখময় জীবনের সন্ধানে ” ৷ কেউ নাম দিয়েছেন, “সুখময় জীবন উপভোগ করুন “

এই বইটি নবীজির (সা) জীবন এবং ইসলামের সমৃদ্ধ সোনালি অতীত থেকে নেওয়া বেশকিছু ঘটনার এক অনবদ্য সংকলন । তাছাড়া বইটিতে লেখক জীবনের এমন কিছু ঘটনা স্থান পেয়েছে যা পাঠকের চিন্তা জগতকে আলোড়িত করবে।

বইটির মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আত্মিক উন্নয়ন কিভাবে সাধিত হয় এবং সামাজিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে জীবনকে উপভোগ করা যায় সে সম্পর্কে পাঠককে দিকনির্দেশনা প্রদান করা।

বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মনোমুগ্ধকর দিকটি হলো বইটিতে সামাজিক দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার আমাদের জীবনে কী পরিমাণ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে তা নবীজি (সা) এবং তাঁর সাহাবা (রাঃ) জীবন থেকে উদাহরণসহ দেখিয়ে দেওয়া । বইটি যেমন আত্ম-উন্নয়নের পথে একটি বাস্তবিক এবং সুপরিকল্পিত দিকনির্দেশিকা, ঠিক একইভাবে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার। বইখানি পাঠকের আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তার আত্মার পুষ্টি যোগাবে এবং তার মননকে করবে শক্তিশালী।

আমাদের সমাজে ডেল কার্নেগীর বই বহুল প্রচলিত। হতাশার মহৌষধ হিসাবে ডেল কার্নেগীর সুচিন্তিত লেখাগুলো খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু সেই ডেল কার্নেগীই আত্নহত্যা করে বিদায় নিয়েছেন!
আমাদের সমাজের মানুষের হতাশার পিছনে মূল কারণগুলো কী? কেউ চাকুরীহীন কেউবা সাংসরিক জীবনে অসুখী। আমরা আমাদের জীবনাদর্শ হিসাবে কাদের চরিত্রকে অনুসরন করছি? আধুনিক মিডিয়া জগতের তারকাদের আমরা জীবনাদর্শ হিসাবে গ্রহণ করি । কিন্তু বর্তমান যুগের কোনো তারকার জীবন কি সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনীর চেয়ে উত্তম হতে পারে? কখনোই না।
অনেক অমুসলিম লেখক -গবেষকও প্রিয় নবীকে আদর্শ মহামানব হিসাবে ব্যক্ত করেছেন। আমরা আমাদের লাইফস্টাইলকে মিডিয়া কিংবা প্লেয়ার তারকাদের মতো করার চেষ্টা করি। কিন্তু তাদের জীবনী কি সমস্যা বিহীন? তারা কি আদর্শ হওয়ার যোগ্যতা রাখে? অবশ্যই না! তাহলে আমাদের জীবনকে সাজাবো কিভাবে? আদর্শ হিসাবে কাকে মানবো? কিভাবে পাপ মুক্ত, হতাশা মুক্ত জীবন গড়ব?
এসব প্রশ্নের উত্তর যারা খুজছেন, তাদের জন্য অনেক সুন্দরভাবে জবাব দিয়েছেন ড. মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান আল-আরিফী। হতাশামুক্ত সুন্দর জীবন গড়তে এ বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

এ গ্রন্থে গ্রন্থকার যে আলোচনা করেছেন, সেগুলো নবী করীম(স: ) এর নির্দেশনারই পথও পদ্ধতি ৷ যা প্রতিটি মানুষের জন্য সঠিক পথের দিশারী ৷ আপনি নানান সমস্যার কারণে হতাশা -নিরাশা ও ব্যর্থতার শিকার হয়ে জীবন বিপন্ন করে তুলেছেন ৷ কোথাও খুজে পাচ্ছেননা এর প্রকৃত সমাধান ৷ গ্রন্থকার এমন পরিস্থিতির মোকাবেলায় যা করণীয় সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ৷ যখন আপনি ব্যর্থতার বেড়াজালে নিমজ্জিত আছেন, তখন যদি সফলতার চাবি পেতে নিবিষ্ট মনে বইটি পাঠ করেন, তাহলে আপনার এতে সীমাহীন উপকার সাধিত হবে ৷ আর জীবনের ব্যর্থ দিক বদলে দিয়ে সফলতা আপনার চিরসাথী হবে ইনশাআল্লাহ ৷
অনেক মানুষকে আমরা দেখি, সবাই তাদেরকে ভালোবাসে ৷ তাদের সাক্ষাত, সংস্পর্ষ, এবং তাদের সাথে কথা বলতে আনন্দবোধ করে ৷ তাদের মত আপনি কি হতে চান না ? তাদের মত ভালোবাসা পাবার আশা করেন না ?
অন্যের প্রতি আপনি কেন সব সময় মুগ্ধ থাকবেন? কেন নিজেকে মুগ্ধতার পাত্র বানানোর চেষ্টা করবেন না?
এগ্রন্হে কীভাবে নিজেকে সাচ্ছন্দময় ও মুগ্ধকর করা যায়— সেসব পদ্ধতি উল্লেখ আছে ৷

দেখুন, দু ‘জন বাবা; একজনকে দেখে তার সন্তানেরা আনন্দিত হয় ৷ সব সময় তার কাছে থাকে ৷ তাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসে ৷ অথচ আরেক বাবার সন্তানেরা দূরে দূরে সরে থাকে ৷ সব সময় দৃষ্টির আড়ালে থাকাটাই পছন্দ করে ৷ কেন এ পার্থক্য? দু ‘জনইতো সন্তানদের পিতা ৷ এর পরও কেন এত ব্যবধান ! কেন এত দূরত্ব? হ্যাঁ, এসব ক্ষেত্রে কীভাবে মানুষের মন জয় করে জীবনকে উপভোগ করা যায় , কীভাবে মানুষকে আপন করা যায়, কীভাবে সবধরণের মানুষের সাথে চলাফেরা করে, তাদের মাঝে প্রভাব ফেলা যায়; তাদের ভুলত্রুটিকে উপেক্ষা করে শান্তিময় পরিবেশে থাকা যায় ৷ এগ্রন্থে সেসব পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে ৷ এছাড়া এতে রয়েছে এমন আরও অনেক বিষয় যা জীবন চলার পথে সহায়ক হবে ৷

মানুষের জীবনের আকেঁ বাকেঁ অনেক বাধা: – বিপত্তি ও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ৷ আর এসকল সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজে বের করে জীবনকে সুখী – সমৃদ্ধ ও সৌন্দর্য মন্ডিত করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব ও হয়ে থাকে ৷ পক্ষান্তরে অনেক সমস্যা যেগুলোর সমাধান করা সাধারণত: জটিল হয়ে থাকে এবং নিজেকে এগুলোর সামনে অপারগ ও অসহায় মনে হয় ৷ এইসকল জটিল ও কঠিন সমস্যা সমাধানের পথ ও পদ্ধতি বর্ণনায় এ গ্রন্থটি অনন্য ও অপ্রতিদ্বন্দি ৷ কারণ এ গ্রন্থের মূল উপজীব্য হলো, রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত, শ্রেষ্ঠ মহামানব, রাসুলে কারীম সা: এর সীরাত, ও ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের জীবনাচার ও উত্তম আদর্শ ৷ যার পরতে পরতে উপমা পেশ করা হয়েছে; রাসুলে কারীম সা:, সাহাবায়ে কেরাম, বুযুর্গানে দ্বীন, বিশ্ববিখ্যাত ও সফল ব্যক্তিদের জীবন – চরিত্রের আলোকে, যা লেখক তার বছরের গবেষণার সারনির্যাস হিসাবে উপস্থাপন করেছেন ৷

গ্রন্থটি সম্পর্কে স্বয়ং গ্রন্থকার বলেন, “এপর্যন্ত আল্লাহ পাক আমাকে বিশটিরও বেশি গ্রন্থ প্রণয়নের তাওফিক দিয়েছেন ৷ দু ‘ একটি বইয়ের বিশ লাখের বেশি কপি শেষ হয়েছে ৷ এর পরও আমার সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে মূল্যবান এবং বেশি জ্ঞানসমৃদ্ধ ও উপকারী গ্রন্থ এটিই বলা যায় ৷ এর প্রতিটি কথাই কলমের কালিতে নয়, খুনরাঙা হরফে লিখা ৷ এর প্রতিটি শব্দের পরতে পরতে গেঁথে আছে আমার অন্তরের আকুতি ৷ স্মৃতির নির্যাসে তৈরী এর একেকটি বাক্য, বাক্যমালা ৷ আমি এর প্রতিটি কথা হৃদয়ের গভীর থেকে লিখেছি ৷ তাই এর বাক্যগুলো হৃদয় থেকে হৃদয়ে রেখেছি যেনো পাঠক হৃদয়ে এর মর্ম গভীরভাবে রেখাপাত করে, সে চেষ্টাই করেছি ” ৷
আসলেই বাস্তবতা এমনই ৷ আমি বইটি পড়েছি ৷ এর প্রতিটি পৃষ্ঠার লেখাই আমি মুগ্ধ হয়েছি এবং বেশ উপকৃতও হয়েছি ৷

বইটির অনুবাদ যেমন ঝরঝরে এর প্রচ্ছদও আধুনিকতার রূপায়নে তেমনি ঝকঝকে, মনোমুগ্ধকর এবং আকর্ষনীয় ৷ যা বইটি পড়তে দ্বিগুণ উৎসাহিত করবে। তাই দেরি না করে এমন একটি অমূল্য গ্রন্থ তাড়াতাড়ি নিজে পড়ে বন্ধু – বান্ধবকেও পড়তে উৎসাহীত করুন এবং ইহকাল – পরকাল উভয় জাহানে সুখময় জীবন অর্জন করুন ৷
দোয়া করি আল্লাহ পাক যেন লেখককে উত্তম বদলা দান করেন, নেক হায়াত দান করেন, তার অমূল্য গ্রন্থকে কবুল করেন এবং এর দ্বারা সমস্ত পাঠক – পাঠিকাকে উপকৃত করেন ৷ আমিন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য