Subscribe Us

header ads

আমি প্রতিদিন ১০ মিনিটের জন্য কী করতে পারি যা আমার জীবন বদলে দেবে?


অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলুন।


  •     পাবলিক পরিবহনে সহযাত্রী
  •     প্রতিদিনের দোকানীরা
  •     স্টোর মালিকরা
  •     প্রহরী
  •     আপনার অফিসের পিয়ন
  •     ট্যাক্সিচালক
  •     আপনার সাথে যে কারও দেখা হবে
দুই যাত্রীর কথোপকথন

মনে রাখবেন, নিজের সম্পর্কে কথা বলবেন না। তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন এবং শুনুন। আমি প্রতিদিন এমন করি এবং লোকেদের সম্পর্কে জানা খুবই মজার।

এভাবে মানুষের সাথে কথা বলে আমার শেখা কিছু শিক্ষা/উদাহরণ এখানে শেয়ার করছি :

১। একজন রিয়েল এস্টেট সংস্থার মালিকের কাছ থেকে কাজের অফার পেয়েছিলাম।
২। বাড়িতে যাওয়ার সময় একজন বন্ধু বানিয়েছিলাম। আমার কাছে ফেরার টিকিট ছিল না, কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমার আবার সেই একই লোকটির সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল এবং আমি তার রেলওয়ে বার্থটা শেয়ার করেছিলাম।
৩। এমন একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে দেখা হয়েছিল যার স্ত্রী একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করে (আমার ধারণা এটি গুগল ছিল, গুগল ডেভেলপার)। তার সাথে কথা বলার পরে, আমার অন্ধ দেশহিতৈষিতা নর্দমায় গিয়ে পড়েছিল।
[সম্পাদনা : লোকটার সাথে আমার কথপোকথন হয়েছিল তিন বছর আগে হায়দ্রাবাদে। আমার সঠিক মনে নেই ঠিক কোন কোম্পানির কথা লোকটা বলেছিলেন। তবে আমার এটুকু মনে আছে, লোকটা আমাকে বলার সময় একটা আইটি পার্কের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন যেটাতে বড় অক্ষরে গুগল লেখা ছিল]
৪। আমার অফিসের পিয়ন আমাকে আলাদাভাবে সম্মান করে।
৫। একবার বাড়িতে বাড়িতে সবজি বিক্রি করা বিক্রেতা আমার হারিয়ে ফেলা মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিয়েছিল।
৬। কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিশু— যাদের আমি কলেজে পড়ার সময় পড়াতাম তারা প্রতি বছর আমাকে "শুভ শিক্ষক দিবস" কার্ড পাঠায় এবং এই দিনটা আমার বছরের সবচেয়ে সুন্দর দিন।
৭। আমি বেঙ্গালুরুতে থাকি। আপনি যখনি কোন রিকশাওয়ালার কাছে যাবেন তারা মিটারের দ্বিগুন নইলে মিটারের থেকে অতিরিক্ত ২০/৩০ রুপি বেশি চাইবে। তবে আমি যেহেতু আমার সমস্ত পথ একজন রিকশাচালকের কথা শুনতে শুনতে যাচ্ছিলাম, তিনি আমাকে পছন্দ করেছিলেন এবং তিনি আমার থেকে মিটারের ভাড়াই নিয়েছিলেন। মিটারে উঠেছিল ৭৪ রুপি এবং আমার জোরাজুরি করার পরেও তিনি মাত্র ৭০ রুপি নিয়েছিলেন।
৮। একবার রেস্তোঁরায় এক দম্পতি তাদের বাচ্চাকে নিয়ে একরকম হাঁসফাঁস করছিলেন। তারা খেতে পারছিলেন না। আমি আমার খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম তাই আমি বাচ্চাটির সাথে খেলতে শুরু করি। দম্পতি শান্তিতে খাবার খেয়েছিলেন। রেস্তোঁরাটা ছাড়ার সময় মুশুলধারে বৃষ্টি শুরু হচ্ছিল। ওই দম্পতি আমাকে রেস্তোঁরাটির বাইরে অপেক্ষা করতে দেখেন এবং আমাকে তাদের সাথে যাত্রা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যাত্রা চলাকালীন আমাদের মধ্যে দুর্দান্ত আলাপ হয়েছিল এবং তারা আমাকে একদম আমার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন।
৯। আমি বাসের সামনের দরজার কাছে বসে আমার স্টপের অপেক্ষায় ছিলাম। তাই আমি ড্রাইভারের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। ২০ মিনিটের মত আমরা মেয়েদের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বললাম। এবং ড্রাইভারের বিস্ময়করকম জ্ঞান ছিল। "মেয়ে শিশু" সম্পর্কে তাঁর চিন্তাভাবনা আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে ভারত বদলে যাচ্ছে।
    এমন হাজার হাজার কথোপকথন আমি শেয়ার করতে পারি। আমি শিখেছি যে প্রত্যেকে এমন সব লড়াই করছে যা এখন পর্যন্ত কেউ লড়েনি, কখনও কখনও এই কথোপকথনগুলি আমাকে আশা ও আত্মবিশ্বাস দেয়, জীবনের বিভিন্ন সমস্যাকে অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে সাহায্য করে, যখন আমি হতাশ হই তখন এগুলো আমাকে ভাবতে সাহায্য করে যে বাবা,বন্ধুরা সহ কত ভালো একটা জীবন আমার রয়েছে। মানুষের সাথে কথা বলাটা আমার জন্য অপ্রতিরোধ্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই লোকগুলির কথা শুনে আপনি যে হাসিটা পাবেন সেটা অমূল্য। জীবন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, এবং সকলেরই যা দরকার তা হলো শোনার মত একজন শ্রোতা।

সম্পাদনা :
অনেকেরই মনে প্রশ্ন রয়েছে "কারো সাথে কথোপকথন কীভাবে শুরু করবেন?" প্রত্যেকেরই নিজস্ব উপায় থাকতে পারে তবে নীচে আমার কয়েকটি উপায় শেয়ার করছি।
১। ক্যাব চালকদের সাথে (উবার/পাঠাও/ওলা/ট্যাক্সি ইত্যাদি)— "এটি কি আপনার নিজের, নাকি আপনি ভাড়া নিয়েছেন?" অথবা "এতো ট্র্যাফিক নিয়ে আপনি হতাশ হন না?"
২। পাবলিক পরিবহন— কোনও মহিলা / বৃদ্ধ বয়সী ব্যক্তিকে আপনার সিট অফার করুন। জিজ্ঞাসা করুন আপনার স্টপেজ কখন আসবে? (আপনি নিজে কখন নামবেন তা জানলেও)। কেউ যদি বই পড়তে থাকে— তবে বইটি নিয়ে কথা বলা শুরু করুন।
৩। কফি শপ / রেস্তোঁরা— সাহায্য করুন (যেমন আমি এই দম্পতিকে সাহায্য করেছিলাম)। অথবা থালা-বাসন বাছাই করতে সাহায্য চান (এটি বিদেশ ভ্রমণের সময় কাজ করে)।
৪। আপনি যদি সুবিধাবঞ্চিত শিশু দেখেন— তারা স্কুলে যায় কিনা জিজ্ঞাসা করুন।
৫। আপনার অধীনস্থদের সাথে— দুপুরের খাবার খান।
৬। রাস্তার পাশে বিক্রেতাদের সাথে— "আপনি প্রতিদিন কত টাকার ব্যবসা করেন?" অথবা "আপনি কি এই জায়গার কেমন ভাড়া দেন" বা "আপনাকে এখানে দাঁড়াতে দেওয়ার জন্য কেমন ঘুষ দিতে হয়?"

সমস্ত কিছুর মন্ত্র হচ্ছে একজন ভালো পর্যবেক্ষক হোন। অন্যদের কী সমস্যা থাকতে পারে তা বুঝতে চেষ্টা করুন। তাদের সমস্যা/পরিস্থিতি/পছন্দ ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলা শুরু করুন।
সবাই নিজের সম্পর্কে কথা বলতে পছন্দ করে। তাদের একটি সুযোগ দিন।

আমরা সকলেই শান্তি চাই। তবে শান্তির জন্য কি করতে হবে সেটা আমরা জানি না। চলুন কিভাবে আরো একটু আনন্দ বাড়িয়ে নেওয়া যায় দেখে নেই।

লেখকঃ Shrey Kataria
ভারত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

//