বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। যাবতীয় প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে, যিনি মানবজাতিকে হালাল ও পবিত্র রিজিক অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সুদ ও অন্যায্য আর্থিক শোষণ থেকে বেঁচে থাকার কঠোর বিধান জারি করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তির দিশারী, মেহনতি মানুষের পরম অভিভাবক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর।
বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয় ও লাগামহীন সামাজিক চাহিদার চাপে মানুষ এমন সব আর্থিক জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের ঈমান, আমল ও পারিবারিক সুখ-শান্তি কেড়ে নিচ্ছে। আজকের জুমার খুতবায় আমরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করব—হালাল উপার্জনের অপরিহার্যতা, ঋণ ও সুদের অভিশাপ থেকে মুক্তির উপায় এবং সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণে ইসলামের বাস্তবসম্মত রূপরেখা।
[toc]১. হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও ইবাদতে এর প্রভাব
ইসলামে ইবাদত কবুল হওয়ার সর্বপ্রথম ও প্রধান শর্ত হলো হালাল রিজিক। উপার্জনের পথ হালাল না হলে হাজার সিজদা, রোজা ও দান-সদকা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না।
ইবাদত কবুলের প্রধান শর্ত
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা কোনো হারাম বস্তুকে সদকা বা নেক আমল হিসেবে গ্রহণ করেন না।
হাদিস শরিফ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া অন্য কিছুই কবুল করেন না।"
— সহিহ মুসলিম: ১০১৫
নবী-রাসূলদের প্রতি প্রথম নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সাধারণ মানুষের আগে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের হালাল খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এরপর নেক আমল করতে বলেছেন:
নিজ হাতে উপার্জনের অনন্য মর্যাদা
পরের ওপর নির্ভর না করে নিজের ঘাম ঝরিয়ে এক লোকমা অন্ন সংস্থান করা ইসলামের দৃষ্টিতে নবীদের আমল ও সর্বোত্তম উপার্জন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন: "কারো পক্ষে নিজ হাতের উপার্জিত খাবারের চেয়ে উত্তম খাবার আহার করা কখনোই সম্ভব নয়। আর আল্লাহর নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) নিজ হাতে মেহনত করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।"
— সহিহ বুখারি: ২০৭২
২. দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানে ইসলামের তাগিদ
চরম দারিদ্র্য মানুষের স্বভাব ও ঈমানকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে। অভাবের তাড়নায় মানুষ মিথ্যা, সুদ, চুরি ও কুফরির মতো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়। এজন্যই মানবতার মুক্তির দূত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিয়মিত দারিদ্র্য থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন:
নবীজির দোয়া: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কুফরি এবং দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
— সুনানে নাসায়ি: ৫৪৬৫
ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করা ও মেহনতের সম্মান
কর্মক্ষম কোনো ব্যক্তি মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাতবে—ইসলাম একে কঠোরভাবে অপছন্দ করে। কাঠ কেটে মাথায় বোঝা বহন করে বাজারে বিক্রি করা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে বহুগুণ সম্মানজনক।
সুন্নাহর বাস্তব পাঠ: কুড়াল কিনে দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি
একবার এক আনসারী সাহাবি চরম অভাবে পড়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে সাহায্যের জন্য এলেন। নবীজি (সাঃ) তাকে হাত পেতে সাহায্য না দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার ঘরে কি কিছুই নেই?"
সাহাবি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! একটি মোটা কম্বল আছে—যার অর্ধেক আমরা গায়ে দিই আর অর্ধেক বিছিয়ে ঘুমাই; আর পানি খাওয়ার একটি পেয়ালা আছে।" নবীজি (সাঃ) জিনিস দুটি নিয়ে আসতে বললেন।
সাহাবি তা আনলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উপস্থিত সাহাবিদের মাঝে তা নিলামে তুলে দুই দিরহামে বিক্রি করলেন। এরপর সাহাবির হাতে অর্থ তুলে দিয়ে বললেন: "এক দিরহাম দিয়ে পরিবারের জন্য খাদ্য ক্রয় করো, আর বাকি এক দিরহাম দিয়ে একটি কুড়াল কিনে আমার কাছে নিয়ে এসো।"
সাহাবি কুড়াল নিয়ে এলে নবীজি (সাঃ) নিজ হাতে তাতে একটি কাঠের হাতল লাগিয়ে দিলেন এবং নির্দেশ দিলেন: "যাও, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো। আগামী ১৫ দিন আমি যেন এই এলাকায় তোমাকে দেখতে না পাই!"
সাহাবি মেহনত শুরু করলেন। মাত্র ১৫ দিন পর তিনি যখন ফিরে এলেন, তখন তার নিকট ১০ দিরহাম জমা হয়েছে! তিনি পরিবারের জন্য পোশাক ও খাদ্য কিনেছিলেন। তখন নবীজি (সাঃ) মুচকি হেসে বললেন:
"কেয়ামতের ময়দানে চেহারায় ভিক্ষাবৃত্তির কালো দাগ নিয়ে ওঠার চেয়ে নিজ হাতে মেহনত করে সম্মানের সাথে খাওয়া তোমার জন্য বহুগুণ উত্তম।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৬৪১)
৩. ঋণ: সাময়িক সমাধান, স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত না করার তাগিদ
ইসলাম বাস্তবসম্মত ধর্ম। মানুষের আকস্মিক সংকটে প্রয়োজনবশত করজ নেওয়া জায়েজ। কিন্তু আধুনিক সমাজে বিলাসিতা, লোকদেখানো অনুষ্ঠান ও সামাজিক অহমিকা প্রদর্শনের জন্য ঋণ নেওয়া এক মরণব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।
পরিশোধের নিয়ত ও আল্লাহর জিম্মাদারি
হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি পরিশোধের একনিষ্ঠ নিয়ত রেখে ঋণ নেয়, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তার পক্ষ থেকে ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর যে আত্মসাৎ বা অপচয় করার নিয়তে ঋণ নেয়, আল্লাহ তাকে সর্বস্বান্ত করে ধ্বংস করে দেন (সহিহ বুখারি: ২৩৮৭)।
শহীদের মর্যাদা ও ঋণের দায়
আল্লাহর রাস্তায় জীবন দেওয়া শহীদের সব গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিলেও ঋণের হক ক্ষমা করা হয় না।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন: "ঋণ ছাড়া শহীদের অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"
— সহিহ মুসলিম: ১৮৮৬
কোনো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ইন্তেকাল হলে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তার জানাজার নামাজ নিজে পড়াতে কুণ্ঠাবোধ করতেন, যতক্ষণ না কোনো সাহাবি সেই ঋণের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিতেন। বান্দার হক যে কত বড় ভয়ংকর বিষয়, এটি তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
ঈমানদীপ্ত ঘটনা: কাঠের গুঁড়িতে ঋণ পরিশোধের তাওয়াক্কুল
বনি ইসরাইলের এক সৎ ব্যক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্তে অন্য এক ব্যক্তির নিকট ১,০০০ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ঋণ চাইল। ঋণদাতা কোনো মানুষ সাক্ষী বা জামিনদার চাইলে ঋণগ্রহীতা বলল, "আল্লাহই সাক্ষী ও জামিনদার হিসেবে যথেষ্ট।" পাওনাদার আল্লাহর নামের ওপর ভরসা করে ঋণ দিল।
ঋণগ্রহীতা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাণিজ্য করল এবং মেয়াদের শেষ দিনে ঋণ পরিশোধের জন্য বন্দরে এলো। কিন্তু সেদিন কোনো জাহাজ পেল না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারার আশঙ্কায় সে ব্যাকুল হয়ে পড়ল।
তখন সে একটি কাঠের গুঁড়ি খোদাই করে তার ভেতর ১,০০০ দিনার ও একটি চিঠি রেখে মুখটি শক্ত করে আটকে দিল। এরপর সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোনাজাত করল:
"হে আল্লাহ! তুমি জানো আমি তোমাকে সাক্ষী ও জিম্মাদার রেখে ঋণ নিয়েছিলাম। আজ কোনো জাহাজ পেলাম না, তাই এই আমানত তোমার কুদরতি জিম্মায় সোপর্দ করলাম।"
এই বলে সে কাঠের গুঁড়িটি সমুদ্রে ভাসিয়ে দিল। মহান আল্লাহর কুদরতে কাঠটি ভাসতে ভাসতে অপর তীরের বন্দরে এসে পৌঁছাল। কাকতালীয়ভাবে সেই দিনই পাওনাদার ব্যক্তি সমুদ্রের তীরে অপেক্ষা করছিল। সে কাঠটি কুড়িয়ে বাড়ি নিয়ে এলো এবং চিড়তেই ভেতর থেকে স্বর্ণমুদ্রা ও চিঠিটি বের হয়ে এলো!
কয়েক দিন পর ঋণগ্রহীতা নিজে উপস্থিত হয়ে আরও এক হাজার দিনার নিয়ে ক্ষমা চাইল। তখন পাওনাদার মুচকি হেসে বলল: "আল্লাহ তাআলা আপনার পাঠানো সেই কাষ্ঠখণ্ডের মাধ্যমেই আপনার ঋণ আমার কাছে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছেন। আপনি আপনার টাকা ফেরত নিয়ে যান, আপনার ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়ে গেছে।" (সহিহ বুখারি: ২২৯১)
৪. 'করজে হাসানা' বন্ধ হওয়া এবং সুদের সর্বগ্রাসী বিস্তার
আজ সমাজে সুদের বিস্তার ঘটার মূল কারণ হলো সুদমুক্ত ঋণ বা ‘করজে হাসানা’ উঠে যাওয়া। বিপদে পড়ে কোনো আত্মীয় বা সম্পদশালী ভাইয়ের কাছে করজ না পেয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে সুদী মহাজন, দাদন ব্যবসায়ী ও সুদী এনজিওদের খপ্পরে পড়ছে।
সুদ: স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা!
ইসলামে বহু কবিরা গুনাহ রয়েছে, কিন্তু সুদের মতো কোনো পাপের বিরুদ্ধেই স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
"যদি তোমরা সুদ বর্জন না করো, তবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের উন্মুক্ত ঘোষণা শুনে নাও।" (সুরা আল-বাকারা: ২৭৯)
সুদের দৃশ্যমান বৃদ্ধি বরকতের বিনাশ ডেকে আনে
সুদ মানুষকে বাহ্যিকভাবে ধনী বানালেও বাস্তবে তা সমাজের শান্তি এবং ব্যক্তিগত বরকত সমূলে ধ্বংস করে দেয়। পক্ষান্তরে দান-সদকা সম্পদকে সুরক্ষিত ও বৃদ্ধি করে।
সুদের সাথে জড়িত ব্যক্তি যে খাদ্য খায় ও পোশাক পরে—তা দিয়ে গঠিত শরীর কখনো আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারে না। হাদিসে এসেছে, হারাম মালের দ্বারা গঠিত গোশত ও রক্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, জাহান্নামের আগুনই তার জন্য উপযুক্ত স্থান (বায়হাকি)।
[support-banner]৫. ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে মুক্তির বাস্তব রূপরেখা
ইসলাম কেবল সমস্যার বয়ান করে না, বরং কার্যকর সমাধানও দান করে। দারিদ্র্য ও সুদের এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি পেতে আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে:
(ক) ব্যক্তি পর্যায়ে ৪টি অপরিহার্য পদক্ষেপ
আবু আকিল (রাঃ)-এর সামান্য দান ও বরকতের অনন্য নজির
তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছিল। মুসলিম কাফেলায় পাথেয় ও অস্ত্রের তীব্র সংকট। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবিদের সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা দেওয়ার আহ্বান জানালেন। বিত্তশালী সাহাবিরা বিপুল স্বর্ণমুদ্রা ও সম্পদ দান করছিলেন।
তখন আবু আকিল (রাঃ) নামের এক দরিদ্র দিনমজুর সাহাবি এগিয়ে এলেন। তিনি সারারাত এক ইহুদির জমিতে পানি সেচের হাড়ভাঙা খাটুনি করে পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র দুই ‘সা’ (পরিমাপের পাত্র) খেজুর।
তিনি নবীজি (সাঃ)-এর দরবারে এসে বিনীতভাবে আরজ করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি সারারাত মেহনত করে দুই সা খেজুর পেয়েছি। তার মধ্য থেকে এক সা পরিবারের জন্য রেখে বাকি এক সা আল্লাহর রাস্তায় নিয়ে এসেছি।"
মুনাফিকরা এই সামান্য দান দেখে উপহাস করেছিল। কিন্তু বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং সেই এক সা খেজুরকে পুরো কাফেলার বিপুল সদকার স্তূপের ওপর ছিটিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন, যাতে আবু আকিল (রাঃ)-এর হালাল ঘামের ইখলাসের বরকতে সবার মালের মধ্যে বরকত সঞ্চারিত হয়! (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
শিক্ষা: হালাল ঘামে উপার্জিত সামান্য দানও আল্লাহর কাছে হারাম কোটি টাকার চেয়ে অসীম মর্যাদাপূর্ণ।
(খ) সমাজ ও মসজিদ পর্যায়ে ৩টি যুগান্তকারী পদক্ষেপ
৬. খুতবার সমাপনী, দেনা-পাওনার চুক্তি ও মাসনুন দোয়া
লেনদেনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য ইসলাম লিখিত চুক্তি রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। পবিত্র কুরআনের দীর্ঘতম আয়াত—সুরা আল-বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নির্দেশ দিয়েছেন: যেকোনো মেয়াদি ঋণ বা আর্থিক লেনদেন যেন সুস্পষ্টভাবে লিখে রাখা হয় এবং বিশ্বস্ত সাক্ষী রাখা হয়, যাতে ভবিষ্যতে বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না হয়।
আসুন, আজ জুমার এই পবিত্র দিনে আমরা প্রত্যেকে খাঁটি দিলে তাওবা করি—জীবদ্দশায় কখনো সুদের সাথে আপস করব না, লোকদেখানো অপচয় করে ঋণ নেব না এবং সর্বদা হালাল উপার্জনে তুষ্ট থাকব।
ঋণ ও দারিদ্র্য মুক্তির জন্য নবীজি (সাঃ)-এর শেখানো অমূল্য দোয়া
হযরত আলী (রাঃ) এক ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে ঋণমুক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর শেখানো এই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করার তালিম দিয়েছিলেন:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা 'আন হারামিক, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা 'আম্মান সিওয়াক।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনার হালাল রিজিকের মাধ্যমে আমাকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং আপনার অসীম অনুগ্রহ দ্বারা আপনি ব্যতীত অন্য সবার অমুখাপেক্ষী করে দিন।"
— জামে আত-তিরমিজি: ৩৫৬৩
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুদের লানত থেকে রক্ষা করুন, হালাল উপার্জনের তৌফিক দিন এবং আমাদের সবাইকে ঋণমুক্ত ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ জীবন নসিব করুন।
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন