المتن الأصلي (মূল কিতাবের ইবারত)
নিচের মূল আরবি ইবারতের প্রতিটি শব্দের ওপর মাউস হোভার করুন (বা মোবাইলে স্পর্শ করুন) সরাসরি শব্দার্থ দেখার জন্য। উপরে থাকা বাটন ব্যবহার করে এক ক্লিকে হরকত চালু/বন্ধ ও ইবারত কপি করতে পারেন:
"এবং হরফে নিদাকে মাহযুফ (উহ্য) করা জায়েয; তবে ইসমে জিন্স (اسم الجنس), ইসমুল ইশারাহ (اسم الإشارة), মুস্তাগাছ (المستغاث) এবং মানদূব (المندوب)-এর সাথে মাহযুফ করা জায়েয নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا﴾ (হে ইউসুফ! এ বিষয় থেকে বিরত থাকো) এবং «أَيُّهَا الرَّجُلُ» (হে এই ব্যক্তি!)। আর ক্বায়দার বিপরীতে শায (شاذ / বিরল ও নিয়মের ব্যত্যয়) হিসেবে এসেছে আরবদের উক্তি: «أَصْبِحْ لَيْلُ» (হে রাত, ভোর হয়ে যাও!), «افْتَدِ مَخْنُوقُ» (হে কণ্ঠনালী অবরুদ্ধ ব্যক্তি, মুক্তিপণ দিয়ে বাঁচো!) এবং «أَطْرِقْ كَرَا» (হে কারাওয়ান পাখি, মাথা নিচু করো!)। এবং কোনো ক্বরীনা (প্রমাণ বা আলামত) বিদ্যমান থাকার কারণে কখনো কখনো স্বয়ং মুনাদাকেও জাওয়াযীভাবে (জায়েয হিসেবে) মাহযুফ করা হয়; যেমন পাঠরীতি অনুযায়ী: «أَلَا يَا اسْجُدُوا» (সাবধান, হে লোকসকল! তোমরা সিজদা করো!)।"
দরসের পটভূমি ও রূপরেখা (تشریح)
আজকের ৬১তম দরসে কিতাবের মুসান্নিফ আল্লামা ইবনু হাজিব (রহ.) মুনাদা অধ্যায়ের সমাপনী অংশে হরফে নিদা এবং খোদ মুনাদা উহ্য বা বিলুপ্ত হওয়া সংক্রান্ত অতি সূক্ষ্ম চারটি বিষয় আলোচনা করেছেন:
- প্রথম বিষয়: হরফে নিদা মাহযূফ করার সাধারণ ক্বায়দা, তার শর্ত ও দৃষ্টান্তসমূহের তারকীবী বিশ্লেষণ।
- দ্বিতীয় বিষয়: হরফে নিদা মাহযূফ না হওয়ার চারটি ব্যতিক্রমী স্থান এবং সেখানে হরফ মাহযূফ হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার ভাষাতাত্ত্বিক কারণ।
- তৃতীয় বিষয়: ইসমে জিন্স থেকে হরফে নিদা মাহযূফ হওয়া সংক্রান্ত তিনটি প্রসিদ্ধ শায (شاذ) ঘটনা, তাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সমাধান।
- চতুর্থ বিষয়: উপযুক্ত ক্বরীনা সাপেক্ষে খোদ ‘মুনাদা’ মাহযূফ হওয়ার নিয়ম ও কুরআনী ক্বিরাআতের চুলচেরা বিশ্লেষণ।
১. প্রথম বিষয়: হরফে নিদা মাহযূফ করার সাধারণ ক্বায়দা
«وَيَجُوزُ حَذْفُ حَرْفِ النِّدَاءِ... نَحْوُ: ﴿يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا﴾، وَ«أَيُّهَا الرَّجُلُ»»
১.১ মূল ক্বায়দা ও ভিত্তি
বাক্যে যদি কোনো স্পষ্ট ক্বরীনা (আলামত) বিদ্যমান থাকে, তবে মুনাদার পূর্ব থেকে হরফে নিদাকে জাওয়াযীভাবে (ইচ্ছে হলে উল্লেখ করা, ইচ্ছে হলে মাহযূফ রাখা) ফেলে দেওয়া সম্পূর্ণরূপে জায়েয ও বিশুদ্ধ।
১.২ ১ম মেছাল: পবিত্র কুরআনের আয়াত ﴿يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا﴾
হরফ মাহযূফ মানার অকাট্য ব্যাকরণিক ক্বরীনা (قرينة حذف):
- মূল বাক্য: এটি মূলত ছিল—«يَا يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا»। এখানে হরফে নিদা «يَا»-কে মাহযূফ করা হয়েছে।
- মুবতাদা-খবরের অসঙ্গতি: যদি এখানে «يُوسُفُ»-এর পূর্বে হরফে নিদা মাহযূফ না মানা হয়, তবে বাক্যরীতির নিয়মানুযায়ী «يُوسُفُ»-কে মুবতাদা (مبتدأ) বানাতে হবে। আর মুবতাদা সর্বদা স্বীয় পূর্ণতার জন্য একটি ‘খবর’ (خبر) দাবি করে। অথচ এখানে ইউসুফের পর কেবল একটি বাক্যই অবশিষ্ট রয়েছে, তা হলো: «أَعْرِضْ عَنْ هَذَا» (বিরত থাকো!)।
- ইনশা‘ইয়্যাহ কখনো খবর হয় না: «أَعْرِضْ» হলো ফে‘লে আমর, যা একটি ‘জুমলায়ে ইনশা‘ইয়্যাহ’ (جملة إنشائية)। অথচ নাহবের সর্বসম্মত নীতি হলো: মুবতাদার খবর অবশ্যই কোনো ‘জুমলায়ে খাবরিয়্যাহ’ হতে হয়; কোনো ইনশা‘ইয়্যাহ জুমলা কখনো সরাসরি মুবতাদার খবর হতে পারে না।
- বালাগাতগত সমাধান: কালামের এই মারাত্মক ব্যাকরণিক বিপর্যয় রোধ করতে হলে স্বীকার করতেই হবে যে, «يُوسُفُ» মুবতাদা নয়; বরং তা একটি মাহযূফ হরফে নিদার ‘মুনাদা’। ফলে «يَا يُوسُفُ» (মুনাদা) একটি জুমলায়ে ইনশা‘ইয়্যাহ এবং «أَعْرِضْ عَنْ هَذَا» (জওয়াবে নিদা) অপর একটি জুমলায়ে ইনশা‘ইয়্যাহ হয়ে কালামটি বালাগাত ও ব্যাকরণ উভয় দিক থেকেই নিখুঁত রূপ লাভ করে[১]।
১.৩ ২য় মেছাল: «أَيُّهَا الرَّجُلُ»
এটি মূলত ছিল: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ» (হে এই ব্যক্তি!)। এখানেও হরফে নিদা «يَا» মাহযূফ রয়েছে।
ক্বরীনা: আমরা পূর্বের দরসে পড়েছি যে, মু‘আররাফ বিল-লাম কোনো শব্দকে নিদা করার জন্যই কেবল হরফে নিদার পর মাধ্যম হিসেবে «أَيُّهَا» আনা হয়। সুতরাং বাক্যে «أَيُّهَا»-এর উপস্থিতিই অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে তার পূর্বে হরফে নিদা বিদ্যমান ছিল এবং তা সংক্ষেপের স্বার্থে মাহযূফ করা হয়েছে।
২. দ্বিতীয় বিষয়: হরফে নিদা মাহযূফ না হওয়ার ৪টি ব্যতিক্রমী স্থান
«إِلَّا مَعَ اسْمِ الْجِنْسِ، وَالْإِشَارَةِ، وَالْمُسْتَغَاثِ، وَالْمَنْدُوبِ»
মুসান্নিফ স্পষ্ট করেছেন যে, চারটি বিশেষ স্থানে কোনো অবস্থাতেই হরফে নিদাকে মাহযূফ করা জায়েয নেই; সেখানে হরফ উচ্চারণ করা আবশ্যক:
- ১. ইসমে জিন্স (اسم الجنس)-এর ক্ষেত্রে: যেমন: «يَا رَجُلُ» (হে পুরুষ!)। এখানে হরফ ফেলে দিয়ে কেবল «رَجُلُ» বলা নাজায়েয।
- ২. ইসমুল ইশারাহ (اسم الإشارة)-এর ক্ষেত্রে: যেমন: «يَا هَذَا» (হে এই ব্যক্তি!)। এখানেও হরফ ফেলে দিয়ে কেবল «هَذَا» বলা নিষিদ্ধ।
ইসমে জিন্স ও ইসমুল ইশারায় হরফ মাহযূফ না হওয়ার কারণ:
‘আলম’ বা নির্দিষ্ট নামের তুলনায় ইসমে জিন্স এবং ইসমুল ইশারাহ মুনাদা হিসেবে অত্যন্ত কম ব্যবহৃত হয় (قليل الاستعمال)। কম ব্যবহারের স্থানে হরফে নিদা ফেলে দেওয়া হলে চরম বিভ্রান্তি (التباس) সৃষ্টি হবে। শ্রোতা বুঝতে পারবে না যে শব্দটি মুনাদা হিসেবে প্রযুক্ত হয়েছে, নাকি কোনো বাক্যের মুবতাদা বা খবর হিসেবে এসেছে। সুতরাং বিভ্রান্তি দূর করতে হরফে নিদা উচ্চারণ করা অপরিহার্য।
- ৩. মুস্তাগাছ (المستغاث)-এর ক্ষেত্রে: যেমন: «يَا لَزَيْدٍ» (হে যায়েদ, আর্তত্রাণে এসো!) অথবা «يَا زَيْدَاهُ»।
- ৪. মানদূব (المندوب)-এর ক্ষেত্রে: যেমন: «وَا زَيْدَاهُ» (হায় যায়েদ!)।
মুস্তাগাছ ও মানদূবে হরফ মাহযূফ না হওয়ার কারণ:
মুস্তাগাছ এবং মানদূব তৈরিই করা হয়েছে ‘দারাযিয়ে সাওত’ বা আর্তনাদের সুরকে দীর্ঘ করার উদ্দেশ্যে (مد الصوت)। আর এই দীর্ঘ সুর কেবল হরফে নিদা বা হুরূফে নুদবাহর সাহায্যেই টানা সম্ভব। এখন যদি হরফে নিদাই ফেলে দেওয়া হয়, তবে আর্তনাদ দীর্ঘ করার মূল উদ্দেশ্যই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে; ফলে তা আর মুস্তাগাছ বা মানদূব থাকবে না।
৩. তৃতীয় বিষয়: ক্বায়দাবহির্ভূত ৩টি শায (شاذ) ঘটনা ও তাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
«وَشَذَّ: «أَصْبِحْ لَيْلُ»، وَ«افْتَدِ مَخْنُوقُ»، وَ«أَطْرِقْ كَرَا»»
মুসান্নিফ ক্বায়দা বয়ান করলেন যে ইসমে জিন্স থেকে হরফে নিদা মাহযূফ করা নাজায়েয। অথচ প্রাচীন আরবদের কালামে তিনটি প্রসিদ্ধ প্রবাদ পাওয়া যায়, যেখানে ইসমে জিন্স হওয়া সত্ত্বেও হরফে নিদা মাহযূফ করা হয়েছে। মুসান্নিফ নিজেই এর সমাধান দিয়েছেন «وَشَذَّ» (এগুলো শায বা বিরল ব্যতিক্রম) বলে। সাহিত্যিক ইতিহাসে এগুলোর চমৎকার প্রেক্ষাপট রয়েছে:
- ১. প্রথম ঘটনা: «أَصْبِحْ لَيْلُ» (আসবিহ লায়লু):
- মূল বাক্য: «اُدْخُلْ فِي الصَّبَاحِ يَا لَيْلُ» (হে দীর্ঘ রাত! তুমি দ্রুত প্রভাতে রূপান্তরিত হও!)। এখানে «لَيْلُ» ইসমে জিন্স হওয়া সত্ত্বেও ‘ইয়া’ মাহযূফ হয়েছে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: জাহেলী যুগের বিখ্যাত কবি ইমরুল ক্বায়েস (امرو القيس) উম্মে জুনদুব নাম্নী এক রমণীর প্রেমে উন্মত্ত ছিলেন। বাসররাতে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যা ইমরুল ক্বায়েসকে মারাত্মক মর্মাহত করে। গভীর বেদনায় সেই রাতটি তার কাছে অনন্তকাল দীর্ঘ মনে হচ্ছিল এবং রাতের এক একটি মুহূর্ত কাটছিল পাহাড়সম ভার নিয়ে। চরম মানসিক যন্ত্রণায় রাতের দীর্ঘতা সহ্য করতে না পেরে কবি রাতকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলেছিলেন: «أَصْبِحْ لَيْلُ» (হে রাত, ভোর হয়ে যা!)।
- ২. দ্বিতীয় ঘটনা: «افْتَدِ مَخْنُوقُ» (ইফ্তাদি মাখনূকু):
- মূল বাক্য: «اِفْتَدِ نَفْسَكَ يَا مَخْنُوقُ» (হে শ্বাসরুদ্ধ ব্যক্তি! মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করো!)। এখানে «مَخْنُوقُ» ইসমে জিন্স হওয়া সত্ত্বেও ‘ইয়া’ মাহযূফ করা হয়েছে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আরবের দুর্ধর্ষ যোদ্ধা সুলাইক ইবনে সুলাকা একদিন অসতর্ক অবস্থায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। হঠাৎ এক শত্রু এসে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার গলায় হাত দিয়ে প্রচণ্ড শক্তিতে শ্বাসরোধ করে ধরে। তার শ্বাস যখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন আক্রমণকারী ব্যঙ্গ করে বলে: «افْتَدِ مَخْنُوقُ» (হে শ্বাসরুদ্ধ কয়েদী, এখনই নিজের মুক্তিপণ দাও এবং প্রাণ বাঁচাও, অন্যথায় তোমার মৃত্যু অনিবার্য!)।
- ৩. তৃতীয় ঘটনা: «أَطْرِقْ كَرَا» (আত্বরিক্ব কারা):
- মূল বাক্য: «اِخْفِضْ عُنُقَكَ يَا كَرَوَانُ» (হে কারাওয়ান পাখি! তোমার মাথা নিচু করে আত্মসমর্পণ করো!)। এখানে ‘কারাওয়ান’ পাখির ‘নূন’ তারখীম করে ফেলা হয়েছে এবং ইসমে জিন্স হওয়া সত্ত্বেও হরফে নিদা মাহযূফ করা হয়েছে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: জাহেলী যুগে আরবরা ‘কারাওয়ান’ নামক চতুর পাখি শিকার করার জন্য এক বিশেষ ছন্দময় শিকারী মন্ত্র পাঠ করত:
«أَطْرِقْ كَرَا أَطْرِقْ كَرَا ... فَإِنَّ النَّعَامَةَ فِي الْقَرَى»
(অর্থ: হে কারাওয়ান পাখি! মাথা নত করো! চেয়ে দেখ, তোমার চেয়ে বড় উটপাখিও শিকারীদের হাতে ধরাশায়ী হয়েছে!)। এই ছন্দময় মন্ত্র শুনে পাখিটি ভীত হয়ে বালিতে নিজের ঘাড় গুঁজে দিত এবং শিকারীরা তাকে সহজে ধরে ফেলত[২]।
ভাষাতাত্ত্বিক গভীর পর্যালোচনা (দ্বিতীয় জওয়াব):
ভাষাবিদগণ বলেন: নাহবের ক্বায়দা রচিত হয়েছে সুস্থ মস্তিষ্কের ফাসীহ আরবদের স্বাভাবিক কালামের ওপর ভিত্তি করে। অথচ উল্লিখিত তিনটি বাক্য নির্গত হয়েছে যথাক্রমে: তীব্র প্রেমে দিশেহারা এক ব্যর্থ প্রেমিকের মুখ থেকে, গলা টিপে ধরা অবস্থায় মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত এক মুহূর্তে এবং শিকারের মোহাবিষ্ট শিকারীর মন্ত্র থেকে! চরম ভয়, তীব্র কাম ও শিকারের উত্তেজনার মতো অস্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় মুখ থেকে হরফে নিদা ছুটে যাওয়া স্বাভাবিক। এমন অস্বাভাবিক মুহূর্তের বিরল উক্তি কখনোই সুস্থ স্বাভাবিক আরবি ব্যাকরণের সার্বিক ক্বায়দাকে আঘাত করতে পারে না।
৪. চতুর্থ বিষয়: খোদ ‘মুনাদা’ মাহযূফ হওয়া
«وَقَدْ يُحْذَفُ الْمُنَادَى لِقِيَامِ قَرِينَةٍ جَوَازاً، مِثْلُ: «أَلَا يَا اسْجُدُوا»»
৪.১ মূল ক্বায়দা
যেমন হরফে নিদা মাহযূফ করা জায়েয, তেমনি বাক্যে উপযুক্ত ক্বরীনা থাকলে কখনো কখনো হরফে নিদাকে বহাল রেখে স্বয়ং ‘মুনাদা’-কেই মাহযূফ করে দেওয়া জাওয়াযীভাবে সম্পূর্ণ জায়েয।
৪.২ কুরআনী ক্বিরাআতের দলীল: «أَلَا يَا اسْجُدُوا»
ইমাম কিসাঈ (রহ.) ও অন্যান্য ক্বারীগণের ক্বিরাআত অনুযায়ী সূরা আন-নামলের ২৫ নম্বর আয়াতের তিলাওয়াত হলো: «أَلَا يَا اسْجُدُوا» (সাবধান, তোমরা সিজদা করো!)।
- তারকীবী জটিলতা: এখানে বাহ্যত দেখা যাচ্ছে হরফে নিদা «يَا» সরাসরি «اسْجُدُوا» (ফে‘লে আমর)-এর ওপর প্রবেশ করেছে। অথচ নাহবের অকাট্য ক্বায়দা হলো: হরফে নিদা কখনো কোনো ফে‘লের ওপর প্রবেশ করতে পারে না; হরফে নিদা কেবল ইসমের ওপরই প্রবেশ করে।
- ক্বরীনা ও সমাধান: ফে‘লের শুরুতে হরফে নিদার আগমনই হলো অকাট্য ক্বরীনা যে, এখানে মাঝখান থেকে খোদ মুনাদা ইসমটি মাহযূফ রয়েছে! অতএব মূল বাক্য হলো: «أَلَا يَا قَوْمُ اسْجُدُوا» (সাবধান, হে কওম! তোমরা সকলে সিজদা করো!)। সুতরাং এখানে «قَوْمُ» মুনাদাটিকে জাওয়াযীভাবে মাহযূফ করা হয়েছে এবং তার প্রমাণের জন্য হরফে নিদা «يَا» বহাল রয়েছে[৩]।
خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক নির্যাস)
- ১. হরফে নিদা মাহযূফ হওয়া জায়েয: উপযুক্ত ক্বরীনা থাকলে হরফে নিদা মাহযূফ করা জায়েয; যেমন: ﴿يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا﴾ (মূলত: ‘يَا يُوسُفُ’)।
- ২. ৪টি স্থানে হরফে নিদা মাহযূফ নিষিদ্ধ:
- ইসমে জিন্স (যেমন: «يَا رَجُلُ») ও ইসমুল ইশারাহ (যেমন: «يَا هَذَا») — বিভ্রান্তি দূর করার জন্য।
- মুস্তাগাছ (যেমন: «يَا لَزَيْدٍ») ও মানদূব (যেমন: «وَا زَيْدَاهُ») — আর্তনাদের সুর দীর্ঘ করার স্বার্থে।
- ৩. ক্বায়দাবহির্ভূত ৩টি শায মেছাল:
- «أَصْبِحْ لَيْلُ» — কবি ইমরুল ক্বায়েসের বিরহী রাতের দীর্ঘতার আহাজারি।
- «افْتَدِ مَخْنُوقُ» — সুলাইকের গলা টিপে ধরা আক্রমণকারীর ব্যঙ্গোক্তি।
- «أَطْرِقْ كَرَا» — কারাওয়ান পাখি শিকারের প্রাচীন মোহাবিষ্ট মন্ত্র।
- ৪. খোদ মুনাদা মাহযূফ হওয়া: উপযুক্ত ক্বরীনা সাপেক্ষে খোদ মুনাদাকেও মাহযূফ করা জায়েয; যেমন: «أَلَا يَا اسْجُدُوا» (মূলত: «أَلَا يَا قَوْمُ اسْجُدُوا»)।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন