হাশিয়া ও কিতাবাত টীকা
সাপোর্ট করুন
হোম কওমী মাদ্রাসা দরসে কাফিয়া (৫৯) : لغة من ينتظر ও لغة من لا ينتظر-এর তাহকীক্ব এবং «يَا ثَمِي» ও «يَا كَرَا»-এর তালীল

দরসে কাফিয়া (৫৯) : لغة من ينتظر ও لغة من لا ينتظر-এর তাহকীক্ব এবং «يَا ثَمِي» ও «يَا كَرَا»-এর তালীল

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
[toc]

المتن الأصلي (মূল কিতাবের ইবারত)

নিচের মূল আরবি ইবারতের প্রতিটি শব্দের ওপর মাউস হোভার করুন (বা মোবাইলে স্পর্শ করুন) সরাসরি শব্দার্থ দেখার জন্য। উপরে থাকা বাটন ব্যবহার করে এক ক্লিকে হরকত চালু/বন্ধ ও ইবারত কপি করতে পারেন:

فَإِنْ كَانَ فِي آخِرِهِ زِيَادَتَانِ فِي حُكْمِ الْوَاحِدَةِ، كَأَسْمَاءَ وَمَرْوَانَ، أَوْ حَرْفٌ صَحِيحٌ قَبْلَهُ مَدَّةٌ وَهُوَ أَكْثَرُ مِنْ أَرْبَعَةِ أَحْرُفٍ حُذِفَتَا، وَإِنْ كَانَ مُرَكَّباً حُذِفَ الِاسْمُ الْأَخِيرُ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ فَحَرْفٌ وَاحِدٌ، وَهُوَ فِي حُكْمِ الثَّابِتِ عَلَى الْأَكْثَرِ، فَيُقَالُ: «يَا حَارِ»، وَ«يَا ثَمُو»، وَ«يَا كَرَوَ»، وَقَدْ يُجْعَلُ اسْماً بِرَأْسِهِ، فَيُقَالُ: «يَا حَارُ»، وَ«يَا ثَمِي»، وَ«يَا كَرَا».
ইবারতের সরল অনুবাদ:

"অতঃপর যদি মুনাদার শেষাংশে এমন দুটি অতিরিক্ত বর্ণ (زِيَادَتَانِ) থাকে যা এক বর্ণের হুকুমে গণ্য; যেমন: «أَسْمَاءُ» (আসমা) এবং «مَرْوَانُ» (মারওয়ান); অথবা শেষাক্ষরটি হরফে সহীহ (حرف صحيح) হয় যার পূর্বে হরফে মাদ্দ (مَدَّة) রয়েছে এবং শব্দটি চার অক্ষরের অধিক বিশিষ্ট হয়—তবে (তারখীমের সময়) উভয় বর্ণকেই মাহযুফ (محذوف / বিলুপ্ত) করা হবে। আর মুনাদাটি যদি কোনো মুরাক্কাব (مركب / যৌগিক শব্দ) হয়, তবে তার শেষ ইসমটিকে সম্পূর্ণ মাহযুফ করা হবে। আর মুনাদা যদি এগুলোর বিপরীত অন্য কিছু হয়, তবে কেবল একটি বর্ণ মাহযুফ করা হবে। আর অধিকাংশ নাহবী উলামাগণের (جُمْهُور) মতে উক্ত মাহযুফকৃত অংশটি ‘বিদ্যমান থাকার হুকুমে’ (فِي حُكْمِ الثَّابِتِ) বহাল থাকে; সুতরাং বলা হবে: «يَا حَارِ» (হারিস থেকে: ইয়া হারি!), «يَا ثَمُو» (সামূদ থেকে: ইয়া ছামূ!) এবং «يَا كَرَوَ» (কারাওয়ান থেকে: ইয়া কারাওয়া!)। আর কখনো কখনো অবশিষ্ট অংশকে একটি ‘স্বতন্ত্র ও নতুন ইসম’ (اسْماً بِرَأْسِهِ) বানিয়ে দেওয়া হয়; ফলে বলা হবে: «يَا حَارُ» (ইয়া হারু!), «يَا ثَمِي» (ইয়া ছামী!) এবং «يَا كَرَا» (ইয়া কারা!)।"


দরসের পটভূমি ও রূপরেখা (تشریح)

আজকের ৫৯তম দরসে কিতাবের মুসান্নিফ আল্লামা ইবনু হাজিব (রহ.) মুনাদায়ে মুরখখামের হরফ বিলুপ্তির ধরন এবং তারখীমের পর অবশিষ্ট অংশের ই‘রাব নিয়ে দুটি মৌলিক বিষয় বিশদভাবে আলোচনা করেছেন:

  • প্রথম বিষয়: মুনাদায়ে মুরখখামে হরফ মাহযূফ করার পাঁচটি বিভিন্ন সূরত (দুটি হরফ মাহযূফ হওয়া, পূর্ণাঙ্গ কালিমা মাহযূফ হওয়া এবং একটি হরফ মাহযূফ হওয়া)।
  • দ্বিতীয় বিষয়: তারখীমের পর অবশিষ্ট অক্ষরের ই‘রাব নির্ধারণে দুটি প্রধান মাযহাব (لُغَةُ مَنْ يَنْتَظِرُلُغَةُ مَنْ لَا يَنْتَظِرُ) এবং তাদের গভীর সারফী ক্বায়দা সমূহ ও রূপান্তর (تعليلات)।

১. প্রথম বিষয়: মুনাদায় তারখীমের সূরতসমূহ (৫টি সূরত)

«فَإِنْ كَانَ فِي آخِرِهِ زِيَادَتَانِ... فَحَرْفٌ وَاحِدٌ»

মুনাদার শেষাংশে তারখীম করার সময় কখনো একটি হরফ মাহযূফ হয়, কখনো দুটি হরফ মাহযূফ হয়, আবার কখনো পূর্ণ একটি কালিমা মাহযূফ হয়ে যায়। মুসান্নিফ এই সামগ্রিক অবস্থাকে পাঁচটি সূরতে বিভক্ত করে আলোচনা করেছেন:

১.১ প্রথম সূরত: এক হরফের হুকুমে দুটি অতিরিক্ত হরফ থাকা

যদি মুনাদার শেষে এমন দুটি অতিরিক্ত হরফ যুক্ত থাকে যা ব্যাকরণিক বিবেচনায় একটি অবিচ্ছেদ্য হরফের সমতুল্য (في حكم الواحدة), তবে তারখীম করার সময় উভয় হরফকেই একত্রে মাহযূফ করা ওয়াজিব। কারণ এই দুই হরফ সর্বদা একসাথে যুক্ত হয় এবং একসাথে বিলুপ্ত হয়; একটিকে রেখে অন্যটিকে বাদ দেওয়া অসম্ভব।

  • আলিফ ও নূন যায়েদাতান (الف ونون زائدتان): যেমন «مَرْوَانُ» (মারওয়ান)। তারখীম করে আলিফ ও নূন উভয়টি ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا مَرْوُ» অথবা «يَا مَرْوَ» (হে মারওয়ান!)। অনূরূপভাবে «عُثْمَان» (উসমান) থেকে «يَا عُثْمُ»
  • আলিফে মামদূদাহ (الف ممدودة - আলিফ ও অতিরিক্ত হামযাহ): যেমন «أَسْمَاءُ» (আসমা)। তারখীমের সময় আলিফ ও হামযাহ উভয়টি ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا أَسْمُ» অথবা «يَا أَسْمَ» (হে আসমা!)।
  • হাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ফায়দাসমূহ:
    • ইয়ায়ে নিসবতী (ياء مشددة): যেমন «بَصْرِيٌّ» (বসরাবাসী)। তারখীম করে উভয় ইয়া ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا بَصْرُ» বা «يَا بَصْرِ»
    • তাসনিয়ার আলিফ-নূন: «يَا زَيْدَانِ» থেকে «يَا زَيْدُ»
    • জমার ওয়াও-নূন: «يَا زَيْدُونَ» থেকে «يَا زَيْدُ»
    • জমার আলিফ-তা: «يَا هِنْدَاتُ» থেকে «يَا هِنْدُ»[১]

১.২ দ্বিতীয় সূরত: চার অক্ষরের অধিক বিশিষ্ট ইসমের শেষে সহীহ হরফ ও পূর্বে মাদ্দাহ থাকা

মুনাদাটি যদি চার অক্ষরের অধিক অর্থাৎ কমপক্ষে পাঁচ অক্ষরের হয়, এবং তার শেষাক্ষরটি হরফে সহীহ (حرف صحيح) হয় এবং সেই শেষাক্ষরের ঠিক পূর্বের অক্ষরটি হরফে মাদ্দ (حرف مد) হয়—তবে তারখীমের সময় সেই শেষাক্ষর এবং তার পূর্বের হরফে মাদ্দ উভয়টিকেই একত্রে মাহযূফ করতে হবে:

  • ওয়াও মাদ্দাহর দৃষ্টান্ত: «مَنْصُورٌ» (মানসূর - পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট; শেষাক্ষর ‘রা’ সহীহ এবং পূর্বে ওয়াও মাদ্দাহ)। তারখীম করে ‘ওয়াও ও রা’ উভয়টি ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا مَنْصُ» (হে মানসূর!)।
  • আলিফ মাদ্দাহর দৃষ্টান্ত: «عَمَّارٌ» (আম্মার - তাশদীদের কারণে পাঁচ অক্ষরের সমতুল্য; শেষাক্ষর ‘রা’ সহীহ এবং পূর্বে আলিফ মাদ্দাহ)। তারখীম করে আলিফ ও রা ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا عَمُّ» বা «يَا عَمَّ» (হে আম্মার!)।
  • ইয়া মাদ্দাহর দৃষ্টান্ত: «إِدْرِيسُ» (ইদরীস - পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট; শেষাক্ষর ‘সীন’ সহীহ এবং পূর্বে ইয়া মাদ্দাহ)। তারখীম করে ইয়া ও সীন ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا إِدْرِ» বা «يَا إِدْرُ» (হে ইদরীস!)।

১.৩ তৃতীয় ও চতুর্থ সূরত: মুরাক্কাব ইসমের ক্ষেত্রে তারখীম

মুনাদা যদি যৌগিক শব্দ বা মুরাক্কাব (مركب) হয়—চাই তা ‘মুরাক্কেবে মান‘এ সারফ’ হোক কিংবা ‘মুরাক্কেবে বিনায়ী’ হোক—তবে তারখীমের সময় কোনো একটি বা দুটি হরফ নয়; বরং পুরো দ্বিতীয় ইসমটিকে (الاسم الأخير) সমূলে মাহযূফ করে দেওয়া ওয়াজিব:

  • মুরাক্কেবে মান‘এ সারফ: «بَعْلَبَكُّ» (বা‘লাবাক্কা)। তারখীম করে পুরো দ্বিতীয় অংশ «بَكّ» ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا بَعْلُ» (হে বা‘লাবাক্কা!)। অনুরূপভাবে «حَضْرَمَوْتُ» (হাদরামাউত) থেকে «مَوْت» ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا حَضْرُ»
  • মুরাক্কেবে বিনায়ী: «خَمْسَةَ عَشَرَ» (পনেরো সংখ্যাটি কারো নাম রাখা হলে)। তারখীম করে পুরো দ্বিতীয় অংশ «عَشَرَ» ফেলে দিয়ে বলা হবে: «يَا خَمْسَةُ»
  • হিকমত: মুরাক্কাবের দ্বিতীয় অংশটি মূলত শব্দের শেষে যুক্ত হওয়া ‘তা-এ তানীস’-এর মতো কাজ করে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে দুটি শব্দ মিলে একটি অখণ্ড রূপ ধারণ করায় পুরো দ্বিতীয় অংশকে একটি অংশের স্থলাভিষিক্ত ধরে বিলুপ্ত করা হয়।

১.৪ পঞ্চম সূরত: সাধারণ ক্ষেত্রে কেবল একটি হরফ মাহযূফ হওয়া

মুনাদাটি যদি উপরিউক্ত চার সুরতের কোনোটির অন্তর্ভুক্ত না হয় (অর্থাৎ শেষে অতিরিক্ত জোড়া হরফ না থাকে, মাদ্দযুক্ত পাঁচ অক্ষরের শব্দ না হয় এবং মুরাক্কাবও না হয়); তবে তারখীমের সময় কেবল শেষ একটিমাত্র হরফ মাহযূফ করা হবে:

  • «حَارِثٌ» (হারিস) থেকে শেষাক্ষর ‘সা’ ফেলে দিয়ে: «يَا حَارِ» (হে হারিস!)।
  • «شُعَيْبٌ» (শুআইব) থেকে শেষাক্ষর ‘বা’ ফেলে দিয়ে: «يَا شُعَيْ» (হে শুআইব!)।
  • «ثَمُودُ» (সামূদ) থেকে শেষাক্ষর ‘দাল’ ফেলে দিয়ে: «يَا ثَمُو» (হে সামূদ!)।
  • «كَرَوَانٌ» (কারাওয়ান - একটি পাখি) থেকে ‘নূন’ ফেলে দিয়ে: «يَا كَرَوَ» (হে কারাওয়ান!)।

২. দ্বিতীয় বিষয়: মুনাদায়ে মুরখখামের ই‘রাব ও দুটি মাযহাব

«وَهُوَ فِي حُكْمِ الثَّابِتِ عَلَى الْأَكْثَرِ... وَقَدْ يُجْعَلُ اسْماً بِرَأْسِهِ...»

তারখীম সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট অংশের শেষাক্ষরটিতে কী হরকত হবে? এ ব্যাপারে আরবদের মাঝে দুটি বিশুদ্ধ ভাষাতাত্ত্বিক মাযহাব বা লুগাত প্রচলিত রয়েছে:

২.১ ১ম মাযহাব: জুমহূর নাহববিদগণের মাযহাব (لُغَةُ مَنْ يَنْتَظِرُ)

নীতি: মাহযূফ হরফ বিদ্যমান থাকার হুকুমে থাকা (من ينتظر)

জুমহূর উলামা ও আরবদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নিকট মাহযূফকৃত হরফটিকে ‘এখনো বাক্যে বিদ্যমান থাকার হুকুমে’ (فِي حُكْمِ الثَّابِتِ) গণ্য করা হয়। অর্থাৎ বক্তা যেন মনে মনে মাহযূফকৃত হরফের প্রতীক্ষা করছে।
ই‘রাবী হুকুম: তারখীমের পূর্বে যে অক্ষরের ওপর যে হরকত বা সাকিন ছিল, তারখীমের পরেও সেই হরকত হুবহু অপরিবর্তিত বহাল থাকবে; নতুন কোনো ই‘রাব বা যম্মা আসবে না[২]

  • «حَارِثٌ»-এ ‘রা’ অক্ষরে কাসরা ছিল। তারখীমের পরও কাসরা বহাল রেখে বলা হবে: «يَا حَارِ» (ইয়া হারি!)।
  • «ثَمُودُ»-এ ‘ওয়াও’ সাকিন ছিল। তারখীমের পরও ওয়াও সাকিন রেখে বলা হবে: «يَا ثَمُو» (ইয়া ছামূ!)।
  • «كَرَوَانٌ»-এ ‘ওয়াও’ ফাতহাযুক্ত ছিল। তারখীমের পরও ফাতহা বহাল রেখে বলা হবে: «يَا كَرَوَ» (ইয়া কারাওয়া!)।

২.২ ২য় মাযহাব: বা‘য নাহববিদগণের মাযহাব (لُغَةُ مَنْ لَا يَنْتَظِرُ)

নীতি: স্বতন্ত্র ও নতুন ইসম বানিয়ে নেওয়া (من لا ينتظر)

কোনো কোনো আরব গোত্র ও নাহবীদের মতে মাহযূফ হরফটিকে চিরতরে বিলুপ্ত গণ্য করা হয়; অর্থাৎ তার আর কোনো প্রতীক্ষা করা হয় না। বরং অবশিষ্ট অংশকে একটি ‘সম্পূর্ণ নতুন ও স্বাধীন ইসম’ (اسماً برأسه) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ই‘রাবী হুকুম: যেহেতু এটি এখন একটি নতুন ও স্বাধীন ‘মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ’, সেহেতু সাধারণ মুনাদার ক্বায়দা অনুযায়ী এর শেষাক্ষরটিকে নতুন করে যম্মার ওপর মাবনী (مبني على الضم) করা ওয়াজিব হবে।

২.৩ সারফী তাহকীক্ব ও রূপান্তর (تعليلات)

তিনটি মেছালের গভীর সারফী রূপান্তর ও তালীল

১. «يَا حَارُ» (ইয়া হারু):

«حَارِث» থেকে ‘সা’ কাটার পর অবশিষ্ট «حَار»-কে স্বাধীন মুনাদা বানিয়ে শেষাক্ষর ‘রা’-কে যম্মা প্রদান করা হয়েছে; ফলে সহজ রূপ দাঁড়িয়েছে «يَا حَارُ»

২. «يَا ثَمِي» (ইয়া ছামী)-এর সারফী তালীল:

  • ধাপ ১: মূল শব্দ ছিল «ثَمُودُ»। ‘দাল’ মাহযূফ করার পর অবশিষ্ট থাকল «ثَمُو»
  • ধাপ ২: নতুন স্বাধীন মুনাদা হিসেবে শেষাক্ষর ওয়াও-এর ওপর যম্মা দেওয়া হলো; ফলে রূপ দাঁড়াল «ثَمُوُ» (সামুউ)।
  • ধাপ ৩ (সারফী ক্বায়দা): যখন ওয়াও কোনো কালিমার শেষ সীমায় পতিত হয় (طرف میں واقع ہو), তখন সেই ওয়াও-কে ‘ইয়া’ (ي) দ্বারা পরিবর্তন করা আবশ্যক। ফলে শব্দটি দাঁড়াল «ثَمُيُ»
  • ধাপ ৪: ইয়া-এর সাথে সংগতি রাখার স্বার্থে তার পূর্বের মীম অক্ষরের যম্মাকে কাসরা (যের) দ্বারা পরিবর্তন করা হলো; ফলে হলো «ثَمِيُ»
  • ধাপ ৫ (চূড়ান্ত তালীল): শব্দের শেষে ইয়া-এর ওপর যম্মা উচ্চারণ করা আরবের জন্য অত্যন্ত ভারী (যেমন বাবে যারাবা থেকে ‘يَرْمِيُ’ বলা ভারী)। তাই ‘ইয়াদ‘ঊ’ ও ‘ইয়ারমী’-এর সাধারণ ক্বায়দা অনুযায়ী ইয়া-এর যম্মাকে বিলুপ্ত করে সাকিন করে দেওয়া হলো।
  • চূড়ান্ত রূপ: «يَا ثَمِي» (ইয়া ছামী!)[৩]

৩. «يَا كَرَا» (ইয়া কারা)-এর সারফী তালীল:

  • ধাপ ১: মূল শব্দ ছিল «كَرَوَانٌ»। ‘নূন’ মাহযূফ করার পর অবশিষ্ট থাকল «كَرَوَ»
  • ধাপ ২: নতুন স্বাধীন মুনাদা হিসেবে শেষাক্ষর ওয়াও-এর ওপর যম্মা দেওয়া হলো; ফলে হলো «كَرَوُ» (কারাউ)।
  • ধাপ ৩ (আইনে ‘ক্বালা’ ও ‘বা‘আ’ - تحريك واو وانفتاح ما قبلها): ওয়াও হরকতযুক্ত এবং তার পূর্ববর্তী অক্ষর ‘রা’ ফাতহাযুক্ত (যবরযুক্ত) হওয়ায় উক্ত ওয়াও-কে সার্বজনীন ক্বায়দা অনুযায়ী ‘আলিফ’ দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব।
  • চূড়ান্ত রূপ: «يَا كَرَا» (ইয়া কারা!)।

خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক নির্যাস)

  • ১. তারখীমের ৫টি সূরত:
    • এক হরফের হুকুমে দুটি অতিরিক্ত হরফ থাকলে উভয়টি মাহযূফ হয়; যেমন: «مَرْوَان» থেকে «يَا مَرْوُ» এবং «أَسْمَاء» থেকে «يَا أَسْمُ»
    • চার অক্ষরের অধিক বিশিষ্ট শব্দের শেষে সহীহ হরফ ও পূর্বে মাদ্দাহ থাকলে উভয়টি মাহযূফ হয়; যেমন: «مَنْصُور» থেকে «يَا مَنْصُ»
    • মুরাক্কাব ইসমের ক্ষেত্রে পুরো দ্বিতীয় ইসম মাহযূফ হয়; যেমন: «بَعْلَبَكّ» থেকে «يَا بَعْلُ» এবং «خَمْسَةَ عَشَرَ» থেকে «يَا خَمْسَةُ»
    • অবশিষ্ট সমস্ত ক্ষেত্রে কেবল একটি হরফ মাহযূফ হয়; যেমন: «حَارِث» থেকে «يَا حَارِ»
  • ২. তারখীমের পর ই‘রাবের ২ মাযহাব:
    • জুমহূরের মাযহাব (লুগাতে মান ইয়ানতাজির): মাহযূফ হরফ বিদ্যমান থাকার হুকুমে থাকে; বিধায় পূর্বের হরকত হুবহু বহাল থাকে (যেমন: «يَا حَارِ», «يَا ثَمُو», «يَا كَرَوَ»)।
    • বা‘যের মাযহাব (লুগাতে মান লা ইয়ানতাজির): অবশিষ্ট অংশকে নতুন স্বাধীন মুনাদা ধরে যম্মার ওপর মাবনী করা হয় (যেমন: «يَا حَارُ»)।
  • ৩. সারফী রূপান্তর: সারফী নিয়মের কারণে «ثَمُو» রূপান্তরিত হয়ে «يَا ثَمِي» এবং «كَرَوَ» রূপান্তরিত হয়ে «يَا كَرَا» রূপ ধারণ করে।
[support-banner]
সম্পর্কিত ট্যাগসমূহ:
লেখাটি ভালো লাগলে আপনার দোয়া বা অনুভূতি জানান
নিচের যেকোনো বোতামে ক্লিক করলে সরাসরি মন্তব্যের ঘরে প্রকাশ করার ব্যবস্থা হবে:
মন্তব্যসমূহ
দোয়াটি সফলভাবে কপি হয়েছে! নিচের কমেন্ট বক্সে পেস্ট (Paste) করে মন্তব্যটি সবার সাথে শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন