المتن الأصلي (মূল কিতাবের ইবারত)
নিচের মূল আরবি ইবারতের প্রতিটি শব্দের ওপর মাউস হোভার করুন (বা মোবাইলে স্পর্শ করুন) সরাসরি শব্দার্থ দেখার জন্য। উপরে থাকা বাটন ব্যবহার করে এক ক্লিকে হরকত চালু/বন্ধ ও ইবারত কপি করতে পারেন:
"এবং «يَا تَيْمُ تَيْمَ عَدِيٍّ» (হে তায়ম—তায়ম ইবনে আদী গোত্র!)-এর মতো দৃষ্টান্তসমূহে আপনার জন্য (প্রথম শব্দটিতে) যম্মা (পেশ) এবং নসব (যবর) উভয়টি পড়া পুরোপুরি জায়েয। আর ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম (ياء المتكلم)-এর দিকে মুযাফ হওয়া ইসমের ক্ষেত্রে পাঁচটি সুরত জায়েয রয়েছে: «يَا غُلَامِي» (সাকিন ইয়া সহকারে), «يَا غُلَامِيَ» (ফাতহাযুক্ত ইয়া সহকারে), «يَا غُلَامِ» (ইয়া মাহযুফ করে কাসরা সহকারে), «يَا غُلَامَا» (ইয়া-কে আলিফে রূপান্তর করে) এবং ওয়াক্বফের অবস্থায় হা-সহকারে («وَبِالْهَاءِ وَقْفاً» যেমন: «يَا غُلَامَاهْ»)। এবং আরবগণ বলেছেন: «يَا أَبِي» (হে আমার পিতা!) ও «يَا أُمِّي» (হে আমার মাতা!) এবং তা-এর ফাতহা ও কাসরা উভয় হরকত সহকারে «يَا أَبَتِ / يَا أَبَتَ» ও «يَا أُمَّتِ / يَا أُمَّتَ», এবং শেষে আলিফ সহকারে ইয়া ব্যতীত («وَبِالْأَلِفِ دُونَ الْيَاءِ» যেমন: «يَا أَبَتَا» ও «يَا أُمَّتَا»)। এবং বিশেষভাবে «يَا ابْنَ أُمَّ» (হে আমার সহোদর ভাই!) এবং «يَا ابْنَ عَمَّ» (হে আমার চাচাত ভাই!)-এর হুকুম হলো «يَا غُلَامِي»-এর পরিচ্ছেদের অনুরূপ; এবং আরবগণ (কাসরা সহকারে) «يَا ابْنَ أُمِّ» ও «يَا ابْنَ عَمِّ»-ও বলেছেন।"
দরসের পটভূমি ও রূপরেখা (تشریح)
আজকের ৫৭তম দরসে কিতাবের মুসান্নিফ আল্লামা ইবনু হাজিব (রহ.) মুনাদার অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সমৃদ্ধ ছয়টি ভাষাতাত্ত্বিক বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন:
- ১ম বিষয়: মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ যখন মুকাররার (পুনরাবৃত্ত) হয়, তখন তার ই‘রাবের দ্বিমুখী রূপ।
- ২য় বিষয়: উক্ত পুনরাবৃত্ত সূরতে প্রথম শব্দের নসব হওয়া নিয়ে ইমাম সীবাওয়াইহ ও ইমাম মুবাররাদের ঐতিহাসিক বিতর্ক।
- ৩য় বিষয়: ইবারতে উল্লেখিত মেছালের শাহিদ শের ও তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পূর্ণ বিবরণ।
- ৪র্থ বিষয়: মুনাদা যখন ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের দিকে মুযাফ হয়, তখন তার পাঁচটি বিশুদ্ধ পাঠপদ্ধতি।
- ৫ম বিষয়: ‘আবুন’ ও ‘উম্মুন’ শব্দদ্বয় ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের দিকে মুযাফ হলে তার বিশেষ ছয়টি রূপ।
- ৬ষ্ঠ বিষয়: ‘ইবনু উম্মিন’ ও ‘ইবনু ‘আম্মিন’-এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও তার ই‘রাবী তাহকীক্ব।
১. প্রথম বিষয়: মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ পুনরাবৃত্ত (مكرر) হওয়ার ই‘রাব
«وَلَكَ فِي مِثْلِ: يَا تَيْمُ تَيْمَ عَدِيٍّ الضَّمُّ وَالنَّصْبُ»
১.১ সূরতে মাসআলা
যদি কোনো বাক্যে কোনো মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ পরপর দুবার পুনরাবৃত্ত (تكرار) হয়ে আসে এবং দ্বিতীয় শব্দটির পর একটি মুযাফ ইলাইহি উল্লেখিত থাকে; যেমন: «يَا تَيْمُ تَيْمَ عَدِيٍّ»। এখানে প্রথম ‘তায়ম’ হলো মূল মুনাদা, দ্বিতীয় ‘তায়ম’ তার তাবি‘ (তাকীদ বা সিফাত) এবং ‘আদী’ হলো মুযাফ ইলাইহি।
১.২ প্রথম শব্দের ই‘রাব (যম্মা ও নসব উভয়ের বৈধতা)
মুসান্নিফ বলেন: এমন স্থানে প্রথম শব্দটিতে দুটি রূপ পড়া সম্পূর্ণ জায়েয:
- (১) যম্মা দিয়ে পড়া (الضمّ / মাবনী আলায যম্মা): «يَا تَيْمُ» (ইয়া তায়মু)।
কারণ: এই বিবেচনায় যে, শব্দটি একটি স্বাধীন মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ। সুতরাং সাধারণ ক্বায়দা অনুযায়ী তা যম্মার ওপর মাবনী হয়ে মারফূ‘ হবে। - (২) নসব দিয়ে পড়া (النصب / যবর): «يَا تَيْمَ» (ইয়া তায়মা)।
কারণ: এই বিবেচনায় যে, প্রথম শব্দটি মূলত পরবর্তী ‘আদী’ শব্দের দিকে সরাসরি মুযাফ হয়েছে। আর মুনাদা মুযাফ সর্বদা মানসূব হয়[১]।
১.৩ দ্বিতীয় শব্দের ই‘রাব
দ্বিতীয় শব্দ «تَيْمَ» সর্বাবস্থায় মানসূব (منصوب): প্রথম শব্দকে মারফূ‘ ধরা হলে দ্বিতীয় শব্দটি তার আসল মহলের (নসব) ওপর তাকীদ হয়ে মানসূব হবে; আর প্রথম শব্দকে মানসূব ধরা হলেও দ্বিতীয়টি মানসূবের তাবি‘ বা স্বতন্ত্র মুযাফ হয়ে মানসূব হবে।
২. দ্বিতীয় বিষয়: প্রথম শব্দে নসব পড়ার কারণে ইমামগণের ঐতিহাসিক বিতর্ক
প্রথম «تَيْمَ»-কে মানসূব পড়ার ক্ষেত্রে নাহব শাস্ত্রের দুই শীর্ষ ইমাম—ইমাম সীবাওয়াইহ এবং ইমাম মুবাররাদ (রহ.)-এর মাঝে চমৎকার তাহকীক্বী মতবিরোধ রয়েছে:
ইমাম সীবাওয়াইহ ও ইমাম মুবাররাদ (রহ.)-এর মাযহাব
১. ইমাম সীবাওয়াইহ (রহ.)-এর মাযহাব:
ইমাম সীবাওয়াইহ বলেন: প্রথম «تَيْمَ» শব্দটি সরাসরি পরবর্তী «عَدِيٍّ» শব্দের দিকে মুযাফ হয়েছে, আর মধ্যবর্তী দ্বিতীয় «تَيْمَ» শব্দটি হলো তার তাকীদ।
- আপত্তি: মুযাফ ও মুযাফ ইলাইহির মাঝে কোনো শব্দ দ্বারা ব্যবধান (فاصلة) সৃষ্টি করা নাহবে নাজায়েয!
- সমাধান: এখানে ব্যবধান কোনো ভিন্ন বা অপরিচিত শব্দ দিয়ে ঘটেনি (فاصل أجنبي নয়); বরং তা ঘটেছে মাতবূ‘র স্বীয় তাবি‘ দ্বারা (فاصل بالتابع لمتبوعه)। আর তাবি‘ ও মাতবূ‘ ব্যাকরণে একই অখণ্ড বস্তুর হুকুমে থাকে (كشيء واحد)। সুতরাং এই ব্যবধান সম্পূর্ণ জায়েয[২]।
২. ইমাম মুবাররাদ (রহ.)-এর মাযহাব:
ইমাম মুবাররাদ বলেন: প্রথম «تَيْمَ» শব্দটি একটি মাহযূফ «عَدِيٍّ»-এর দিকে মুযাফ হয়েছে, যা পরবর্তী শব্দ দেখে বোঝা যায়। আর দ্বিতীয় «تَيْمَ» শব্দটি বাক্যে উল্লেখিত প্রকাশ্য «عَدِيٍّ»-এর দিকে মুযাফ হয়েছে। মূল বাক্য ছিল: «يَا تَيْمَ عَدِيٍّ تَيْمَ عَدِيٍّ»। সুতরাং উভয়েই পৃথকভাবে সরাসরি মুযাফ হওয়ার কারণে মানসূব হয়েছে; ফলে কোনো ব্যবধানের প্রশ্নই আসে না।
৩. তৃতীয় বিষয়: মেছালটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পূর্ণাঙ্গ কবিতা
মুসান্নিফ প্রদত্ত উদাহরণটি উমাইয়া যুগের প্রখ্যাত আরবি কবি জারীর (جرير)-এর একটি বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক কবিতার অংশ:
- শাব্দিক অর্থ: “হে তায়ম—তায়ম ইবনে আদী গোত্র! তোমাদের কোনো পিতা নেই (তীব্র বংশীয় অপবাদ ও ভর্ৎসনা)! সাবধান, উমর যেন তোমাদের এমন কোনো নিকৃষ্ট লজ্জাজনক বিপদে নিক্ষেপ না করে!”
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আরবদের মাঝে ‘তায়ম’ নামে একাধিক বৃহৎ গোত্র ছিল; যেমন: তায়ম ইবনে গালিব, তায়ম ইবনে মুররাহ ও তায়ম ইবনে আবদে মানাফ। এগুলোর মাঝে তুলনামূলক অপ্রসিদ্ধ গোত্র ছিল ‘তায়ম ইবনে আদী’। এই গোত্রের এক নীচু স্তরের কবি ‘উমর আত-তায়মী’ কবি জারীরকে আক্রমণ করে ব্যঙ্গকবিতা রচনার সংকল্প করে। জারীর বিষয়টি জানতে পেরে সেই কবির মুখ বন্ধ করার জন্য তার পুরো গোত্রকে আক্রমণ করে এই কবিতা রচনা করেন, যাতে সে নিজের গোত্রকে লাঞ্ছনার মুখে ঠেলে না দেয়।
৪. চতুর্থ বিষয়: ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের দিকে মুযাফ হওয়া মুনাদার ৫টি রূপ
«وَالْمُضَافُ إِلَى يَاءِ الْمُتَكَلِّمِ يَجُوزُ فِيهِ: يَا غُلَامِي...»
কোনো মুনাদা যখন বিশেষভাবে ‘ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম’ (বক্তার ‘আমার’ অর্থবোধক যমীর ‘ي’)-এর দিকে মুযাফ হয়, তখন তাকে পাঁচটি বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে পড়ার অনুমতি রয়েছে:
- ১. ইয়া-কে সাকিন করে পড়া (ياء ساکن):
«يَا غُلَامِي» (ইয়া গুলামী - হে আমার দাস!)। এটি সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রাঞ্জল রূপ। - ২. ইয়া-কে ফাতহা দিয়ে পড়া (ياء مفتوح):
«يَا غُلَامِيَ» (ইয়া গুলামিয়া - হে আমার দাস!)। - ৩. ইয়া বিলুপ্ত করে কাসরার ওপর নির্ভর করা (حذف ياء مع بقاء الكسرة):
«يَا غُلَامِ» (ইয়া গুলামি)। এখানে ইয়া মাহযূফ করে পূর্বে কাসরা বহাল রাখা হয়েছে। যেমন কুরআনে এসেছে:﴿ يَا عِبَادِ فَاتَّقُونِ ﴾ - ৪. ইয়া-কে আলিফে রূপান্তরিত করা (قلب ياء إلى ألف):
«يَا غُلَامَا» (ইয়া গুলামা)। ইয়ার পূর্বের হরকতকে ফাতহায় রূপান্তর করে ইয়া-কে আলিফ বানানো হয়েছে। যেমন কুরআনে এসেছে:﴿ يَا حَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ ﴾ - ৫. ওয়াক্বফের অবস্থায় শেষে ‘হা’ যুক্ত করা (هاء السكت):
«يَا غُلَامِيَهْ» অথবা «يَا غُلَامَاهْ»। ওয়াক্বফ করার সময় সাকতাহ-এর হা যুক্ত করে পড়া সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ।
৫. পঞ্চম বিষয়: ‘আবুন’ (أَب) ও ‘উম্মুন’ (أُم)-এর ক্ষেত্রে বিশেষ ই‘রাব
«وَقَالُوا: يَا أَبِي وَيَا أُمِّي، وَيَا أَبَتِ وَيَا أُمَّتِ فَتْحاً وَكَسْراً، وَبِالْأَلِفِ دُونَ الْيَاءِ»
৫.১ পিতা ও মাতার ক্ষেত্রে বিশেষ ছয়টি রূপ
‘পিতা’ (أَب) এবং ‘মাতা’ (أُم) শব্দদ্বয় ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের দিকে মুযাফ হলে সর্বমোট ছয়টি রূপে পড়া যায়:
- (১) সাকিন ইয়া সহকারে: «يَا أَبِي» এবং «يَا أُمِّي»।
- (২) মাফতুহ ইয়া সহকারে: «يَا أَبِيَ» এবং «يَا أُمِّيَ»।
- (৩) কাসরা বহাল রেখে ইয়া বিলুপ্ত করে: «يَا أَبِ» এবং «يَا أُمِّ»।
- (৪) ইয়া-কে আলিফ বানিয়ে: «يَا أَبَا» এবং «يَا أُمَّا»।
- (৫) ইয়া-কে ‘তা’ (ت) দ্বারা পরিবর্তন করে কাসরা দেওয়া: «يَا أَبَتِ» এবং «يَا أُمَّتِ»। যেমন কুরআনে এসেছে:﴿ يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ ﴾
- (৬) ইয়া-কে ‘তা’ দ্বারা পরিবর্তন করে ফাতহা দেওয়া: «يَا أَبَتَ» ও «يَا أُمَّتَ»; অথবা আলিফ বাড়িয়ে «يَا أَبَتَا» ও «يَا أُمَّتَا» পড়া।
৫.২ গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা («دُونَ الْيَاءِ»)
তা এবং ইয়া কখনো একত্রে জমা হতে পারে না:
এখানে ‘তা’ যুক্ত করার পর কখনোই শেষে আবার ‘ইয়া’ যুক্ত করে «يَا أَبَتِي» কিংবা «يَا أُمَّتِي» পড়া যাবে না! কারণ ‘তা’ এসেছে মূলত ইয়া-এর ‘ইওয়ায’ (বিকল্প) হিসেবে। আর নাহবের মূলনীতি হলো: «لَا يُجْمَعُ بَيْنَ الْعِوَضِ وَالْمُعَوَّضِ عَنْهُ» (বিকল্প এবং মূল বস্তুকে কখনো একত্র করা যায় না)[৩]।
৬. ষষ্ঠ বিষয়: ‘ইবনু উম্মিন’ ও ‘ইবনু ‘আম্মিন’-এর বিশেষ তাহকীক্ব
«وَ«يَا ابْنَ أُمَّ» وَ«يَا ابْنَ عَمَّ» خَاصَّةً... وَقَالُوا: «يَا ابْنَ أُمِّ» وَ«يَا ابْنَ عَمِّ»»
৬.১ মীম-এর ফাতহাসহ বিশেষ রূপ
যখন «اِبْن» শব্দটি «أُمّ» কিংবা «عَمّ»-এর দিকে মুযাফ হবে এবং এই উম্ম বা ‘আম্ম মূলত ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের দিকে মুযাফ ছিল, তখন তাদের ক্ষেত্রে «يَا غُلَامِي»-এর রূপ ছাড়াও অতিরিক্ত একটি বিশেষ রূপ চালু রয়েছে:
বিশেষ রূপ: ইয়া-কে আলিফ বানানোর পর সেই আলিফটিকেও মাহযূফ করে মীম-এর ফাতহার (যবর) ওপর নির্ভর করা:
- «يَا ابْنَ أُمَّ» (হে আমার সহোদর ভাই!) এবং «يَا ابْنَ عَمَّ» (হে আমার চাচাত ভাই!)। যেমন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে হযরত হারূন (আ.)-এর ভাষায় এসেছে:﴿ قَالَ يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي ﴾
- কাসরা সহকারে রূপ: অনুরূপভাবে আলিফ না এনে মূল মীমের কাসরা বহাল রেখে «يَا ابْنَ أُمِّ» এবং «يَا ابْنَ عَمِّ» পড়াও আরবদের ভাষায় বিশুদ্ধ।
৬.২ «خَاصَّةً» (খাসভাবে)-এর রহস্য
মুসান্নিফ «خَاصَّةً» শব্দ এনে স্পষ্ট করেছেন যে, মীমের ওপর ফাতহা দিয়ে পড়ার এই বিরল নিয়মটি কেবল «أُمّ» (মা) এবং «عَمّ» (চাচা)-এর সাথেই সুনির্দিষ্ট। এই দুটি অতি আপন শব্দ ব্যতীত অন্য কোনো আত্মীয়বাচক শব্দ (যেমন মামার ছেলে: «ابن خال»)-এর ক্ষেত্রে কখনোই মীমে ফাতহা দিয়ে পড়া যাবে না; বরং তা সাধারণ নিয়মের অধীনে থাকবে।
خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক নির্যাস)
- ১. পুনরাবৃত্ত মুনাদা: «يَا تَيْمُ تَيْمَ عَدِيٍّ»-এর ১ম শব্দে যম্মা পড়া জায়েয (মুফরাদ হিসেবে) এবং নসব পড়াও জায়েয (মুযাফ হিসেবে)। তবে ২য় শব্দটি সর্বাবস্থায় মানসূব।
- ২. ইমামগণের বিতর্ক: সীবাওয়াইহর মতে ১ম শব্দটি দূরবর্তী মুযাফ ইলাইহির দিকে মুযাফ এবং মাঝের শব্দ তাবি‘ হিসেবে ব্যবধান সৃষ্টিকারী। মুবাররাদের মতে ১ম শব্দটি একটি মাহযূফ শব্দের দিকে মুযাফ।
- ৩. ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের ৫ রূপ: «غُلَامِي» (সাকিন), «غُلَامِيَ» (মাফতুহ), «غُلَامِ» (কাসরা), «غُلَامَا» (আলিফ) এবং ওয়াক্বফে হা সহ «غُلَامَاهْ»।
- ৪. ‘পিতা’ ও ‘মাতা’-এর রূপ: তা (ت) যুক্ত করে «يَا أَبَتِ / يَا أَبَتَ» ও «يَا أُمَّتِ / يَا أُمَّتَ» পড়া জায়েয; তবে «يَا أَبَتِي» বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- ৫. ‘ইবনু উম্মিন’ ও ‘ইবনু ‘আম্মিন’: মীমের ওপর ফাতহা ও কাসরা উভয়টি পড়া জায়েয, যা কুরআনের আয়াত ﴿يَبْنَؤُمَّ﴾ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন