হাশিয়া ও কিতাবাত টীকা
সাপোর্ট করুন
হোম কওমী মাদ্রাসা দরসে কাফিয়া (৫৬) : মু‘আররাফ বিল-লামকে নিদার পদ্ধতি, ই‘রাব এবং লফযে ‘আল্লাহ’-এর বিশেষ রহস্য

দরসে কাফিয়া (৫৬) : মু‘আররাফ বিল-লামকে নিদার পদ্ধতি, ই‘রাব এবং লফযে ‘আল্লাহ’-এর বিশেষ রহস্য

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
[toc]

المتن الأصلي (মূল কিতাবের ইবারত)

নিচের মূল আরবি ইবারতের প্রতিটি শব্দের ওপর মাউস হোভার করুন (বা মোবাইলে স্পর্শ করুন) সরাসরি শব্দার্থ দেখার জন্য। উপরে থাকা বাটন ব্যবহার করে এক ক্লিকে হরকত চালু/বন্ধ ও ইবারত কপি করতে পারেন:

وَإِذَا نُودِيَ الْمُعَرَّفُ بِاللَّامِ قِيلَ: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ»، وَ«يَا هَذَا الرَّجُلُ»، وَ«يَا أَيُّهَذَا الرَّجُلُ»، وَالْتَزَمُوا رَفْعَ «الرَّجُلِ»؛ لِأَنَّهُ الْمَقْصُودُ بِالنِّدَاءِ، وَتَوَابِعَهُ؛ لِأَنَّهَا تَوَابِعُ مُعْرَبٍ، وَقَالُوا: «يَا اَللهُ» خَاصَّةً.
ইবারতের সরল অনুবাদ:

"এবং যখন কোনো আলিফ-লামযুক্ত ইসম (المعرّف باللام)-কে নিদা করার ইচ্ছা করা হয়, তখন বলা হয়: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ» (হে এই ব্যক্তি!), «يَا هَذَا الرَّجُلُ» (হে এই ব্যক্তি!) এবং «يَا أَيُّهَذَا الرَّجُلُ» (হে এই ব্যক্তি!)। আর আরবগণ «الرَّجُلُ» শব্দটিকে রফ‘ (যম্মা) প্রদান করাকে আবশ্যক ও অপরিহার্য করে নিয়েছেন; কেননা তা-ই হলো নিদার মূল উদ্দিষ্ট (المقصود بالنداء); এবং (অনুরূপভাবে রফ‘ দেওয়া আবশ্যক করেছেন) তার তাওয়ায়ে‘সমূহকে; কেননা সেগুলো হলো মু‘রাব (معرب) শব্দের তাওয়ায়ে‘। এবং আরবগণ একচেটিয়াভাবে কেবল আল্লাহ তা‘আলার ক্ষেত্রে সরাসরি «يَا اَللهُ» (হে আল্লাহ!) বলেছেন।"


দরসের পটভূমি ও রূপরেখা (تشریح)

আজকের ৫৬তম দরসে কিতাবের মুসান্নিফ আল্লামা ইবনু হাজিব (রহ.) মুনাদার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সূক্ষ্ম অধ্যায় আলোচনা করেছেন:

  • প্রথম বিষয়: মু‘আররাফ বিল-লাম ইসমকে সরাসরি নিদা করার ব্যাকরণিক জটিলতা ও তার সমাধানের তিনটি বিশুদ্ধ রূপ।
  • দ্বিতীয় বিষয়: মু‘আররাফ বিল-লাম ইসম এবং তার তাওয়ায়ে‘সমূহের ই‘রাব সংক্রান্ত আপত্তি ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধান।
  • তৃতীয় বিষয়: ইসমে যাতী অর্থাৎ ‘লফযুল্লাহ’ (اَللهُ جل جلاله)-এর ক্ষেত্রে সরাসরি নিদা ব্যবহারের অনন্য বৈশিষ্ট্য, আক্বীদাগত হিকমত এবং সারফী ও ভাষাতাত্ত্বিক রহস্য।

১. প্রথম বিষয়: মু‘আররাফ বিল-লাম ইসমকে নিদা করার পদ্ধতিসমূহ

«وَإِذَا نُودِيَ الْمُعَرَّفُ بِاللَّامِ قِيلَ: يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ...»

১.১ জটিলতার প্রেক্ষাপট ও মূল সমস্যা

আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, কোনো আলিফ-লামযুক্ত ইসমের শুরুতে সরাসরি হরফে নিদা প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এর কারণ: আলিফ-লাম স্বয়ং একটি ‘হরফে তা'রীফ’ (নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক হরফ), আর ‘হরফে নিদা’-ও মূলত একটি হরফে তা'রীফ। আরবি ব্যাকরণের সর্বসম্মত নীতি অনুযায়ী একই শব্দের শুরুতে দুটি ভিন্ন তা'রীফকারী হরফকে একত্র করা সম্পূর্ণ নাজায়েয; যাকে পরিভাষায় বলা হয়: «الْجَمْعُ بَيْنَ حَرْفَيِ التَّعْرِيفِ»
এমতাবস্থায় যদি কোনো আলিফ-লামযুক্ত ব্যক্তিকে ডাকার প্রয়োজন হয়, তবে সরাসরি ডাকা ব্যাকরণবিরোধী, আবার না ডেকেও উপায় নেই। এই সংকট নিরসনে মুসান্নিফ মধ্যবর্তী মাধ্যম ব্যবহারের সমাধান দিয়েছেন[১]

১.২ সমাধানের ৩টি বিশুদ্ধ পদ্ধতি (মেছালসহ)

  • (ক) ১ম রূপ: ইসমে মুবহাম «أَيّ» এবং হরফে তানবীহ «هَا»-এর মাধ্যমে ব্যবধান সৃষ্টি করা:
    প্রয়োগ: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ» (হে এই ব্যক্তি!)।
    তারকীবী বিশ্লেষণ: এখানে «أَيُّ» হলো ইসমে মুবহাম, যা মুনাদা এবং মাওসূফ। «هَا» হলো হরফে তানবীহ। আর মূল আলিফ-লামযুক্ত শব্দ «الرَّجُلُ» হলো তার সিফাত। যেমন আল্লাহ তা‘আলা কুরআন কারীমে ইরশাদ করেছেন:
    ﴿ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ ﴾
  • (খ) ২য় রূপ: ইসমুল ইশারাহ (اسم الإشارة)-এর মাধ্যমে ব্যবধান সৃষ্টি করা:
    প্রয়োগ: পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে «يَا هَذَا الرَّجُلُ» (হে এই পুরুষ!) এবং স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে «يَا هَذِهِ الْمَرْأَةُ» (হে এই নারী!)।
    তারকীবী বিশ্লেষণ: এখানে ইসমুল ইশারাহটি সরাসরি মুনাদা ও মাওসূফ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর পরবর্তী মু‘আররাফ বিল-লাম শব্দটি তার সিফাত বা ‘আতফে বায়ান হয়েছে।
  • (গ) ৩য় রূপ: ইসমে মুবহাম ও ইসমুল ইশারাহ উভয়ের সমন্বয়ে ব্যবধান সৃষ্টি করা:
    প্রয়োগ: পুংলিঙ্গে «يَا أَيُّهَذَا الرَّجُلُ» (হে এই ব্যক্তি!) এবং স্ত্রীলিঙ্গে «يَا أَيُّهَذِهِ الْبِنْتُ» (হে এই কন্যা!)।
    তারকীবী বিশ্লেষণ: এখানে «أَيُّ» এবং «هَذَا» উভয়কে একত্রে মাধ্যম বা মুনাদা বানানো হয়েছে এবং পরবর্তী মু‘আররাফ বিল-লাম শব্দটি তার সিফাত হিসেবে এসেছে।

২. দ্বিতীয় বিষয়: মু‘আররাফ বিল-লাম এবং তার তাওয়ায়ে‘-এর ই‘রাব

«وَالْتَزَمُوا رَفْعَ الرَّجُلِ؛ لِأَنَّهُ الْمَقْصُودُ بِالنِّدَاءِ، وَتَوَابِعَهُ؛ لِأَنَّهَا تَوَابِعُ مُعْرَبٍ»

২.১ «الرَّجُلُ»-কে রফ‘ প্রদান আবশ্যক হওয়ার কারণ

আপত্তি ও সমাধান: «الرَّجُلُ»-এ নসব পড়ার সুযোগ কেন বন্ধ করা হলো?

আপত্তি: পূর্বের দরসে আমরা পড়েছি যে, কোনো মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ-এর সিফাত যদি মুফরাদ হয়, তবে তাকে লফযের বিচারে রফ‘ এবং মহলের বিচারে নসব—উভয়ভাবেই পড়া জায়েয; যেমন: «يَا زَيْدُ الْعَاقِلُ» (মারফূ‘) এবং «يَا زَيْدُ الْعَاقِلَ» (মানসূব)। তাহলে এখানে «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ» বাক্যে «أَيُّ» মুনাদার সিফাত হলো «الرَّجُلُ»; অথচ আরবরা কেন «الرَّجُلُ» শব্দে কেবল রফ‘ পড়াকেই আবশ্যক করে নিলেন (والتزموا رفع الرجل)? এখানে নসব পড়ার সুযোগ বন্ধ করা হলো কেন?

সমাধান: মুসান্নিফ নিজেই এর উত্তর দিয়েছেন: «لِأَنَّهُ الْمَقْصُودُ بِالنِّدَاءِ» (কেননা সে-ই হলো নিদার আসল উদ্দিষ্ট)।
বিশ্লেষণ: «يَا زَيْدُ الْعَاقِلُ» বাক্যে ডাকার মূল উদ্দেশ্য স্বয়ং যায়েদ, আর «العاقل» ছিল তার একটি অতিরিক্ত গুণ মাত্র। কিন্তু «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ» বাক্যে «أَيُّ» কোনো উদ্দিষ্ট সত্তা নয়; বরং সে কেবল একটি কৃত্রিম মাধ্যম। বক্তার আসল উদ্দেশ্য হলো খোদ «الرَّجُلُ»-কে ডাকা। যেহেতু «الرَّجُلُ»-ই নিদার মূল উদ্দেশ্য, তাই সে স্বাধীন মুফরাদ মায়রিফাহ মুনাদার সমতুল্য হয়ে গেছে। আর স্বাধীন মুফরাদ মায়রিফাহ মুনাদা সর্বদা মারফূ‘ (যম্মার ওপর মাবনী) হয়। অতএব, নিদার মূল উদ্দেশ্য হওয়ার কারণেই আরবগণ তাকে সর্বদা মারফূ‘ পড়াকে আবশ্যক করে নিয়েছেন, নসব পড়ার কোনো সুযোগ রাখেননি[২]

২.২ «الرَّجُلُ»-এর তাওয়ায়ে‘সমূহও মারফূ‘ হওয়ার কারণ

ক্বায়দা: «لِأَنَّهَا تَوَابِعُ مُعْرَبٍ» (মু‘রাব শব্দের তাওয়ায়ে‘ হওয়া)

পূর্বে তাওয়ায়ে‘র মধ্যে যে নসব পড়ার অবকাশ দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল ‘মুনাদায়ে মাবনী’-র ক্ষেত্রে (যেমন: ‘যায়েদ’ মাবনী ছিল)। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে «الرَّجُلُ» কোনো মাবনী শব্দ নয়; বরং সে স্বয়ং একটি ‘মু‘রাব মারফূ‘’ (معرب مرفوع) ইসম। আর নাহবের সর্বসম্মত ক্বায়দা হলো: মু‘রাব শব্দের কোনো ‘মহল্লী নসব’ থাকে না; তার কেবল প্রকাশ্য লফযী ই‘রাবই ধর্তব্য হয়। সুতরাং মাতবূ‘ («الرَّجُلُ») যেহেতু মু‘রাব মারফূ‘, তাই তার তাবি‘ও কোনো দ্বিমত ছাড়াই কেবল মারফূ‘ই হবে:

  • মুফরাদ তাবি‘র দৃষ্টান্ত: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ الْكَرِيمُ» (হে মহান ব্যক্তি!)। এখানে «الْكَرِيمُ» সিফাতটি মারফূ‘ হয়েছে।
  • মুযাফ তাবি‘র দৃষ্টান্ত: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ صَاحِبُ الْفَرَسِ» (হে ঘোড়ার মালিক ব্যক্তি!)। এখানে মুযাফ হওয়া সত্ত্বেও «صَاحِبُ» শব্দটি পূর্বের মু‘রাবের অনুসরণে মারফূ‘ হয়েছে।

৩. তৃতীয় বিষয়: লফযে ‘আল্লাহ’ (اَللهُ)-এর নিদার বিশেষ নিয়ম ও রহস্য

«وَقَالُوا: يَا اَللهُ خَاصَّةً»

৩.১ ক্বায়দা ও ব্যতিক্রম (استثناء)

মু‘আররাফ বিল-লাম ইসমের ওপর সরাসরি হরফে নিদা প্রবেশ না করার যে সর্বজনীন ক্বায়দা রয়েছে, তা কেবল সৃষ্টিজগতের সাধারণ নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে মহান স্রষ্টার পবিত্র ইসমে যাত—«اَللهُ» (লফযুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম! আরবগণ কোনো প্রকার মাধ্যম বা ব্যবধান ছাড়াই সরাসরি হরফে নিদা প্রবেশ করিয়ে অত্যন্ত বিশুদ্ধতার সাথে «يَا اَللهُ» (হে আল্লাহ!) উচ্চারণ করেছেন।

৩.২ ১ম কারণ: আক্বীদাগত ও তাওহীদী হিকমত

মহান আল্লাহর শানে মধ্যবর্তী মাধ্যম অনুচিত হওয়ার কারণ:

  • ১. সুস্পষ্ট সত্তা: আল্লাহ তা‘আলার সুমহান সত্তা জগতের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্ট সত্তা। এমন প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট সত্তার ক্ষেত্রে কোনো ‘ইসমে মুবহাম’ (অস্পষ্ট মাধ্যম, যেমন: ‘أَيُّ’) ব্যবহার করা চরম বেয়াদবি ও শানের পরিপন্থী।
  • ২. গণনামুক্ত একক সত্তা: ‘أَيُّ’ মূলত সংখ্যা ও গণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; অথচ আল্লাহ তা‘আলা এক ও অদ্বিতীয়, যাবতীয় গণনা ও অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র।
  • ৩. চিরজাগ্রত সত্তা: ‘هَا’ হলো হরফে তানবীহ (সতর্ককারী হরফ), যা গাফেল বা অসচেতন কাউকে জাগ্রত করতে ব্যবহৃত হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তন্দ্রা, নিদ্রা ও উদাসীনতা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। যেমন কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে:
    ﴿ وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ ﴾
  • ৪. ইন্দ্রিয়াতীত সত্তা: ‘ইসমুল ইশারাহ’ (যেমন: ‘هَذَا’) মূলত চাক্ষুষ বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বস্তুর প্রতি ইশারা করার জন্য নির্ধারিত; অথচ আল্লাহ তা‘আলা স্থান, কাল ও ইন্দ্রিয়ের যাবতীয় সীমাবদ্ধতা থেকে পবিত্র। যেমন তাওহীদী কবি কত চমৎকার বলেছেন:
    تو دل میں تو آتا ہے سمجھ میں نہیں آتا
    بس جان گیا میں تری پہچان یہی ہے
    (ভাবার্থ: তুমি মানুষের অন্তরে অনুভূত হও, কিন্তু বুদ্ধির সীমানায় আবদ্ধ হও না; আমি এতটুকুই উপলব্ধি করেছি যে, তোমার এটাই প্রকৃত পরিচয়!)।

৩.৩ ২য় কারণ: সারফী ও ভাষাতাত্ত্বিক রহস্য

হামযাহ-এর ‘ইওয়ায’ ও ‘লাযেমী’ আলিফ-লাম:

  • মূল রূপ: ‘اَللهُ’ শব্দটির মূল রূপ ছিল ‘إِلٰهٌ’ (ইলাহুন)। এর শুরুতে তা'রীফের ‘اَلْ’ (আলিফ-লাম) প্রবেশ করানো হয় এবং মূল শব্দের মধ্যবর্তী ‘হামযাহ’ (ء)-টিকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়।
  • স্থায়ী বিকল্প (عوض لازمی): সুতরাং এই আলিফ-লামটি মূলত হামযাহর ‘ইওয়ায’ (বিকল্প বা স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে এসেছে। আর যেহেতু মূল হামযাহটি ছিল শব্দের মৌলিক অংশ, তাই তার বিকল্প হিসেবে আসা এই আলিফ-লামটিও লফযুল্লাহর অবিচ্ছেদ্য আবশ্যকীয় (لازمي) অঙ্গ হয়ে গেছে; যা এই পবিত্র নাম থেকে কখনোই পৃথক করা যায় না।
  • নাহভী মূলনীতি: কোনো ইসমের আলিফ-লাম যদি একই সাথে ‘ইওয়াযী’ (বিকল্প) এবং ‘লাযেমী’ (স্থায়ী) হয়, তবে তা সাধারণ আলিফ-লামের হুকুম থেকে বের হয়ে যায় এবং তার ওপর সরাসরি হরফে নিদা প্রবেশ করা সম্পূর্ণ জায়েয হয়ে যায়[৩]

خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক নির্যাস)

  • ১. দুটি তা'রীফ একত্র হওয়া নাজায়েয: الجمع بين حرفي التعريف নিষিদ্ধ হওয়ায় আলিফ-লামযুক্ত শব্দে সরাসরি হরফে নিদা প্রবেশ করতে পারে না।
  • ২. মু‘আররাফ বিল-লামকে নিদার ৩ পদ্ধতি:
    • ‘আইয়্যুহা’ দ্বারা: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ»
    • ইসমুল ইশারাহ দ্বারা: «يَا هَذَا الرَّجُلُ»
    • উভয়কে একত্র করে: «يَا أَيُّهَذَا الرَّجُلُ»
  • ৩. «الرَّجُلُ»-এর ই‘রাব: শব্দটিকে বাধ্যতামূলকভাবে কেবল রফ‘ (যম্মা) দিতে হবে; কারণ এটিই নিদার মূল উদ্দিষ্ট সত্তা (المقصود بالنداء)।
  • ৪. তাওয়ায়ে‘র ই‘রাব: «الرَّجُلُ»-এর যাবতীয় তাওয়ায়ে‘ও সর্বাবস্থায় মারফূ‘ হবে; কারণ তা একটি মু‘রাব মারফূ‘ শব্দের অনুসরণ করছে।
  • ৫. লফযে ‘আল্লাহ’-এর ব্যতিক্রম: মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি «يَا اَللهُ» বলা সম্পূর্ণ জায়েয ও বিশুদ্ধ।
  • ৬. লফযুল্লাহ ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ: মহান আল্লাহর সত্তা যাবতীয় অস্পষ্টতা ও মাধ্যম থেকে পবিত্র এবং এখানকার আলিফ-লামটি হামযাহর স্থায়ী বিকল্প (عوض لازمی)।
[support-banner]
সম্পর্কিত ট্যাগসমূহ:
লেখাটি ভালো লাগলে আপনার দোয়া বা অনুভূতি জানান
নিচের যেকোনো বোতামে ক্লিক করলে সরাসরি মন্তব্যের ঘরে প্রকাশ করার ব্যবস্থা হবে:
মন্তব্যসমূহ
দোয়াটি সফলভাবে কপি হয়েছে! নিচের কমেন্ট বক্সে পেস্ট (Paste) করে মন্তব্যটি সবার সাথে শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন