হাশিয়া ও কিতাবাত টীকা
সাপোর্ট করুন
হোম কওমী মাদ্রাসা দরসে কাফিয়া (৫৩) : মুনাদা (المنادى)-এর পরিচয়, আমেল মাহযূফ হওয়ার হিকমত ও প্রকারভেদের ই‘রাব

দরসে কাফিয়া (৫৩) : মুনাদা (المنادى)-এর পরিচয়, আমেল মাহযূফ হওয়ার হিকমত ও প্রকারভেদের ই‘রাব

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
[toc]

المتن الأصلي (মূল কিতাবের ইবারত)

নিচের মূল আরবি ইবারতের প্রতিটি শব্দের ওপর মাউস হোভার করুন (বা মোবাইলে স্পর্শ করুন) সরাসরি শব্দার্থ দেখার জন্য। উপরে থাকা বাটন ব্যবহার করে এক ক্লিকে হরকত চালু/বন্ধ ও ইবারত কপি করতে পারেন:

وَالثَّانِي: اَلْمُنَادَى، وَهُوَ الْمَطْلُوبُ إِقْبَالُهُ بِحَرْفٍ نَائِبٍ مَنَابَ أَدْعُو لَفْظاً أَوْ تَقْدِيراً، وَيُبْنَى عَلَى مَا يُرْفَعُ بِهِ إِنْ كَانَ مُفْرَداً مَعْرِفَةً، نَحْوُ: يَا زَيْدُ، وَ يَا رَجُلُ، وَ يَا زَيْدَانِ، وَ يَا زَيْدُونَ، وَيُخْفَضُ بِلَامِ الِاسْتِغَاثَةِ، نَحْوُ: يَا لَزَيْدٍ، وَيُفْتَحُ لِإِلْحَاقِ أَلِفِهَا، وَلَا لَامَ فِيهِ، نَحْوُ: يَا زَيْدَاهُ، وَيُنْصَبُ مَا سِوَاهُمَا، نَحْوُ: يَا عَبْدَ اللهِ، وَ يَا طَالِعاً جَبَلاً، وَ يَا رَجُلاً لِغَيْرِ مُعَيَّنٍ.
ইবারতের সরল অনুবাদ:

"আর (আমেল ফে‘ল ওয়াজিবীভাবে মাহযূফ হওয়ার) দ্বিতীয় স্থানটি হলো: ‘মুনাদা’। আর মুনাদা হলো এমন ইসম, যার মনোযোগ আকর্ষণ কামনা করা হয় এমন হরফের মাধ্যমে যা শাব্দিকভাবে (لفظاً) অথবা উহ্যভাবে (تقديراً) «أَدْعُو» ফে‘লের স্থলাভিষিক্ত (نائب مناب) হয়েছে। আর মুনাদা যদি ‘মুফরাদ মায়রিফাহ’ হয়, তবে তা ঐ চিহ্নের ওপর মাবনী (مبني) হবে যার দ্বারা সে সাধারণ অবস্থায় রফ‘ প্রাপ্ত হতো; যেমন: «يَا زَيْدُ», «يَا رَجُلُ», «يَا زَيْدَانِ» এবং «يَا زَيْدُونَ»। এবং মুনাদাকে ‘লামে ইস্তিগাছাহ’ (لام الاستغاثة)-এর দ্বারা জার প্রদান করা হবে; যেমন: «يَا لَزَيْدٍ» (হে যায়েদ! আর্তত্রাণে এগিয়ে এসো)। আর যদি তার শেষে ইস্তিগাছাহ-এর আলিফ যুক্ত হয়, তবে তাকে ফাতহা প্রদান করা হবে এবং সে অবস্থায় তার শুরুতে কোনো লাম থাকবে না; যেমন: «يَا زَيْدَاهُ»। এবং এই উভয় প্রকার ব্যতীত অবশিষ্ট সকল ক্ষেত্রে মুনাদাকে নসব প্রদান করা হবে; যেমন: «يَا عَبْدَ اللهِ» (মুনাদা মুযাফ), «يَا طَالِعاً جَبَلاً» (মুনাদা শিবহে মুযাফ) এবং অনির্ধারিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে «يَا رَجُلاً» (মুনাদা নাকিরাহ গায়রে মু‘আইয়ানাহ)।"


দরসের পটভূমি ও রূপরেখা (تشریح)

আজকের ৫৩তম দরসে মুসান্নিফ আল্লামা ইবনু হাজিব (রহ.) মাফ‘ঊলে বিহীর আমেল ফে‘লকে ক্বিয়াসী ও ওয়াজিবীভাবে মাহযূফ করার প্রথম স্থান (এবং সামগ্রিক বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থান): ‘মুনাদা’ (المنادى)-এর পরিচয় ও তার পূর্ণাঙ্গ ই‘রাব নিয়ে আলোচনা করেছেন:

  • প্রথম বিষয়: মাফ‘ঊলে বিহী-এর ফে‘ল মাহযূফ হওয়ার দ্বিতীয় স্থানের প্রেক্ষাপট এবং আমেল মাহযূফ করার বালাগাতী হিকমত।
  • দ্বিতীয় বিষয়: মুনাদা (المنادى)-এর শাব্দিক তাহকীক্ব, পারিভাষিক তা'রীফ, ফায়ায়েদে কুয়ুদ এবং তাওয়াজ্জুহ (توجه)-এর প্রকারভেদ।
  • তৃতীয় বিষয়: মুনাদার বিভিন্ন প্রকার ও তাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ই‘রাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ, আপত্তি ও সমাধান।

১. প্রথম বিষয়: ফে‘ল মাহযূফ হওয়ার দ্বিতীয় স্থানের ব্যাখ্যা

«وَالثَّانِي: اَلْمُنَادَى»

১.১ প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মূলনীতি

পূর্বের দরসে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, মাফ‘ঊলে বিহীর আমেল ফে‘লকে সর্বমোট চারটি স্থানে ওয়াজিবীভাবে মাহযূফ করতে হয়। তন্মধ্যে প্রথম স্থানটি ছিল সামাঈ (عربوں سے سماعی), যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর বর্তমান দরস থেকে ক্বিয়াসী স্থানসমূহের আলোচনা শুরু হচ্ছে। ক্বিয়াসী তিন প্রকারের প্রথম প্রকার (এবং সামগ্রিক বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থান) হলো: ‘মুনাদা’ (المنادى)

১.২ ফে‘ল মাহযূফ হওয়ার নিয়ম ও বালাগাতী হিকমত

কেন হরফে নিদাকে আমেল ফে‘লের স্থলাভিষিক্ত করা হলো?

  • মূল বাক্য (তাক্বদীর): যখন মাফ‘ঊলে বিহী মুনাদা হিসেবে واقع হয়, তখন সেখানে তার আমেল নাসেব ফে‘লটিকে মাহযূফ করা ওয়াজিব। যেমন: «يَا زَيْدُ» মূলত ছিল—«أَدْعُو زَيْداً» (আমি যায়েদকে ডাকছি)। এখানে আমেল নাসেব ফে‘ল «أَدْعُو»-কে মাহযূফ করা হয়েছে এবং হরফে নিদা «يَا»-কে তার স্থলাভিষিক্ত বা ক্বায়েম মাক্বাম (نائب مناب) বানানো হয়েছে।
  • হিকমত ও কারণ: আরবি ভাষায় নিদা বা কাউকে ডাকার ব্যবহার অত্যন্ত বেশি (كثرت استعمال)। আর ব্যবহারের আধিক্য সর্বদা সংক্ষেপণ বা ইখতিসার (اختصار)-এর দাবি রাখে। «أَدْعُو» ফে‘ল উচ্চারণ করার চেয়ে কেবল হরফে নিদা «يَا» উচ্চারণ করার মধ্যে সংক্ষেপণ অতি সহজে সাধিত হয়। তাই আমেল ফে‘লকে ওয়াজিবীভাবে মাহযূফ করে হরফে নিদাকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে[১]

২. দ্বিতীয় বিষয়: মুনাদার লুগাভী ও পারিভাষিক তা'রীফ

২.১ লুগাভী ও শাব্দিক তাহকীক্ব

  • সীগাহর বিশ্লেষণ: ‘المنادى’ শব্দটি বাবে মুফা‘আলাহ (مفاعلة) থেকে গঠিত ইসমে মাফ‘ঊল-এর সীগাহ। এর শাব্দিক অর্থ: ‘যাকে ডাকা হয়েছে’ বা ‘আহ্বানকৃত ব্যক্তি’।
  • আলিফ-লাম ও সিলাহ: এর শুরুতে বিদ্যমান ‘ال’ হলো ইসমে মাওসূল অর্থাৎ ‘الَّذِي’-এর অর্থে। আর স্বয়ং ‘مُنَادَى’ শব্দটি তার সিলাহ। সুতরাং সামগ্রিক শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায়: «الِاسْمُ الَّذِي يُنَادَى» (এমন ইসম যাকে আহ্বান জানানো হয়)।

২.২ পারিভাষিক তা'রীফ (تعريف)

هُوَ الْمَطْلُوبُ إِقْبَالُهُ بِحَرْفٍ نَائِبٍ مَنَابَ أَدْعُو لَفْظاً أَوْ تَقْدِيراً

পারিভাষিক সংজ্ঞা: মুনাদা হলো এমন ইসম, যার মনোযোগ আকর্ষণ কামনা করা হয় এমন একটি হরফের মাধ্যমে, যা শাব্দিকভাবে কিংবা তাক্বদীরীভাবে (উহ্যভাবে) «أَدْعُو» ফে‘লের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

২.৩ ফায়ায়েদে কুয়ুদ (হরফে নিদা লফযী ও তাক্বদীরী হওয়া)

  • হরফে নিদা শাব্দিক (لفظاً) হওয়ার দৃষ্টান্ত: যেমন—«يَا زَيْدُ», যা মূল বাক্যে ছিল «أَدْعُو زَيْداً»। এখানে হরফে নিদা «يَا» স্পষ্ট উচ্চারিত হয়েছে।
  • হরফে নিদা উহ্য (تقديراً) হওয়ার দৃষ্টান্ত: যেমন আল্লাহ তা‘আলা কুরআন কারীমে ইরশাদ করেন:
    ﴿ يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا ﴾
    এটি মূলত ছিল: «يَا يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا»। এখানে হরফে নিদা «يَا» উহ্য বা মাহযূফ রয়েছে[২]

২.৪ তাওয়াজ্জুহ বা মনোযোগ আকর্ষণের প্রকারভেদ

মনোযোগ আকর্ষণ (توجه) দুই প্রকার:

  • (১) তাওয়াজ্জুহে হাক্বীক্বী (توجه حقيقي): মুনাদা যদি কোনো বিবেকবান বা প্রাণবিশিষ্ট সত্তা (ذي روح) হয়; যেমন কুরআনের বাণী:
    ﴿ يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ ﴾
  • (২) তাওয়াজ্জুহে হুকমী (توجه حكمي): মুনাদা যদি অপ্রাণ বা জড়বস্তু (غير ذي روح) হয়; যেমন কুরআনের আয়াত:
    ﴿ يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ ﴾
    (হে পর্বতমালা! তোমরা দাউদের সাথে বারবার তাসবীহ পাঠ করো)। এখানে পাহাড়ের দিকে আহ্বানটি রূপক বা হুকমী।

অতঃপর ‘তাওয়াজ্জুহে হাক্বীক্বী’ পুনরায় দুই প্রকার:

  • (ক) তাওয়াজ্জুহে ওয়াজহী (توجه وجهي): শ্রোতা বক্তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্যমনস্ক ছিল, বক্তা তাকে «يَا زَيْدُ» বলে ডাক দেওয়ায় সে শারীরিকভাবে নিজের মুখমণ্ডল ঘুরিয়ে বক্তার দিকে মনোযোগী হলো।
  • (খ) তাওয়াজ্জুহে ক্বলবী (توجه قلبي): শ্রোতার মুখ হয়তো বক্তার দিকেই ছিল, কিন্তু তার অন্তর অন্য চিন্তায় মগ্ন ছিল। এমতাবস্থায় নিদা করার মাধ্যমে তার মানসিক ও আন্তরিক মনোযোগ আকর্ষণ করা হলো।

৩. তৃতীয় বিষয়: মুনাদার প্রকারভেদ ও তাদের ই‘রাব

মুসান্নিফ (রহ.) কিতাবের ইবারতে মুনাদার প্রকার ও তাদের ই‘রাবকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিশ্লেষণ করেছেন:

৩.১ ১ম প্রকার: মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ (منادى مفرد معرفة)

«وَيُبْنَى عَلَى مَا يُرْفَعُ بِهِ إِنْ كَانَ مُفْرَداً مَعْرِفَةً»

(ক) ‘মুফরাদ’ ও ‘মায়রিফাহ’-এর হাক্বীক্বত:

  • মুফরাদ: এখানে ‘মুফরাদ’ দ্বারা সাধারণ নাহবী অর্থ (যা তাসনিয়া ও জমার বিপরীত) উদ্দেশ্য নয়; বরং মুনাদার পরিভাষায় মুফরাদ বলা হয়: «مَا لَيْسَ بِمُضَافٍ وَلَا شَبِيهٍ بِالْمُضَافِ» — অর্থাৎ যা মুযাফ কিংবা শিবহে মুযাফ নয়। অতএব, তাসনিয়া ও জমাও যদি মুযাফ না হয়, তবে তাও এই মুফরাদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
  • মায়রিফাহ: হরফে নিদা প্রবেশ করার পর তা মায়রিফাহ হয়েছে; চাই তা পূর্ব থেকেই আলম (নির্দিষ্ট নাম) হওয়ার কারণে মায়রিফাহ থাকুক (যেমন: «يَا زَيْدُ»), অথবা পূর্বে নাকিরাহ ছিল কিন্তু নিদার কারণে তা নির্দিষ্ট হয়েছে (যেমন উপস্থিত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা: «يَا رَجُلُ»)।

(খ) ই‘রাবের হুকুম:

মুনাদা মুফরাদ মায়রিফাহ হলে তা সাধারণ অবস্থায় যে চিহ্নের দ্বারা রফ‘ প্রাপ্ত হতো, হুবহু সেই চিহ্নের ওপর ‘মাবনী’ (مبني) হবে। রফ‘-এর আলামত মূলত তিনটি: যম্মাহ (ضمة), আলিফ (الف) এবং ওয়াও (واو):

  • যম্মাহর ওপর মাবনী: যদি ইসমটি মুফরাদ কিংবা জমা মুকাসসার হয়; যেমন: «يَا زَيْدُ» এবং «يَا رَجُلُ»
  • আলিফের ওপর মাবনী: যদি মুনাদাটি তাসনিয়া বা দ্বিবচন হয়; যেমন: «يَا زَيْدَانِ»
  • ওয়াও-এর ওপর মাবনী: যদি মুনাদাটি জমা মুযাক্কার সালেম হয়; যেমন: «يَا زَيْدُونَ»

(গ) ফায়দা: মুনাদা মাবনী হওয়ার অন্তর্নিহিত রহস্য

মাফ‘ঊলে বিহী হওয়ার কারণে মুনাদার মূল পাওনা ছিল মু‘রাব ও মানসূব হওয়া। কিন্তু একে মাবনী করার কারণ হলো: «يَا زَيْدُ» বাক্যে «زَيْدُ» মূলত «أَدْعُوكَ» ফে‘লের ‘কাফ’ যমীর (ك)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর এই কাফ যমীরটি ইসমুল ইশারাহ «ذَلِكَ»-এর কাফের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যা সর্বসম্মতভাবে মাবনী। সুতরাং একটি মাবনী যমীরের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে মুনাদাও মাবনী হিসেবে গণ্য হয়[৩]

৩.২ ২য় প্রকার: মুনাদা বিল্লামিল ইস্তিগাছাহ (منادى بلام الاستغاثة)

«وَيُخْفَضُ بِلَامِ الِاسْتِغَاثَةِ، نَحْوُ: يَا لَزَيْدٍ»

ইস্তিগাছাহ-এর মূল উপাদান (৪টি রুকন):

  • ১. ইস্তিগাছাহ (الاستغاثة): বিপদে পড়ে সাহায্য ও পরিত্রাণ প্রার্থনা করা।
  • ২. মুস্তাগীছ (المستغيث): বিপদগ্রস্ত সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তি।
  • ৩. মুস্তাগাছ বিহী (المستغاث به): যার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। এর শুরুতে ফাতহাযুক্ত ‘লামে ইস্তিগাছাহ’ (لَـ) যুক্ত হয়।
  • ৪. মুস্তাগাছ লাহু (المستغاث له): যার কল্যাণে বা যার পক্ষে সাহায্য চাওয়া হয়। এর শুরুতে কাসরাযুক্ত লাম (لِـ) আসে। যেমন মজলুমের পক্ষে সাহায্য চেয়ে বলা হয়: «يَا لَلْقَوْمِ لِلْمَظْلُومِ» (হে কওম! মজলুমের সহায়তায় এগিয়ে এসো)।

ই‘রাবের হুকুম: যখন মুনাদা মুস্তাগাছ হবে এবং তার শুরুতে লামে ইস্তিগাছাহ প্রবেশ করবে, তখন সে আর মাবনী থাকবে না; বরং মু‘রাব হয়ে যাবে এবং উক্ত লামের কারণে মাজরূর (مجرور) হবে; যেমন: «يَا لَزَيْدٍ» (হে যায়েদ! আর্তত্রাণে এগিয়ে এসো)।

৩.৩ ৩য় প্রকার: মুনাদা বি-আলিফিল ইস্তিগাছাহ (منادى بألف الاستغاثة)

«وَيُفْتَحُ لِإِلْحَاقِ أَلِفِهَا، وَلَا لَامَ فِيهِ، نَحْوُ: يَا زَيْدَاهُ»

  • হাক্বীক্বত ও নিয়ম: যদি মুস্তাগাছের শেষাক্ষরে ইস্তিগাছাহ-এর ‘আলিফ’ যুক্ত করা হয়, তবে:
    • (১) মুনাদাটি ফাতহাযুক্ত হবে (لإلحاق ألفها)।
    • (২) তার শুরুতে কোনোভাবেই লামে ইস্তিগাছাহ যুক্ত হতে পারবে না (ولا لام فيه)।
    • (৩) দৃষ্টান্ত: «يَا زَيْدَاهُ»। এখানে ‘দাল’ অক্ষরে ফাতহা হয়েছে, শেষে ইস্তিগাছাহর আলিফ এবং ওয়াক্বফের সুবিধার্থে হা-এ সাকতাহ (هاء السكت) যুক্ত হয়েছে।
  • লাম এবং আলিফ একত্র না হওয়ার ইলমী কারণ: শুরুতে লাম আসা দাবি করে যে শব্দটি মাজরূর (কাসরাযুক্ত) হবে; পক্ষান্তরে শেষে আলিফ আসা দাবি করে যে তার পূর্বাক্ষরে ফাতহা হবে। যেহেতু কাসরা ও ফাতহা দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত হরকত, আর নাহভী ক্বায়দা অনুযায়ী ‘বিপরীত দুটি বস্তু একত্রে জমা হতে পারে না’ (الضِّدَّانِ لَا يَجْتَمِعَانِ); তাই লাম ও আলিফ কখনো একই মুনাদায় একত্রে আসতে পারে না।

৩.৪ অবশিষ্ট প্রকারসমূহ ও তাদের মানসূব হওয়া

«وَيُنْصَبُ مَا سِوَاهُمَا، نَحْوُ: يَا عَبْدَ اللهِ، وَيَا طَالِعاً جَبَلاً، وَيَا رَجُلاً لِغَيْرِ مُعَيَّنٍ»

সূক্ষ্ম আপত্তি ও সমাধান: «سِوَاهَا» না বলে দ্বিবচনের যমীর «سِوَاهُمَا» কেন?

আপত্তি: মুসান্নিফ পূর্বে তিনটি রূপ আলোচনা করেছেন (মুফরাদ মায়রিফাহ, লামযুক্ত মুস্তাগাছ, আলিফযুক্ত মুস্তাগাছ)। তাহলে এখানে বহুবচনের যমীর দিয়ে «مَا سِوَاهَا» না বলে দ্বিবচনের যমীর দিয়ে «مَا سِوَاهُمَا» (উভয়টি ব্যতীত) কেন বললেন?
সমাধান: যদিও বাহ্যিকভাবে তিনটি রূপ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় রূপ মূলত একটিই বিষয়—অর্থাৎ ‘মুস্তাগাছ’ বা সাহায্য প্রার্থনা। তাই মুসান্নিফ উভয়টিকে এক প্রকার গণ্য করে মূলত দুটি মৌলিক প্রকারের (মুফরাদ মায়রিফাহ ও মুস্তাগাছ) বিবেচনা করে দ্বিবচনের যমীর «سِوَاهُمَا» ব্যবহার করেছেন।

«مَا سِوَاهُمَا»-এর অন্তর্ভুক্ত বাকি ৩টি প্রকার (যা শাব্দিকভাবে মানসূব হয়):

  • ৪র্থ প্রকার (মুনাদা মুযাফ): যে মুনাদাটি অন্য কোনো ইসমের দিকে মুযাফ হয়; যেমন: «يَا عَبْدَ اللهِ»
    ই‘রাব: এটি শাব্দিকভাবে মানসূব (منصوب لفظاً) হবে।
  • ৫ম প্রকার (মুনাদা শিবহে মুযাফ): যে মুনাদা এককভাবে অর্থ পূর্ণ করতে পারে না; বরং অর্থ পূর্ণ করার ক্ষেত্রে পরবর্তী শব্দের প্রতি মুখাপেক্ষী থাকে, যেমন মুযাফ মুযাফ ইলাইহির প্রতি মুখাপেক্ষী থাকে; যেমন: «يَا طَالِعاً جَبَلاً» (হে পাহাড়ে আরোহণকারী!)।
    শিবহে মুযাফ নামকরণের কারণ: অর্থের দিক থেকে এটি মুযাফের মতো হলেও আমল ও শব্দের দিক থেকে ভিন্ন। কেননা সাধারণ মুযাফ ইলাইহি সর্বদা মাজরূর হয়, অথচ এখানে «طَالِعاً» ইসমে ফায়িল হওয়ার কারণে পরবর্তী শব্দ «جَبَلاً»-কে মাফ‘ঊল হিসেবে নসব দিয়েছে। তাই একে মুযাফ না বলে ‘শিবহে মুযাফ’ (সাদৃশ্যপূর্ণ) বলা হয়। এটিও শাব্দিকভাবে মানসূব হবে।
  • ৬ষ্ঠ প্রকার (মুনাদা নাকিরাহ গায়রে মু‘আইয়ানাহ): যদি এমন কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি উদ্দেশ্য হয় যার কোনো সুনির্দিষ্ট সত্তা নির্ধারিত নেই।
    দৃষ্টান্ত: কোনো অন্ধ ব্যক্তি রাস্তায় চলার সময় কাউকে দেখতে পায় না বিধায় কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য না করে সাধারণ পথচারীদের ডেকে বলে: «يَا رَجُلاً، خُذْ بِيَدِي» (হে কোনো একজন পুরুষ, আমার হাত ধরো!)। যেহেতু এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করা হয়নি, তাই এটি নাকিরাহ গায়রে মু‘আইয়ানাহ।
    ই‘রাব: এই মুনাদাটিও শাব্দিকভাবে মানসূব (منصوب لفظاً) হবে।

خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক নির্যাস)

  • ১. আমেল মাহযূফের ২য় স্থান: মাফ‘ঊলে বিহীর আমেল ওয়াজিবীভাবে মাহযূফ হওয়ার ২য় স্থান (ক্বিয়াসী ১ম স্থান) হলো ‘মুনাদা’; যেখানে «أَدْعُو» ফে‘ল মাহযূফ হয়ে হরফে নিদা তার স্থলাভিষিক্ত হয়।
  • ২. মুনাদার তা'রীফ: এমন ইসম যার মনোযোগ আকর্ষণ কামনা করা হয় «أَدْعُو»-এর স্থলাভিষিক্ত হরফের মাধ্যমে (চাই তা শাব্দিক হোক বা উহ্য হোক)।
  • ৩. তাওয়াজ্জুহ-এর প্রকার: হাক্বীক্বী (প্রাণীর ক্ষেত্রে) ও হুকমী (অপ্রাণীর ক্ষেত্রে)। হাক্বীক্বী আবার ওয়াজহী (চেহারার) ও ক্বলবী (অন্তরের)—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
  • ৪. মুফরাদ মায়রিফাহ-এর ই‘রাব: সাধারণ অবস্থায় যে চিহ্নের দ্বারা রফ‘ হতো, সেই চিহ্নের ওপর মাবনী হয় (যম্মাহর ওপর যেমন: «يَا زَيْدُ», আলিফের ওপর যেমন: «يَا زَيْدَانِ», ওয়াও-এর ওপর যেমন: «يَا زَيْدُونَ»)।
  • ৫. লামে ইস্তিগাছাহযুক্ত মুনাদা: লামের কারণে মাজরূর হয় (যেমন: «يَا لَزَيْدٍ»)।
  • ৬. আলিফে ইস্তিগাছাহযুক্ত মুনাদা: আলিফের কারণে ফাতহাযুক্ত হয় এবং শুরুতে লাম আসা নিষিদ্ধ (যেমন: «يَا زَيْدَاهُ»)।
  • ৭. অবশিষ্ট তিন প্রকারের নসব: মুনাদা মুযাফ («يَا عَبْدَ اللهِ»), শিবহে মুযাফ («يَا طَالِعاً جَبَلاً») এবং নাকিরাহ গায়রে মু‘আইয়ানাহ («يَا رَجُلاً»)—এই তিন প্রকার শাব্দিকভাবে মানসূব হয়।
[support-banner]
সম্পর্কিত ট্যাগসমূহ:
লেখাটি ভালো লাগলে আপনার দোয়া বা অনুভূতি জানান
নিচের যেকোনো বোতামে ক্লিক করলে সরাসরি মন্তব্যের ঘরে প্রকাশ করার ব্যবস্থা হবে:
মন্তব্যসমূহ
দোয়াটি সফলভাবে কপি হয়েছে! নিচের কমেন্ট বক্সে পেস্ট (Paste) করে মন্তব্যটি সবার সাথে শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন