হাশিয়া ও কিতাবাত টীকা
সাপোর্ট করুন
হোম কওমী মাদ্রাসা দরসে কাফিয়া (৪৯) : মাফ‘ঊলে মুতলাক্বের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও ফে‘ল মাহযূফ হওয়ার পূর্ণাঙ্গ তাহকীক

দরসে কাফিয়া (৪৯) : মাফ‘ঊলে মুতলাক্বের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও ফে‘ল মাহযূফ হওয়ার পূর্ণাঙ্গ তাহকীক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
[toc]

المتن الأصلي (মূল কিতাবের ইবারত)

নিচের মূল আরবি ইবারতের যেকোনো শব্দের ওপর মাউস হোভার করুন (বা মোবাইলে ট্যাপ করুন) শব্দার্থ দেখার জন্য। উপরে থাকা বাটন ব্যবহার করে এক ক্লিকে হরকত লুকানো/দেখা ও ইবারত কপি করতে পারেন:

فَالْأَوَّلُ لَا يُثَنَّى وَلَا يُجْمَعُ بِخِلَافِ أَخَوَيْهِ، وَقَدْ يَكُونُ بِغَيْرِ لَفْظِهِ، نَحْوُ: قَعَدْتُ جُلُوسًا، وَقَدْ يُحْذَفُ الْفِعْلُ لِقِيَامِ قَرِينَةٍ جَوَازًا، كَقَوْلِكَ لِمَنْ قَدِمَ: خَيْرَ مَقْدَمٍ، وَوُجُوبًا سَمَاعًا، مِثْلُ: سَقْيًا، وَرَعْيًا، وَخَيْبَةً، وَجَدْعًا، وَحَمْدًا، وَشُكْرًا، وَعَجَبًا، وَقِيَاسًا فِي مَوَاضِعَ، مِنْهَا: مَا وَقَعَ مُثْبَتًا بَعْدَ نَفْيٍ، أَوْ مَعْنَى نَفْيٍ دَاخِلٍ عَلَى اسْمٍ لَا يَكُونُ خَبَرًا عَنْهُ، أَوْ وَقَعَ مُكَرَّرًا، نَحْوُ: مَا أَنْتَ إِلَّا سَيْرًا، وَمَا أَنْتَ إِلَّا سَيْرَ الْبَرِيدِ، وَإِنَّمَا أَنْتَ سَيْرًا، وَزَيْدٌ سَيْرًا سَيْرًا.
ইবারতের সরল অনুবাদ:

"অতঃপর প্রথম প্রকারটি (তাকীদের মাফ‘ঊলে মুতলাক্ব) তছনিয়া বা জমা হতে পারে না, তার অপর দুই ভাইয়ের (نوع ও عدد-এর) বিপরীত। আর কখনো কখনো মাফ‘উলে মুতলাক্ব তার ফে‘লের মূল শব্দ ব্যতীত ভিন্ন শব্দে (বিনা সূত্রে সমার্থবোধক শব্দে) আসে; যেমন: «قَعَدْتُ جُلُوسًا»। আর কখনো কোনো ক্বরীনার উপস্থিতির কারণে ফে‘লকে জাওয়াযান (জায়েয হিসেবে) মাহযুফ করা হয়; যেমন কোনো আগমনকারীকে তোমার বলা: «خَيْرَ مَقْدَمٍ» (উত্তম আগমন)। আর কখনো উজূবান সামা‘ঈভাবে (আরবদের ভাষা প্রয়োগের নিয়মে) ফে‘লকে মাহযুফ করা হয়; যেমন: «سَقْيًا»، «رَعْيًا»، «خَيْبَةً»، «جَدْعًا»، «حَمْدًا»، «شُكْرًا», এবং «عَجَبًا»। আর ক্বিয়াসী নিয়মে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ফে‘লকে উজূবান মাহযুফ করা হয়; তন্মধ্যে রয়েছে: (১) এমন মাফ‘উলে মুতলাক্ব যা কোনো নাফী বা নাফীর অর্থবোধক শব্দের পর مثبت (ইতিবাচক) হিসেবে واقع হয় এমন ইসমের ওপর দাখিল হয়ে যার খবর হওয়া উক্ত মাফ‘উলে মুতলাক্বের পক্ষে সম্ভব নয়; অথবা (২) এমন মাফ‘উলে মুতলাক্ব যা পুনরাবৃত্ত (مُكَرَّرًا) হয়ে واقع হয়; যেমন: «مَا أَنْتَ إِلَّا سَيْرًا», «مَا أَنْتَ إِلَّا سَيْرَ الْبَرِيدِ», «إِنَّمَا أَنْتَ سَيْرًا», এবং «زَيْدٌ سَيْرًا سَيْرًا»।"


দরসের রূপরেখা (تشریح)

আজকের ৪৯তম দরসে মুসান্নিফ আল্লামা ইবনু হাজিব (রহ.) মাফ‘ঊলে মুতলাক্বের অতি সূক্ষ্ম ও প্রায়োগিক ৫টি মাসআলা অত্যন্ত বিশদভাবে আলোচনা করেছেন:

  • ১ম মাসআলা: তাকীদের মাফ‘উলে মুতলাক্ব তছনিয়া ও জমা না হওয়ার মূল কারণ এবং প্রকার ও সংখ্যার ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য।
  • ২য় মাসআলা: ফে‘লের মূল শব্দ ছাড়া ভিন্ন শব্দে (بِغَيْرِ لَفْظِهِ) মাফ‘উলে মুতলাক্ব হওয়া ও মুগায়ারাতের ৩টি সুরত।
  • ৩য় মাসআলা: বাহ্যিক আলামত বা ক্বরীনার ভিত্তিতে ফে‘ল জাওয়াযান (جوازاً) মাহযুফ হওয়া।
  • ৪র্থ মাসআলা: আরবদের থেকে শ্রুত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ ইবারতে ফে‘ল উজূবান সামা‘ঈভাবে (وجوباً سماعاً) মাহযুফ হওয়া।
  • ৫ম মাসআলা: সুনির্দিষ্ট নাহভী ক্বায়দার ভিত্তিতে ফে‘ল উজূবান ক্বিয়াসীভাবে (وجوباً قياساً) মাহযুফ হওয়ার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান।

১. ১ম মাসআলা: তাকীদের মাফ‘উলে মুতলাক্ব تثنية ও جمع না হওয়া

১.১ তছনিয়া ও জমা না হওয়ার দুটি দার্শনিক কারণ

কেন তাকীদের মাফ‘উলে মুতলাক্বের দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না?

  • (ক) আসল ও ফর‘-এর সামঞ্জস্য রক্ষা: আরবি ব্যাকরণে ফে‘ল হলো আসল (মৌলিক) এবং মাসদার হলো তার ফর‘ (শাখা)। মূল ফে‘ল নিজে কখনো দ্বিবচন বা বহুবচন হতে পারে না (যেমন: «ضَرَبَا» বা «ضَرَبُوا»-তে ফে‘ল নয়, বরং فاعل তছনিয়া ও জমা হয়েছে)। সুতরাং আসল ফে‘ল যখন তছনিয়া ও জমা হতে পারে না, তখন তার তাকীদ প্রদানকারী শাখা মাসদারও বদরজায়ে আওলা তছনিয়া ও জমা হতে পারবে না; অন্যথায় ফর‘ আসলের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে যাবে।
  • (খ) অর্থগত বৈপরীত্য: তাকীদের মাফ‘উলে মুতলাক্ব কেবল কাজের মূল সত্তা বা মাহিয়্যাত (ماهيت)-এর ওপর প্রমাণ বহন করে, কোনো সংখ্যা বা গণনার ওপর নয়। আর তছনিয়া ও জমা সংখ্যার দাবি করে। ফলে তাকীদ ও সংখ্যার মধ্যে স্বভাবগত বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়[১]

১.২ «بِخِلَافِ أَخَوَيْهِ»-এর হিকমত ও তাৎপর্য

মুসান্নিফ বলেছেন—তাকীদের মাফ‘উলে মুতলাক্ব তছনিয়া ও জমা হতে না পারলেও তার অপর দুই সহোদর ভাই অনায়াসে তছনিয়া ও জমা হতে পারে:

  • (১) مفعول مطلق عددي (সংখ্যার মাফ‘উল): যেহেতু এর মূল উদ্দেশ্যই সংখ্যা গণনা করা, তাই এটি স্বচ্ছন্দে দ্বিবচন ও বহুবচন হয়; যেমন: «جَلَسْتُ جَلْسَتَيْنِ» (আমি দুইবার বসলাম) এবং «جَلَسَاتٍ» (আমি বহুবার বসলাম)।
  • (২) مفعول مطلق نوعي (ধরনের মাফ‘উল): যেহেতু কাজের প্রকার বা ভঙ্গিমার বহু শাখা-প্রশাখা হতে পারে, তাই প্রকারভেদের বিভিন্নতা বোঝাতে এটিও তছনিয়া ও জমা হতে পারে।

২. ২য় মাসআলা: ফে‘লের ভিন্ন শব্দে মাফ‘উলে মুতলাক্ব হওয়া (بِغَيْرِ لَفْظِهِ)

মুসান্নিফ বলেন: «وَقَدْ يَكُونُ بِغَيْرِ لَفْظِهِ، نَحْوُ: قَعَدْتُ جُلُوسًا»। মাফ‘উলে মুতলাক্ব সবসময় পূর্ববর্তী ফে‘লের মূল ধাতু থেকে গঠিত হওয়া আবশ্যক নয়; বরং ধাতু ভিন্ন হয়ে কেবল অর্থের মিলের ভিত্তিতেও গঠিত হতে পারে, যাকে পরিভাষায় مفعول مطلق غير لفظه বা مغاير عن فعله বলা হয়।

২.১ مغايرت (ভিন্নতা)-এর ৩টি সুরত

  • (ক) সুরত ১: কেবল ধাতুতে ভিন্নতা (المغايرة في المادة فقط): বাব এক থাকবে, কিন্তু মূল ধাতু ভিন্ন হবে।
    দৃষ্টান্ত: «قَعَدْتُ جُلُوسًا» — এখানে উভয়টি বাব নাসারা থেকে এসেছে, তবে প্রথমটির ধাতু ق-ع-د এবং দ্বিতীয়টির ধাতু ج-ل-س। উভয়ের অর্থ একই (বসা)।
  • (খ) সুরত ২: কেবল বাবে ভিন্নতা (المغايرة في الباب فقط): ধাতু এক থাকবে, কিন্তু বাব বা পরিচ্ছেদ ভিন্ন হবে। যেমন কুরআনে এসেছে:
    ﴿ وَاللَّهُ أَنبَتَكُم مِّنَ الْأَرْضِ نَبَاتًا ﴾
    তাহকীক: এখানে ফে‘ল «أَنْبَتَ» এসেছে বাব ইফ‘আল থেকে, আর মাসদার «نَبَاتًا» এসেছে বাব নাসারা থেকে; যদিও উভয়ের ধাতু ن-ب-ت অভিন্ন[২]
  • (গ) সুরত ৩: ধাতু ও বাব উভয়টিতে ভিন্নতা (المغايرة في المادة والباب كليهما): ধাতু এবং বাব উভয়টিই সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। যেমন কুরআনের বাণী:
    ﴿ فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُّوسَىٰ ﴾
    তাহকীক: এখানে ফে‘ল «أَوْجَسَ» বাব ইফ‘আল ও و-ج-س ধাতু থেকে, আর মাসদার «خِيفَةً» বাব সামি‘আ ও خ-و-ف ধাতু থেকে গঠিত।
অপরিহার্য শর্ত (القيد اللازم):

ভিন্ন শব্দে মাফ‘উলে মুতলাক্ব হওয়ার এই ৩টি সুরতেই পূর্ববর্তী ফে‘লের সাথে মাফ‘উলে মুতলাক্বের অর্থগত সামঞ্জস্য (بِمَعْنَاهُ) শতভাগ নিশ্চিত থাকতে হবে।


৩. ৩য় মাসআলা: ক্বরীনার উপস্থিতিতে ফে‘ল জাওয়াযান (جوازاً) মাহযুফ হওয়া

মুসান্নিফ ইরশাদ করেন: «وَقَدْ يُحْذَفُ الْفِعْلُ لِقِيَامِ قَرِينَةٍ جَوَازًا، كَقَوْلِكَ لِمَنْ قَدِمَ: خَيْرَ مَقْدَمٍ»। যখন বাক্যের বাহ্যিক অবস্থা বা পূর্বাপর বক্তব্য ফে‘লটির ওপর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করে, তখন ফে‘লকে মুখে উচ্চারণ না করে উহ্য (মাহযুফ) রাখা ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ জায়েয।

৩.১ প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত ও তারকীবের পর্যায়ক্রম

  • দৃষ্টান্ত: সফর থেকে ফিরে আসা কোনো ব্যক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আরবরা বলে: «خَيْرَ مَقْدَمٍ» (আপনার আগমন বরকতময় ও কল্যাণকর হোক)।
  • বাক্যের মূল তাকদীর: বাক্যটি মূলত ছিল—«قَدِمْتَ قُدُومًا خَيْرَ مَقْدَمٍ»
  • মাহযুফের ধাপসমূহ:
    • (১) প্রথমে ফে‘ল «قَدِمْتَ»-কে মাহযুফ করা হয়েছে।
    • (২) অতঃপর মূল মাসদার «قُدُومًا»-কেও মাহযুফ করা হয়েছে।
    • (৩) অবশেষে তার সিফাত বা বিশেষণ «خَيْرَ مَقْدَمٍ»-কে মাফ‘উলে মুতলাক্বের স্থলাভিষিক্ত (নায়েবে মাফ‘উলে মুতলাক্ব) করে নসব দেওয়া হয়েছে।
  • ক্বরীনা (قرينة حالية): মুসাফিরের সশরীরে আগমন এবং উপস্থিতির দৃশ্যই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে এখানে ফে‘ল মাহযুফ রয়েছে।

৩.২ একটি সূক্ষ্ম ইশকাল ও তাহকীকী সমাধান

ইশকাল: «خَيْرَ» তো ইসমে তাফযীল, মাসদার নয়; তবে এটি মাফ‘উলে মুতলাক্ব হলো কীভাবে?
  • সমাধান ১: এটি মূলত উহ্য মাসদার «قُدُومًا»-এর সিফাত। সিফাত যখন মাওসূফের স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন সে মাওসূফের সমস্ত ব্যাকরণিক হুকুম নিজের কাঁধে তুলে নেয়।
  • সমাধান ২: «خَيْرَ» শব্দটি মুযাফ হয়েছে «مَقْدَمٍ»-এর দিকে, যা স্বয়ং একটি মাসদারে মীমী। আর নাহভী কায়েদা হলো—মুযাফ ইলাইহি যদি মাসদার হয়, তবে মুযাফও মাসদারের হুকুমে গণ্য হয়[৩]

৪. ৪র্থ মাসআলা: ফে‘ল উজূবান সামা‘ঈভাবে (وجوباً سماعاً) মাহযুফ হওয়া

মুসান্নিফ বলেন: «وَوُجُوبًا سَمَاعًا، مِثْلُ: سَقْيًا، وَرَعْيًا، وَخَيْبَةً، وَجَدْعًا، وَحَمْدًا، وَشُكْرًا، وَعَجَبًا»

৪.১ سَمَاعِي-এর পারিভাষিক তাৎপর্য ও সাধারণ হুকুম

সামা‘ঈর অর্থ: যেখানে ফে‘ল মাহযুফ হওয়ার পেছনে কোনো সাধারণ ক্বিয়াসী বা যুক্তিভিত্তিক কায়েদা নেই; কেবল বিশুদ্ধ ভাষী আরবদের মুখ থেকে যুগ যুগ ধরে ফে‘ল ছাড়া কেবল মাসদারটি উচ্চারিত হতে শোনা গেছে, তাকেই وجوباً سماعاً বলা হয়।
হুকুম: এই শব্দগুলোর ফে‘লকে মুখে উচ্চারণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; বাক্যগুলোর ফে‘ল সর্বদা উজূবান মাহযুফ রাখা ওয়াজিব।

৪.২ আরবদের ৭টি বহুল প্রচলিত সামা‘ঈ বাক্য

  • (১) দোআবাচক বাক্যসমূহ:
    • «سَقْيًا» — মূল বাক্য: «سَقَاكَ اللَّهُ سَقْيًا» (আল্লাহ আপনাকে সুপেয় পানি দ্বারা পরিতৃপ্ত করুন)।
    • «رَعْيًا» — মূল বাক্য: «رَعَاكَ اللَّهُ رَعْيًا» (আল্লাহ আপনার সার্বিক হেফাজত ও তত্ত্বাবধান করুন)।
  • (২) বদদোআবাচক বাক্যসমূহ:
    • «خَيْبَةً» — মূল বাক্য: «خَابَ خَيْبَةً» (সে যেন চরম ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়)।
    • «جَدْعًا» — মূল বাক্য: «جَدَعَ اللَّهُ أَنْفَهُ جَدْعًا» (আল্লাহ তার নাক কেটে তাকে চরম লাঞ্ছিত করুন)।
  • (৩) শোকর ও তা‘আজ্জুববাচক বাক্যসমূহ:
    • «حَمْدًا» — মূল বাক্য: «حَمِدْتُ اللَّهَ حَمْدًا» (আমি কায়মনোবাক্যে আল্লাহর প্রশংসা করছি)।
    • «شُكْرًا» — মূল বাক্য: «شَكَرْتُ اللَّهَ شُكْرًا» (আমি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি)।
    • «عَجَبًا» — মূল বাক্য: «عَجِبْتُ عَجَبًا» (আমি এ ঘটনায় পরম বিস্ময় প্রকাশ করছি)।

৫. ৫ম মাসআলা: ফে‘ল উজূবান ক্বিয়াসীভাবে (وجوباً قياساً) মাহযুফ হওয়া

মুসান্নিফ ইরশাদ করেন: «وَقِيَاسًا فِي مَوَاضِعَ»। ক্বিয়াসী মানে যেখানে যুক্তিগ্রাহ্য সাধারণ ব্যাকরণিক কায়েদার ভিত্তিতে ফে‘লকে উহ্য রাখা ওয়াজিব হয়। কিতাবে উল্লেখিত ১ম ও ২য় স্থান নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

৫.১ ১ম স্থান: নাফী/ইননামার পর মুছবাত হওয়া এবং মুবতাদার খবর না হতে পারা

«مَا وَقَعَ مُثْبَتًا بَعْدَ نَفْيٍ، أَوْ مَعْنَى نَفْيٍ دَاخِلٍ عَلَى اسْمٍ لَا يَكُونُ خَبَرًا عَنْهُ»

ক্বায়দার মূলকথা:

যখন কোনো মাফ‘উলে মুতলাক্ব নাফী (যেমন: «مَا... إِلَّا») বা নাফীর অর্থবোধক শব্দ (যেমন: «إِنَّمَا»)-এর পর ইতিবাচক (মুছবাত) হিসেবে এমন ইসমের পরে আসে যার خبر হওয়া উক্ত মাফ‘উলে মুতলাক্বের পক্ষে অসম্ভব, তখন তার আমেল ফে‘লকে উজূবান মাহযুফ করা ওয়াজিব।

৩টি বিভিন্ন ধরনের উদাহরণ:

  • (ক) নাকিরাহ মুফরাদের দৃষ্টান্ত: «مَا أَنْتَ إِلَّا سَيْرًا» — মূল বাক্য: «مَا أَنْتَ تَسِيرُ إِلَّا سَيْرًا» (তুমি অবিরাম চলা ছাড়া আর কিছুই নও)।
  • (খ) মুরাক্কাবে ইযাফীর দৃষ্টান্ত: «مَا أَنْتَ إِلَّا سَيْرَ الْبَرِيدِ» — মূল বাক্য: «مَا أَنْتَ تَسِيرُ إِلَّا سَيْرَ الْبَرِيدِ» (তুমি তো কেবল ডাকহরকরার মতো ক্ষিপ্র গতিতে চলো)।
  • (গ) নাফীর অর্থবোধক («إِنَّمَا»)-এর দৃষ্টান্ত: «إِنَّمَا أَنْتَ سَيْرًا» — মূল বাক্য: «إِنَّمَا أَنْتَ تَسِيرُ سَيْرًا» (নিশ্চয়ই তুমি অবিরাম চলমান)।

ফে‘ল উজূবান মাহযুফ হওয়ার দুটি গভীর কারণ:

  • ১. ই‘রাব ও নহভগত কারণ: বাক্যে «سَيْرًا» স্পষ্ট মানসূব। বাক্যে প্রকাশ্য কোনো আমেল নেই যা একে নসব দিতে পারে; ফলে একটি মাহযুফ ফে‘ল «تَسِيرُ» মানা অবধারিত। আর মুবতাদা «أَنْتَ» হলো একটি রক্ত-মাংসের মানুষ (সত্তা), পক্ষান্তরে «سَيْرًا» হলো একটি কাজ বা ক্রিয়া (হাদাস)। কোনো মানুষের খবর স্বয়ং কাজ হতে পারে না (অর্থাৎ মানুষ কখনো সরাসরি 'চলা' হতে পারে না); তাই ফে‘ল ছাড়া বাক্য শুদ্ধ হয় না।
  • ২. বালাগাতগত কারণ: মুতাকাল্লিমের উদ্দেশ্য হলো مخاطب-এর চলার মধ্যে স্থায়িত্ব ও অবিরামতা (دوام ও استمرار) ফুটিয়ে তোলা। ফে‘ল সবসময় ক্ষণস্থায়ী বা নতুনভাবে ঘটা (حدوث) নির্দেশ করে। তাই ফে‘লকে বিলুপ্ত করে বাক্যকে ইসমিয়্যাহর রূপ দিয়ে চিরন্তন স্থায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫.২ ২য় স্থান: মাফ‘উলে মুতলাক্ব পুনরাবৃত্ত (مُكَرَّرًا) হয়ে আসা

«أَوْ وَقَعَ مُكَرَّرًا، نَحْوُ: زَيْدٌ سَيْرًا سَيْرًا»

  • ক্বায়দার বিশ্লেষণ: যখন কোনো মাফ‘উলে মুতলাক্ব পর পর দুইবার তাকরার বা পুনরাবৃত্ত হয়ে আসে এবং তার পূর্বে এমন একটি ইসম থাকে যা মুবতাদা হয়ে খবর দাবি করে, কিন্তু মাফ‘উলে মুতলাক্বটি অর্থগতভাবে তার খবর হতে পারে না।
  • দৃষ্টান্ত: «زَيْدٌ سَيْرًا سَيْرًا» (যায়েদ কেবল অবিরাম দ্রুত চলতেই থাকে)।
  • মূল বাক্য ও তারকীব: মূল বাক্য হলো «زَيْدٌ يَسِيرُ سَيْرًا سَيْرًا»। এখানে ফে‘ল «يَسِيرُ»-কে মাহযুফ করে ১ম «سَيْرًا»-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে এবং ২য় «سَيْرًا» হলো ১মটির তাকীদ। স্থায়িত্ব প্রকাশের স্বার্থে ফে‘লটিকে উজূবান মাহযুফ করা হয়েছে।

ক্বায়দার বিশেষ শর্ত ও কুরআনি নযীর:

শর্ত: পুনরাবৃত্ত মাফ‘উলের পূর্বে মুবতাদা জাতীয় কোনো ইসম থাকতে হবে

যদি পুনরাবৃত্ত মাফ‘উলের পূর্বে কোনো ইসম না এসে সরাসরি ফে‘ল বিদ্যমান থাকে, তবে সেখানে ফে‘ল মাহযুফ হবে না। যেমন পবিত্র কুরআনের আয়াত:

﴿ كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا ﴾

এখানে ফে‘ল «دُكَّتْ» স্পষ্ট উল্লেখিত রয়েছে এবং এটি মাহযুফ হবে না; কারণ পূর্বে কোনো মুবতাদা নেই যা একে খবরের মুখাপেক্ষী করে তোলে।


خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

  • ১. তাকীদের মাফ‘ঊল: কখনো তছনিয়া বা জমা হতে পারে না (কারণ এটি মাহিয়্যাত নির্দেশ করে); তবে নও‘ ও আদাদের মাফ‘উল অনায়াসে তছনিয়া ও জমা হয়।
  • ২. ভিন্ন শব্দে মাফ‘ঊল: মূল ফে‘লের ভিন্ন শব্দে ৩ ভাবে আসে—(ক) ধাতুতে ভিন্নতা («قَعَدْتُ جُلُوسًا»), (খ) বাবে ভিন্নতা (﴿أَنبَتَكُم... نَبَاتًا﴾), এবং (গ) ধাতু ও বাব উভয়টিতে ভিন্নতা (﴿فَأَوْجَسَ... خِيفَةً﴾)।
  • ৩. ফে‘ল জাওয়াযান মাহযুফ: ক্বরীনার উপস্থিতিতে জায়েয; যেমন মুসাফিরকে বলা: «خَيْرَ مَقْدَمٍ» (তাকদীর: «قَدِمْتَ قُدُومًا خَيْرَ مَقْدَمٍ»)।
  • ৪. ফে‘ল সামা‘ঈভাবে মাহযুফ: আরবদের ৭টি দোআ ও বদদোআয় ফে‘ল উহ্য রাখা ওয়াজিব («سَقْيًا، رَعْيًا، خَيْبَةً، جَدْعًا، حَمْدًا، شُكْرًا، عَجَبًا»)।
  • ৫. ফে‘ল ক্বিয়াসীভাবে মাহযুফ (১ম ও ২য় স্থান):
    • (ক) ১ম স্থান: নাফী বা ইননামার পর মুছবাত হয়ে আসলে (যেমন: «مَا أَنْتَ إِلَّا سَيْرًا» — তাকদীর: «تَسِيرُ»)।
    • (খ) ২য় স্থান: মুবতাদার পর মাফ‘উলে মুতলাক্ব পুনরাবৃত্ত হলে (যেমন: «زَيْدٌ سَيْرًا سَيْرًا» — তাকদীর: «يَسِيرُ»)।
[support-banner]
সম্পর্কিত ট্যাগসমূহ:
লেখাটি ভালো লাগলে আপনার দোয়া বা অনুভূতি জানান
নিচের যেকোনো বোতামে ক্লিক করলে সরাসরি মন্তব্যের ঘরে প্রকাশ করার ব্যবস্থা হবে:
মন্তব্যসমূহ
দোয়াটি সফলভাবে কপি হয়েছে! নিচের কমেন্ট বক্সে পেস্ট (Paste) করে মন্তব্যটি সবার সাথে শেয়ার করুন।