المتن الأصلي (মূল কিতাবের ইবারত)
নিচের মূল আরবি ইবারতের প্রতিটি শব্দের ওপর স্পর্শ (ট্যাপ) বা মাউস হোভার করে শব্দার্থ দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওপরে থাকা বাটন দিয়ে হরকত চালু/বন্ধ করতে পারেন:
"মানসূবাত (الْمَنْصُوبَاتُ): মানসূব হলো এমন ইসম, যা মাফ‘উলিয়্যাতের আলামত (عَلَمِ الْمَفْعُولِيَّةِ / কর্মপদের চিহ্ন)-কে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে। অতঃপর মানসূবাতের অন্তর্ভুক্ত হলো: মাফ‘ঊলে মুতলাক্ব (الْمَفْعُولُ الْمُطْلَقُ)। আর তা হলো এমন কাজের নাম বা মাসদার, যা তার সমার্থবোধক পূর্বে উল্লেখিত কোনো ফে‘লের ফায়িল দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। আর এটি কখনো তাকীদ (تأكيد), কখনো কাজের ধরন (نوع), এবং কখনো কাজের সংখ্যা (عدد) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন: «جَلَسْتُ جُلُوسًا» (তাকীদ), «جِلْسَةً» (নও‘), এবং «جَلْسَةً» (আদাদ)। অতঃপর প্রথম প্রকারটি (তাকীদের মাফ‘ঊলে মুতলাক্ব) তছনিয়া বা জমা হতে পারে না, তার অপর দুই ভাইয়ের (نوع ও عدد-এর) বিপরীত।"
১. প্রথম বিষয়: منصوبات-এর তা'রীফ ও عَلَمُ الْمَفْعُولِيَّةِ
১.১ মারফূ‘আতের পর মানসূবাতকে স্থান দেওয়ার হিকমত
কেন মারফূ‘আতের পরেই মানসূবাতের স্থান?
- (ক) আমেলের একমুখীনতা: মারফূ‘আত এবং মানসূবাত উভয়ে একই আমেলের (অর্থাৎ ফে‘লের) মা‘মূল হয়ে থাকে। যেমন: «ضَرَبَ زَيْدٌ عَمْرًا» বাক্যে ফে‘ল «ضَرَبَ» তার ফায়িল যায়েদকে রাফ‘ এবং মাফ‘উল আমরকে নাসব প্রদান করেছে।
- (খ) আমলের স্বাভাবিক পর্যায়ক্রম: ফে‘ল আমল করার ক্ষেত্রে প্রথমে ফায়িলকে তলব করে রাফ‘ দেয় এবং দ্বিতীয় ধাপে মাফ‘উলকে নাসব দেয়। আমেলের এই স্বাভাবিক ক্রম রক্ষার্থেই মুসান্নিফ মারফূ‘আতের পরেই মানসূবাত এনেছেন। আর মাজরূরাতকে শেষে রেখেছেন কারণ তার আমেল সম্পূর্ণ ভিন্ন (হরফে জার ও ইযাফত)।
১.২ মানসূবাতের তা'রীফ (تعريف)
মুসান্নিফ বলেন: «اَلْمَنْصُوبَاتُ: هُوَ مَا اشْتَمَلَ عَلَى عَلَمِ الْمَفْعُولِيَّةِ» — অর্থাৎ মানসূবাত হলো এমন ইসম, যা মাফ‘উলিয়্যাতের আলামত বা নসবের চিহ্ন ধারণ করে। এই নসবের আত্মপ্রকাশ ৩ ভাবে হয়ে থাকে[১]:
- (১) প্রকাশ্য নসব (لفظاً): যেমন—«رَأَيْتُ زَيْدًا»
- (২) অপ্রকাশ্য বা তাক্বদীরী নসব (تقديراً): যেমন—«رَأَيْتُ فَتًى»
- (৩) স্থানিক বা মহল্লী নসব (محلاً): যেমন—«رَأَيْتُ هٰؤُلَاءِ»
১.৩ «عَلَمُ الْمَفْعُولِيَّةِ» (নাসবের চিহ্ন)-এর ৪টি রূপ
- (ক) فتحة (যবর): মুফরাদ মুনসারিফ সহীহ, জারি মাজরা সহীহ, জমা মুকাসসার এবং গায়রে মুনসারিফের নসবী হালতে। যেমন: «رَأَيْتُ زَيْدًا، وَظَبْيًا، وَرِجَالًا، وَمَسَاجِدَ»
- (খ) كسرة (যের): جمع مؤنث سالم-এর নসবী হালতে যের হয়। যেমন: «رَأَيْتُ مُسْلِمَاتٍ»
- (গ) الف (আলিফ): আসমায়ে সিত্তাহ মুকাব্বারাহ-এর নসবী হালতে আলিফ হয়। যেমন: «رَأَيْتُ أَبَاكَ وَأَخَاكَ»
- (ঘ) ياء (ইয়া): তছনিয়া, জমা মুযাক্কার সালিম এবং এদের মুলহাক্বাতের নসবী হালতে ইয়া হয়। যেমন: «رَأَيْتُ مُسْلِمَيْنِ وَمُسْلِمِينَ»
২. দ্বিতীয় বিষয়: الْمَفْعُولُ الْمُطْلَقُ-এর তা'রীফ ও ফায়ায়েদে কুয়ুদ
২.১ লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ
- লুগাভী অর্থ: «اَلْمُطْلَقُ» শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ স্বাধীন, মুক্ত বা শর্তহীন।
- ইস্তিলাহী বা পারিভাষিক সংজ্ঞা:
«هُوَ اسْمُ مَا فَعَلَهُ فَاعِلُ فِعْلٍ مَذْكُورٍ بِمَعْنَاهُ»
মাফ‘ঊলে মুতলাক্ব হলো এমন কাজের নাম বা মাসদার, যা তার সমার্থবোধক পূর্বে উল্লেখিত কোনো ফে‘লের ফায়িল দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে।
২.২ ফে‘ল উল্লেখিত (مَذْكُور) হওয়ার ২ সুরত
- (ক) হাকীক্বীভাবে উল্লেখিত (لفظاً): যখন ফে‘লটি বাক্যে সুস্পষ্ট উচ্চারিত থাকে। যেমন: «ضَرَبْتُ ضَرْبًا» এবং «جَلَسْتُ جُلُوسًا»।
- (খ) হুকমীভাবে উল্লেখিত (تقديرًا): যখন ফে‘লটি উচ্চারণে মাহযুফ থাকে কিন্তু অর্থগতভাবে উপস্থিত থাকে। যেমন পবিত্র কুরআনের বাণী:﴿ فَضَرْبَ الرِّقَابِ ﴾যার মূল তাকদীর হলো: «فَاضْرِبُوا ضَرْبَ الرِّقَابِ»[২]।
২.৩ ফায়ায়েদে কুয়ুদ (সংজ্ঞার শর্তসমূহের বিশ্লেষণ)
- (ক) «اسْمُ مَا» (جنس): এটি সংজ্ঞার জিনস; এর মাধ্যমে সমস্ত মাসদার সংজ্ঞার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- (খ) «فَعَلَهُ فَاعِلُ فِعْلٍ مَذْكُورٍ» (فصل): এই শর্তের মাধ্যমে সাধারণ مفعول به বাদ পড়ে যায়। যেমন: «ضَرَبْتُ زَيْدًا»-এ যায়েদ প্রহারকারীর স্বয়ং কৃত কাজ নয়; বরং যার ওপর প্রহার পতিত হয়েছে সে ব্যক্তি। পক্ষান্তরে «ضَرْبًا» হলো স্বয়ং ফায়িলের নিজেরই সম্পাদিত কাজ।
৩. তৃতীয় বিষয়: وجهِ تسميه এবং মাফ‘ঊলে মুতলাক্বের শ্রেষ্ঠত্ব
৩.১ وجهِ تسميه (নামকরণের নিগূঢ় কারণ)
আরবি ভাষায় অন্যান্য সমস্ত মাফ‘ঊল কোনো না কোনো হরফে জারের বন্ধনে আবদ্ধ (مُقَيَّد) থাকে:
- (১) مفعول به: হরফে জার بـ-এর সাথে শর্তযুক্ত।
- (২) مفعول فيه: হরফে জার في-এর সাথে শর্তযুক্ত।
- (৩) مفعুল له: হরফে জার لـ-এর সাথে শর্তযুক্ত।
- (৪) مفعول معه: مع বা হরফে জার بـ-এর সাথে শর্তযুক্ত।
কিন্তু এই মাফ‘উলটি কোনো হরফে জারের শর্তের মুখাপেক্ষী নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিঃশর্ত। এজন্যই একে «مفعول مطلق» (শর্তমুক্ত মাফ‘উল) বলা হয়।
৩.২ পাঁচ মাফ‘ঊলের মধ্যে সর্বাগ্রে স্থান পাওয়ার কারণ
«اَلْمُطْلَقُ يُقَدَّمُ عَلَى الْمُقَيَّدِ»
ব্যাখ্যা: ব্যাকরণের স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হলো—শর্তমুক্ত (মুতলাক্ব) বিষয় শর্তযুক্ত (মুক্বাইয়্যাদ) বিষয়ের ওপর সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য। তাই মুসান্নিফ ৫টি মাফ‘ঊলের মধ্যে একে সবার শীর্ষে রেখেছেন।
৪. চতুর্থ বিষয়: مفعول مطلق ব্যবহারের ৩টি পদ্ধতি ও ক্বায়দা
মুসান্নিফ (রহ.) বলেন: «وَقَدْ يَكُونُ لِلتَّأْكِيدِ، وَالنَّوْعِ، وَالْعَدَدِ»। বাক্যে উদ্দেশ্যের ভিন্নতা অনুযায়ী মাফ‘ঊলে মুতলাক্ব মূলত ৩টি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে:
৪.১ لِلتَّأْكِيدِ (বাক্যে দৃঢ়তা ও তাকীদ সৃষ্টির জন্য)
ফে‘লের মূল অর্থ সম্পর্কে শ্রোতার মনের সকল সন্দেহ দূর করে কথাকে সুদৃঢ় করতে এই মাফ‘ঊল আনা হয়।
- দৃষ্টান্ত: «جَلَسْتُ جُلُوسًا» (আমি নিশ্চিতভাবেই বসেছি)।
- নাহভী হুকুম: তাকীদের মাফ‘ঊলে মুতলাক্ব কখনোই তছনিয়া বা জমা হতে পারে না («فَالْأَوَّلُ لَا يُثَنَّى وَلَا يُجْمَعُ»)। কারণ মূল ক্রিয়ার ভাব বা মাসদার একটি অখণ্ড সত্তা; তাকে সংখ্যায় রূপান্তর করা যায় না[৩]।
৪.২ لِلنَّوْعِ (কাজের ধরন ও প্রকার স্পষ্ট করার জন্য)
কাজটি কোন ভঙ্গিতে বা কেমন চালচলনে সম্পন্ন হয়েছে তা ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়। এটি চেনার প্রধান ২টি পদ্ধতি রয়েছে:
- (ক) মাসদারকে «فِعْلَة» (ফা-তে যের)-এর ওযনে এনে: যেমন—«جَلَسْتُ جِلْسَةَ الْقَارِئِ» (আমি ক্বারীর মতো বিনম্র ভঙ্গিতে বসলাম) অথবা «لَا تَمْشِ مِشْيَةَ الْمُخْتَالِ» (অহংকারীর মতো চালে হেঁটো না)।
- (খ) মাসদারের পর একটি সিফাত (বিশেষণ) যুক্ত করে: যেমন—«ضَرَبْتُ ضَرْبًا شَدِيدًا» (আমি তাকে মারাত্মক প্রহার করলাম)।
৪.৩ لِلْعَدَدِ (কাজের সংখ্যা ও পুনরাবৃত্তি প্রকাশের জন্য)
কাজটি কতবার সংঘটিত হয়েছে তা গণনা করতে এটি আসে। এটি চেনার ৩টি সুরত রয়েছে:
- (ক) মাসদারকে «فَعْلَة» (ফা-তে যবর)-এর ওযনে এনে: যেমন—«ضَرَبْتُ ضَرْبَةً» (আমি একবার প্রহার করেছি)।
- (খ) মাসদারকে تثنية বা جمع-এর সীগাহতে এনে: যেমন—«جَلَسْتُ جَلْسَتَيْنِ» (আমি দুইবার বসলাম) অথবা «جَلَسَاتٍ» (আমি বহুবার বসলাম)।
- (গ) মাসদারের পর সংখ্যাধিক্যের সিফাত এনে: যেমন—«ضَرَبْتُ ضَرْبًا كَثِيرًا» (আমি প্রচুরবার প্রহার করেছি)।
৪.৪ «بِخِلَافِ أَخَوَيْهِ»-এর তাৎপর্য
তছনিয়া ও জমার ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য:
মুসান্নিফ বলেছেন—তাকীদের মাফ‘উলে মুতলাক্ব তছনিয়া ও জমা হতে পারে না বটে; কিন্তু তার অপর দুই ভাই অর্থাৎ نوع (নও‘) এবং عدد (আদাদ)-এর মাফ‘ঊলে মুতলাক্ব অনায়াসেই তছনিয়া ও জমা হতে পারে। কারণ প্রকার বোঝাতে বৈচিত্র্য আসে এবং সংখ্যা বোঝাতে পুনরাবৃত্তি ঘটে (যেমন: «جَلْسَتَيْنِ» ও «جَلَسَاتٍ»)।
خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)
- ১. মানসূবাতের পরিচিতি: «مَا اشْتَمَلَ عَلَى عَلَمِ الْمَفْعُولِيَّةِ» — যা নসবের মূল ৪টি আলামত (فتحة, كسرة, الف, ياء) ধারণ করে।
- ২. مفعول مطلق-এর সংজ্ঞা: «اسْمُ مَا فَعَلَهُ فَاعِلُ فِعْلٍ مَذْكُورٍ بِمَعْنَاهُ» — পূর্বে উল্লেখিত সমার্থবোধক ফে‘লের ফায়িল দ্বারা বাস্তবায়িত কাজের নাম।
- ৩. অগ্রাধিকারের কারণ: অন্যান্য মাফ‘ঊল মুক্বাইয়্যাদ হলেও এটি সম্পূর্ণ মুক্ত (مطلق); আর المطلق يقدم على المقيد মূলনীতি অনুযায়ী এটিই মাফ‘ঊলসমূহের সরদার।
- ৪. ৩ সুরতের সারকথা:
- (ক) تأكيد: ফে‘লের অর্থকে সুদৃঢ় করা (যেমন: «جُلُوسًا»); এটি কখনো তছনিয়া বা জমা হয় না।
- (খ) نوع: কাজের ধরন বোঝানো («فِعْلَة» ওযনে যেমন: «جِلْسَةً», অথবা সিফাতযোগে যেমন: «ضَرْبًا شَدِيدًا»)।
- (গ) عدد: কাজের সংখ্যা বোঝানো («فَعْلَة» ওযনে যেমন: «ضَرْبَةً», অথবা তছনিয়া/জমা হয়ে যেমন: «جَلْسَتَيْنِ»)।