بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا وَنَبِيَّنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর প্রেরিত রাসূল।"
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
"আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" — (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সন্ধিক্ষণ হলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:)-এর এই ধরাধামে আগমন। তিনি এমন এক সময়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন যখন সমগ্র মানবজাতি নৈতিক, ধর্মীয় এবং সামাজিক অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল। আজকের এই দীর্ঘ গবেষণামূলক প্রবন্ধে আমরা জানব নবুওয়াত-পূর্ব বিশ্বের করুণ অবস্থা, নবীজির শুভ জন্ম, অলৌকিক ঘটনাবলী, তাঁর নিষ্কলঙ্ক যৌবন, হিলফুল ফুজুল এবং হেরা গুহায় ওহী লাভের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
১. আগমনপূর্ব বিশ্বের অবস্থা: জাহেলিয়াতের ঘোর অমানিশা
রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর আগমনের পূর্ববর্তী সময়কে ইসলামী ইতিহাসে ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা মূর্খতার যুগ বলা হয়। কিন্তু এই অজ্ঞতা কেবল আরবের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিল না; তৎকালীন রোমান (বাইজেন্টাইন) ও পারস্যের (সাসানীয়) মতো পরাশক্তিগুলোও রাজনৈতিক নিপীড়ন ও চরম নৈতিক স্খলনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল।
ক. নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের মূল্যায়ন
তৎকালীন আরবের পরিস্থিতি অনুধাবনে প্রাচ্যবিদ ও আধুনিক ঐতিহাসিকদের বিশ্লেষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
স্যার উইলিয়াম মুইর (Sir William Muir) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Life of Mahomet'-এ উল্লেখ করেন:
"মুহাম্মদের আগমনের প্রাক্কালে আরবের ধর্মীয় ও নৈতিক অবস্থা ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে। সেখানে কোনো কেন্দ্রীয় আইন ছিল না; গোত্রীয় যুদ্ধ, রক্তপাত ও প্রতিহিংসাই ছিল তৎকালীন স্বাভাবিক নিয়ম।"
ইতিহাসবিদ পি. কে. হিট্টি (Philip K. Hitti) তাঁর 'History of the Arabs' গ্রন্থে লিখেন:
"জাহেলি যুগের আরবদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তীব্র গোত্রীয় অন্ধ আনুগত্য (আসাবিয়্যাহ), মদ্যপান, জুয়া এবং কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো পৈশাচিক বর্বরতা।"
খ. সামাজিক অধঃপতন ও ‘ওয়াদুল বানাত’ (কন্যা সন্তান জীবন্ত দাফন)
জাহেলি যুগে নারীদের কোনো মানবিক মর্যাদা ছিল না। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করাকে বংশের জন্য চরম অপমানজনক ও দারিদ্র্যের কারণ মনে করা হতো। ফলে নির্মমভাবে জীবন্ত কন্যাসন্তানদের মাটিতে পুঁতে হত্যা করা হতো।
সাহাবী কায়েস ইবনে আসিম (রা:)-এর হৃদয়বিদারক ঘটনা:
বিখ্যাত সাহাবী হযরত কায়েস ইবনে আসিম আত-তামীমী (রা:) ইসলাম গ্রহণের পর নবীজি (সা:)-এর দরবারে এসে অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে স্বীকার করেন যে, জাহেলি যুগে তিনি নিজের হাতে তাঁর ১২টি (মতান্তরে ১৩টি) নিষ্পাপ কন্যাসন্তানকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে হত্যা করেছিলেন। তাঁর একটি কন্যাসন্তানকে যখন তিনি গর্তে ফেলছিলেন, অবোধ মেয়েটি তখনো খেলা মনে করে পিতার মুখে লেগে থাকা ধূলিবালি মুছিয়ে দিচ্ছিল! এই ঘটনা শুনে দয়ার নবী (সা:)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়েছিল এবং তিনি বলেছিলেন: "যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।"
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা এই পাশবিক মানসিকতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন:
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ
"যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে... সাবধান! তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় তা কতই না নিকৃষ্ট!" — (সূরা আন-নহল: ৫৮-৫৯)
গ. ধর্মীয় অবক্ষয় ও কাবার পৌত্তলিকতা
হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ:)-এর স্মৃতিবিজড়িত তাওহীদের প্রাণকেন্দ্র কাবাঘর পরিণত হয়েছিল মূর্তিপূজার আখড়ায়। কাবার চত্বরে ৩৬০টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। হাবল, লাত, মানাত ও উযযা নামক দেব-দেবীর পূজা করা হতো এবং আরবরা উলঙ্গ হয়ে কাবার চারপাশে শিষ ও তালি বাজিয়ে তাওয়াফ করত।
২. শুভ জন্ম ও অলৌকিক নিদর্শনাবলী (ইরহাক্বাত)
৫৭১ খ্রিষ্টাব্দের বসন্তকালে (পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসের সোমবার সকালে, ঐতিহাসিক হস্তীবর্ষে) মা আমিনার কোল আলোকিত করে ধরাধামে তাশরিফ আনেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)।
জন্মমুহূর্তের অলৌকিক নিদর্শনসমূহ:
নবীজি (সা:)-এর জন্মলগ্নে বিশ্বজুড়ে কুফর ও জুলুমের ভিত্তি কেঁপে ওঠার প্রমাণস্বরূপ বেশ কিছু অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশ পায়:
- আইওয়ানে কিসরার পতন: পারস্যের অগ্নিনির্ভর সাসানীয় সম্রাট নওশেরোয়ার সুরক্ষিত রাজপ্রাসাদের ১৪টি গম্বুজ/চূড়া বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে।
- অগ্নিশিখা নির্বাপণ: পারস্যের উপাসনালয়ে টানা এক হাজার বছর ধরে প্রজ্বলিত আগুন অলৌকিকভাবে নিভে যায়।
- সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাওয়া: রোম ও পারস্যের মধ্যবর্তী সুপ্রাচীন 'সাওয়া হ্রদ'-এর পানি এক রাতের ব্যবধানে শুকিয়ে যায়।
দুধমাতা হালিমা ও অলৌকিক বরকত
বেদুইন ঐতিহ্য অনুযায়ী বিশুদ্ধ ভাষা ও মরুভূমির উন্মুক্ত আবহাওয়ায় বৃদ্ধির জন্য শিশু মুহাম্মদ (সা:)-কে বনু সা'দ গোত্রের দুধমাতা হযরত হালীমা আস-সাদিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভাবী হালীমার ঘরে শিশু নবীজির আগমনের সাথে সাথেই শুষ্ক স্তন দুধে ভরে ওঠে, দুর্বল উট প্রচুর দুধ দিতে শুরু করে এবং তাঁর অনুর্বর চারণভূমিতে অভাবনীয় বরকত নেমে আসে।
ঐতিহাসিক বক্ষ বিদারণ (শক্বুল ছদর)
তাঁর বয়স যখন চার বা পাঁচ বছর, তখন একদিন খেলার মাঠে জিবরাঈল (আ:) এসে তাঁর বক্ষ বিদারণ করেন। সহীহ মুসলিমের ১৬২ নম্বর হাদিসে বর্ণিত রয়েছে—জিবরাঈল (আ:) তাঁর হৃদয় বের করে জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে ধৌত করেন এবং সেখান থেকে শয়তানের প্রভাবযুক্ত একটি রক্তপিণ্ড বের করে ফেলে দিয়ে ঈমান ও হিকমত দ্বারা বক্ষ পূর্ণ করে দেন।
৩. কৈশোর, যৌবন ও ‘আল-আমীন’ উপাধি লাভ
শৈশবেই পিতৃহীন, মাতৃহীন ও দাদাহীন হয়ে তিনি চাচা আবু তালিবের স্নেহে বড় হন। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি ছিলেন সততা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।
ক. রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধ ও 'হিলফুল ফুজুল' গঠন
কৈশোরে আরবের কুখ্যাত 'হারবুল ফিজার' (অন্যায় যুদ্ধ)-এর রক্তক্ষয়ী ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মুহাম্মদ (সা:)-এর হৃদয় ব্যথিত হয়। যুদ্ধের পর ইয়েমেনের এক অসহায় ব্যবসায়ীর পণ্য মক্কার প্রভাবশালী নেতা আস ইবনে ওয়ায়েল ছিনিয়ে নিলে মুহাম্মদ (সা:) শান্তিকামী যুবকদের সাথে নিয়ে গঠন করেন ‘হিলফুল ফুজুল’ (শান্তি সংঘ)।
তাঁদের মূল অঙ্গীকার ছিল: মক্কায় কোনো দেশি বা বিদেশি নাগরিকের ওপর অন্যায় হতে দেওয়া হবে না এবং মজলুমের অধিকার ছিনিয়ে দেওয়া হবে। নবুওয়াত লাভের পরও নবীজি বলতেন, ইসলামেও যদি কেউ এমন মহৎ কাজের ডাক দেয়, আমি তাতে অবশ্যই সাড়া দেব।
খ. ‘আল-আমীন’ স্বীকৃতি ও হাজরে আসওয়াদ স্থাপন
সমগ্র মক্কার মানুষ তাঁর অনুপম চরিত্র ও আমানতদারী দেখে তাঁকে একনামে ‘আল-আমীন’ (পরম বিশ্বস্ত) এবং ‘আস-সাদিক’ (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করে।
হাজরে আসওয়াদ পুনর্স্থাপনে অনন্য কূটনীতি:
নবীজির বয়স যখন ৩৫ বছর, তখন কাবার সংস্কার কাজ শেষে 'হাজরে আসওয়াদ' কে স্থাপন করবে—এ নিয়ে গোত্রগুলোর মধ্যে তলোয়ার যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সিদ্ধান্ত হয়, পরদিন ভোরে যিনি প্রথম কাবার চত্বরে প্রবেশ করবেন, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। সকালে মুহাম্মদ (সা:)-কে আসতে দেখে সবাই সমস্বরে উল্লাস করে বলে উঠল: "হাজা আল-আমীন, রাজিনা বিহি" (এই তো আল-আমীন, আমরা তাঁর সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট!)। নবীজি একটি চাদরে পাথর রেখে সব গোত্রপ্রধানকে দিয়ে চাদর ধরিয়ে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ থেকে আরব জাতিকে রক্ষা করেন।
৪. হযরত খাদিজা (রা:)-এর সাথে শুভ বিবাহ
মুহাম্মদ (সা:)-এর ব্যবসায়িক সততা ও চারিত্রিক পবিত্রতায় মুগ্ধ হয়ে মক্কার শীর্ষ ধনী ও সম্ভ্রান্ত নারী হযরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা:) তাঁকে নিজের বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে সিরিয়া যাওয়ার প্রস্তাব দেন। সিরিয়া সফরে খাদিজা (রা:)-এর বিশ্বস্ত দাস মায়সারার মাধ্যমে নবীজির অলৌকিক গুণাবলী প্রত্যক্ষ করে ৪০ বছর বয়সী খাদিজা (রা:) নিজেই ২৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ (সা:)-কে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান।
খাদিজা (রা:) ছিলেন নবীজির জীবনের শ্রেষ্ঠ মানসিক, আত্মিক ও অর্থনৈতিক সহায়। নবুওয়াতের কঠিন দিনগুলোতে তিনি পাহাড়ের মতো নবীজির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
৫. হেরা গুহায় ধ্যান ও নবুওয়াত লাভ
বয়স যখন চল্লিশের কাছাকাছি, তখন মুহাম্মদ (সা:) মক্কার মূর্তিপূজা ও পাপের পরিবেশ থেকে দূরে নির্জনতা পছন্দ করতে লাগলেন। তিনি মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে ‘জাবালে নূর’ পর্বতের চূড়ায় ‘হেরা গুহায়’ ছাতু ও পানি নিয়ে দিনরাত এক আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন।
প্রথম ওহী অবতরণের মহিমান্বিত দৃশ্য:
৬১০ খ্রিষ্টাব্দের রমজান মাসের এক বরকতময় কদরের রাতে প্রধান ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আ:) স্বরূপে হেরা গুহায় আবির্ভূত হয়ে বললেন, "পড়ুন!" নবীজি বললেন, "আমি পড়তে জানি না।" জিবরাঈল (আ:) তাঁকে তিনবার বুকে শক্তভাবে চেপে ধরে ছেড়ে দিয়ে পাঠ করলেন কুরআনের প্রথম পাঁচটি আয়াত:
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
"পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব মহামহিম; যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন—শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।" — (সূরা আল-আলাক্ব: ১-৫)
মানবিক ভয় ও হযরত খাদিজা (রা:)-এর ঐতিহাসিক সাক্ষ্য
ওহীর প্রচণ্ড ভারে প্রকম্পিত হৃদয়ে নবীজি (সা:) ঘরে ফিরে স্ত্রী খাদিজা (রা:)-কে বললেন: "زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي" (আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো!)। ভয় কিছুটা দূর হলে নবীজি নিজের জীবনের আশঙ্কার কথা জানালে হযরত খাদিজা (রা:) এক অমর সান্ত্বনা প্রদান করেন:
[support-banner]كَلَّا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ
"কখনই নয়! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপদস্থ করবেন না। কারণ— আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়-দরিদ্রের বোঝা নিজের কাঁধে বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, মেহমানের যথাযথ আপ্যায়ন করেন এবং বিপদে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে মানুষের সহায়তা করেন।" — (সহীহ আল-বুখারী: হাদিস ৩)
৬. সিরাতের এই পর্বের গভীর শিক্ষা ও সমকালীন বাস্তবায়ন
১. আত্মশুদ্ধি ও চারিত্রিক দৃঢ়তা
জাহেলি সমাজের চরম ব্যভিচার, মদ ও জুয়ার পরিবেশেও নিজেকে নিষ্কলঙ্ক রাখা সম্ভব, যদি আল্লাহর ওপর ভরসা থাকে।
২. সমাজসেবা ও মানবকল্যাণ
নবুওয়াত পাওয়ার আগেই নবীজি 'হিলফুল ফুজুল'-এ অংশ নিয়েছিলেন। আর্তপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো দাওয়াতের অন্যতম পূর্বশর্ত।
৩. সততাই দাওয়াতের মূল চাবিকাঠি
দাওয়াতের মূল ভিত্তি হলো আমানতদারী। কথার চেয়ে নিজের চারিত্রিক সততা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে।
সমাপনী মুনাজাত / দোয়া
হে আল্লাহ! আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর অনুপম চরিত্র থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের জীবনকে সুন্দর ও নিষ্কলঙ্ক করার তাওফীক দান করুন। আমাদের যুবসমাজকে সমস্ত অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে ‘আল-আমীন’-এর চরিত্রে গড়ে ওঠার শক্তি দিন। আমীন!
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন