المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"মারফূ‘আতের ৭ম প্রকার হলো «لَيْسَ»-এর সদৃশ ‘মা’ এবং ‘লা’ (مَا وَلَا الْمُشَبَّهَتَانِ بِـلَيْسَ)-এর ইসম। আর তা হলো এমন মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه), যা এই দুটি হরফ দাখিল হওয়ার পর অস্তিত্ব লাভ করে; যেমন: «مَا زَيْدٌ قَائِمًا» (যায়েদ দণ্ডায়মান নয়) এবং «لَا رَجُلٌ أَفْضَلَ مِنْكَ» (কোনো পুরুষ আপনার চেয়ে উত্তম নয়)। আর ‘লা’ (لَا)-এর ক্ষেত্রে এই সাদৃশ্য ও আমলটি বিরল বা শায (شَاذٌّ)।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত চারটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- مَا এবং لَا মুসাব্বাহা বি-লাইসার ইসমের তা'রীফ (تعريف), ফায়ায়েদে কুয়ুদ এবং তারকীবগত তাহকীক।
- «لَيْسَ»-এর সাথে এদের وجهِ مشابہت (সাদৃশ্যের ৩টি দিক) এবং আহলে হিজায ও বনু তামীম গোত্রের মাযহাব।
- «مَا» এবং «لَا»-এর মধ্যকার ৩টি মৌলিক ভাষাতাত্ত্বিক পার্থক্য।
- «وَهُوَ فِي لَا شَاذٌّ»-এর তাৎপর্য এবং কিতাবে মোট মারফূ‘আতের সংখ্যা সংক্রান্ত একটি সূক্ষ্ম ملاحظة।
প্রথম বিষয়: مَا ও لَا মুসাব্বাহা বি-লাইসার ইসমের তা'রীফ ও তারকীব
১. তা'রীফ ও ফায়ায়েদে কুয়ুদ:
(অর্থ: ‘লাইসা’-এর সদৃশ ‘মা’ ও ‘লা’-এর ইসম হলো এমন মুসনাদ ইলাইহি [مسند إليه], যা এই দুটি হরফ দাখিল হওয়ার পর গঠিত হয়।)
- «الْمُسْنَدُ إِلَيْهِ» (جنس): সমস্ত মুসনাদ ইলাইহি (যেমন: মুবতাদা, ফায়িল, নায়েবে ফায়িল, ইন্নার ইসম, কানার ইসম ইত্যাদি)-কে অন্তর্ভুক্ত করে।
- «بَعْدَ دُخُولِهِمَا» (فصل): এর দ্বারা মুবতাদা এবং অন্যান্য আমেলের মুসনাদ ইলাইহিগুলো বের হয়ে যায়; কারণ সেগুলো ‘মা’ ও ‘লা’ দাখিলের পূর্বে বা অন্য আমেল প্রবেশের কারণে গঠিত হয়।
আপত্তি: হরফ দুটি দাখিল হওয়ার পূর্বেও তো «زَيْدٌ» মুসনাদ ইলাইহি ছিল; তাহলে তা'রীফে «بَعْدَ دُخُولِهِمَا» কেন বলা হলো?
সমাধান: ‘মা’ ও ‘লা’ দাখিল হওয়ার পূর্বে তা মুবতাদা হিসেবে মুসনাদ ইলাইহি ছিল। কিন্তু এই হরফগুলো প্রবেশের পর পূর্বের ترکیب ও ইসনাদ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায় এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে এই হরফগুলোর ইসম হিসেবে একটি নতুন মুসনাদ ইলাইহি অস্তিত্ব লাভ করে।
২. দৃষ্টান্তসমূহের তারকীবগত বিশ্লেষণ:
- «مَا»: مَا মুসাব্বাহা বি-লাইসা (حرف نفي)।
- «زَيْدٌ»: ‘মা’-এর ইসম (মারফূ‘ / মুসনাদ ইলাইহি)।
- «قَائِمًا»: ‘মা’-এর খবর (মানসূব / মুসনাদ)।
- ‘মা’ তার ইসম ও খবরকে নিয়ে جملة اسمية خبرية হয়েছে।
- «لَا»: لَا মুসাব্বাহা বি-লাইসা (حرف نفي)।
- «رَجُلٌ»: ‘লা’-এর ইসম (মারফূ‘ / মুসনাদ ইলাইহি)।
- «أَفْضَلَ»: ইসমে তাফযীল (গায়রে মুনসারিফ হওয়ায় যেরের বদলে যবরপ্রাপ্ত), তার ভেতরের مستتر ফায়িল যমীর «هُوَ» এবং মুতা‘আল্লাক্ব «مِنْكَ»-কে নিয়ে ‘লা’-এর খবর (মানসূব)।
- ‘লা’ তার ইসম ও খবরকে নিয়ে جملة اسمية خبرية হয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়: «لَيْسَ»-এর সাথে সাদৃশ্যের ৩টি দিক ও মাযহাবসমূহ
মুসান্নিফ বলেছেন: «الْمُشَبَّهَتَيْنِ بِـ(لَيْسَ)» — এটি باب تفعيل থেকে اسم مفعول-এর تثنية مؤنث রূপ; অর্থাৎ ‘লাইসা’-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা দুটি হরফ।
ফে‘লে নাক্বিসা «لَيْسَ»-এর সাথে এই হরফদ্বয়ের সাদৃশ্যের ৩টি দিক:
- ১. معنىً (অর্থগত সাদৃশ্য): «لَيْسَ» যেমন কালামে নাফী বা নেতিবাচক অর্থ প্রকাশ করে, তেমনি «مَا» এবং «لَا»-ও নাফীর অর্থ প্রদান করে।
- ২. معمولاً (মা‘মূলগত সাদৃশ্য): «لَيْسَ» যেমন মুবতাদা ও খবরের ওপর দাখিল হয়ে তাদের যথাক্রমে নিজের ইসম ও খবর বানায়, তেমনি «مَا» এবং «لَا»-ও কেবল মুবতাদা ও খবরের ওপর দাখিল হয়।
- ৩. عملاً (আমলগত সাদৃশ্য): «لَيْسَ» যেমন ইসমকে রাফ‘ এবং খবরকে নাসব দেয়, তেমনি «مَا» এবং «لَا»-ও ইসমকে রাফ‘ এবং খবরকে নাসব প্রদান করে।
আমল সংক্রান্ত দুটি প্রাচীন আরব্য মাযহাব:
হিজাযবাসীদের মতে «مَا» এবং «لَا» উভয়টিই عامل (আমলকারী)। পবিত্র কুরআনুল কারীম আহলে হিজাযের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যেখানে ইরশাদ হয়েছে:
﴿مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ﴾ (সূরা আল-মুজাদালাহ: ২)
বনু তামীমের নিকট «مَا» এবং «لَا» কোনো আমল করে না (مهمل / غير عاملة)। তাঁদের মতে পূর্বের মুবতাদা ও খবরের ই‘রাবই অপরিবর্তিত থাকে। তাঁদের দলিল আরবের এক কবির পঙ্ক্তি:
তৃতীয় বিষয়: «مَا» এবং «لَا»-এর মধ্যকার ৩টি মৌলিক পার্থক্য
যদিও «مَا» এবং «لَا» উভয়েই মুবতাদা-খবরের আমেল এবং নাফীর অর্থ দেয়, তবুও এদের মাঝে ৩টি সূক্ষ্ম পার্থক্য বিদ্যমান:
«لَا»-এর ইসম সর্বদা نكرة হতে হবে (যেমন: «لَا رَجُلٌ أَفْضَلَ مِنْكَ»), কখনোই معرفة হতে পারবে না («لَا زَيْدٌ قَائِمًا» বলা নাজায়েয)। পক্ষান্তরে «مَا»-এর ইসম معرفة ও نكرة উভয়টিই হতে পারে (যেমন: «مَا زَيْدٌ قَائِمًا» এবং «مَا رَجُلٌ أَفْضَلَ مِنْكَ»)।
«مَا» কেবল বর্তমান কালের নাফী বা نفيِ حال-এর জন্য খাস (যেমন: «مَا زَيْدٌ قَائِمًا» অর্থ—যায়েদ বর্তমানে দাঁড়ানো নয়)। পক্ষান্তরে «لَا» অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—যেকোনো কালের مطلق نفي (সাধারণ অস্বীকৃতি)-এর জন্য ব্যবহৃত হয়।
«مَا»-এর খবরের শুরুতে তাকীদের জন্য অতিরিক্ত হরফে জার «بَاء زائدة» প্রবেশ করা জায়েয (যেমন: «مَا زَيْدٌ بِقَائِمٍ»)। কিন্তু «لَا»-এর খবরের শুরুতে باء زائدة দাখিল করা নাজায়েয (যেমন: «لَا رَجُلٌ بِأَفْضَلَ مِنْكَ» বলা অশুদ্ধ)।
চতুর্থ বিষয়: «وَهُوَ فِي لَا شَاذٌّ» এবং মারফূ‘আতের সংখ্যা
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَهُوَ فِي (لَا) شَاذٌّ»।
তারকীব: «فِي لَا» হলো খবর মুকাদ্দাম এবং «شَاذٌّ» হলো মুবতাদায়ে মুয়াখখার; যার দ্বারা حصر (সীমাবদ্ধতা) প্রকাশ পায়।
অর্থ ও হিকমত: ‘লাইসা’-এর সাথে আমলগত সাদৃশ্য কেবল «لَا»-এর ক্ষেত্রেই বিরল বা শায (شاذ)। কারণ «لَيْسَ» আসে বর্তমান কালের নাফীর জন্য (نفي حال), আর «مَا»-ও আসে نفي حال-এর জন্য; ফলে ‘মা’-এর সাথে ‘লাইসা’-এর পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান। কিন্তু «لَا» আসে مطلق نفي-এর জন্য; তাই ‘লাইসা’-এর সাথে ‘লা’-এর সাদৃশ্য অসম্পূর্ণ। এই দুর্বল সাদৃশ্য সত্ত্বেও ‘লা’-কে ‘লাইসা’-এর ন্যায় আমল দেওয়া একটি বিরল বা শায সুরত।
জরুরি ملاحظة (মারফূ‘আতের সংখ্যা সংক্রান্ত اشکال ও সমাধান):
আপত্তি: আরবি ব্যাকরণে মারফূ‘আত তো সর্বমোট ৮টি। কিন্তু মুসান্নিফ কিতাবে ৭টি উল্লেখ করে ইতি টানলেন কেন? (১. فاعل, ২. مفعول ما لم يسم فاعله, ৩. مبتدأ, ৪. خبر, ৫. خبر إنّ, ৬. خبر لا نفي جنس, ৭. اسم ما ولا المشبهتان بليس। তবে «اسم كان وأخواتها» বাদ গেল কেন?)।
মুসান্নিফ যখন এখানে শাখা অর্থাৎ مشبَّه (‘মা’ ও ‘লা’-এর ইসম)-কে মারফূ‘আতের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করলেন, তখন মূল অর্থাৎ مشبَّه به (আফ‘আলে নাক্বিসা তথা ‘কানা ও তার ভগ্নীদের ইসম’) যে মারফূ‘আত হবে—তা دلالتِ التزامی (অনিবার্য যৌক্তিক দাবি)-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয়ে গেছে। তাই বাহুল্য পরিহারের স্বার্থে মুসান্নিফ সংক্ষেপে কিতাব শেষ করেছেন।
📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)
«الْمُسْنَدُ إِلَيْهِ بَعْدَ دُخُولِهِمَا» — অর্থাৎ «لَيْسَ»-এর সদৃশ ‘মা’ ও ‘লা’ দাখিল হওয়ার পর যে নতুন মুসনাদ ইলাইহি গঠিত হয়।
- معنىً: নাফী বা অস্বীকৃতির অর্থ প্রকাশ করা।
- معمولاً: মুবতাদা ও খবরের ওপর দাখিল হওয়া।
- عملاً: ইসমকে রাফ‘ এবং খবরকে নাসব দেওয়া।
• আহলে হিজায (রাজেহ): ‘মা’ ও ‘লা’ উভয়েই আমলকারী (কুরআনের দলিল: ﴿مَا هَٰذَا بَشَرًا﴾)।
• বনু তামীম: হরফ দুটি আমলহীন (مهمل)।
- «لَا»-এর ইসম কেবল نكرة হয়; «مَا»-এর ইসম معرفة ও نكرة উভয়টি হতে পারে।
- «مَا» কেবল نفي حال-এর জন্য; «لَا» হলো مطلق نفي-এর জন্য।
- «مَا»-এর খবরে باء زائدة আসতে পারে («مَا زَيْدٌ بِقَائِمٍ»); «لَا»-এর খবরে আসতে পারে না।
‘লা’-এর মধ্যে কালের সাদৃশ্য না থাকায় ‘লাইসা’-এর মতো এর আমল হওয়া বিরল বা শায।
মুসান্নিফ ‘মা’ ও ‘লা’-এর ইসম উল্লেখ করার মাধ্যমে دلالت التزامی-এর ভিত্তিতে মূল আফ‘আলে নাক্বিসার ইসমকেও অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন