المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"মারফূ‘আতের ৫ম প্রকার হলো «إِنَّ» এবং তার ভগ্নীদের খবর (خَبَرُ إِنَّ وَأَخَوَاتِهَا)। আর তা হলো এমন মুসনাদ (مسند), যা এই হরফগুলো দাখিল হওয়ার পর গঠিত হয়; যেমন: «إِنَّ زَيْدًا قَائِمٌ»। আর এর বিধানাবলী হুবহু মুবতাদার খবরের বিধানাবলীর মতোই; তবে এই হরফগুলোর খবরকে তার ইসমের ওপর মুকাদ্দাম করা জায়েয নয়—ব্যতীত যদি খবরটি ‘যারফ’ (ظرف বা যার-মাজরূর) হয়।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- حروف مشبهة بالفعل-এর পরিচয়, নামকরণের কারণ (وجہِ تسمیہ) এবং ফে‘লের সাথে এদের সাদৃশ্যের ৪টি মৌলিক দিক।
- خَبَرُ إِنَّ-এর তা'রীফ (تعريف) এবং ফায়ায়েদে কুয়ুদ।
- خَبَرُ إِنَّ-এর সাথে মুবতাদার খবরের বিধানগত সাদৃশ্য এবং খবরের তাক্বদীমে যারফের বিশেষ প্রশস্ততা।
প্রথম বিষয়: حروف مشبهة بالفعل এবং এদের وجهِ مشابہت
মারফূ‘আতের ৫ম প্রকার হলো حروف مشبهة بالفعل-এর খবর। এই হরফগুলো সর্বমোট ৬টি: «إِنَّ، أَنَّ، كَأَنَّ، لٰكِنَّ، لَيْتَ، لَعَلَّ»।
ফার্সি কবিতায় এদের আমল:
ফে‘লের সাথে এই হরফগুলোর সাদৃশ্যের ৪টি মৌলিক দিক (وجوهِ مشابہت):
আরবি ভাষায় ক্রিয়া বা ফে‘ল যেমন তিন অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي) অথবা চার অক্ষরবিশিষ্ট (رباعي) হয়ে থাকে; অনুরূপভাবে এই হরফগুলোর কোনোটি ثلاثي (যেমন: «إِنَّ»، «أَنَّ»، «لَيْتَ») এবং কোনোটি رباعي (যেমন: «كَأَنَّ»، «لٰكِنَّ»، «لَعَلَّ»)।
প্রতিটি হরফ কোনো না কোনো ফে‘লের ওযনে সুনির্দিষ্ট:
প্রতিটি হরফ একটি সুনির্দিষ্ট ফে‘লের অর্থ প্রকাশ করে এবং ফে‘লের মতো এদের শেষাক্ষরও ফাতহাহ/যবরযুক্ত (مبني على الفتح):
- «إِنَّ» এবং «أَنَّ» অর্থ দেয় «حَقَّقْتُ» (আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলাম)।
- «كَأَنَّ» অর্থ দেয় «شَبَّهْتُ» (আমি উপমা দিলাম)।
- «لٰكِنَّ» অর্থ দেয় «اسْتَدْرَكْتُ» (আমি সংশয় দূর করলাম)।
- «لَيْتَ» অর্থ দেয় «تَمَنَّيْتُ» (আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম)।
- «لَعَلَّ» অর্থ দেয় «تَرَجَّيْتُ» (আমি প্রত্যাশা করলাম)।
ফে‘ল যেমন দুটি ইসমের মধ্যে আমল করে (فاعل-কে রাফ‘ এবং مفعول-কে নাসব দেয়), তেমনি এই হরফগুলোও দুটি ইসমের মধ্যে আমল করে—মুবতাদাকে নিজের ইসম বানিয়ে নসব দেয় এবং খবরকে নিজের খবর বানিয়ে রাফ‘ দেয়।
আমল সংক্রান্ত মাযহাব ও একটি সূক্ষ্ম اشکال ও সমাধান:
- বসরী আলেমগণের মাযহাব (জুমহূর): এই হরফগুলো সরাসরি ইসমকে নসব এবং খবরকে রাফ‘ প্রদান করে।
- কূফী আলেমগণের মাযহাব: এই হরফগুলো কেবল ইসমে আমল করে নসব দেয়; খবর তার পূর্বের মতো ‘মুবতাদার খবর’ হিসেবেই মারফূ‘ থাকে।
আপত্তি: ফে‘ল তো প্রথমে فاعل-কে রাফ‘ দেয় এবং পরে مفعول-কে নসব দেয়। কিন্তু এই হরফগুলো তার উল্টো আমল করে কেন (প্রথমে নসব এবং পরে রাফ‘ দেয় কেন)?
সমাধান: ফে‘ল হলো আমলের ক্ষেত্রে মূল বা اصل, আর এই হরফগুলো হলো তার শাখা বা فرع। যদি শাখা হুবহু মূলের মতোই আমল করত, তবে اصل ও فرع-এর মাঝে কোনো পার্থক্য অবশিষ্ট থাকত না। তাই মূল ও শাখার মাঝে সুস্পষ্ট ব্যবধান বজায় রাখতেই এদের আমলকে ফে‘লের বিপরীত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়: خَبَرُ إِنَّ-এর তা'রীফ ও ফায়ায়েদে কুয়ুদ
মুসান্নিফ কিতাবে খবরের তা'রীফ বয়ান করেছেন:
(অর্থ: ইন্না ও তার ভগ্নীদের খবর হলো এমন মুসনাদ [مسند], যা এই হরফগুলো দাখিল হওয়ার পর অস্তিত্ব লাভ করে। যেমন: «إِنَّ زَيْدًا قَائِمٌ»-এ قائم)।
- «الْمُسْنَدُ» (جنس): এর মাধ্যমে সমস্ত মুসনাদ (যেমন: মুবতাদার খবর, আফ‘আলে নাক্বিসার খবর, লা-নাফিয়ে জিন্সের খবর ইত্যাদি) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়।
- «بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ» (فصل): এর দ্বারা মুবতাদার খবর এবং অন্যান্য সমস্ত খবর বের হয়ে যায়; কারণ সেগুলো এই হরফগুলোর প্রবেশের পূর্বে বা অন্য আমেল প্রবেশের কারণে গঠিত হয়।
আপত্তি: হরফগুলো দাখিল হওয়ার পূর্বেও তো «زَيْدٌ قَائِمٌ»-এ «قَائِمٌ» মুসনাদ ছিল; তাহলে তা'রীফে «بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ» কেন বলা হলো?
সমাধান: হরফগুলো প্রবেশের পূর্বে তা মুবতাদার খবর হিসেবে মুসনাদ ছিল। কিন্তু এই হরফগুলো প্রবেশের পর পূর্বের ترکیب ও ইসনাদ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায় এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে এই হরফগুলোর خبر হিসেবে একটি নতুন মুসনাদ গঠিত হয়।
তৃতীয় বিষয়: خَبَرُ إِنَّ-এর আহকাম এবং যারফের তাক্বদীম
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَأَمْرُهُ كَأَمْرِ خَبَرِ الْمُبْتَدَأِ»। অর্থাৎ মুবতাদার খবরের যে ৫টি মৌলিক ক্বায়দা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তা ইন্নার খবরের ক্ষেত্রেও হুবহু প্রযোজ্য:
খবরের তাক্বদীম সংক্রান্ত মৌলিক বিধান ও তার ব্যতিক্রম:
ইবারত: «إِلَّا فِي تَقْدِيمِهِ، إِلَّا إِذَا كَانَ ظَرْفًا»
সাধারণ বিধান (তাক্বদীম নাজায়েয হওয়া):
حروف مشبهة بالفعل-এর খবরকে তার ইসমের ওপর মুকাদ্দাম করা সাধারণ অবস্থায় সম্পূর্ণ নাজায়েয (যেমন: «إِنَّ قَائِمٌ زَيْدًا» বলা যাবে না)।
কারণ: এই হরফগুলো আমলের ক্ষেত্রে ফে‘লের শাখা (فرع)। আর শাখার আমল অত্যন্ত দুর্বল হয়। তাই তাদের ইসম ও খবর নিজেদের স্বাভাবিক ترتيب (ধারাবাহিকতা)-এ থাকলেই কেবল এরা আমল করতে পারে; ধারাবাহিকতা উল্টে দিলে এদের আমল বাতিল হয়ে যায়।
খবরটি যদি ظرف বা جار و مجرور হয়, তবে তাকে ইসমের পূর্বে আনা জায়েয ও ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াজিব:
-
১. তাক্বদীম জায়েয হওয়ার সুরত: যখন ইসমটি معرفة হয়। যেমন কুরআনের আয়াত:
﴿إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ﴾ (সূরা আল-গাশিয়াহ: ২৫)
(এখানে «إِلَيْنَا» যার-মাজরূর খবরটি মা‘রিফাহ ইসম «إِيَابَهُمْ»-এর পূর্বে আনা জায়েয হয়েছে)। -
২. তাক্বদীম ওয়াজিব হওয়ার সুরত: যখন ইসমটি نكرة হয়। যেমন কুরআনের আয়াত:
﴿إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا وَجَحِيمًا﴾ (সূরা আল-মুযযাম্মিল: ১২)
(এখানে «أَنكَالًا» নাকিরাহ হওয়ায় যারফ খবর «لَدَيْنَا»-কে পূর্বে আনা ওয়াজিব হয়েছে)। অনুরূপ হাদীসে এসেছে: «إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ لَحِكْمَةً»।
যারফের এই বিশেষ প্রশস্ততার কারণ (توسع في الظرف):
আরবি ব্যাকরণে একটি সুবিদিত ক্বায়দা রয়েছে:
যৌক্তিক কারণ: বাস্তব জগতে যেকোনো কাজ বা অস্তিত্ব প্রকাশিত হতে হলে অবশ্যই কোনো না কোনো সময় (زمان) বা স্থান (مكان)-এর প্রয়োজন হয়; কোনো ঘটনাই যারফ ছাড়া ঘটতে পারে না। যারফের এই সর্বজনীন অপরিহার্যতা ও প্রশস্ততার কারণেই দুর্বল আমেলের ক্ষেত্রেও যারফকে পূর্বে আসার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)
«الْمُسْنَدُ بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ» — অর্থাৎ حروف مشبهة بالفعل দাখিল হওয়ার পর যে নতুন মুসনাদ গঠিত হয়।
- وضعاً: তিন ও চার অক্ষরবিশিষ্ট হওয়া।
- وزناً: ফে‘লের ওযনে আসা (যেমন: «إِنَّ» = «فَرَّ»)।
- معنىً: ফে‘লের অর্থ ধারণ করা এবং مبني على الفتح হওয়া।
- عملاً: দুটি ইসমে আমল করা (ইসমকে নসব ও খবরকে রাফ‘ দেওয়া)।
জুমলাহ হওয়া, মাহযুফ হওয়া, যারফের মুতা‘আল্লাক্ব হওয়া, একাধিক খবর হওয়া এবং فاء দাখিল হওয়া—সব ক্ষেত্রে মুবতাদার খবরের মতোই।
• সাধারণ ইসম হলে: খবরকে ইসমের পূর্বে আনা সম্পূর্ণ নাজায়েয (কারণ হরফগুলো দুর্বল আমেল)।
• যারফ বা যার-মাজরূর হলে:
- ইসম معرفة হলে তাক্বদীম জায়েয (﴿إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ﴾)।
- ইসম نكرة হলে তাক্বদীম ওয়াজিব (﴿إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا﴾)।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন