হোম আরবি ব্যাকরণ দরস (৪৫) : ইন্না ও তার ভগ্নীদের খবর (খাবারু ইন্না), ফে‘লের সাথে সাদৃশ্য ও যারফের তাক্বদীম | দরসে কাফিয়া

দরস (৪৫) : ইন্না ও তার ভগ্নীদের খবর (খাবারু ইন্না), ফে‘লের সাথে সাদৃশ্য ও যারফের তাক্বদীম | দরসে কাফিয়া

২৩ আগস্ট, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
আরবি ব্যাকরণ ইন্নার খবর ইলমে নাহব দরসে কাফিয়া Kafiya Dars 45
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
موضوع (মূল বিষয়) مرفوعات-এর পঞ্চম প্রকার: خَبَرُ إِنَّ وَأَخَوَاتِهَا-এর তা'রীফ, حروف مشبهة بالفعل-এর وجهِ مشابہت, খবরের আহকাম এবং যারফের তাক্বদীম সংক্রান্ত মাসায়েল
المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
«خَبَرُ (إِنَّ) وَأَخَوَاتِهَا: هُوَ الْمُسْنَدُ بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ، مِثْلُ: إِنَّ زَيْدًا قَائِمٌ، وَأَمْرُهُ كَأَمْرِ خَبَرِ الْمُبْتَدَأِ إِلَّا فِي تَقْدِيمِهِ، إِلَّا إِذَا كَانَ ظَرْفًا.»

শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"মারফূ‘আতের ৫ম প্রকার হলো «إِنَّ» এবং তার ভগ্নীদের খবর (خَبَرُ إِنَّ وَأَخَوَاتِهَا)। আর তা হলো এমন মুসনাদ (مسند), যা এই হরফগুলো দাখিল হওয়ার পর গঠিত হয়; যেমন: «إِنَّ زَيْدًا قَائِمٌ»। আর এর বিধানাবলী হুবহু মুবতাদার খবরের বিধানাবলীর মতোই; তবে এই হরফগুলোর খবরকে তার ইসমের ওপর মুকাদ্দাম করা জায়েয নয়—ব্যতীত যদি খবরটি ‘যারফ’ (ظرف বা যার-মাজরূর) হয়।"

[toc]

দরসের রূপরেখা (تشریح)

আজকের দরসে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:

  1. حروف مشبهة بالفعل-এর পরিচয়, নামকরণের কারণ (وجہِ تسمیہ) এবং ফে‘লের সাথে এদের সাদৃশ্যের ৪টি মৌলিক দিক।
  2. خَبَرُ إِنَّ-এর তা'রীফ (تعريف) এবং ফায়ায়েদে কুয়ুদ।
  3. خَبَرُ إِنَّ-এর সাথে মুবতাদার খবরের বিধানগত সাদৃশ্য এবং খবরের তাক্বদীমে যারফের বিশেষ প্রশস্ততা।

প্রথম বিষয়: حروف مشبهة بالفعل এবং এদের وجهِ مشابہت

মারফূ‘আতের ৫ম প্রকার হলো حروف مشبهة بالفعل-এর খবর। এই হরফগুলো সর্বমোট ৬টি: «إِنَّ، أَنَّ، كَأَنَّ، لٰكِنَّ، لَيْتَ، لَعَلَّ»।

ফার্সি কবিতায় এদের আমল:

إِنَّ، أَنَّ، كَأَنَّ، لٰكِنَّ، لَيْتَ، لَعَلْ ... نَاصِبِ اسْمَنْدْ وَ رَافِعْ دَرْ خَبَرْ ضِدِّ عَمَلْ

ফে‘লের সাথে এই হরফগুলোর সাদৃশ্যের ৪টি মৌলিক দিক (وجوهِ مشابہت):

১. وضعاً (গঠনগত সাদৃশ্য):

আরবি ভাষায় ক্রিয়া বা ফে‘ল যেমন তিন অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي) অথবা চার অক্ষরবিশিষ্ট (رباعي) হয়ে থাকে; অনুরূপভাবে এই হরফগুলোর কোনোটি ثلاثي (যেমন: «إِنَّ»، «أَنَّ»، «لَيْتَ») এবং কোনোটি رباعي (যেমন: «كَأَنَّ»، «لٰكِنَّ»، «لَعَلَّ»)।

২. وزناً (ছন্দ ও ওযনগত সাদৃশ্য):

প্রতিটি হরফ কোনো না কোনো ফে‘লের ওযনে সুনির্দিষ্ট:

• «إِنَّ» এসেছে «فَرَّ»-এর ওযনে।
• «أَنَّ» এসেছে «مَدَّ»-এর ওযনে।
• «كَأَنَّ» এসেছে «خَرَجْنَ»-এর ওযনে।
• «لٰكِنَّ» এসেছে «ضَارَبْنَ»-এর ওযনে।
• «لَعَلَّ» এসেছে «دَحْرَجَ»-এর ওযনে।
• «لَيْتَ» এসেছে «عَلِمَ»-এর ওযনে।
৩. معنىً (অর্থগত সাদৃশ্য):

প্রতিটি হরফ একটি সুনির্দিষ্ট ফে‘লের অর্থ প্রকাশ করে এবং ফে‘লের মতো এদের শেষাক্ষরও ফাতহাহ/যবরযুক্ত (مبني على الفتح):

  • «إِنَّ» এবং «أَنَّ» অর্থ দেয় «حَقَّقْتُ» (আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলাম)।
  • «كَأَنَّ» অর্থ দেয় «شَبَّهْتُ» (আমি উপমা দিলাম)।
  • «لٰكِنَّ» অর্থ দেয় «اسْتَدْرَكْتُ» (আমি সংশয় দূর করলাম)।
  • «لَيْتَ» অর্থ দেয় «تَمَنَّيْتُ» (আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম)।
  • «لَعَلَّ» অর্থ দেয় «تَرَجَّيْتُ» (আমি প্রত্যাশা করলাম)।
৪. عملاً (আমলগত সাদৃশ্য):

ফে‘ল যেমন দুটি ইসমের মধ্যে আমল করে (فاعل-কে রাফ‘ এবং مفعول-কে নাসব দেয়), তেমনি এই হরফগুলোও দুটি ইসমের মধ্যে আমল করে—মুবতাদাকে নিজের ইসম বানিয়ে নসব দেয় এবং খবরকে নিজের খবর বানিয়ে রাফ‘ দেয়।

আমল সংক্রান্ত মাযহাব ও একটি সূক্ষ্ম اشکال ও সমাধান:

  • বসরী আলেমগণের মাযহাব (জুমহূর): এই হরফগুলো সরাসরি ইসমকে নসব এবং খবরকে রাফ‘ প্রদান করে।
  • কূফী আলেমগণের মাযহাব: এই হরফগুলো কেবল ইসমে আমল করে নসব দেয়; খবর তার পূর্বের মতো ‘মুবতাদার খবর’ হিসেবেই মারফূ‘ থাকে।

আপত্তি: ফে‘ল তো প্রথমে فاعل-কে রাফ‘ দেয় এবং পরে مفعول-কে নসব দেয়। কিন্তু এই হরফগুলো তার উল্টো আমল করে কেন (প্রথমে নসব এবং পরে রাফ‘ দেয় কেন)?

সমাধান: ফে‘ল হলো আমলের ক্ষেত্রে মূল বা اصل, আর এই হরফগুলো হলো তার শাখা বা فرع। যদি শাখা হুবহু মূলের মতোই আমল করত, তবে اصلفرع-এর মাঝে কোনো পার্থক্য অবশিষ্ট থাকত না। তাই মূল ও শাখার মাঝে সুস্পষ্ট ব্যবধান বজায় রাখতেই এদের আমলকে ফে‘লের বিপরীত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয়: خَبَرُ إِنَّ-এর তা'রীফ ও ফায়ায়েদে কুয়ুদ

মুসান্নিফ কিতাবে খবরের তা'রীফ বয়ান করেছেন:

«خَبَرُ إِنَّ وَأَخَوَاتِهَا: هُوَ الْمُسْنَدُ بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ»

(অর্থ: ইন্না ও তার ভগ্নীদের খবর হলো এমন মুসনাদ [مسند], যা এই হরফগুলো দাখিল হওয়ার পর অস্তিত্ব লাভ করে। যেমন: «إِنَّ زَيْدًا قَائِمٌ»-এ قائم)।

  • «الْمُسْنَدُ» (جنس): এর মাধ্যমে সমস্ত মুসনাদ (যেমন: মুবতাদার খবর, আফ‘আলে নাক্বিসার খবর, লা-নাফিয়ে জিন্‌সের খবর ইত্যাদি) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • «بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ» (فصل): এর দ্বারা মুবতাদার খবর এবং অন্যান্য সমস্ত খবর বের হয়ে যায়; কারণ সেগুলো এই হরফগুলোর প্রবেশের পূর্বে বা অন্য আমেল প্রবেশের কারণে গঠিত হয়।
একটি اشکال ও সমাধান:

আপত্তি: হরফগুলো দাখিল হওয়ার পূর্বেও তো «زَيْدٌ قَائِمٌ»-এ «قَائِمٌ» মুসনাদ ছিল; তাহলে তা'রীফে «بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ» কেন বলা হলো?
সমাধান: হরফগুলো প্রবেশের পূর্বে তা মুবতাদার খবর হিসেবে মুসনাদ ছিল। কিন্তু এই হরফগুলো প্রবেশের পর পূর্বের ترکیب ও ইসনাদ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায় এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে এই হরফগুলোর خبر হিসেবে একটি নতুন মুসনাদ গঠিত হয়।

তৃতীয় বিষয়: خَبَرُ إِنَّ-এর আহকাম এবং যারফের তাক্বদীম

মুসান্নিফ বলেছেন: «وَأَمْرُهُ كَأَمْرِ خَبَرِ الْمُبْتَدَأِ»। অর্থাৎ মুবতাদার খবরের যে ৫টি মৌলিক ক্বায়দা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তা ইন্নার খবরের ক্ষেত্রেও হুবহু প্রযোজ্য:

১. খবর জুমলাহ হওয়া: যেমন কুরআনে আছে: ﴿إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ﴾ — এখানে جملة فعلية «أَنزَلْنَاهُ» ইন্নার খবর হয়েছে।
২. খবর মাহযুফ হওয়া: যেমন: «إِنَّ السَّمْنَ مَنَوَانِ بِدِرْهَمٍ» (এখানে «مِنْهُ» মাহযুফ)।
৩. খবরের মুতা‘আল্লাক্ব নির্ধারণ: যেমন: «إِنَّ فِي الدَّارِ زَيْدًا» (এখানে মাহযুফ ফে‘ল «اسْتَقَرَّ» মুতা‘আল্লাক্ব)।
৪. খবরের তাকাদ্দুদ (تعدد خبر): যেমন: «إِنَّ زَيْدًا عَاقِلٌ صَادِقٌ عَالِمٌ»।
৫. খবরের শুরুতে فاء প্রবেশ করা: যেমন কুরআনে আছে: ﴿إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ... فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ﴾।

খবরের তাক্বদীম সংক্রান্ত মৌলিক বিধান ও তার ব্যতিক্রম:

ইবারত: «إِلَّا فِي تَقْدِيمِهِ، إِلَّا إِذَا كَانَ ظَرْفًا»

সাধারণ বিধান (তাক্বদীম নাজায়েয হওয়া):
حروف مشبهة بالفعل-এর খবরকে তার ইসমের ওপর মুকাদ্দাম করা সাধারণ অবস্থায় সম্পূর্ণ নাজায়েয (যেমন: «إِنَّ قَائِمٌ زَيْدًا» বলা যাবে না)।
কারণ: এই হরফগুলো আমলের ক্ষেত্রে ফে‘লের শাখা (فرع)। আর শাখার আমল অত্যন্ত দুর্বল হয়। তাই তাদের ইসম ও খবর নিজেদের স্বাভাবিক ترتيب (ধারাবাহিকতা)-এ থাকলেই কেবল এরা আমল করতে পারে; ধারাবাহিকতা উল্টে দিলে এদের আমল বাতিল হয়ে যায়।

ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) — খবর ‘যারফ’ বা ‘যার-মাজরূর’ হলে:

খবরটি যদি ظرف বা جار و مجرور হয়, তবে তাকে ইসমের পূর্বে আনা জায়েয ও ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াজিব:

  • ১. তাক্বদীম জায়েয হওয়ার সুরত: যখন ইসমটি معرفة হয়। যেমন কুরআনের আয়াত:
    ﴿إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ﴾ (সূরা আল-গাশিয়াহ: ২৫)
    (এখানে «إِلَيْنَا» যার-মাজরূর খবরটি মা‘রিফাহ ইসম «إِيَابَهُمْ»-এর পূর্বে আনা জায়েয হয়েছে)।
  • ২. তাক্বদীম ওয়াজিব হওয়ার সুরত: যখন ইসমটি نكرة হয়। যেমন কুরআনের আয়াত:
    ﴿إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا وَجَحِيمًا﴾ (সূরা আল-মুযযাম্মিল: ১২)
    (এখানে «أَنكَالًا» নাকিরাহ হওয়ায় যারফ খবর «لَدَيْنَا»-কে পূর্বে আনা ওয়াজিব হয়েছে)। অনুরূপ হাদীসে এসেছে: «إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ لَحِكْمَةً»।

যারফের এই বিশেষ প্রশস্ততার কারণ (توسع في الظرف):

আরবি ব্যাকরণে একটি সুবিদিত ক্বায়দা রয়েছে:

«يُتَوَسَّعُ فِي الظَّرْفِ مَا لَا يُتَوَسَّعُ فِي غَيْرِهِ»

যৌক্তিক কারণ: বাস্তব জগতে যেকোনো কাজ বা অস্তিত্ব প্রকাশিত হতে হলে অবশ্যই কোনো না কোনো সময় (زمان) বা স্থান (مكان)-এর প্রয়োজন হয়; কোনো ঘটনাই যারফ ছাড়া ঘটতে পারে না। যারফের এই সর্বজনীন অপরিহার্যতা ও প্রশস্ততার কারণেই দুর্বল আমেলের ক্ষেত্রেও যারফকে পূর্বে আসার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

১. خَبَرُ إِنَّ-এর তা'রীফ:

«الْمُسْنَدُ بَعْدَ دُخُولِ هٰذِهِ الْحُرُوفِ» — অর্থাৎ حروف مشبهة بالفعل দাখিল হওয়ার পর যে নতুন মুসনাদ গঠিত হয়।

২. ফে‘লের সাথে সাদৃশ্যের ৪ দিক:
  • وضعاً: তিন ও চার অক্ষরবিশিষ্ট হওয়া।
  • وزناً: ফে‘লের ওযনে আসা (যেমন: «إِنَّ» = «فَرَّ»)।
  • معنىً: ফে‘লের অর্থ ধারণ করা এবং مبني على الفتح হওয়া।
  • عملاً: দুটি ইসমে আমল করা (ইসমকে নসব ও খবরকে রাফ‘ দেওয়া)।
৩. মুবতাদার খবরের সাথে সাদৃশ্য:

জুমলাহ হওয়া, মাহযুফ হওয়া, যারফের মুতা‘আল্লাক্ব হওয়া, একাধিক খবর হওয়া এবং فاء দাখিল হওয়া—সব ক্ষেত্রে মুবতাদার খবরের মতোই।

৪. খবরের তাক্বদীমের বিধান:

সাধারণ ইসম হলে: খবরকে ইসমের পূর্বে আনা সম্পূর্ণ নাজায়েয (কারণ হরফগুলো দুর্বল আমেল)।

যারফ বা যার-মাজরূর হলে:
- ইসম معرفة হলে তাক্বদীম জায়েয (﴿إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ﴾)।
- ইসম نكرة হলে তাক্বদীম ওয়াজিব (﴿إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا﴾)।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন