المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"এবং কখনো কখনো কোনো ক্বরীনার (قرينة) উপস্থিতির কারণে মুবতাদাকে জাওয়াযান (জায়েয হিসেবে) মাহযুফ করা হয়; যেমন নতুন চাঁদ প্রত্যক্ষকারীর বক্তব্য: «الْهِلَالُ وَاللَّهِ» (আল্লাহর শপথ! এটি নতুন চাঁদ)। এবং অনুরূপভাবে খবরকেও জাওয়াযান মাহযুফ করা হয়; যেমন: «خَرَجْتُ فَإِذَا السَّبُعُ» (আমি বের হলাম, হঠাৎ দেখি হিংস্র প্রাণী [উপস্থিত])। আর যে স্থানে খবরের জায়গায় অন্য কোনো বস্তুকে স্থলাভিষিক্ত করা অপরিহার্য (التزام) করা হয়েছে, সেখানে খবরকে উজূবান (ওয়াজিব হিসেবে) মাহযুফ করা হয়; যেমন: «لَوْلَا زَيْدٌ لَكَانَ كَذَا», «ضَرْبِي زَيْدًا قَائِمًا», «كُلُّ رَجُلٍ وَضَيْعَتُهُ», এবং «لَعَمْرُكَ لَأَفْعَلَنَّ كَذَا»।"
দরসের ভূমিকা ও রূপরেখা (تمہید و تشریح)
ভূমিকা:
পূর্ববর্তী দরসগুলোতে মুবতাদা ও খবরের উল্লেখিত (مذكور) হওয়ার বিধানাবলি আলোচিত হয়েছে। আজকের দরসে মুসান্নিফ (المصنف) মুবতাদা ও খবর মাহযুফ (حذف) হওয়ার মাসায়েল বয়ান করেছেন।
আজকের দরসে মূলত তিনটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- মুবতাদার ৫ম মাসআলা: মুবতাদাকে জাওয়াযান (جوازاً) মাহযুফ করা।
- খবরের ৫ম মাসআলা: খবরকে জাওয়াযান (جوازاً) মাহযুফ করা।
- খবরের ৬ষ্ঠ মাসআলা: খবরকে উজূবান (وجوباً) মাহযুফ করার ৪টি সুনির্দিষ্ট স্থান।
প্রথম বিষয়: মুবতাদা জাওয়াযান মাহযুফ হওয়া (حذف مبتدا جوازاً)
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَقَدْ يُحْذَفُ الْمُبْتَدَأُ لِقِيَامِ قَرِينَةٍ جَوَازًا»।
ক্বায়দা সমূহ ও বিশ্লেষণ:
মুবতাদাকে বাক্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করাই হলো আসল বিধান (الأصل)। তবে বাক্যে বা পরিস্থিতিতে যখন এমন কোনো স্পষ্ট ক্বরীনা (قرينة حالية বা مقالية) পাওয়া যায় যা মুবতাদার ওপর নিশ্চিত পথপ্রদর্শন করে, তখন মুবতাদাকে মাহযুফ করা সম্পূর্ণ জায়েয।
দৃষ্টান্ত: নতুন চাঁদ অন্বেষণকারী ব্যক্তি আকাশে চাঁদ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে: «الْهِلَالُ وَاللَّهِ» (আল্লাহর শপথ! চাঁদ)।
মাহযুফের বিশ্লেষণ: এখানে মূল বাক্য ছিল: «هٰذَا الْهِلَالُ وَاللَّهِ»। এখানে «الْهِلَالُ» হলো খবর, আর মুবতাদা «هٰذَا» (ইসম ইশারা)-কে মাহযুফ করা হয়েছে।
ক্বরীনার স্বরূপ: উপস্থিত সকল মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে একাগ্রচিত্তে চাঁদ খুঁজছিল। মানুষের দৃষ্টি ও চাঁদের দিকে মুখ ফেরানোই হলো একটি প্রকাশ্য قرينة حالية; যা মুবতাদার উপস্থিতিকে নিশ্চিত করে দেয়। ফলে ইসম ইশারা মুবতাদাকে মুখে উচ্চারণ করার কোনো আবশ্যকতা অবশিষ্ট থাকে না।
দ্বিতীয় বিষয়: খবর জাওয়াযান মাহযুফ হওয়া (حذف خبر جوازاً)
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَالْخَبَرُ جَوَازًا، مِثْلُ: خَرَجْتُ فَإِذَا السَّبُعُ»।
ক্বায়দা সমূহ ও বিশ্লেষণ:
অনুরূপভাবে কোনো স্পষ্ট ক্বরীনা পাওয়া গেলে খবরকেও জাওয়াযান (ঐচ্ছিকভাবে) মাহযুফ করা জায়েয।
দৃষ্টান্ত: «خَرَجْتُ فَإِذَا السَّبُعُ» (আমি ঘর থেকে বের হলাম, হঠাৎ দেখি হিংস্র জন্তু!)।
মাহযুফের বিশ্লেষণ: এখানে «السَّبُعُ» হলো মুবতাদা, আর তার খবর «وَاقِفٌ» (দাঁড়িয়ে আছে) অথবা «حَاضِرٌ» (উপস্থিত) মাহযুফ রয়েছে।
ক্বরীনার স্বরূপ: আরবি ভাষায় «إِذَا فُجَائِيَّة» (আকস্মিকতাবোধক إِذَا) সর্বদা পূর্ণ جملة اسمية-এর ওপর দাখিল হয়। যেহেতু এর পরে কেবল একটিমাত্র মারফূ‘ ইসম «السَّبُعُ» (মুবতাদা) উল্লেখিত রয়েছে, তাই ব্যাকরণগতভাবেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে এর خبر-টি বাক্যে মাহযুফ রয়েছে।
তৃতীয় বিষয়: খবর উজূবান মাহযুফ হওয়া (حذف خبر وجوباً)
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَوُجُوبًا فِيمَا الْتُزِمَ فِي مَوْضِعِهِ غَيْرُهُ»। অর্থাৎ যেসব স্থানে খবরের জায়গায় অন্য কোনো বস্তুকে স্থলাভিষিক্ত (قائم مقام) করা অপরিহার্য করা হয়েছে, সেসব স্থানে খবরকে বাক্যে উল্লেখ করা নিষিদ্ধ এবং উজূবান মাহযুফ রাখা ওয়াজিব।
মুসান্নিফ কিতাবে এর ৪টি সুনির্দিষ্ট স্থান বয়ান করেছেন:
১ম স্থান: «لَوْلَا»-এর পরবর্তী মুবতাদার খবর
ইবারত: «مِثْلُ: لَوْلَا زَيْدٌ لَكَانَ كَذَا»
বিশ্লেষণ: «لَوْلَا»-এর পর واقع হওয়া মুবতাদার খবরকে উজূবান মাহযুফ করা ওয়াজিব।
মূল বাক্য: «لَوْلَا زَيْدٌ مَوْجُودٌ لَكَانَ كَذَا»। এখানে «زَيْدٌ» মুবতাদার খবর «مَوْجُودٌ»-কে উজূবান মাহযুফ করা হয়েছে। খবরের স্থলাভিষিক্ত (قائم مقام) হয়েছে «لَوْلَا»-এর জওয়াব অর্থাৎ «لَكَانَ كَذَا»।
ক্বরীনার স্বরূপ: «لَوْلَا» হরফটি নিজেই নির্দেশ করে «اِمْتِنَاعُ الثَّانِي لِوُجُودِ الْأَوَّلِ» (১ম সত্তা বিদ্যমান থাকার কারণে ২য় বিষয়ের অনুপস্থিতি)। এই অর্থটি স্বয়ং অস্তিত্ববাচক খবর «موجود»-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয়।
খবরের এই উজূবী মাহযুফ কেবল তখনই হবে যখন খবরটি কোনো ক্বওনে ‘আম (افعال عامة) অর্থাৎ সাধারণ অস্তিত্ববাচক ভাব (যেমন: كَوْن, وُجُود, ثُبُوت, حُصُول, اسْتِقْرَار)-এর অর্থ দেয়। কিন্তু খবরটি যদি কোনো ক্বওনে খাস (افعال خاصة) অর্থাৎ বিশেষ কোনো ক্রিয়া বা গুণ হয়, তবে তাকে মাহযুফ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয; বরং প্রকাশ্য উল্লেখ করা ওয়াজিব।
হাদীস শরীফের দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (رضي الله عنها)-কে সম্বোধন করে ইরশাদ করেছিলেন:
এখানে «قَوْمُكِ» মুবতাদার খবর হলো «حَدِيثُو عَهْدٍ» (নওমুসলিম / নতুন যুগপ্রাপ্ত)। যেহেতু এটি একটি বিশেষ অবস্থা (ক্বওনে খাস), তাই এটি মাহযুফ হয়নি; বরং প্রকাশ্য উল্লেখিত হয়েছে।
ইমাম শাফেয়ী (رحمه الله)-এর কাব্যিক দলিল:
وَلَوْلَا الشِّعْرُ بِالْعُلَمَاءِ يُزْرِي ... لَكُنْتُ الْيَوْمَ أَشْعَرَ مِنْ لَبِيدِ
এখানে ২য় চরণে «الشِّعْرُ» মুবতাদার খবর হলো جملة فعلية «يُزْرِي» (মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে)। এটি ক্বওনে খাস হওয়ায় মাহযুফ হয়নি।
২য় স্থান: মাসদার/ইসমে তাফযীল মুবতাদা হওয়ার পর حال খবরের স্থলাভিষিক্ত হওয়া
ইবারত: «وَمِثْلُ: ضَرْبِي زَيْدًا قَائِمًا»
দৃষ্টান্ত: «ضَرْبِي زَيْدًا قَائِمًا» (যায়েদ দণ্ডায়মান অবস্থায় থাকাকালেই আমার প্রহার কার্যকর হয়)।
তারকীবগত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ:
- «ضَرْبِي»: মাসদার মুযাফ ইলা ফায়িলিহী (ي যমীর) মিলে মুবতাদা।
- «زَيْدًا»: মাসদারের মাফ‘উল বিহ।
- «قَائِمًا»: «زَيْدًا» থেকে حال।
- মূল تقدير عبارت: «ضَرْبِي زَيْدًا حَاصِلٌ إِذَا كَانَ زَيْدٌ قَائِمًا»।
মাহযুফের ধারাক্রম:
১. প্রথমে মূল খবর «حَاصِلٌ»-কে মাহযুফ করে যারফ «إِذَا كَانَ»-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
২. অতঃপর যারফ «إِذَا كَانَ»-কেও মাহযুফ করে حال «قَائِمًا»-কে খবরের চূড়ান্ত স্থলাভিষিক্ত (حال سد مسد الخبر বা قائم مقام خبر) বানানো হয়।
এই ক্বায়দা অনুযায়ী মুবতাদা মাসদারে হাকীক্বী হোক (যেমন: «ضَرْبِي») বা মাসদারে তাবীলী (যেমন: «أَنْ ضَرَبْتُ»); ফায়িলের দিকে মুযাফ হোক বা মাফ‘উলের দিকে; ইসমে তাফযীল মুযাফ হোক (যেমন: «أَكْثَرُ شُرْبِي السَّوِيقَ مَلْتُوتًا»)—সর্বমোট ১২টি (বা বিস্তারিত ৩৬টি) সুরতেই খবরকে উজূবান মাহযুফ করা ওয়াজিব।
৩য় স্থান: মুবতাদার পর ‘ওয়াও মা‘ইয়্যাহ’ (واو بمعنی مع) আসা
ইবারত: «وَكُلُّ رَجُلٍ وَضَيْعَتُهُ»
দৃষ্টান্ত: «كُلُّ رَجُلٍ وَضَيْعَتُهُ» (প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তার পেশা ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত)।
বিশ্লেষণ:
এখানে «كُلُّ رَجُلٍ» হলো মুবতাদা। «وَضَيْعَتُهُ»-এর واو-টি হলো واو بمعنی مع যা মুকারানাত (مقارنة / সাথে থাকা ও অবিচ্ছেদ্যতার ভাব) প্রকাশ করে।
মাহযুফ খবর: মূল খবর ছিল «مَقْرُونَانِ» (উভয়ে পরস্পর সংযুক্ত)।
উজূবান মাহযুফ হওয়ার কারণ: যেহেতু ‘ওয়াও মা‘ইয়্যাহ’ নিজেই দুই বস্তুর পারস্পরিক অবিচ্ছেদ্য সংযোগ ও مقارنة-এর অর্থ পরিষ্কার করে দেয়, তাই খবর «مَقْرُونَانِ»-কে মুখে উচ্চারণ করা অনর্থক পুনরাবৃত্তি। সুতরাং খবরকে উজূবান মাহযুফ করে «ضَيْعَتُهُ»-কে খবরের স্থলাভিষিক্ত মানা হয়।
৪র্থ স্থান: মুবতাদা যখন কসমের স্পষ্ট শব্দ (قسم صريح) হয়
ইবারত: «وَلَعَمْرُكَ لَأَفْعَلَنَّ كَذَا»
দৃষ্টান্ত: «لَعَمْرُكَ لَأَفْعَلَنَّ كَذَا» (আপনার জীবনের শপথ! আমি অবশ্যই এমন কাজ করব)।
বিশ্লেষণ:
এখানে «لَعَمْرُكَ» হলো মুবতাদা।
মাহযুফ খবর: মূল খবর ছিল «قَسَمِي» (আমার শপথ) অথবা «يَمِينِي»।
ক্বায়েম মাক্বাম: জওয়াবে কসম (جواب قسم) অর্থাৎ «لَأَفْعَلَنَّ كَذَا» মাহযুফ খবরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
ক্বরীনা: শব্দের শুরুর লামে ইবতিদা «لَـ» প্রমাণ করে যে শব্দটি একটি সুনিশ্চিত কসমের মুবতাদা।
📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)
ক্বরীনা থাকলে মুবতাদা মাহযুফ করা জায়েয (যেমন নতুন চাঁদ দেখে বলা: «الْهِلَالُ وَاللَّهِ» — تقدير: «هٰذَا الْهِلَالُ»)।
ক্বরীনা থাকলে খবর মাহযুফ করা জায়েয (যেমন: «خَرَجْتُ فَإِذَا السَّبُعُ» — تقدير: «وَاقِفٌ» বা «حَاضِرٌ»)।
- «لَوْلَا»-এর পরে: যখন খবরটি ক্বওনে ‘আম (افعال عامة) হয় (যেমন: «لَوْلَا زَيْدٌ لَكَانَ كَذَا» — تقدير: «مَوْجُودٌ»)। [ক্বওনে খাস হলে মাহযুফ হবে না]।
- মাসদার/ইসমে তাফযীলের পর حال আসলে: যখন حال খবরের স্থলাভিষিক্ত হয় (যেমন: «ضَرْبِي زَيْدًا قَائِمًا» — تقدير: «حَاصِلٌ»)।
- واو بمعنی مع (মুকারানাত)-এর পরে: যখন ওয়াও অবিচ্ছেদ্যতার অর্থ দেয় (যেমন: «كُلُّ رَجُلٍ وَضَيْعَتُهُ» — تقدير: «مَقْرُونَانِ»)।
- قسم صريح মুবতাদা হলে: যখন জওয়াবে কসম খবরের স্থলাভিষিক্ত হয় (যেমন: «لَعَمْرُكَ لَأَفْعَلَنَّ كَذَا» — تقدير: «قَسَمِي»)।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন