المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"এবং কখনো কখনো মুবতাদা শর্তের অর্থ (معنى الشرط)-কে অন্তর্ভুক্ত করে; ফলে খবরের শুরুতে ‘ফা’ (فاء) প্রবেশ করা সহীহ ও জায়েয হয়। আর তা হলো: এমন ইসম মাওসূল যার সিলাহ্ (صلة) কোনো ফে‘ল অথবা যারফ হয়; অথবা এমন নাকিরাহ মাওসূফাহ যার সিফাত (صفت) এই দুটি (ফে‘ল বা যারফ)-এর কোনো একটি হয়। যেমন: «الَّذِي يَأْتِينِي فَلَهُ دِرْهَمٌ» অথবা «الَّذِي فِي الدَّارِ فَلَهُ دِرْهَمٌ», এবং «كُلُّ رَجُلٍ يَأْتِينِي فَلَهُ دِرْهَمٌ» অথবা «كُلُّ رَجُلٍ فِي الدَّارِ فَلَهُ دِرْهَمٌ»। আর (মুবতাদার শুরুতে) «لَيْتَ» এবং «لَعَلَّ» প্রবেশ করলে তা সর্বসম্মতভাবে খবরের শুরুতে فاء আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক (مانع)। আর কোনো কোনো নাহববিদ «إِنَّ»-কেও এই দুটির সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত দুটি প্রধান বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- খবরের শুরুতে ‘ফা’ (فاء) দাখিল জায়েয হওয়ার ৪টি মৌলিক সুরত (খবর সংক্রান্ত ৪র্থ মাসআলা)।
- খবরের শুরুতে فاء দাখিল নাজায়েয হওয়ার কারণসমূহ এবং موانعِ دخولِ فاء-এর গভীর পর্যালোচনা (খবর সংক্রান্ত ৫ম মাসআলা)।
প্রথম বিষয়: খবরের শুরুতে فاء দাখিল জায়েয হওয়ার ৪টি সুরত
মুসান্নিফ (المصنف) বয়ান করেছেন: «وَقَدْ يَتَضَمَّنُ الْمُبْتَدَأُ مَعْنَى الشَّرْطِ فَيَصِحُّ دُخُولُ الْفَاءِ فِي الْخَبَرِ»।
ক্বায়দা সমূহ ও মৌলিক যুক্তি:
যখন কোনো বাক্যে মুবতাদাটি শর্ত (شرط) ও কারণ (سبب)-এর অর্থ প্রকাশ করে এবং তার খবরটি সেই শর্তের প্রতিদান বা ফলাফল (جزاء)-এর রূপ ধারণ করে, তখন شرط ও جزاء-এর সাথে গভীর সাদৃশ্য থাকার কারণে জাযার শুরুতে যেভাবে ‘ফা’ (فاء) আনা হয়, ঠিক তেমনি খবরের শুরুতেও ‘ফা’ (فاء) যুক্ত করা সম্পূর্ণ জায়েয হয়ে যায়।
মুসান্নিফ কিতাবে এই সাদৃশ্যের ৪টি সুনির্দিষ্ট সুরত উল্লেখ করেছেন:
দৃষ্টান্ত: «الَّذِي يَأْتِينِي فَلَهُ دِرْهَمٌ» (যে ব্যক্তি আমার নিকট আসবে, তার জন্য এক দিরহাম পুরস্কার রয়েছে)।
বিশ্লেষণ: এখানে «الَّذِي» হলো ইসম মাওসূল এবং «يَأْتِينِي» ফে‘লটি তার সিলাহ্। আগমন করাটি মূলত শর্ত এবং দিরহাম পাওয়াটি জাযা। তাই খবরের শুরুতে فاء যুক্ত হয়েছে।
দৃষ্টান্ত: «الَّذِي فِي الدَّارِ فَلَهُ دِرْهَمٌ» (যে ব্যক্তি ঘরে থাকবে, তার জন্য এক দিরহাম)।
বিশ্লেষণ: এখানে «فِي الدَّارِ» যারফটি সিলাহ্ হয়ে শর্তের অর্থ সৃষ্টি করেছে; ফলে খবরে فاء এসেছে।
দৃষ্টান্ত: «كُلُّ رَجُلٍ يَأْتِينِي فَلَهُ دِرْهَمٌ» (প্রত্যেক ব্যক্তি যে আমার কাছে আসবে, তার জন্য এক দিরহাম)।
বিশ্লেষণ: এখানে «رَجُلٍ» হলো নাকিরাহ এবং «يَأْتِينِي» ফে‘লটি তার সিফাত। সিফাতযুক্ত হয়ে এটি শর্তের অর্থ ধারণ করায় খবরে فاء প্রবেশ করেছে।
দৃষ্টান্ত: «كُلُّ رَجُلٍ فِي الدَّارِ فَلَهُ دِرْهَمٌ» (প্রত্যেক ব্যক্তি যে ঘরে বিদ্যমান থাকবে, তার জন্য এক দিরহাম)।
বিশ্লেষণ: এখানে «فِي الدَّارِ» যারফটি নাকিরাহর সিফাত হিসেবে প্রযুক্ত হয়ে শর্তের ভাব তৈরি করেছে; ফলে খবরের শুরুতে فاء আসা জায়েয হয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়: খবরের শুরুতে فاء দাখিলে প্রতিবন্ধকসমূহ (موانعِ دخولِ فاء)
মুসান্নিফ বলেছেন: «و(لَيْتَ وَلَعَلَّ) مَانِعَانِ بِالِاتِّفَاقِ، وَأَلْحَقَ بَعْضُهُمْ (إِنَّ) بِهِمَا»।
১. «لَيْتَ» এবং «لَعَلَّ» কেন সর্বসম্মত مانع (প্রতিবন্ধক)?
যৌক্তিক কারণ:
মুবতাদা ও খবরের বাক্য মূলত একটি جملة خبرية। অনুরূপভাবে শর্ত ও জাযার বাক্যও جملة خبرية হয়ে থাকে; যার কারণে উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
কিন্তু যখন মুবতাদার শুরুতে «لَيْتَ» (আকাঙ্ক্ষা বা تمني) অথবা «لَعَلَّ» (প্রত্যাশা বা ترجي) দাখিল হয়, তখন বাক্যটি সঙ্গে সঙ্গে جملة إنشائية-তে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
আর জুমলাহ ইনশাইয়্যাহ কখনো শর্ত হতে পারে না। ফলে শর্ত ও জাযার সাদৃশ্য সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এই সাদৃশ্য বিনষ্ট হওয়ার কারণে খবরের শুরুতে فاء যুক্ত করা সর্বসম্মতভাবে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ।
দৃষ্টান্ত: «لَيْتَ الَّذِي فِي الدَّارِ فَلَهُ دِرْهَمٌ» বলা যাবে না; বরং বলতে হবে: «لَيْتَ الَّذِي فِي الدَّارِ لَهُ دِرْهَمٌ»।
ফায়দা: افعال ناقصة এবং افعال قلوب-এর হুকুম:
অনুরূপভাবে افعال ناقصة (যেমন: كَانَ ইত্যাদি) এবং افعال قلوب (যেমন: ظَنَنْتُ ইত্যাদি)-ও খবরের শুরুতে فاء আসার ক্ষেত্রে সর্বসম্মতভাবে مانع। কিন্তু নাহব শাস্ত্রে এগুলো অত্যন্ত সুপরিচিত ও স্পষ্ট হওয়ার কারণে মুসান্নিফ সংক্ষেপ করার স্বার্থে কিতাবের এই স্থানে আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি।
২. «إِنَّ» সংক্রান্ত মতভেদ ও প্রামাণিক তাহকীক:
মুসান্নিফ বলেছেন: কোনো কোনো নাহববিদ (যেমন: ইমাম সীবাবাইহ রহ.) «إِنَّ»-কেও «ليت» ও «لعل»-এর মতো مانع সাব্যস্ত করেছেন।
বিশুদ্ধতম মত (জুমহূর নাহববিদদের রায়):
«إِنَّ» কখনোই খবরের শুরুতে فاء আসার ক্ষেত্রে مانع নয়; বরং «إِنَّ» প্রবেশ করার পরও খবরের শুরুতে فاء যুক্ত হওয়া ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও জায়েয।
পবিত্র কুরআন থেকে অকাট্য দলিলসমূহ:
৩. «أَنَّ» এবং «لَكِنَّ»-এর খবরের শুরুতে فاء আসার প্রমাণ:
আরবের প্রসিদ্ধ কবি বলেছেন:
📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)
মুবতাদার মধ্যে শর্তের অর্থ (معنى الشرط) এবং খবরের মধ্যে জাযার অর্থ (معنى الجزاء) বিদ্যমান থাকা।
- ইসম মাওসূল + সিলাহ ফে‘ল («الَّذِي يَأْتِينِي فَلَهُ دِرْهَمٌ»)।
- ইসম মাওসূল + সিলাহ যারফ («الَّذِي فِي الدَّارِ فَلَهُ دِرْهَمٌ»)।
- নাকিরাহ মাওসূফাহ + সিফাত ফে‘ল («كُلُّ رَجُلٍ يَأْتِينِي فَلَهُ دِرْهَمٌ»)।
- নাকিরাহ মাওসূফাহ + সিফাত যারফ («كُلُّ رَجُلٍ فِي الدَّارِ فَلَهُ دِرْهَمٌ»)।
• «لَيْتَ» এবং «لَعَلَّ» (বাক্যকে جملة إنشائية বানিয়ে শর্তের সাদৃশ্য নষ্ট করার কারণে)।
• افعال ناقصة এবং افعال قلوب।
এগুলো فاء আসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়; কুরআনের স্পষ্ট আয়াত ও বিশুদ্ধ আরবি কবিতা দ্বারা প্রমাণিত যে এগুলোর খবরের শুরুতে فاء আসা সম্পূর্ণ জায়েয।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন