المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"এবং খবর কখনো কখনো (তার মূল অবস্থা ত্যাগ করে) জুমলাহ (جملة)-ও হতে পারে; যেমন: «زَيْدٌ أَبُوهُ قَائِمٌ» এবং «زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ»। অতঃপর (খবর জুমলাহ হলে তার মধ্যে) একটি ‘আয়েদ’ (عَائِد / মুবতাদার সাথে সংযোগ স্থাপনকারী যমীর বা উপাদান) থাকা অপরিহার্য। আর কখনো কখনো (কোনো ক্বরীনার উপস্থিতিতে) এই আয়েদকে বিলুপ্ত (حذف) করাও হয়। আর যে খবরটি ‘যারফ’ (ظرف বা যার-মাজরূর) আকারে واقع হয়, অধিকাংশ নাহববিদদের মতে তার মুতা‘আল্লাক্ব একটি জুমলাহ (ফে‘ল)-এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- খবর جملة হওয়া সংক্রান্ত ১ম মাসআলা এবং «قَدْ»-এর তাৎপর্য।
- عَائِد-এর প্রয়োজনীয়তা, ফায়ায়েদে কুয়ুদ এবং আয়েদের ৪টি মৌলিক সুরত।
- আয়েদ বিলুপ্ত (حذف) হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ এবং যারফ ও যার-মাজরূরের متعلق নির্ধারণে বসরী ও কূফী আলেমদের মাযহাবসহ ظرف لغو ও ظرف مستقر-এর তাহকীক।
প্রথম বিষয়: খবর جملة হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা
মুসান্নিফ (المصنف) কিতাবের ইবারতে বয়ান করেছেন: «وَالْخَبَرُ قَدْ يَكُونُ جُمْلَةً»।
«قَدْ» হরফের তাহকীক ও সূক্ষ্ম অর্থ:
ফে‘লে মুযারে‘ (فعل مضارع)-এর পূর্বে যখন «قَدْ» দাখিল হয়, তখন তা দুটি মৌলিক বিষয়ের দিকে নির্দেশ করে:
- ১. বিষয়টি خلاف الأصل (মূল নিয়মের বিপরীত): কারণ খবরের আসল বিধান হলো তা مفرد (একক শব্দ) হওয়া।
- ২. বিষয়টি قليل الاستعمال (অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত): কারণ আরবি ভাষায় মুফরাদ হিসেবে খবরের ব্যবহারই সর্বাধিক ও বহুল প্রচলিত (كثير الاستعمال)।
খবর হিসেবে ব্যবহৃত জুমলাহর প্রকারভেদ:
- جملة اسمية হওয়া: যেমন—«زَيْدٌ أَبُوهُ قَائِمٌ» (এখানে «أَبُوهُ قَائِمٌ» জুমলাহ ইসমিয়্যাহ হয়ে যায়েদের খবর হয়েছে)।
- جملة فعلية হওয়া: যেমন—«زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ» (এখানে «قَامَ أَبُوهُ» জুমলাহ ফে‘লিয়্যাহ হয়ে যায়েদের খবর হয়েছে)।
খবরের মূল হাকীকত হলো তা সংবাদ প্রদান করা (إخبار), যার মধ্যে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পক্ষান্তরে جملة إنشائية (যেমন: আদেশ, নিষেধ, প্রশ্ন ইত্যাদি) হলো কোনো কিছু সৃষ্টি করা (إنشاء), যা সত্য ও মিথ্যার ঊর্ধ্বে। উভয়ের মাঝে স্বভাবগত চরম বৈপরীত্য (منافات) থাকার কারণে জুমলাহ ইনশাইয়্যাহ কখনো সরাসরি খবর হতে পারে না।
মুসান্নিফের ইলমী সূক্ষ্মতা (لطيفة):
মুসান্নিফ যে ইবারত দিয়ে কায়েদা বয়ান করেছেন—«وَالْخَبَرُ قَدْ يَكُونُ جُمْلَةً»—উক্ত ইবারতটি নিজেই নিজের একটি প্রত্যক্ষ উদাহরণ! এখানে «الْخَبَرُ» হলো مبتدأ, আর «قَدْ يَكُونُ جُمْلَةً» (পূর্ণ জুমলাহ ফে‘লিয়্যাহ)-টি হলো তার خبر।
দ্বিতীয় বিষয়: عَائِد (আয়েদ)-এর তা'রীফ ও তার ৪টি সুরত
মুসান্নিফ বলেছেন: «فَلَا بُدَّ مِنْ عَائِدٍ»।
আয়েদ আবশ্যক হওয়ার কারণ:
জুমলাহ মূলত একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন কালাম (مستقل کلام)। পূর্ববর্তী বা পরবর্তী শব্দের সাথে এর নিজস্ব কোনো কাঠামোগত সম্পর্ক থাকে না। কিন্তু বাক্যে এই জুমলাহটি যখন মুবতাদার খবর হিসেবে واقع হয়, তখন মুবতাদা ও খবরের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সংযোগ ও সম্পর্ক (ربط و تعلق) স্থাপন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সেই সংযোগ স্থাপনকারী উপাদানটিকেই ব্যাকরণে «عَائِد» বলা হয়।
عَائِد বাস্তবায়িত হওয়ার ৪টি সুরত:
এটিই আয়েদের মূল ও সর্বাধিক শক্তিশালী সুরত।
যেমন: «زَيْدٌ أَبُوهُ قَائِمٌ» এবং «زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ»। এখানে «أَبُوهُ»-এর ভেতরের ‘هُ’ যমীরটি মুবতাদা «زَيْدٌ»-এর দিকে ফিরেছে এবং উভয়ের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করেছে।
যেখানে শব্দের শুরুতে যুক্ত الف لام মূলত যমীরের প্রতিনিধিত্ব করে।
যেমন: «نِعْمَ الرَّجُلُ زَيْدٌ»। এখানে পূর্ণ جملة فعلية «نِعْمَ الرَّجُلُ» হলো خبر مقدم এবং «زَيْدٌ» হলো مبتدأ مؤخر; আর «الرَّجُلُ» শব্দের শুরুতে বিদ্যমান الف لام-টি মূলত যায়েদের দিকে নির্দেশকারী আয়েদ।
যেখানে যমীর ব্যবহারের পরিবর্তে সম্মান বা গুরুত্ব বোঝাতে স্বয়ং মুবতাদাকেই হুবহু পুনরায় উল্লেখ করা হয়।
কুরআনী দলিল: ﴿الْحَاقَّةُ مَا الْحَاقَّةُ﴾ (সূরা আল-হাক্কাহ: ১-২)।
বিশ্লেষণ: মূলত বাক্যটি ছিল «الْحَاقَّةُ مَا هِيَ»। কিন্তু এখানে ‘هِيَ’ যমীরের স্থানে ইসম যাহির «الْحَاقَّةُ»-কে পুনরায় উল্লেখ করে আয়েদ বানানো হয়েছে।
কুরআনী দলিল: ﴿قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ﴾ (সূরা আল-ইখলাস: ১)।
বিশ্লেষণ: এখানে «هُوَ» হলো مبتدأ / مفسَّر, আর «اللَّهُ أَحَدٌ» জুমলাহটি হলো خبر / تفسير। যেহেতু مفسَّر ও تفسير পরস্পর অবিচ্ছেদ্য, তাই স্বয়ং এই তাফসীরী জুমলাহটিই উভয়ের মাঝে আয়েদের কাজ সম্পন্ন করেছে।
তৃতীয় বিষয়: আয়েদ বিলুপ্ত (حذف) হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَقَدْ يُحْذَفُ»। অর্থাৎ জুমলাহর মধ্যে আয়েদ থাকা আবশ্যক হলেও যখন কোনো প্রকাশ্য ক্বরীনা (قرينة حالية বা مقالية) বিদ্যমান থাকে, তখন আয়েদকে বিলুপ্ত করা সম্পূর্ণ জায়েয।
-
দৃষ্টান্ত ১: «اَلسَّمْنُ مَنَوَانِ بِدِرْهَمٍ» (ঘি দুই মান এক দিরহামে)।
মূল বাক্য ছিল: «اَلسَّمْنُ مَنَوَانِ مِنْهُ بِدِرْهَمٍ»। -
দৃষ্টান্ত ২: «اَلْبُرُّ الْكُرُّ بِسِتِّينَ دِرْهَمًا» (গম এক কুর ৬০ দিরহামে)।
মূল বাক্য ছিল: «اَلْبُرُّ الْكُرُّ مِنْهُ بِسِتِّينَ دِرْهَمًا»।
বিলুপ্তির কারণ: বিক্রেতা যখন কোনো পণ্যের নাম ও দামের বিবরণ দেয়, তখন পরিস্থিতিগত ক্বরীনার কারণে ক্রেতা স্পষ্ট বোঝে যে এই দাম উক্ত পণ্যেরই। এই দ্ব্যর্থহীন ক্বরীনার কারণে «مِنْهُ» যমীরটিকে বাক্য থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
চতুর্থ বিষয়: যারফ ও যার-মাজরূরের متعلق নির্ধারণে মাযহাবসমূহ
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَمَا وَقَعَ ظَرْفًا فَالْأَكْثَرُ عَلَى أَنَّهُ مُقَدَّرٌ بِجُمْلَةٍ»।
খবর যখন ظرف (ظرف زمان বা ظرف مکان) অথবা جار و مجرور আকারে আসে—যেমন: «زَيْدٌ خَلْفَكَ» অথবা «زَيْدٌ فِي الدَّارِ»—তখন এদের একটি উহ্য متعلق (মুতা‘আল্লাক্ব) থাকা আবশ্যক। এই متعلق বের করার ক্ষেত্রে দুটি মাযহাব রয়েছে:
মুতা‘আল্লাক্ব একটি উহ্য فعل (ফে‘ল) হবে।
মূল تقدير عبارت: «زَيْدٌ اسْتَقَرَّ خَلْفَكَ» এবং «زَيْدٌ اسْتَقَرَّ فِي الدَّارِ»।
অতঃপর «اسْتَقَرَّ» ফে‘ল তার ফায়িল যমীরকে নিয়ে جملة فعلية হয়ে মুবতাদার খবর হবে।
দলিল: যারফ ও যার-মাজরূরে আমল করার মূল যোগ্যতা ও ক্ষমতা কেবল ফে‘লেরই রয়েছে। ফে‘ল হলো আমলের আসল ভিত্তি; তাই আসল আমেল অর্থাৎ ফে‘লকে মুতা‘আল্লাক্ব নির্ধারণ করাই অধিক সংগত।
মুতা‘আল্লাক্ব একটি উহ্য شبه فعل / اسم مشتق (মুফরাদ ইসম) হবে।
মূল تقدير عبارت: «زَيْدٌ مُسْتَقِرٌّ خَلْفَكَ» এবং «زَيْدٌ مُسْتَقِرٌّ فِي الدَّارِ»।
অতঃপর এটি مفرد হিসেবে মুবতাদার খবর হবে।
দলিল: খবরের আসল বিধান হলো তা مفرد হওয়া। সুতরাং «مُسْتَقِرٌّ» মানলে খবরটি তার মূল মুফরাদ অবস্থাতেই বহাল থাকে।
পঞ্চম বিষয়: ظرف لغو এবং ظرف مستقر-এর তাহকীক
যারফ বা যার-মাজরূরের মুতা‘আল্লাক্ব (ফে‘ল বা শবেহ ফে‘ল) যদি বাক্যের মধ্যে প্রকাশ্যভাবে উল্লেখিত (مذكور) থাকে, তবে তাকে ‘যারফে লাগভ’ বলা হয়।
নামকরণের কারণ: যেহেতু মূল আমেলটি বাক্যে পূর্ব থেকেই দৃশ্যমান, তাই যারফটি সেখানে নতুন কোনো স্বকীয় আমল তৈরি করতে পারে না; ফলে তা যেন অতিরিক্ত বা অনর্থক (لغو) হিসেবে গণ্য হয়।
যারফ বা যার-মাজরূরের মুতা‘আল্লাক্ব যদি বাক্যে উল্লেখিত না থাকে, বরং উহ্য বা محذوف থাকে, তবে তাকে ‘যারফে মুস্তাক্বার’ বলা হয়।
নামকরণের কারণ: যখন মূল আমেলটিকে বিলুপ্ত করা হয়, তখন আমেলের ভেতরের فاعل যমীরটি যারফের ভেতরে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান (استقرار) গ্রহণ করে। এই استقرار লাভের কারণেই একে ‘যারফে মুস্তাক্বার’ নামকরণ করা হয়েছে।
📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)
খবরের আসল হলো مفرد হওয়া; তবে خلاف الأصل হিসেবে তা جملة اسمية বা جملة فعلية হতে পারে। কিন্তু جملة إنشائية কখনো খবর হতে পারে না।
খবর জুমলাহ হলে মুবতাদার সাথে সংযোগ রক্ষার্থে একটি আয়েদ থাকা ওয়াজিব। আয়েদ ৪ ভাবে আসতে পারে:
- যমীর (ضمير) দ্বারা (যেমন: «زَيْدٌ أَبُوهُ قَائِمٌ»)।
- الف لام দ্বারা (যেমন: «نِعْمَ الرَّجُلُ زَيْدٌ»)।
- যমীরের স্থানে ইসম যাহিরের পুনরাবৃত্তি দ্বারা (﴿الْحَاقَّةُ مَا الْحَاقَّةُ﴾)।
- মুবতাদার তাফসীরী জুমলাহ হওয়ার মাধ্যমে (﴿قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ﴾)।
পরিস্থিতিগত স্পষ্ট ক্বরীনা থাকলে আয়েদ বিলুপ্ত করা জায়েয (যেমন: «اَلسَّمْنُ مَنَوَانِ بِدِرْهَمٍ»-এ «مِنْهُ» বিলুপ্ত)।
• বসরীগণ (জুমহূর): متعلق হলো ফে‘ল—«اسْتَقَرَّ» (ফলে খবরটি জুমলাহ হয়)।
• কূফীগণ: متعلق হলো ইসম মুশতাক—«مُسْتَقِرٌّ» (ফলে খবরটি মুফরাদ হয়)।
• ظرف لغو: যার মুতা‘আল্লাক্ব বাক্যে প্রকাশ্য থাকে।
• ظرف مستقر: যার মুতা‘আল্লাক্ব বাক্যে উহ্য থাকে এবং ফায়িলের যমীর যারফের মধ্যে استقرار লাভ করে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন