المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"এবং মারফূ‘আতের অন্তর্ভুক্ত হলো: মুবতাদা ও খবর। অতঃপর মুবতাদা হলো এমন ইসম, যা ‘আওয়ামিলে লাফযিয়্যাহ’ থেকে মুক্ত অথচ তা মুসনাদ ইলাইহি; অথবা এমন সীগাহ্-ই সিফাত যা হরফে নাফী বা আলিফে ইস্তিফহামের পরে واقع হয়ে কোনো ইসম যাহিরকে রাফ‘ প্রদান করে। যেমন: «زَيْدٌ قَائِمٌ», «مَا قَائِمٌ الزَّيْدَانِ», এবং «أَقَائِمٌ الزَّيْدَانِ»। অতঃপর সীগাহ্-ই সিফাত যদি মুফরাদ হওয়ার ক্ষেত্রে ইসম যাহিরের সাথে মুতাবেক্ব (অনুরূপ) হয়, তবে উভয় সুরতই জায়েয।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত পাঁচটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- মুবতাদা ও খবরকে একই সাথে উল্লেখ করার কারণ।
- মুবতাদার লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ (تعريف) এবং ফাওয়ায়েদে ক্বুয়ুদ
- «الْمُجَرَّدُ» এবং «الْعَوَامِلِ» শব্দদ্বয় সংক্রান্ত গভীর اشکال ও তার সমাধান।
- মুবতাদার দ্বিতীয় প্রকারের তা'রীফ, ক্বায়দাউদাহরণ।
- সীগাহ্-ই সিফাত ও ইসম যাহিরের মুতাবেক্বাত (সামঞ্জস্য)-এর বিভিন্ন সুরত এবং তাদের ব্যাকরণিক হুকুম।
প্রথম বিষয়: মুবতাদা ও খবরকে একত্রে উল্লেখ করার কারণ
মুসান্নিফ (المصنف) মারফূ‘আতের অন্যান্য প্রকারগুলোকে পৃথক শিরোনামে আলোচনা করলেও মুবতাদা ও খবরকে «وَمِنْهَا: الْمُبْتَدَأُ وَالْخَبَرُ» বলে একসাথে উল্লেখ করেছেন দুটি কারণে:
মুবতাদা ও খবরের পারস্পরিক সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। যেখানেই মুবতাদা থাকবে সেখানে খবর থাকা আবশ্যক, আর যেখানে খবর থাকবে সেখানে মুবতাদাও বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য।
জুমহূর নাহববিদদের মতে উভয়ের আমেল এক—উভয়টিই আমিল মা‘নাবী অর্থাৎ «الِابْتِدَاءُ»-এর প্রভাবে মারফূ‘ হয়।
দ্বিতীয় বিষয়: মুবতাদার তা'রীফ ও তারকীবগত বিশ্লেষণ
১. লুগাভী (আভিধানিক) অর্থ:
মুবতাদা শব্দটি باب افتعال (اِبْتَدَأَ - يَبْتَدِئُ - اِبْتِدَاءً) থেকে اسم مفعول-এর সীগাহ্; যার অর্থ ‘যা দ্বারা সূচনা করা হয়েছে’।
২. ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:
মুসান্নিফের ভাষায় মুবতাদা মূলত দুই প্রকার। তন্মধ্যে প্রথম প্রকারের তা'রীফ হলো:
(অর্থ: মুবতাদা হলো এমন ইসম [হাকীক্বী বা তাবীলী], যা সমস্ত আওয়ামিলে লাফযিয়্যাহ থেকে খালি এবং যার দিকে কোনো বিধানকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে অর্থাৎ তা মুসনাদ ইলাইহি।)
উদাহরণসহ বিশ্লেষণ:
- اسم حقيقي (সরাসরি ইসম): «زَيْدٌ قَائِمٌ» (এখানে «زَيْدٌ» বাহ্যত স্পষ্ট ইসম এবং মুবতাদা)।
-
اسم تأويلي (মাসদারের তাবীলে ইসম):
﴿وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ﴾ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৪)
এখানে «أَنْ تَصُومُوا» বাহ্যত فعل مضارع হলেও أن مصدرية-এর কারণে এটি মাসদারের তাবীলে এসে «صِيَامُكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ» অর্থে মুবতাদা হয়েছে।
মুবতাদা ও খবরের আমেল সংক্রান্ত ৩টি মাযহাব (فائدة):
- বসরী আলেমগণ (জুমহূর ও মুসান্নিফের নির্বাচিত মত): মুবতাদা ও খবর উভয়টির আমেল হলো আমিল মা‘নাবী, অর্থাৎ «الِابْتِدَاءُ»।
- আল্লামা যামাখশারী ও তাঁর অনুসারীগণ: মুবতাদার আমেল হলো মা‘নাবী (الابتداء), কিন্তু খবরের আমেল হলো লাফযী—অর্থাৎ মুবতাদাই খবরকে রাফ‘ দেয়।
- শাইখ রযী ও কূফী আলেমগণ: মুবতাদা ও খবর উভয়টি একে অপরের আমেল (মুবতাদা খবরকে এবং খবর মুবতাদাকে রাফ‘ প্রদান করে)।
তৃতীয় বিষয়: «الْمُجَرَّدُ» এবং «الْعَوَامِلِ» সংক্রান্ত اشکال ও সমাধান
‘মুজাররাদ’ হলো اسم مفعول; যার অর্থ ‘যাকে খালি করা হয়েছে’। এর দ্বারা তো বাহ্যত বোঝা যায় যে পূর্বে এর ওপর আওয়ামিলে লাফযিয়্যাহ দাখিল ছিল, পরে তা দূর করা হয়েছে!
সমাধান: না, পূর্বেও কোনো আমেল দাখিল ছিল না। তবে যেহেতু এতে আমেল দাখিল হওয়ার সম্ভাবনা (امكان) ছিল, তাই সেই সম্ভাবনা দূর করাকেই রূপকভাবে ‘মুজাররাদ’ বলা হয়েছে। (যেমন কুয়া খনন করার পূর্বেই সতর্কতামূলক বলা হয়: «ضَيِّقُوا فَمَ الْبِئْرِ» বা কুয়ার মুখ সংকীর্ণ রেখো)।
«الْعَوَامِلِ» শব্দটি صيغة منتهى الجموع (جمع كثرت)। তাহলে বাহ্যিক অর্থ দাঁড়ায়: কমপক্ষে ৩টি আওয়ামিলে লাফযিয়্যাহ থেকে খালি হওয়া শর্ত; একটি বা দুটি আমেল থাকলে কি তবে তা মুবতাদা হবে?
সমাধান: «الْعَوَامِلِ» শব্দের শুরুতে الف لام جنسی রয়েছে। কায়েদা অনুযায়ী বহুবচনে আলিফ-লাম জিনসী দাখিল হলে তার বহুবচনত্ব বিলুপ্ত হয়ে جنس বাকি থাকে। সুতরাং যেকোনো একক আমেল থেকেও মুক্ত থাকাই এখানে উদ্দেশ্য।
চতুর্থ বিষয়: মুবতাদার দ্বিতীয় প্রকার (مبتدائے ثانی)
মুসান্নিফ মুবতাদার দ্বিতীয় প্রকারের তা'রীফ বয়ান করেছেন:
(অর্থ: অথবা এমন সীগাহ্-ই সিফাত যা হরফে নাফী বা আলিফে ইস্তিফহামের পরে واقع হয়ে কোনো ইসম যাহিরকে রাফ‘ প্রদান করে।)
(اسم فاعل, مفعول ইত্যাদি)
(যেমন: مَا، لَا অথবা أَ، هَلْ)
(রাফে‘ লি যাহির হওয়া)
দৃষ্টান্তসমূহ ও তারকীব:
- নাফীর উদাহরণ: «مَا قَائِمٌ الزَّيْدَانِ»।
- ইস্তিফহামের উদাহরণ: «أَقَائِمٌ الزَّيْدَانِ»।
তারকীবের রূপ: এখানে «قَائِمٌ» হলো مبتدأ, আর «الزَّيْدَانِ» হলো তার فَاعِل سَدَّ مَسَدَّ الْخَبَرِ (এমন ফায়িল যা খবরের স্থলাভিষিক্ত)।
«رَافِعَةً لِظَاهِرٍ» শর্তের তাৎপর্য:
সিফাতটিকে অবশ্যই কোনো ইসম যাহিরকে রাফ‘ দিতে হবে—তা হাকীক্বী যাহির হোক যেমন: «الزَّيْدَانِ», বা হুকমী যাহির যেমন যমীরে মুনফাসিল (﴿أَرَاغِبٌ أَنْتَ﴾)। যদি সিফাতটি তার ভেতরের যমীরে মুসতাতিলকে রাফ‘ দেয় (যেমন: «أَقَائِمَانِ الزَّيْدَانِ»), তবে তা মুবতাদায়ে সানী হবে না; বরং খবর মুকাদ্দাম হবে।
مبتدائے اول এবং مبتدائے ثانی-এর মাঝে দুটি মৌলিক পার্থক্য:
- আমলগত পার্থক্য: مبتدائے اول হলো معمول (আমিল মা‘নাবীর আমল গ্রহণ করে), কিন্তু مبتدائے ثانی নিজেই عامل (পরবর্তী ইসম যাহিরকে ফায়িল বানিয়ে রাফ‘ দেয়)।
- ইসনাদগত পার্থক্য: مبتدائے اول হলো مسند إليه, কিন্তু مبتدائے ثانی হলো مسند।
পঞ্চম বিষয়: সীগাহ্-ই সিফাত ও ইসম যাহিরের মুতাবেক্বাতের সুরতসমূহ
মুসান্নিফ বলেছেন: «فَإِنْ طَابَقَتْ مُفْرَدًا جَازَ الْأَمْرَانِ»। বচন ও সংখ্যার দিক থেকে সীগাহ্-ই সিফাত ও ইসম যাহিরের মিলনের মোট ৪টি সুরত হতে পারে:
এখানে দুটি তারকীবই সমানভাবে জায়েয:
- তারকীব (ক): «قَائِمٌ»-কে মুবতাদা এবং «زَيْدٌ»-কে ফায়িল কায়েম মাক্বাম খবর বানানো।
- তারকীব (খ): «قَائِمٌ»-কে খবরে মুকাদ্দাম এবং «زَيْدٌ»-কে মুবতাদায়ে মুয়াখখার বানানো।
হুকুম: এখানে কেবল একটি তারকীব ওয়াজিব—সিফাতকে مبتدأ এবং ইসম যাহিরকে فاعل سد مسد الخبر বানাতে হবে।
(খবরে মুকাদ্দাম বানানো নাজায়েয; কারণ খবর ও মুবতাদার মাঝে বচনের মিল থাকা আবশ্যক, যা এখানে অনুপস্থিত)।
হুকুম: এখানে সিফাতকে خبر مقدم এবং পরবর্তী ইসম যাহিরকে مبتدأ مؤخر বানানো ওয়াজিব।
(সিফাতকে মুবতাদা বানানো যাবে না; কারণ আরবি কায়েদা হলো—ফে‘ল বা শবেহ ফে‘লের ফায়িল যাহির হলে ফে‘ল সর্বদা মুফরাদ আসে, تثنية বা جمع আসে না)।
হুকুম: এটি আরবি ব্যাকরণের নিয়মে সম্পূর্ণ অশুদ্ধ ও বাতিল (غير جائز)।
📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)
«الِاسْمُ الْمُجَرَّدُ عَنِ الْعَوَامِلِ اللَّفْظِيَّةِ مُسْنَدًا إِلَيْهِ» — যা বাহ্যিক আমেলমুক্ত মুসনাদ ইলাইহি ইসম (যেমন: «زَيْدٌ قَائِمٌ»)।
এমন সীগাহ্-ই সিফাত যা নাফী বা ইস্তিফহামের পর واقع হয়ে কোনো ইসম যাহিরকে রাফ‘ দেয় (যেমন: «مَا قَائِمٌ الزَّيْدَانِ»)।
জুমহূরের মতে উভয়টি আমিল মা‘নাবী «الابتداء» দ্বারা মারফূ‘ হয়।
• مبتدائے اول: معمول এবং مسند إليه।
• مبتدائے ثانی: عامل এবং مسند।
- উভয়টি মুফরাদ («أَقَائِمٌ زَيْدٌ»): মুবতাদা অথবা খবর মুকাদ্দাম—উভয় তারকীব জায়েয।
- সিফাত মুফরাদ + যাহির تثنية/جمع («أَقَائِمٌ الزَّيْدَانِ»): মুবতাদায়ে সানী ওয়াজিব।
- উভয়টি تثنية/جمع («أَقَائِمَانِ الزَّইْدَانِ»): খবর মুকাদ্দাম ওয়াজিব।
- সিফাত تثنية/جمع + যাহির মুফরাদ: সম্পূর্ণ غير جائز।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন