কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
ইবারতের সরল অনুবাদ:
"এবং যখন (বাক্যে অন্যান্য মাফ‘ঊলের সাথে) মফ‘ঊল বিহ (المفعول به) পাওয়া যাবে, তখন নায়েবে ফায়িল হওয়ার জন্য তা-ই নির্দিষ্ট হবে; তুমি বলবে: «ضُرِبَ زَيْدٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَمَامَ الْأَمِيرِ ضَرْبًا شَدِيدًا فِي دَارِهِ»—সুতরাং এখানে ‘যায়েদ’ (مفعول به) নায়েবে ফায়িল হিসেবে নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। আর যদি বাক্যে মফ‘ঊল বিহ না থাকে, তবে (অন্যান্য মাফ‘ঊলসমূহের প্রত্যেকে নায়েবে ফায়িল হওয়ার ক্ষেত্রে) সমান। আর ‘বাব আ‘ত্বয়তু’ (بَابُ أَعْطَيْتُ)-এর প্রথম মফ‘ঊলটি দ্বিতীয় মফ‘ঊলের তুলনায় অধিক উত্তম (أَوْلَى)।"
দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):
আজকের দরসে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে বিশদ ও তাহকীকী আলোচনা করা হয়েছে:
- প্রথম বিষয়: বিভিন্ন প্রকার মাফ‘ঊলের উপস্থিতিতে مفعول به-এর নায়েবে ফায়িল হওয়ার অগ্রাধিকার ও সুনির্দিষ্টতা।
- দ্বিতীয় বিষয়: مفعول به না থাকার সুরতে অন্যান্য মাফ‘ঊলসমূহের সমানাধিকার।
- তৃতীয় বিষয়: بَابُ أَعْطَيْتُ-এর মাফ‘ঊলদ্বয়ের মধ্যে ১ম মাফ‘ঊলকে নায়েবে ফায়িল বানানোর হিকমত ও অগ্রাধিকার।
প্রথম বিষয়: مفعول به বিদ্যমান থাকলে তা নায়েবে ফায়িল হিসেবে নির্দিষ্ট হওয়া
মুসান্নিফ (المصنف) বলেছেন: «وَإِذَا وُجِدَ الْمَفْعُولُ بِهِ تَعَيَّنَ لَهُ»।
ক্বায়দা সমূহ ও যৌক্তিক কারণ:
যখন কোনো বাক্যে একাধিক মাফ‘ঊল (যেমন: مفعول به, مفعول فيه, مفعول مطلق, এবং جار و مجرور) একত্রিত হয় এবং সেই বাক্যের ফে‘লকে মাজহূল করা হয়, তখন অন্যান্য মাফ‘ঊলসমূহকে বাদ দিয়ে কেবল مفعول به-কেই নায়েবে ফায়িল বানানো ওয়াজিব।
কারণ: ফে‘লে মুতা‘আদ্দীর মূল উদ্দেশ্য ও অস্তিত্ব প্রকাশের জন্য ফায়িলের পর সর্বাধিক প্রত্যক্ষ ও নিবিড় সম্পর্ক থাকে مفعول به-এর সাথে। তাই ফায়িল মাহযুফ হলে তার প্রথম ও প্রধান স্থলাভিষিক্ত হওয়ার একক যোগ্যতা কেবল مفعول به-এরই রয়েছে।
মুসান্নিফের جامع দৃষ্টান্তের পর্যালোচনা:
(সাঈদ জুমার দিন আমীরের সামনে তার ঘরের ভেতর যায়েদকে কঠোর প্রহার করেছে)।
ফায়িল «سَعِيدٌ»-কে মাহযুফ করা হলো এবং বাক্যে বিদ্যমান ৫টি মাফ‘ঊলের মধ্য থেকে কেবল মফ‘ঊল বিহ «زَيْدٌ»-কে মারফূ‘ নায়েবে ফায়িল বানানো হলো; বাকি সমস্ত মাফ‘ঊল যথারীতি মানসূব ও মাজরূর হিসেবে বহাল রইল:
- «زَيْدٌ» : مفعول به صريح $\rightarrow$ নায়েবে ফায়িল হিসেবে মারফূ‘।
- «يَوْمَ الْجُمُعَةِ» : مفعول فيه (ظرف زمان) $\rightarrow$ মানসূব।
- «أَمَامَ الْأَمِيرِ» : مفعول فيه (ظرف مكان) $\rightarrow$ মানসূব।
- «ضَرْبًا شَدِيدًا» : مفعول مطلق (موصوف ও صفت) $\rightarrow$ মানসূব।
- «فِي دَارِهِ» : مفعول به غير صريح (جار و مجرور) $\rightarrow$ মাজরূর।
বসরী আলেমগণের মতে مفعول به-কে নায়েবে ফায়িল বানানো ওয়াজিব; আর কূফীগণের মতে তা ওয়াজিব নয় বরং উত্তম (أولى)।
মাসদার বা মফ‘ঊল মুতলাক্ব কেবল তখনই নায়েবে ফায়িল হতে পারে যখন তা সিফাতযুক্ত (مخصوص بالوصف) হয় (যেমন: «ضَرْبًا شَدِيدًا»); সাধারণ অনির্দিষ্ট মাসদার কখনো নায়েবে ফায়িল হতে পারে না।
দ্বিতীয় বিষয়: مفعول به না থাকলে অন্যান্য মাফ‘ঊলসমূহের সমতা
মুসান্নিফ বলেছেন:
ক্বায়দা সমূহ ও বিশ্লেষণ: যদি কোনো বাক্যে مفعول به না থাকে (যেমন ফে‘লে লাযেমের ক্ষেত্রে), তবে বাক্যে উপস্থিত অন্যান্য মাফ‘ঊলসমূহের (মফ‘ঊল ফীহ, মফ‘ঊল মুতলাক্ব, যার-মাজরূর) মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে ইচ্ছানুযায়ী নায়েবে ফায়িল বানানো সম্পূর্ণ সমান ও জায়েয।
মূল মারূফ বাক্য: «ذَهَبَ سَعِيدٌ بِزَيْدٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَمَامَ الْأَمِيرِ ذَهَابًا شَدِيدًا فِي دَارِهِ»।
মাজহূল করার পর ৩টি সুরতের যেকোনোটি পড়া জায়েয:
- যার-মাজরূরকে নায়েবে ফায়িল বানালে: «ذُهِبَ بِزَيْدٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ...»
- যারফকে নায়েবে ফায়িল বানালে: «ذُهِبَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ أَمَامَ الْأَمِيرِ...»
- মফ‘ঊল মুতলাক্বকে নায়েবে ফায়িল বানালে: «ذُهِبَ ذَهَابٌ شَدِيدٌ...»
তৃতীয় বিষয়: بَابُ أَعْطَيْتُ-এর মাফ‘ঊলদ্বয়ের মধ্যে ১ম মাফ‘ঊলের অগ্রাধিকার
মুসান্নিফ বলেছেন:
এটি এমন ফে‘লে মুতা‘আদ্দী যা দুটি মফ‘ঊল তলব করে, তবে সেই মফ‘ঊলদ্বয় মূলগতভাবে মুবতাদা-খবর ছিল না (যেমন: «أَعْطَيْتُ زَيْدًا دِرْهَمًا» — আমি যায়েদকে এক দিরহাম দিয়েছি)।
১ম মফ‘ঊল উত্তম (أولى) হওয়ার অন্তর্নিহিত রহস্য:
- ১ম মফ‘ঊল «زَيْدًا»-এর মধ্যে পরোক্ষভাবে ফায়িলিয়্যাতের অর্থ (معنى الفاعلية) বিদ্যমান; কারণ সে দিরহাম গ্রহণকারী (আখিজ বা গ্রহীতা)।
- পক্ষান্তরে ২য় মফ‘ঊল «دِرْهَمًا»-এর মধ্যে কেবল খাঁটি মাফ‘ঊলিয়্যাতের অর্থ রয়েছে (তা কেবল গৃহীত হয়েছে)।
- তাই ফায়িলিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যের নৈকট্য থাকার কারণে ১ম মফ‘ঊলকে নায়েবে ফায়িল বানানো অধিক উত্তম:
• জায়েয সুরত (جائز): «أُعْطِيَ دِرْهَمٌ زَيْدًا»
যদি উভয় মফ‘ঊল এমন বিবেকবান সত্তা হয় যে উভয়ের মধ্যেই গ্রহীতা হওয়ার যোগ্যতা থাকে এবং কে গ্রহীতা আর কাকে দান করা হয়েছে তা চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে—যেমন:
*(বাকর যায়েদকে খালেদ নামের এক গোলাম দান করেছে)*
এখানে التباس দূর করার স্বার্থে ১ম মফ‘ঊল «زَيْدًا»-কেই নায়েবে ফায়িল বানানো কেবল উত্তম নয়, বরং ওয়াজিব:
«أُعْطِيَ زَيْدٌ خَالِدًا» *(যায়েদকে খালেদ প্রদান করা হয়েছে)*।
خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ
একমাত্র মফ‘ঊল বিহ-ই নায়েবে ফায়িল হিসেবে নির্দিষ্ট হবে (যেমন: «ضُرِبَ زَيْدٌ»)।
উভয় মফ‘ঊলই নায়েবে ফায়িল হতে পারে; তবে معنى الفاعلية থাকার কারণে ১ম মফ‘ঊলটি أولى (অধিক উত্তম) (যেমন: «أُعْطِيَ زَيْدٌ دِرْهَمًا»)। [التباس থাকলে ১মটি ওয়াজিব]।
কেবল ১ম মফ‘ঊল নায়েবে ফায়িল হতে পারে; ২য় মফ‘ঊল কখনো হতে পারবে না (যেমন: «عُلِمَ زَيْدٌ فَاضِلًا» জায়েয, কিন্তু «عُلِمَ فَاضِلٌ زَيْدًا» নাজায়েয; কারণ ২য়টি মূলত مسند ছিল)।
১ম বা ২য় মফ‘ঊল নায়েবে ফায়িল হতে পারে; কিন্তু ৩য় মফ‘ঊল কখনো হতে পারবে না (যেমন: «أُعْلِمَ زَيْدٌ عَمْرًا فَاضِلًا» জায়েয, কিন্তু «أُعْلِمَ فَاضِلٌ زَيْدًا عَمْرًا» নাজায়েয)।
অন্যান্য সমস্ত মাফ‘ঊল (যরফ, মফ‘ঊল মুতলাক্ব, জার-মাজরূর) নায়েবে ফায়িল হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সমান।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন