কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
ইবারতের সরল অনুবাদ:
"মারফূ‘আতের ২য় প্রকার হলো: মাফ‘উলে মা লাম ইউসাম্মা ফায়িলুহূ (মাজহূল ফে‘লের মাফ‘উল বা নায়েবে ফায়িল)। আর তা হলো: এমন প্রতিটি মাফ‘উল, যার ফায়িলকে মাহযুফ করা হয়েছে এবং স্বয়ং উক্ত মাফ‘উলকে ফায়িলের স্থলাভিষিক্ত (قائم مقام) করা হয়েছে। আর এর শর্ত হলো: ফে‘লের সীগাহ্কে ‘ফু‘ইলা’ (فُعِلَ) অথবা ‘ইউফ‘আলু’ (يُفْعَلُ)-এর ওযনে রূপান্তর করতে হবে। আর বাব ‘আলিমতু’ (بَابُ عَلِمْتُ)-এর ২য় মাফ‘উল, বাব ‘আ‘লামতু’ (بَابُ أَعْلَمْتُ)-এর ৩য় মাফ‘উল, মাফ‘উল লাহু (المفعول له) এবং মাফ‘উল মা‘আহু (المفعول معه)—অনুরূপভাবে নায়েবে ফায়িল হতে পারবে না।"
দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):
আজকের দরসে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ে বিশদ ও তাহকীকী আলোচনা করা হয়েছে:
- প্রথম বিষয়: مَفْعُولُ مَا لَمْ يُسَمَّ فَاعِلُهُ-এর লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ (تعريف)।
- দ্বিতীয় বিষয়: ইবারতে উল্লেখিত «هُوَ» যমীর (ضمير) সংক্রান্ত একটি সূক্ষ্ম اشکال ও তার সমাধান।
- তৃতীয় বিষয়: মাফ‘উল নায়েবে ফায়িল হওয়ার আবশ্যকীয় শর্ত।
- চতুর্থ বিষয়: যে ৪টি মাফ‘উল কখনো নায়েবে ফায়িল হতে পারে না এবং তাদের না হওয়ার অন্তর্নিহিত কারণসমূহ।
প্রথম বিষয়: নায়েবে ফায়িলের তা'রীফ ও মূল ধারণা
১. লুগাভী (আভিধানিক) অর্থ:
মাজহূল ফে‘লের এমন কর্মপদ বা মাফ‘উল, যার ফায়িলের নাম বাক্যে মুখে উচ্চারণ করা হয়নি।
২. ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:
মুসান্নিফ (المصنف) কাফিয়া কিতাবে তা'রীফ বয়ান করেছেন:
অনুবাদ: "এমন প্রতিটি মাফ‘উল, যার ফায়িলকে বাক্যে মাহযুফ করা হয়েছে এবং উক্ত মাফ‘উলকে স্বয়ং ফায়িলের স্থানে বসিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত [نائب فاعل] বানানো হয়েছে।"
দৃষ্টান্তসহ রূপান্তর প্রক্রিয়া:
- মূল মারূফ বাক্য ছিল: «كَتَبَ سَعِيدٌ الدَّرْسَ» (সাঈদ পাঠটি লিখেছে)।
- ফায়িল «سَعِيدٌ»-কে মাহযুফ করা হলো $\rightarrow$ মাফ‘উল «الدَّرْسَ»-কে ফায়িলের স্থানে বসিয়ে মারফূ‘ করা হলো $\rightarrow$ ফে‘লকে মাজহূল বানিয়ে রূপ দেওয়া হলো: «كُتِبَ الدَّرْسُ» (পাঠটি লিখিত হয়েছে)।
- এখানে «الدَّرْسُ» হলো مَفْعُولُ مَا لَمْ يُسَمَّ فَاعِلُهُ বা نائب فاعل।
নাস্তিক ও বস্তুবাদীদের ভ্রান্ত আকিদা হলো—এই মহাবিশ্ব কোনো সৃষ্টিকর্তা বা ফায়িল ছাড়াই নিজে নিজে চলছে। নাহববিদগণ নায়েবে ফায়িল প্রবর্তনের মাধ্যমে কালামে এই দর্শন প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, কোনো ক্রিয়াই কর্তা বা ফায়িল ছাড়া বাস্তবে অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। তাই ফায়িল মাহযুফ হলেও তার স্থানে মাফ‘উলকে বসিয়ে হলেও একটি মারফূ‘ مسند إليه বহাল রাখা অপরিহার্য।
দ্বিতীয় বিষয়: «وَأُقِيمَ هُوَ مَقَامَهُ»-এর «هُوَ» যমীর সংক্রান্ত তাহকীক
একটি সূক্ষ্ম আপত্তি (اعتراض) ও তার সমাধান (جواب):
«أُقِيمَ» ফে‘লে মাজহূলের ভেতরে তো মারফূ‘ মুত্তাসিল যমীর مستتر ছিলই। ব্যাকরণের ক্বায়দা অনুযায়ী منفصل যমীর কেবল তখনই আনা হয় যখন তার ওপর কোনো عطف করার ইচ্ছা থাকে (যেমন কুরআনে এসেছে: ﴿اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ﴾)। কিন্তু এখানে কোনো عطف নেই; তবে অতিরিক্ত منفصل যমীর «هُوَ» কেন আনা হলো?
- যদি মুসান্নিফ «هُوَ» যমীরটি না আনতেন এবং বাক্যটি বলতেন «وَأُقِيمَ مَقَامَهُ», তবে পাঠকের মনে এই ভ্রান্তি (التباس) সৃষ্টি হতো যে «مَقَامَهُ» শব্দটিই বুঝি «أُقِيمَ»-এর নায়েবে ফায়িল! কারণ নাহবের কায়েদা হলো—যমীর সর্বদা নিকটবর্তী মারজি‘র দিকে ধাবিত হয়।
- তাই নিকটবর্তী «مَقَامَهُ»-কে নায়েবে ফায়িল মনে করার ভুল ভেঙে দিয়ে দূরবর্তী «مَفْعُول»-এর দিকে মারজি‘ সুনির্দিষ্ট করতেই মুসান্নিফ স্পষ্ট منفصل যমীর «هُوَ» এনেছেন।
- তাছাড়া নায়েবে ফায়িল বিষয়টাই মূলত মূল নিয়মের বিপরীত (خلاف القياس); তাই এখানে خلاف القياس যমীর এনে বিষয়টির অভিনবত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
তৃতীয় বিষয়: মাফ‘উল নায়েবে ফায়িল হওয়ার শর্ত
মুসান্নিফ বলেছেন:
শর্তের ক্বায়দা সমূহ ও ওযন:
মাফ‘উলকে নায়েবে ফায়িল বানাতে হলে তার পূর্ববর্তী ফে‘লের সীগাহ্কে অবশ্যই মাজহূল (فعل مجهول)-এর ওযনে রূপান্তর করতে হবে:
- ফে‘লে মাযীর ক্ষেত্রে: «فُعِلَ» (বা তার সমগোত্রীয় মাজহূল রূপ; যেমন: «ضُرِبَ», «أُكْرِمَ», «اسْتُخْرِجَ»)।
- ফে‘লে মুযারে‘-এর ক্ষেত্রে: «يُفْعَلُ» (বা তার সমগোত্রীয় মাজহূল রূপ; যেমন: «يُضْرَبُ», «يُكْرَمُ», «يُسْتَخْرَجُ»)।
হিকমত: যদি ফে‘লকে মাজহূল না বানানো হয়, তবে فاعل ও مفعول-এর মাঝে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং কে কর্তা আর কে কর্ম তা নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
চতুর্থ বিষয়: যে ৪টি মাফ‘উল কখনো নায়েবে ফায়িল হতে পারে না
মুসান্নিফ বলেছেন:
নিম্নোক্ত ৪ প্রকার মাফ‘উলকে কখনো নায়েবে ফায়িল বানানো জায়েয নেই:
• ১ম মাফ‘উলকে নায়েবে ফায়িল বানিয়ে «عُلِمَ زَيْدٌ فَاضِلًا» বলা জায়েয।
• কিন্তু ২য় মাফ‘উল «فَاضِلًا»-কে নায়েবে ফায়িল বানিয়ে «عُلِمَ فَاضِلٌ زَيْدًا» বলা সম্পূর্ণ নাজায়েয।
কারণ: افعال القلوب-এর মাফ‘উলদ্বয় মূলত মুবতাদা ও খবর ছিল (মূল: «زَيْدٌ فَاضِلٌ»)। এখানে «زَيْدٌ» ছিল مسند إليه এবং «فَاضِلٌ» ছিল مسند। ২য় মাফ‘উল «فَاضِلٌ»-কে নায়েবে ফায়িল বানালে তা একই সাথে مسند এবং مسند إليه হয়ে যাবে, যা ব্যাকরণে সম্পূর্ণ অসম্ভব।
• ১ম মাফ‘উল «زَيْدًا»-কে নায়েবে ফায়িল বানিয়ে «أُعْلِمَ زَيْدٌ عَمْرًا فَاضِلًا» বলা জায়েয;
• কিন্তু ৩য় মাফ‘উল «فَاضِلًا»-কে নায়েবে ফায়িল বানানো নাজায়েয।
কারণ: এর ৩য় মাফ‘উলটিও মূলত মুবতাদার খবর অর্থাৎ مسند ছিল।
• এখানে «تَأْدِيبًا»-কে নায়েবে ফায়িল বানিয়ে «ضُرِبَ تَأْدِيبٌ» বলা নাজায়েয।
কারণ: মাফ‘উল লাহু তার পূর্ববর্তী ফে‘লের সংঘটিত হওয়ার কারণ ও হেতু (علت) প্রকাশ করে। আর এর এই ‘কারণ’ হওয়ার অর্থ কেবল তখনই কার্যকর থাকে যখন তা منصوب থাকে। একে مرفوع বানিয়ে দিলে এর হেতুবোধক অর্থ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
• এখানে «الطَّيَالِسَةَ»-কে নায়েবে ফায়িল বানানো নাজায়েয।
কারণ: নায়েবে ফায়িল হতে হলে কোনো হরফের ব্যবধান ছাড়া সরাসরি ফে‘লের সাথে متصل হতে হয়। যদি ‘ওয়াও’ (و)-কে বহাল রাখা হয় তবে ফে‘লের সংযোগ নষ্ট হয়; আর ‘ওয়াও’ ফেলে দিলে তা আর مفعول معه থাকে না।
মুসান্নিফ প্রথম দুটি উল্লেখ করে শেষ দুটির পূর্বে «كَذٰلِكَ» (অনুরূপভাবে) এনেছেন। কারণ ১ম দুটির নায়েবে ফায়িল না হওয়ার কারণ অভিন্ন ও অতি শক্তিশালী (উভয়টি মূলত مسند ছিল); পক্ষান্তরে শেষ দুটির না হওয়ার কারণ ভিন্ন। এই স্তরভেদ বোঝাতেই মুসান্নিফ «كَذٰلِكَ» শব্দ দ্বারা বাক্য পৃথক করেছেন।
خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ
«كُلُّ مَفْعُولٍ حُذِفَ فَاعِلُهُ وَأُقِيمَ هُوَ مَقَامَهُ» — ফায়িলকে মাহযুফ করে যে মাফ‘উলকে তার স্থলাভিষিক্ত ও মারফূ‘ করা হয়।
পূর্ববর্তী ফে‘লকে অবশ্যই মাজহূলের ওযনে (فُعِلَ বা يُفْعَلُ) রূপান্তর করতে হবে।
«مَقَامَهُ»-কে নায়েবে ফায়িল মনে করার ভুল ভেঙে দূরবর্তী «مَفْعُول»-এর দিকে মারজি‘ সুনির্দিষ্ট করার জন্য।
- বাব ‘আলিমতু’-এর ২য় মাফ‘উল (কারণ তা মূলত مسند ছিল)।
- বাব ‘আ‘লামতু’-এর ৩য় মাফ‘উল (কারণ তা-ও মূলত مسند ছিল)।
- মাফ‘উল লাহু (কারণ মারফূ‘ বানালে علت-এর অর্থ নষ্ট হয়ে যায়)।
- মাফ‘উল মা‘আহু (কারণ ফে‘লের সাথে সংযোগ ও ওয়াও-এর অর্থ রক্ষা করা যায় না)।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন