কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
ইবারতের সরল অনুবাদ:
"আর তুমি যদি (কূফীগণের মাযহাব অনুযায়ী) ১ম ফে‘লকে (ইসম যাহিরের মধ্যে) আমল দাও, তবে ২য় ফে‘লের মধ্যে ফায়িলের যমীর (ضمير الفاعل) উহ্য বা মুযমার মানবে; আর মাফ‘উলের ক্ষেত্রেও উত্তম মত অনুযায়ী যমীর মানবে—ব্যতীত যদি কোনো বাধা (مانع) যমীর মানতে প্রতিবন্ধক হয়, তবে মাফ‘উলকে প্রকাশ্য উল্লেখ (إظهار) করবে। আর কবি ইমরুল কায়েসের পঙ্ক্তি: «كَفَانِي وَلَمْ أَطْلُبْ قَلِيلٌ مِنَ الْمَالِ»—এটি এই تنازع-এর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ একে تنازع মানলে অর্থের বিকৃতি (فساد المعنى) লাযেম আসে।"
দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):
পূর্ববর্তী দরসে বসরীগণের মাযহাব অনুযায়ী ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়ার পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে। আজকের দরসে মুসান্নিফ (المصنف) কূফী আলেমগণের মাযহাব অনুযায়ী ১ম ফে‘লকে আমল দেওয়ার ক্ষেত্রে قَطْعِ تَنَازُع (বিরোধ নিষ্পত্তি)-এর ক্বায়দা সমূহ বয়ান করেছেন। এতে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- প্রথম বিষয়: ১ম ফে‘লকে আমল দিলে ২য় ফে‘লের فاعل-এর দাবি নিষ্পত্তির বিধান।
- দ্বিতীয় বিষয়: ২য় ফে‘লের مفعول-এর দাবি নিষ্পত্তিতে إضمار, حذف এবং مانع থাকার কারণে إظهار-এর ক্বায়দা সমূহ।
- তৃতীয় বিষয়: কবি ইমরুল কায়েসের কবিতার ব্যাকরণিক তাহকীক এবং তা باب التنازع-এর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার অকাট্য প্রমাণাদি।
প্রথম বিষয়: ১ম ফে‘লকে আমল দিলে ২য় ফে‘লের ফায়িলের বিধান
মুসান্নিফ বলেছেন:
ক্বায়দা সমূহ ও যুক্তি:
কূফী মাযহাব অনুযায়ী যখন ১ম ফে‘ল ইসম যাহিরকে নিজের মা‘মূল বানিয়ে নেয়, তখন ২য় ফে‘লটি মা‘মূলহীন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ২য় ফে‘ল যদি ফায়িল (فاعل) তলব করে, তবে:
- ফায়িলকে মাহযুফ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয (কারণ فاعل হলো কালামের عُمْدَة)।
- ইসম যাহিরকে পুনরায় মুখে উচ্চারণ (إظهار) করাও নাজায়েয (কারণ এতে تكرار قبيح বা দৃষ্টিকটু পুনরাবৃত্তি হয়)।
- একমাত্র সমাধান: ২য় ফে‘লের ভেতরে ইসম যাহিরের বচন ও লিঙ্গ অনুযায়ী ফায়িলের একটি যমীর (إضمار) নিয়ে আসা ওয়াজিব।
দৃষ্টান্তসমূহ ও তারকীবগত রূপ:
এখানে ১ম ফে‘ল «ضَرَبَنِي» আমল পেয়ে ইসম যাহির «زَيْدٌ»-কে ফায়িল বানিয়েছে। আর ২য় ফে‘ল «أَكْرَمَنِي»-এর ভেতরে মুস্তাতিল যমীর «هُوَ» ফায়িল হিসেবে মুযমার রয়েছে।
এখানে ২য় ফে‘লে ‘الف’ যমীরটি فاعل হয়েছে।
এখানে ২য় ফে‘লে ‘واو’ যমীরটি فاعل হয়েছে।
এখানে যমীর ব্যবহারের কারণে কোনো অবৈধ إضمار قبل الذكر লাযেম আসে না; কারণ ইসম যাহিরটি যদিও ২য় ফে‘লের পরে উল্লেখিত, কিন্তু তা ১ম ফে‘লের ফায়িল হওয়ার কারণে রুতবা ও মর্যাদায় (رتبةً) পূর্বেই অবস্থিত।
দ্বিতীয় বিষয়: ২য় ফে‘লের মাফ‘উলের দাবি নিষ্পত্তির বিধান
মুসান্নিফ বলেছেন:
১ম ফে‘লকে আমল দেওয়ার পর ২য় ফে‘ল যদি مفعول তলব করে, তবে দুটি অবস্থা সৃষ্টি হবে:
মাফ‘উল হলো বাক্যের فَضْلَة (অতিরিক্ত অংশ)। তাই এ সুরতে মাফ‘উলকে মাহযুফ করাও জায়েয এবং যমীর আনাও জায়েয।
মুসান্নিফের নির্বাচিত ও উত্তম মত (المختار / أولى): ২য় ফে‘লের সাথে মাফ‘উলের যমীর সংযুক্ত করা (إضمار) অধিক উত্তম।
• উত্তম সুরত (যমীরসহ): «ضَرَبْتُ وَأَكْرَمْتُهُ زَيْدًا»।
• জায়েয সুরত (মাহযুফসহ): «ضَرَبْتُ وَأَكْرَمْتُ زَيْدًا»।
যমীর আনার অগ্রাধিকারের কারণ: যমীর উল্লেখ করলে মুতাকাল্লিমের উদ্দেশ্য শ্রোতার কাছে পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয় (অর্থাৎ যায়েদকে প্রহারও করা হয়েছে এবং তাকেই সম্মানও করা হয়েছে)।
যদি ২য় ফে‘লটি এমন হয় যাতে মাফ‘উল মাহযুফ করা ব্যাকরণগতভাবে নিষিদ্ধ—যেমন: افعال قلوب (حَسِبَ, ظَنَّ ইত্যাদি; যেগুলোর মাফ‘উল মাহযুফ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয)—তবে:
- সেখানে মাফ‘উল মাহযুফ করা যাবে না।
- আবার যমীর আনলেও দুই মাফ‘উলের মাঝে লিঙ্গ ও বচনের মিল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- একমাত্র বিধান: এ সুরতে মাফ‘উলকে পৃথকভাবে প্রকাশ্য শব্দে উল্লেখ (إظهار) করা ওয়াজিব।
তৃতীয় বিষয়: কবি ইমরুল কায়েসের কবিতার তাহকীক ও রদ
কূফী আলেমগণ ১ম ফে‘লকে আমল দেওয়ার পক্ষে জাহেলী যুগের বিখ্যাত কবি ইমরুল কায়েসের নিম্নোক্ত পঙ্ক্তি দলিল হিসেবে পেশ করে থাকেন:
وَلٰكِنَّمَا أَسْعَى لِمَجْدٍ مُؤَثَّلٍ ... وَقَدْ يُدْرِكُ الْمَجْدَ الْمُؤَثَّلَ أَمْثَالِي
এখানে ১ম ফে‘ল «كَفَانِي» আমল পেয়ে «قَلِيلٌ»-কে মারফূ‘ ফায়িল বানিয়েছে, আর ২য় ফে‘ল «لَمْ أَطْلُبْ»-এর মাফ‘উল কোনো যমীর ছাড়াই মাহযুফ হয়েছে। এটি প্রমাণ করে ১ম ফে‘লকে আমল দেওয়াই আরবের নিয়ম।
মুসান্নিফ ও বসরীগণের খণ্ডন («لَيْسَ مِنْهُ لِفَسَادِ الْمَعْنَى»):
মুসান্নিফ বলেন: এই কবিতাটি কোনো অবস্থাতেই باب التنازع-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ একে تنازع মানলে কবিতার অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত ও ধ্বংস (فساد المعنى) হয়ে যায়।
- আরবি ব্যাকরণে হরফে শর্ত «لَوْ»-এর কায়েদা হলো—তা কালামের অর্থকে উল্টে দেয়, অর্থাৎ ইতিবাচককে নেতিবাচক এবং নেতিবাচককে ইতিবাচক বানিয়ে দেয় («يَقْلِبُ الْإِيجَابَ سَلْبًا وَالسَّلْبَ إِيجَابًا»)।
- কবিতায় «لَوْ» দাখিল হয়েছে «أَسْعَى» (আমি চেষ্টা করি)-এর ওপর; ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: "বাস্তবে আমি সামান্য জীবিকার চেষ্টাই করি না।"
- এখন যদি ২য় ফে‘ল «لَمْ أَطْلُبْ» (আমি অন্বেষণ করি না)-কে «قَلِيلٌ»-এর সাথে تنازع-এর ভিত্তিতে যুক্ত মানা হয়, তবে «لَوْ»-এর প্রভাবে তার অর্থ উল্টে গিয়ে দাঁড়াবে: "বাস্তবে আমি অল্প সম্পদই অন্বেষণ করি!"
- অথচ পরবর্তী চরণে কবি নিজেই সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন: «وَلٰكِنَّمَا أَسْعَى لِمَجْدٍ مُؤَثَّلٍ» (বরং আমি তো চিরস্থায়ী মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্বেষণ করি)। সুতরাং একে تنازع মানলে কবির নিজের বক্তব্যের সাথেই মারাত্মক স্ববিরোধিতা ও অর্থগত বিকৃতি ঘটে।
কবিতার সঠিক ও বিশুদ্ধ তারকীব:
- «قَلِيلٌ» শব্দটি শুধুমাত্র ১ম ফে‘ল «كَفَانِي»-এর ফায়িল।
- ২য় ফে‘ল «لَمْ أَطْلُبْ»-এর সাথে এর কোনো تنازع নেই; বরং এর মাফ‘উলটি বাক্যে মাহযুফ রয়েছে, যা পরবর্তী চরণের শব্দ «الْمَجْدَ الْمُؤَثَّلَ» (চিরস্থায়ী সম্মান)-এর দ্বারা ব্যাখ্যায়িত। (মূল তাক্বদীর: «وَلَمْ أَطْلُبِ الْمَجْدَ الْمُؤَثَّلَ»)।
"আমি যদি নিছক সামান্য জীবিকা নির্বাহের জন্য চেষ্টা করতাম, তবে অল্প সম্পদই আমার জন্য যথেষ্ট হতো (কিন্তু আমি তো সামান্য জীবিকার চেষ্টাই করি না, ফলে অল্প সম্পদও আমার জন্য যথেষ্ট নয়); বরং আমি তো চিরস্থায়ী শ্রেষ্ঠত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদা অন্বেষণ করি, আর আমার মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিরাই সেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে।"
خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ
২য় ফে‘লের ভেতরে ইসম যাহিরের অনুরূপ ফায়িলের যমীর (إضمار) আনা ওয়াজিব (যেমন: «ضَرَبَنِي وَأَكْرَمَانِي الزَّيْدَانِ»)।
- সাধারণ ফে‘ল হলে: যমীর আনা (إضمار) অধিক উত্তম ও মুখতার (যেমন: «ضَرَبْتُ وَأَكْرَمْتُهُ زَيْدًا»)।
- افعال قلوب হলে (مانع থাকলে): মাফ‘উলকে প্রকাশ্য শব্দে إظهار করা ওয়াজিব (যেমন: «حَسِبَنِي مُنْطَلِقًا وَحَسِبْتُ زَيْدًا مُنْطَلِقًا»)।
«كَفَانِي وَلَمْ أَطْلُبْ قَلِيلٌ»-কে تنازع মানলে «لَوْ»-এর কারণে فساد المعنى লাযেম আসে। তাই «قَلِيلٌ» কেবল «كَفَانِي»-এর ফায়িল, আর «لَمْ أَطْلُبْ»-এর মাফ‘উল হলো মাহযুফ শব্দ «الْمَجْدَ الْمُؤَثَّلَ»।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন