হোম কাফিয়া দরসে কাফিয়া (৩৪) : تنازع-এ ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়ার ক্বায়দা, কিসাঈ ও ফাররার মতভেদ এবং إضمار ও حذف

দরসে কাফিয়া (৩৪) : تنازع-এ ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়ার ক্বায়দা, কিসাঈ ও ফাররার মতভেদ এবং إضمار ও حذف

২৩ আগস্ট, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
কাফিয়া কিসাঈ তানাযু ফিল ফেলান দরসে কাফিয়া নাহব ফাররা মারফুআত
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
দরস: ৩৪ | ইলমে নাহব মূল বিষয়: ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়ার ক্ষেত্রে قَطْعِ تَنَازُع (বিরোধ নিষ্পত্তি)-এর ক্বায়দা সমূহ, ইমাম কিসাঈ ও ইমাম ফাররা (رحمهما الله)-এর সাথে জুমহূরের মতভেদ এবং فاعلمفعول-এর إضمار, حذفإظهار-এর বিশদ তাহকীক।
[toc]
কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
فَإِنْ أَعْمَلْتَ الثَّانِيَ أَضْمَرْتَ الْفَاعِلَ فِي الْأَوَّلِ عَلَى وَفْقِ الظَّاهِرِ دُونَ الْحَذْفِ، خِلَافًا لِلْكِسَائِيِّ، وَجَازَ خِلَافًا لِلْفَرَّاءِ، وَحَذَفْتَ الْمَفْعُولَ إِنِ اسْتَغْنَى عَنْهُ، وَإِلَّا أَظْهَرْتَ.

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"অতঃপর তুমি যদি ২য় ফে‘লকে (ইসম যাহিরের মধ্যে) আমল দাও, তবে ১ম ফে‘লের মধ্যে ইসম যাহিরের অনুরূপ ফায়িলের যমীর (ضمير الفاعل) উহ্য বা মুযমার মানবে—মাহযুফ করবে না; যা ইমাম কিসাঈ (رحمه الله)-এর মতের বিপরীত। আর (১ম ফে‘ল ফায়িল তলব করা সত্ত্বেও ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়া) জায়েয; যা ইমাম ফাররা (رحمه الله)-এর মতের বিপরীত। এবং ১ম ফে‘লের মাফ‘উলকে মাহযুফ করবে যদি তা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় (استغناء থাকে); অন্যথায় (যদি অমুখাপেক্ষী হওয়া না যায়, তবে) তাকে প্রকাশ্য উল্লেখ (إظهار) করবে।"

দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):

আজকের দরসে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে বিশদ ও তাহকীকী আলোচনা করা হয়েছে:

  • প্রথম বিষয়: বসরী আলেমগণের মাযহাব অনুযায়ী ২য় ফে‘লকে আমল দিলে ১ম ফে‘লের فاعل-এর দাবি নিষ্পত্তির ক্বায়দা সমূহ।
  • দ্বিতীয় বিষয়: এ বিষয়ে ইমাম কিসাঈ ও ইমাম ফাররা (رحمهما الله)-এর সাথে জুমহূরের মতভেদ ও ثمرة الخلاف
  • তৃতীয় বিষয়: ১ম ফে‘লের مفعول-এর দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে حذفإظهار-এর বিস্তারিত সুরতসমূহ।

প্রথম বিষয়: ২য় ফে‘লকে আমল দিলে ১ম ফে‘লের ফায়িলের বিধান

মুসান্নিফ (المصنف) বলেছেন:

فَإِنْ أَعْمَلْتَ الثَّانِيَ أَضْمَرْتَ الْفَاعِلَ فِي الْأَوَّلِ عَلَى وَفْقِ الظَّاهِرِ دُونَ الْحَذْفِ

সমস্যার প্রেক্ষাপট ও ৩টি যৌক্তিক পথ:

যখন ২য় ফে‘লটি ইসম যাহিরকে নিজের মা‘মূল বানিয়ে নেয়, তখন ১ম ফে‘লটি মা‘মূলহীন থেকে যায়। ১ম ফে‘ল যদি فاعل তলব করে, তবে সেই দাবি নিষ্পত্তির জন্য ৩টি বুদ্ধিবৃত্তিক সুরত সম্ভব:

  1. ১ম ফে‘লের ফায়িলকে সম্পূর্ণ মাহযুফ করা।
  2. ইসম যাহিরকে ১ম ফে‘লের পরেও পুনরাবৃত্তি (إظهار) করা।
  3. ১ম ফে‘লের মধ্যে ফায়িলের একটি যমীর (إضمار) নিয়ে আসা।
১. ১ম সুরত (حذف) কেন বাতিল?

কারণ فاعل হলো কালামের মূল ভিত্তি বা عُمْدَة। আর আরবি ব্যাকরণে কোনো ক্বায়েম মাক্বাম বা বিকল্প ছাড়া عمدة-কে মাহযুফ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও অশুদ্ধ। তাই মুসান্নিফ বলেছেন: «دُونَ الْحَذْفِ» (মাহযুফ করা যাবে না)।

২. ২য় সুরত (إظهار) কেন বাতিল?

কারণ ইসম যাহিরকে হুবহু পুনরাবৃত্তি করলে (যেমন: «ضَرَبَنِي زَيْدٌ وَأَكْرَمَنِي زَيْدٌ») কালামের মধ্যে অনর্থক পুনরাবৃত্তি (تكرار قبيح) সৃষ্টি হয়, যা আরবের ফাসীহ ও প্রাঞ্জল ভাষার পরিপন্থী।

৩. ৩য় সুরত (إضمار — নির্বাচিত ক্বায়দা):

অতএব, حذف এবং إظهار বাতিল হওয়ার পর একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো—১ম ফে‘লের ভেতরে পরবর্তী ইসম যাহিরের অনুরূপ একটি ফায়িলের যমীর (ضمير الفاعل) উহ্য বা মুযমার মানা।

«عَلَى وَفْقِ الظَّاهِرِ»-এর তাৎপর্য ও إضمار قبل الذكر-এর সমাধান:

মুতাবেক্বাত: ১ম ফে‘লের ভেতরের যমীরটি সংখ্যা (একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন) এবং লিঙ্গের দিক থেকে পরবর্তী ইসম যাহিরের হুবহু অনুরূপ হবে; কারণ পরবর্তী ইসম যাহিরই হলো উক্ত যমীরের مرجع (মারজি‘)।

• যেমন: «ضَرَبَنِي وَأَكْرَمَنِي زَيْدٌ»। এখানে «ضَرَبَنِي»-এর ভেতরে মুস্তাতিল যমীর «هُوَ» রয়েছে, যা পরবর্তী ফায়িল «زَيْدٌ»-এর দিকে ফিরেছে।

إضمار قبل الذكر-এর নিরসন: যদিও এখানে যমীরটি মারজি‘র পূর্বে এসেছে, কিন্তু এটি এমন এক যমীর যার তাফসীর ও ব্যাখ্যা পরবর্তী ইসম যাহির দ্বারা সাথে সাথেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর আরবি কায়েদা হলো—তাফসীর বিদ্যমান থাকলে عمدة-এর ক্ষেত্রে إضمار قبل الذكر সম্পূর্ণ জায়েয (যেমন পবিত্র কুরআনে এসেছে: ﴿قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ﴾)।

দ্বিতীয় বিষয়: ইমাম কিসাঈ ও ইমাম ফাররা (رحمهما الله)-এর সাথে মতভেদ

১. ইমাম কিসাঈ (رحمه الله)-এর মাযহাব («خِلَافًا لِلْكِسَائِيِّ»):

মাযহাব: ইমাম কিসাঈর মতে ১ম ফে‘লের ভেতরে যমীর মানা সম্পূর্ণ নাজায়েয; কারণ তাঁর নিকট সর্বাবস্থায় إضمار قبل الذكر নিষিদ্ধ। তাই তাঁর মতে ১ম ফে‘লের ফায়িলকে সরাসরি মাহযুফ করে দিতে হবে।

মতভেদের বাস্তব প্রকাশ (ثمرة الخلاف):
  • تثنية-এর ক্ষেত্রে:
    • বসরীগণ বলবেন: «ضَرَبَانِي وَأَكْرَمْتُ الزَّيْدَيْنِ» (১ম ফে‘লে الف যমীর এনে)।
    • ইমাম কিসাঈ বলবেন: «ضَرَبَنِي وَأَكْرَمْتُ الزَّيْدَيْنِ» (ফায়িল মাহযুফ করে মুফরাদ রেখে)।
  • جمع-এর ক্ষেত্রে:
    • বসরীগণ বলবেন: «ضَرَبُونِي وَأَكْرَمْتُ الزَّيْدِينَ» (১ম ফে‘লে واو যমীর এনে)।
    • ইমাম কিসাঈ বলবেন: «ضَرَبَنِي وَأَكْرَمْتُ الزَّيْدِينَ» (ফায়িল মাহযুফ করে মুফরাদ রেখে)।
২. ইমাম ফাররা (رحمه الله)-এর মাযহাব («وَجَازَ خِلَافًا لِلْفَرَّاءِ»):

মাযহাব: ইমাম ফাররা বলেন—১ম ফে‘ল যখন فاعل (عمدة) তলব করে, তখন ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়া শুরু থেকেই বাতিল ও নাজায়েয; বরং কেবল ১ম ফে‘লকেই আমল দিতে হবে।

যুক্তি: কারণ ২য় ফে‘লকে আমল দিলে ১ম ফে‘লে اضمار করলে إضمار قبل الذكر লাযেম আসে, حذف করলে عمدة-এর মাহযুফ লাযেম আসে, আর إظهار করলে تكرار লাযেম আসে। যেহেতু ৩টি পথেই ত্রুটি রয়েছে, তাই ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়াই বন্ধ রাখতে হবে।

মুসান্নিফের সমাধান («وَجَازَ»): মুসান্নিফ বলেন, জুমহূরের মতে ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়া সম্পূর্ণরূপে জায়েয; কারণ তাফসীরের উপস্থিতিতে عمدة-এর মধ্যে إضمار قبل الذكر হওয়া আরবিতে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ।

তৃতীয় বিষয়: ১ম ফে‘লের মাফ‘উলের দাবি নিষ্পত্তির বিধান

মুসান্নিফ বলেছেন:

وَحَذَفْتَ الْمَفْعُولَ إِنِ اسْتَغْنَى عَنْهُ، وَإِلَّا أَظْهَرْتَ

যদি ১ম ফে‘লটি مفعول তলব করে, তবে দুটি অবস্থা সৃষ্টি হবে:

১. মাফ‘উল থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া গেলে (إِنِ اسْتَغْنَى عَنْهُ):

যদি ১ম ফে‘লটি এমন সাধারণ ফে‘লে মুতা‘আদ্দী হয় যাতে মাফ‘উল উল্লেখ না করলেও কালামের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় না, তবে ১ম ফে‘লের মাফ‘উলকে উজূবান মাহযুফ রাখা ওয়াজিব।

দৃষ্টান্ত: «ضَرَبْتُ وَأَكْرَمَنِي زَيْدٌ» (আমি প্রহার করেছি এবং যায়েদ আমাকে সম্মান করেছে)।

বিশ্লেষণ: এখানে «ضَرَبْتُهُ» বলে যমীর আনা নাজায়েয; বরং মাফ‘উলকে মাহযুফ রাখা ওয়াজিব।

কারণ: مفعول হলো বাক্যের فَضْلَة (অতিরিক্ত অংশ)। আর فضلة-এর ক্ষেত্রে إضمار قبل الذكر করা আরবদের নিকট চরম শ্রুতিকটু ও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই যমীর না এনে তাকে মাহযুফ করাই আবশ্যক।

২. মাফ‘উল থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া না গেলে («وَإِلَّا أَظْهَرْتَ»):

যদি ১ম ফে‘লটি এমন হয় যাতে মাফ‘উল উল্লেখ করা কালামের অপরিহার্য অংশ—যেমন: افعال قلوب (حَسِبَ, ظَنَّ ইত্যাদি; যেগুলোর মাফ‘উল মাহযুফ করা ব্যাকরণে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ), তবে ১ম ফে‘লের মাফ‘উলকে প্রকাশ্য শব্দে উল্লেখ (إظهار) করা ওয়াজিব।

حَسِبَنِي مُنْطَلِقًا وَحَسِبْتُ زَيْدًا مُنْطَلِقًا
বিশ্লেষণ:
  • এখানে ২য় ফে‘ল «حَسِبْتُ» আমল পেয়ে «زَيْدًا»-কে ১ম মাফ‘উল এবং «مُنْطَلِقًا»-কে ২য় মাফ‘উল বানিয়েছে।
  • ১ম ফে‘ল «حَسِبَنِي»-এর ১ম মাফ‘উল হলো ‘ي’ যমীর। কিন্তু এর ২য় মাফ‘উলকে মাহযুফ করা افعال قلوب-এর নিয়মে অসম্ভব হওয়ায় ২য় মাফ‘উল «مُنْطَلِقًا»-কে প্রকাশ্য উল্লেখ (إظهار) করা হয়েছে।

خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ

১ম ফে‘ল ফায়িল তলব করলে (জুমহূরের বিধান):

১ম ফে‘লের ভেতরে ইসম যাহিরের অনুরূপ ফায়িলের যমীর (إضمار) আনা ওয়াজিব (যেমন: «ضَرَبَانِي وَأَكْرَمْتُ الزَّيْدَيْنِ»)।

ইমামদের মতভেদ:
  • ইমাম কিসাঈ: ১ম ফে‘লের ফায়িলকে حذف করেন (যেমন: «ضَرَبَنِي وَأَكْرَمْتُ الزَّيْدَيْنِ»)।
  • ইমাম ফাররা: এ সুরতে ২য় ফে‘লকে আমল দেওয়াকেই নাজায়েয মনে করেন।
১ম ফে‘ল মাফ‘উল তলব করলে:
  • সাধারণ ফে‘ল হলে: মাফ‘উলকে উজূবান حذف করতে হবে (যেমন: «ضَرَبْتُ وَأَكْرَمَنِي زَيْدٌ»)।
  • افعال قلوب হলে: মাফ‘উলকে প্রকাশ্য إظهار করতে হবে (যেমন: «حَسِبَنِي مُنْطَلِقًا وَحَسِبْتُ زَيْدًا مُنْطَلِقًا»)।
মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন