কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
ইবারতের সরল অনুবাদ:
"এবং কখনো কখনো কোনো ক্বরীনার (قرينة) উপস্থিতির কারণে ফে‘লকে জাওয়াযান (জায়েয হিসেবে) মাহযুফ করা হয়; যেমন যে ব্যক্তি প্রশ্ন করল: «مَنْ قَامَ؟» (কে দাঁড়িয়েছে?), তার উত্তরে শুধু «زَيْدٌ» বলা; এবং কবির পঙ্ক্তি: «لِيَبْكِ يَزِيدَ ضَارِعٌ لِخُصُومَةٍ ... وَمُخْتَبِطٌ مِمَّا تُطِيحُ الطَّوَائِحُ»-এর মতো বাক্যে। আর কখনো কখনো ফে‘লকে উজূবান (ওয়াজিব হিসেবে) মাহযুফ করা হয়; যেমন পবিত্র কুরআনের বাণী: ﴿وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ﴾। আর কখনো কখনো ফে‘ল ও ফায়িল উভয়টিকে একসাথে মাহযুফ করা হয়; যেমন যে ব্যক্তি প্রশ্ন করল: «أَقَامَ زَيْدٌ؟» (যায়েদ কি দাঁড়িয়েছে?), তার জবাবে শুধু «نَعَمْ» (হ্যাঁ) বলা।"
দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):
আজকের দরসে ফায়িলের ৪র্থ হুকুম অর্থাৎ ফায়িলকে বাক্যে বহাল রেখে তার ফে‘লকে মাহযুফ করার বিধানাবলি আলোচনা করা হয়েছে। এতে মূলত তিনটি প্রধান সুরত বিশ্লেষণ করা হয়েছে:
- প্রথম বিষয়: ফে‘ল জাওয়াযান (جوازاً) মাহযুফ হওয়া (বাস্তব ও কাল্পনিক প্রশ্নের জবাবে)।
- দ্বিতীয় বিষয়: ফে‘ল উজূবান (وجوباً) মাহযুফ হওয়া (শর্ত ও তাফসীরের অধ্যায়ে)।
- তৃতীয় বিষয়: ফে‘ল ও ফায়িল উভয়টি একসাথে জাওয়াযান মাহযুফ হওয়া।
تمهيد: ক্বরীনার তা'রীফ ও প্রকারভেদ
কোনো শব্দকে মাহযুফ করার জন্য আরবি ব্যাকরণে ক্বরীনা (قرينة) থাকা অপরিহার্য।
(অর্থ: এমন লক্ষণ বা প্রমাণ যা কোনো নির্দিষ্ট মাহযুফ বিষয়ের ওপর পথপ্রদর্শন করে।)
প্রথম বিষয়: ফে‘ল জাওয়াযান (جوازاً) মাহযুফ হওয়া
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَقَدْ يُحْذَفُ الْفِعْلُ لِقِيَامِ قَرِينَةٍ جَوَازًا»। ক্বরীনার উপস্থিতিতে ফে‘লকে জাওয়াযান (ঐচ্ছিকভাবে) মাহযুফ করার দুটি স্বীকৃত সুরত রয়েছে:
দৃষ্টান্ত: কোনো ব্যক্তি প্রশ্ন করল: «مَنْ قَامَ؟» (কে দাঁড়িয়েছে?), আর উত্তরে বলা হলো: «زَيْدٌ» (যায়েদ)।
বিশ্লেষণ: প্রশ্নকর্তার প্রশ্নটি ছিল একটি পূর্ণ বাক্য (جملة)। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী উত্তরও পূর্ণ জুমলাহ হওয়া উচিত ছিল; কিন্তু উত্তরে কেবল মুফরাদ শব্দ «زَيْدٌ» বলা হয়েছে। এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে এখানে ফে‘ল মাহযুফ রয়েছে; যার মূল তাক্বদীর হলো: «قَامَ زَيْدٌ»।
ক্বরীনা: যেহেতু প্রশ্নকর্তার প্রশ্নে «قَامَ» ফে‘লটি স্পষ্টভাবে উল্লেখিত ছিল, তাই কায়েদা—«اَلْمَذْكُورُ فِي السُّؤَالِ كَالْمَوْعُودِ فِي الْجَوَابِ» (প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয় উত্তরের অংশ হিসেবেই গণ্য হয়)—অনুযায়ী ফে‘লটিকে মাহযুফ করা জায়েয হয়েছে।
দৃষ্টান্ত: আরবের কবি জিরার ইবনে নাহশাল (ضرار بن نهشل) তাঁর ভাই ইয়াযীদের মৃত্যুতে শোকগাঁথা (مرثية) রচনা করে বলেছিলেন:
(অর্থ: ইয়াযীদের মৃত্যুর ওপর এমন ব্যক্তির ক্রন্দন করা উচিত যে কোনো শত্রুতা বা বিবাদে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছে, এবং এমন নিঃস্ব ব্যক্তির যে কালের দুর্যোগে সর্বস্বান্ত হয়ে সাহায্যপ্রার্থী হয়েছে।)
মহালে ইস্তিশহাদ (محل استشهاد): এখানে «ضَارِعٌ» শব্দটি ফায়িল (মারফূ‘); আর এর পূর্বে ফে‘লটি মাহযুফ রয়েছে।
বিশ্লেষণ: কবি যখন ১ম চরণে বললেন «لِيَبْكِ يَزِيدَ» (ইয়াযীদের ওপর ক্রন্দন করা হোক), তখন শ্রোতার মনে একটি অবধারিত কাল্পনিক প্রশ্ন (سؤال مقدر) উদিত হয়—«مَنْ يَبْكِي عَلَيْهِ؟» (তার ওপর কে কাঁদবে?)। কবি যেন সেই কাল্পনিক প্রশ্নের জবাবে বললেন: «ضَارِعٌ»। অর্থাৎ বাক্যটির মূল তাক্বদীর হলো: «يَبْكِي عَلَيْهِ ضَارِعٌ لِخُصُومَةٍ»। এখানে প্রশ্নটি মুক্বাদ্দার হলেও তা একটি শক্তিশালী قرينة مقالية হিসেবে ফে‘ল «يَبْكِي»-কে মাহযুফ করাকে জায়েয করে দিয়েছে।
- «لِيَبْكِ»: ফে‘লে আমর গায়েব মাজহূল।
- «يَزِيدَ»: নায়েবে ফায়িল (গায়রে মুনসারিফ হওয়ায় যবর দ্বারা মারফূ‘র জায়গায়)।
- «ضَارِعٌ»: মাহযুফ ফে‘ল «يَبْكِي»-এর ফায়িল।
- «لِخُصُومَةٍ»: যার-মাজরূর মুতা‘আল্লিক্ব হয়েছে «ضَارِعٌ» (সিফাতে মুশাব্বাহ)-এর সাথে।
- «وَمُخْتَبِطٌ»: মা'তূফ হয়ে ফায়িল «ضَارِعٌ»-এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়: ফে‘ল উজূবান (وجوباً) মাহযুফ হওয়া
মুসান্নিফ বলেছেন:
ক্বায়দা সমূহ ও হুকুম: যখন কোনো স্থানে ফে‘লকে প্রাথমিকভাবে মাহযুফ করার পর বাক্যে একটি অস্পষ্টতা (إبهام) সৃষ্টি হয় এবং সেই ইবহাম দূর করার জন্য পরবর্তীতে অপর একটি ফে‘লকে ব্যাখ্যাকারী (مُفَسِّر) হিসেবে নিয়ে আসা হয়, তখন পূর্ববর্তী মাহযুফ ফে‘লটিকে আর প্রকাশ্য আনা জায়েয থাকে না; বরং তাকে উজূবান মাহযুফ রাখা ওয়াজিব হয়ে যায়।
কুরআনী আয়াতের বিশদ পর্যালোচনা:
*(সূরা আত-তাওবাহ: ৬)*
মূল বাক্য (تقدير عبارت): মূলত বাক্যটি ছিল: «وَإِنِ اسْتَجَارَكَ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ»।
এখানে প্রথমে «أَحَدٌ»-এর পূর্বে ফে‘ল «اسْتَجَارَكَ»-কে মাহযুফ করা হয়েছিল। এতে বাক্যে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হওয়ায় পরবর্তীতে অপর একটি ফে‘ল «اسْتَجَارَكَ»-কে مُفَسِّر (ব্যাখ্যাকারী) হিসেবে আনা হয়েছে। আর নাহব শাস্ত্রের সর্বসম্মত কায়েদা হলো:
(অর্থ: যে ক্ষেত্রে বিলুপ্তির কারণে মুফাসসির আনা হয়, সেখানে একই বাক্যে ব্যাখ্যাকারী [مُفَسِّر] এবং ব্যাখ্যাপ্রার্থিত শব্দ [مُفَسَّر]-কে একত্রে মুখে উচ্চারণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও মমতানি‘।)
একটি সূক্ষ্ম আপত্তি (اشکال) ও তার সমাধান (جواب):
আপনারা বললেন মুফাসসির ও মুফাসসারকে একত্রে জমা করা নাজায়েয; অথচ «رَأَيْتُ طَالِبًا أَيْ: أَخَاكَ» বাক্যে তো «طَالِبًا» (মুফাসসার) এবং «أَخَاكَ» (মুফাসসির) উভয়টিই একত্রে উল্লেখিত রয়েছে!
মুফাসসির ও মুফাসসারকে জমা করা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ নয়; বরং কেবল সেখানেই নিষিদ্ধ যেখানে ইবহামটি ফে‘ল মাহযুফ করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। «رَأَيْتُ طَالِبًا»-এ ইবহাম হয়েছিল নাকিরাহ শব্দের কারণে, ফে‘ল বিলুপ্তির কারণে নয়। তাই সেখানে জমা হওয়া জায়েয হলেও এখানে ফে‘ল মাহযুফের সুরতে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইবারতে উভয় শব্দ মানসূব (منصوب) হয়েছে; কারণ এগুলো একটি মাহযুফ মাফ‘উলে মুতলাক্ব (مفعول مطلق محذوف)-এর জন্য সিফাত (صفت) হয়েছে। (মূল তাক্বদীর: «وَقَدْ يُحْذَفُ الْفِعْلُ حَذْفًا جَوَازًا ... وَحَذْفًا وُجُوبًا»)।
তৃতীয় বিষয়: ফে‘ল ও ফায়িল উভয়টি একসাথে মাহযুফ হওয়া
মুসান্নিফ বলেছেন:
যে প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ (إيجاب) অথবা ‘না’ (نفي) দ্বারা দেওয়া হয়, সেই প্রশ্নের উত্তরে ফে‘ল এবং ফায়িল উভয়টিকে একসাথে জাওয়াযান মাহযুফ করা জায়েয।
বিশ্লেষণ: এখানে কেবল হরফে জওয়াব «نَعَمْ» বা «لَا» উল্লেখ করা হয়েছে, আর পুরো جملة فعلية (ফে‘ল ও ফায়িল)-কে মাহযুফ রাখা হয়েছে।
• মূল তাক্বদীর: «نَعَمْ قَامَ زَيْدٌ» অথবা «لَا مَا قَامَ زَيْدٌ»।
হুকুম: যেহেতু এটি জাওয়াযান মাহযুফ, তাই কেউ চাইলে পূর্ণ বাক্য উল্লেখ করে «نَعَمْ قَامَ زَيْدٌ» বলাও সম্পূর্ণ জায়েয।
خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ
- سؤال محقق (বাস্তব প্রশ্ন): «مَنْ قَامَ؟»-এর জবাবে শুধু «زَيْدٌ» বলা (তাক্বদীর: «قَامَ زَيْدٌ»)।
- سؤال مقدر (কাল্পনিক প্রশ্ন): শোকগাঁথায় «لِيَبْكِ يَزِيدَ ضَارِعٌ»-এ কাল্পনিক প্রশ্নের জবাবে «ضَارِعٌ»-এর ফে‘ল «يَبْكِي» মাহযুফ হওয়া।
باب الاشتغال ও হরফে শর্তের পরে: ﴿وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ﴾-এ পূর্ববর্তী ফে‘ল «اسْتَجَارَكَ» উজূবান মাহযুফ; কারণ اجتماع المفسر والمفسر ممنوع।
হ্যাঁ/না সূচক প্রশ্নের জবাবে (যেমন: «أَقَامَ زَيْدٌ؟»-এর জবাবে শুধু «نَعَمْ» বা «لَا» বলা — তাক্বদীর: «نَعَمْ قَامَ زَيْدٌ»)।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন