হোম কাফিয়া দরসে কাফিয়া (৩০) : الفاعل (ফায়িল)-এর তা'রীফ, ফায়ায়েদে কুয়ুদ এবং তাক্বদীম-তা'খীর সংক্রান্ত তাহকীক

দরসে কাফিয়া (৩০) : الفاعل (ফায়িল)-এর তা'রীফ, ফায়ায়েদে কুয়ুদ এবং তাক্বদীম-তা'খীর সংক্রান্ত তাহকীক

২৩ আগস্ট, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
কাফিয়া তারকীব দরসে কাফিয়া নাহব ফায়িল মারফুআত
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
দরস: ৩০ | ইলমে নাহব মূল বিষয়: مرفوعات-এর প্রথম প্রকার: الفاعل (ফায়িল)-এর তা'রীফ, ফায়ায়েদে কুয়ুদ, ফায়িলের স্থান ও ক্রম এবং «ضَرَبَ غُلَامَهُ زَيْدٌ» বনাম «ضَرَبَ غُلَامُهُ زَيْدًا» সংক্রান্ত মাসআলা।
[toc]
কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
فَمِنْهُ: الْفَاعِلُ، وَهُوَ مَا أُسْنِدَ إِلَيْهِ الْفِعْلُ أَوْ شِبْهُهُ، وَقُدِّمَ عَلَيْهِ عَلَى جِهَةِ قِيَامِهِ بِهِ، مِثْلُ: قَامَ زَيْدٌ، وَزَيْدٌ قَائِمٌ أَبُوهُ، وَالْأَصْلُ أَنْ يَلِيَ الْفِعْلَ، فَلِذٰلِكَ جَازَ: ضَرَبَ غُلَامَهُ زَيْدٌ، وَامْتَنَعَ: ضَرَبَ غُلَامُهُ زَيْدًا.

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"অতঃপর মারফূ‘আতের অন্তর্ভুক্ত হলো: ফায়িল (الْفَاعِلُ)। আর তা হলো এমন ইসম, যার দিকে কোনো ফে‘ল অথবা শবেহ ফে‘লকে সম্বন্ধযুক্ত (মুসনাদ) করা হয়েছে, এবং সেই ফে‘ল বা শবেহ ফে‘লকে উক্ত ইসমের পূর্বে মুকাদ্দাম করা হয়েছে এই পদ্ধতিতে যে, ফে‘ল বা শবেহ ফে‘লটি উক্ত ইসম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত/সংঘটিত হয়েছে। যেমন: «قَامَ زَيْدٌ» এবং «زَيْدٌ قَائِمٌ أَبُوهُ»। আর ফায়িলের আসল নিয়ম হলো তা ফে‘লের সাথে সংলগ্ন (متصل) থাকবে; আর এ কারণেই «ضَرَبَ غُلَامَهُ زَيْدٌ» বলা জায়েয, কিন্তু «ضَرَبَ غُلَامُهُ زَيْدًا» বলা নিষিদ্ধ (ممتنع)।"

দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):

আজকের দরসে মূলত চারটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ ও তাহকীকী আলোচনা করা হয়েছে:

  • প্রথম বিষয়: মারফূ‘আতের মধ্য থেকে ফায়িল (الفاعل)-কে সর্বাগ্রে উল্লেখ করার কারণ (وجہِ تقدیم)।
  • দ্বিতীয় বিষয়: ফায়িলের তা'রীফ (تعريف)।
  • তৃতীয় বিষয়: তা'রীফের ভেতরের ফায়ায়েদে কুয়ুদ।
  • চতুর্থ বিষয়: ফায়িলের আহকামের ১ম হুকুম: ফে‘লের সাথে ফায়িল সংলগ্ন থাকা এবং মাফ‘উল ও ফায়িলের তাক্বদীম-তা'খীর সংক্রান্ত মাসায়েল।

প্রথম বিষয়: ফায়িল-কে সর্বাগ্রে আনার কারণ (وجہِ تقدیم)

মারফূ‘আতের মোট ৮টি প্রকারের মধ্য থেকে মুসান্নিফ (المصنف) ফায়িল-কে সর্বপ্রথম আলোচনা করেছেন একটি বিশেষ ভাষাতাত্ত্বিক প্রাধান্যের কারণে:

জুমলাহ ফে‘লিয়্যাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভাব:

  • ফায়িল হলো جملة فعلية-এর মূল ভিত্তি বা عُمْدَة (মৌলিক ও অপরিহার্য অংশ)।
  • যেকোনো জুমলাহর মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রোতা (مخاطب)-কে একটি সুনির্দিষ্ট ও পরিপূর্ণ অর্থ বা সংবাদ প্রদান করা। আর জুমলাহ ফে‘লিয়্যাহর মধ্যে এই সংবাদ পৌঁছানোর শক্তি জুমলাহ ইসমিয়্যাহর চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ।
  • কারণ: জুমলাহ ফে‘লিয়্যাহর মধ্যে অতিরিক্তভাবে نسبت إلى الزمان (কালের সাথে ক্রিয়ার সরাসরি ও শক্তিশালী সম্পৃক্ততা) বিদ্যমান থাকে; যা জুমলাহ ইসমিয়্যাহর মধ্যে থাকে না।

সুতরাং বাক্যগত এই শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভাবের কারণেই মুসান্নিফ ফায়িল-কে মারফূ‘আতের শীর্ষে স্থান দিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিষয়: ফায়িলের তা'রীফ (تعريف)

মুসান্নিফ কাফিয়া কিতাবে ফায়িলের পূর্ণাঙ্গ তা'রীফ বয়ান করেছেন:

اَلْفَاعِلُ: هُوَ مَا أُسْنِدَ إِلَيْهِ الْفِعْلُ أَوْ شِبْهُهُ، وَقُدِّمَ عَلَيْهِ عَلَى جِهَةِ قِيَامِهِ بِهِ

অনুবাদ: "ফায়িল হলো এমন ইসম, যার দিকে কোনো ফে‘ল বা শবেহ ফে‘লকে মুসনাদ করা হয়েছে এবং সেই ফে‘ল বা শবেহ ফে‘লকে উক্ত ইসমের পূর্বে আনা হয়েছে এই পদ্ধতিতে যে, ফে‘ল বা শবেহ ফে‘লটি উক্ত ইসম দ্বারা সংঘটিত (صادر) হয়েছে।"

১. ফে‘লের উদাহরণ: «قَامَ زَيْدٌ» (যায়েদ দাঁড়িয়েছে)

এখানে «قَامَ» ফে‘লটি «زَيْدٌ»-এর দিকে মুসনাদ হয়েছে, ফে‘লটি পূর্বে এসেছে এবং দণ্ডায়মান হওয়ার কাজটি যায়েদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে।

২. শবেহ ফে‘লের উদাহরণ: «زَيْدٌ قَائِمٌ أَبُوهُ» (যায়েদ, যার পিতা দণ্ডায়মান)

এখানে «قَائِمٌ» শব্দটি শবেহ ফে‘ল (اسم فاعل); এটি «أَبُوهُ»-এর পূর্বে এসে তার দিকে মুসনাদ হয়েছে এবং তাকে ফায়িল হিসেবে রাফ‘ প্রদান করেছে।

তৃতীয় বিষয়: তা'রীফের ফায়ায়েদে কুয়ুদ

যুক্তিবিদ্যা (منطق) অনুসারে যেকোনো তা'রীফকে جامع (সবকিছুকে অন্তর্ভুক্তকারী) এবং مانع (বহির্ভূত বিষয়কে বর্জনকারী) হতে হয়। মুসান্নিফ এই তা'রীফে ১টি জিন্‌স (جنس) এবং ৩টি ফসল (فصل) কায়েম করেছেন:

১. «مَا» (الاسم — جنس):

এর মাধ্যমে সমস্ত প্রকার ইসম প্রাথমিকভাবে সংজ্ঞার পরিমণ্ডলে অন্তর্ভুক্ত হয়।

২. «أُسْنِدَ إِلَيْهِ الْفِعْلُ أَوْ شِبْهُهُ» (فصل اول):

এর দ্বারা সেই সমস্ত মুসনাদ ইলাইহি বের হয়ে যায় যার দিকে ফে‘লের পরিবর্তে অন্য কোনো ইসম সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে (যেমন: «زَيْدٌ أَبُوكَ»-এ যায়েদ মুসনাদ ইলাইহি হলেও তার দিকে কোনো ফে‘ল নিসবত হয়নি, বরং অপর একটি ইসম সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে)।

৩. «وَقُدِّمَ عَلَيْهِ» (فصل ثانی):

এর দ্বারা মুবতাদা বের হয়ে যায় যার পরে ফে‘ল আসে (যেমন: «زَيْدٌ ضَرَبَ» এবং «عَمْرٌو قَرَأَ»-এ «زَيْدٌ»«عَمْرٌو» হলো মুবতাদা, ফায়িল নয়; কারণ ফে‘ল পূর্বে আসেনি, বরং পরে এসেছে)।

৪. «عَلَى جِهَةِ قِيَامِهِ بِهِ» (فصل ثالث):

এর দ্বারা ফে‘লে মাজহূলের মা‘মূল অর্থাৎ নায়েবে ফায়িল (نائب فاعل) (যেমন: «ضُرِبَ زَيْدٌ») বের হয়ে যায়। কারণ যদিও «ضُرِبَ» ফে‘লটি «زَيْدٌ»-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং পূর্বেও এসেছে, কিন্তু প্রহারের কাজটি যায়েদ দ্বারা সংঘটিত (صادر) হয়নি; বরং যায়েদের ওপর তা আপতিত (واقع) হয়েছে।

চতুর্থ বিষয়: ফায়িলের ১ম হুকুম ও তাক্বদীম-তা'খীর সংক্রান্ত মাসায়েল

মুসান্নিফ বলেছেন: «وَالْأَصْلُ أَنْ يَلِيَ الْفِعْلَ» (ফায়িলের মূল ও স্বাভাবিক নিয়ম হলো তা কোনো ব্যবধান ছাড়াই সরাসরি ফে‘লের সাথে সংলগ্ন থাকবে)।

এই মূল ক্বায়দার ওপর ভিত্তি করে মুসান্নিফ দুটি সূক্ষ্ম বাক্যের বিধান বয়ান করেছেন:

১. «ضَرَبَ غُلَامَهُ زَيْدٌ» জায়েয হওয়ার কারণ:

তারকীব: «ضَرَبَ» ফে‘ল, «غُلَامَهُ» মাফ‘উল মুকাদ্দাম, এবং «زَيْدٌ» ফায়িল মুয়াখখার।

বিশ্লেষণ: এখানে «غُلَامَهُ»-এর ‘هُ’ যমীরটি ফিরেছে পরবর্তী ফায়িল «زَيْدٌ»-এর দিকে।

কেন জায়েয? বাহ্যত এটি إضمار قبل الذكر মনে হলেও মূলত «زَيْدٌ» শব্দটি ফায়িল হওয়ার কারণে মর্যাদাগতভাবে ও অবস্থানের দিক থেকে (رتبةً) মাফ‘উলের পূর্বেই অবস্থিত। আর আরবি ব্যাকরণের সর্বসম্মত কায়েদা হলো—শব্দগতভাবে (لفظاً) যমীর পূর্বে আসলেও মর্যাদাগতভাবে (رتبةً) মারজি‘ পূর্বে থাকলে তা إضمار قبل الذكر رتبةً হয়, যা সম্পূর্ণ জায়েয ও বিশুদ্ধ

২. «ضَرَبَ غُلَامُهُ زَيْدًا» নিষিদ্ধ (ممتنع) হওয়ার কারণ:

তারকীব: «ضَرَبَ» ফে‘ল, «غُلَامُهُ» ফায়িল মুকাদ্দাম, এবং «زَيْدًا» মাফ‘উল মুয়াখখার।

বিশ্লেষণ: এখানে «غُلَامُهُ»-এর ‘هُ’ যমীরটি ফিরেছে পরবর্তী মাফ‘উল «زَيْدًا»-এর দিকে।

কেন নাজায়েয? কারণ «زَيْدًا» শব্দটি মাফ‘উল হওয়ায় তা উচ্চারণেও (لفظاً) পরে এসেছে এবং মাফ‘উল হওয়ার কারণে মর্যাদাগতভাবেও (رتبةً) ফায়িলের পরে অবস্থিত। ফলে যমীরটি لفظاً এবং رتبةً উভয় দিক থেকেই তার মারজি‘র পূর্বে চলে এসেছে। আর إضمار قبل الذكر لفظاً ورتبةً জুমহূর নাহববিদদের নিকট সর্বসম্মতভাবে ممتنع ও সম্পূর্ণ বাতিল

ইমাম আখফাশ ও ইবনে জিন্নীর মাযহাব এবং জুমহূরের জবাব:

ইমাম আখফাশ এবং ‘আল-খাসাইস’ কিতাবের মুসান্নিফ ইমাম ইবনে জিন্নী (رحمهما الله) «ضَرَبَ غُلَامُهُ زَيْدًا»-এর মতো বাক্যকেও জায়েয মনে করেন।

তাঁদের দলিল (আরবি কবিতার পঙ্ক্তি):

جَزَى رَبُّهُ عَنِّي عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ ... جَزَاءَ الْكِلَابِ الْعَادِيَاتِ وَقَدْ فَعَلْ

(এখানে «رَبُّهُ» ফায়িলের ‘هُ’ যমীরটি পরবর্তী মাফ‘উল «عَدِيَّ»-এর দিকে ফিরেছে)।

জুমহূরের জবাব:

এই পঙ্ক্তিতে কেবল কবিতার ছন্দ ও ওযন রক্ষার জন্য অপরিহার্য কাব্যিক প্রয়োজনে (ضرورةِ شعرى) এটি ব্যবহার করা হয়েছে। কবিতার বিরল ও ব্যতিক্রমী প্রয়োগ দিয়ে আরবি ভাষার সাধারণ ব্যাকরণিক কায়েদা বাতিল হতে পারে না; সাধারণ গদ্যে ও কালামে এটি সম্পূর্ণ নাজায়েয।

خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ

ফায়িলের অগ্রাধিকার:

ফায়িল হলো جملة فعلية-এর عُمْدَة। জুমলাহ ফে‘লিয়্যাহতে نسبت إلى الزمان থাকায় তা অর্থ প্রকাশে অধিক প্রভাবশালী; তাই ফায়িলকে মারফূ‘আতের শীর্ষে আনা হয়েছে।

ফায়িলের তা'রীফ:

«هُوَ مَا أُسْنِدَ إِلَيْهِ الْفِعْلُ أَوْ شِبْهُهُ وَقُدِّمَ عَلَيْهِ عَلَى جِهَةِ قِيَامِهِ بِهِ» — অর্থাৎ এমন ইসম যার পূর্বে ফে‘ল বা শবেহ ফে‘ল এসে তার দিকে এমনভাবে সম্বন্ধযুক্ত হয় যে কাজটি তার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।

তা'রীফের ক্বায়দা সমূহ:
  • أُسْنِدَ إِلَيْهِ الْفِعْلُ: ইসমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত মুসনাদ ইলাইহি বের হয়ে যায়।
  • وَقُدِّمَ عَلَيْهِ: মুবতাদা (যার পর ফে‘ল আসে) বের হয়ে যায়।
  • عَلَى جِهَةِ قِيَامِهِ بِهِ: নায়েবে ফায়িল (যার ওপর কাজ আপতিত হয়) বের হয়ে যায়।
যমীর সংক্রান্ত দুটি মৌলিক বিধান:
  1. «ضَرَبَ غُلَامَهُ زَيْدٌ» (জায়েয): কারণ যমীরটি لفظاً পূর্বে হলেও ফায়িল رتبةً পূর্বে থাকে (إضمار قبل الذكر رتبةً জায়েয)।
  2. «ضَرَبَ غُلَامُهُ زَيْدًا» (নাজায়েয): কারণ যমীরটি لفظاً এবং رتبةً উভয় দিক থেকেই পূর্বে চলে এসেছে (إضمار قبل الذكر لفظاً ورتبةً সম্পূর্ণ মমতানি‘)।
মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন