হোম এলমে নাহব দরসে কাফিয়া (২৯) : مرفوعات-এর তা'রীফ, اعرابی সুরতসমূহ, مفرد-এর তাহকীক ও «عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ»

দরসে কাফিয়া (২৯) : مرفوعات-এর তা'রীফ, اعرابی সুরতসমূহ, مفرد-এর তাহকীক ও «عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ»

২৩ আগস্ট, ২০২৬ পড়তে ১ মিনিট লাগতে পারে
লেখা:
এলমে নাহব কাফিয়া দরসে কাফিয়া নাহব মারফুআত
পড়তে ভালো লাগছে না? শুনে নিন
দরস: ২৯ | ইলমে নাহব মূল বিষয়: مرفوعات-এর তা'রীফ, মারফূ‘আতকে পূর্বে আনার কারণ, «الْمَرْفُوعَاتُ» শব্দের اعرابی সুরতসমূহ, এর مفرد সংক্রান্ত তাহকীক এবং «عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ»-এর বিশদ বিশ্লেষণ।
[toc]
কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
اَلْمَرْفُوعَاتُ: هُوَ مَا اشْتَمَلَ عَلَى عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ.

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"মারফূ‘আত (الْمَرْفُوعَاتُ): মারফূ‘ হলো এমন ইসম, যা ফায়িলিয়্যাতের আলামত (عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ / কর্তৃপদের চিহ্ন)-কে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে।"

দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):

আজকের দরসে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ে বিশদ ও তাহকীকী আলোচনা করা হয়েছে:

  • প্রথম বিষয়: মারফূ‘আত-কে মানসূবাত ও মাজরূরাতের ওপর প্রাধান্য (وجہِ تقدیم) দেওয়ার কারণ।
  • দ্বিতীয় বিষয়: শিরোনামে উল্লেখিত «الْمَرْفُوعَاتُ» শব্দটির বিভিন্ন اعرابی (পড়ার) সুরত।
  • তৃতীয় বিষয়: «الْمَرْفُوعَاتُ»-এর مفرد (একবচন) সংক্রান্ত সূক্ষ্ম তাহকীক ও اشکال-এর সমাধান।
  • চতুর্থ বিষয়: মারফূ‘আতের তা'রীফ (تعريف) এবং «عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ»-এর হাকীকত।

প্রথম বিষয়: মারফূ‘আত-কে পূর্বে আনার কারণ (وجہِ تقدیم)

মুসান্নিফ (المصنف) যখন কিতাবের ভূমিকা (مقدمة) সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি মূল কিতাবের ৩টি প্রধান উদ্দেশ্যের (مقاصدِ ثلاثة: মারফূ‘আত, মানসূবাত ও মাজরূরাত) ১ম উদ্দেশ্য অর্থাৎ مرفوعات-এর আলোচনা শুরু করলেন।

মানসূবাত ও মাজরূরাতের ওপর মারফূ‘আতের অগ্রাধিকারের কারণ:

  • মারফূ‘আতের অধিকাংশ প্রকারই (যেমন: فاعل, نائب فاعل, مبتدأ, افعال ناقصة-এর ইসম, ما ولا المشبهتان بليس-এর ইসম ইত্যাদি) বাক্যে مسند إليه হয়ে থাকে।
  • আর আরবি ভাষায় مسند إليه হলো কালামের মূল ভিত্তি বা عُمْدَة (মৌলিক ও অপরিহার্য স্তম্ভ)।
  • পক্ষান্তরে منصوبات এবং مجرورات হলো বাক্যের فَضْلَة (অতিরিক্ত বা সম্পূরক অংশ)।

«اَلْعُمْدَةُ مُقَدَّمٌ عَلَى الْفَضْلَةِ»

(অর্থ: মৌলিক স্তম্ভ অতিরিক্ত বা সম্পূরক অংশের চেয়ে সর্বদা অগ্রগণ্য।)

তাই মুসান্নিফ عمدة হওয়ার কারণে مرفوعات-কে فضلة (منصوباتمجرورات)-এর ওপর প্রাধান্য দিয়ে সর্বাগ্রে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় বিষয়: «الْمَرْفُوعَاتُ» শব্দটির اعرابی সুরতসমূহ

কিতাবের শুরুতে শিরোনাম হিসেবে উল্লেখিত «الْمَرْفُوعَاتُ» শব্দটিকে ৩টি اعرابی অবস্থায় মোট ৬ ভাবে পড়া জায়েয:

১. مرفوع (মারফূ‘) পড়ার সুরতসমূহ (৩টি):
  • সুরত (ক): মাহযুফ মুবতাদার খবর হয়ে: «هٰذِهِ الْمَرْفُوعَاتُ» (এটি মারফূ‘আতের অধ্যায়)।
  • সুরত (খ): মাহযুফ খবরের মুবতাদা হয়ে: «الْمَرْفُوعَاتُ هٰذِهِ»
  • সুরত (গ): পরবর্তী পূর্ণ বাক্যকে খবর বানিয়ে স্বয়ং মুবতাদা হয়ে: «الْمَرْفُوعَاتُ هُوَ مَا اشْتَمَلَ...»
২. منصوب (মানসূব) পড়ার সুরত (১টি):

মাহযুফ ফে‘লের মাফ‘উল বিহ (مفعول به) হয়ে: «اِقْرَؤُوا الْمَرْفُوعَاتِ» (তোমরা মারফূ‘আত পাঠ করো) অথবা «اِشْرَعُوا الْمَرْفُوعَاتِ» (তোমরা মারফূ‘আতের আলোচনা শুরু করো)।

৩. مجرور (মাজরূর) পড়ার সুরতসমূহ (২টি):
  • সুরত (ক): মাহযুফ হরফে জারের মাধ্যমে মাজরূর হয়ে: «هٰذَا الْبَابُ فِي الْمَرْفُوعَاتِ»
  • সুরত (খ): মাহযুফ মুযাফের কারণে মাজরূর হয়ে: «هٰذَا بَحْثُ الْمَرْفُوعَاتِ»

তৃতীয় বিষয়: «الْمَرْفُوعَاتُ»-এর مفرد সংক্রান্ত তাহকীক

«الْمَرْفُوعَاتُ» শব্দটি জমা মুয়ান্নাস সালেম (جمع مؤنث سالم)-এর সীগাহ্। এর مفرد হলো «مَرْفُوعٌ» (মুফরাদ মুযাক্কার)।

একটি আপত্তি (اشکال) ও তার সমাধান (جواب):

আপত্তি (اشکال):

«مَرْفُوعٌ» তো মুফরাদ মুযাক্কারের সীগাহ্; সাধারণ ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী এর বহুবচন জমা মুযাক্কার সালেম অর্থাৎ «مَرْفُوعُونَ» হওয়া উচিত ছিল। একে জমা মুয়ান্নাস সালেমের রূপে «مَرْفُوعَاتٌ» কেন আনা হলো?

সমাধান (جواب):

আরবি ব্যাকরণের সুবিদিত মূলনীতি হলো:

جَمْعُ غَيْرِ الْعَاقِلِ بِالْأَلِفِ وَالتَّاءِ

অনুবাদ: "বিবেকহীন বা অচেতন সত্তার সিফাতসমূহের বহুবচন জমা মুয়ান্নাস সালেম অর্থাৎ আলিফ ও তা (الف ও تاء) যোগে গঠিত হয়।"

  • যেমন পবিত্র কুরআনুল কারীমে দিনসমূহের (অচেতন বস্তু) বিশেষণ হিসেবে এসেছে: ﴿فِي أَيَّامٍ خَالِيَاتٍ﴾
  • যেহেতু মারফূ‘আত কোনো মানুষ বা বিবেকবান সত্তা নয়, বরং তা ব্যাকরণিক শব্দ ও পরিভাষাসমূহ; তাই অচেতন বিষয়ের সিফাত হিসেবে এর বহুবচন জমা মুয়ান্নাস সালেম অর্থাৎ «مَرْفُوعَاتٌ» আনা হয়েছে।
«مَرْفُوعَةٌ»-এর বহুবচন না হওয়ার কারণ:

«الْمَرْفُوعَاتُ» শব্দটি মূলত «الِاسْمُ»-এর সিফাত। আর «الِاسْمُ» শব্দটি পুংলিঙ্গ (مذكر) হওয়ায় তার সিফাতও মুযাক্কার অর্থাৎ «مَرْفُوعٌ»। সুতরাং এটি মুযাক্কার «مَرْفُوعٌ»-এরই বহুবচন, স্ত্রীলিঙ্গ «مَرْفُوعَةٌ»-এর বহুবচন নয়।

চতুর্থ বিষয়: মারফূ‘আতের তা'রীফ ও «عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ»-এর তাহকীক

মুসান্নিফ কিতাবে মারফূ‘আতের তা'রীফ বয়ান করেছেন:

اَلْمَرْفُوعَاتُ: هُوَ مَا اشْتَمَلَ عَلَى عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ

অনুবাদ: "মারফূ‘ হলো এমন ইসম, যা ফায়িলিয়্যাতের আলামত [কর্তৃপদের চিহ্ন]-কে নিজের মধ্যে ধারণ করে।"

১. «هُوَ» যমীরের মারজি‘ (مرجع) বিশ্লেষণ:

ইবারতে উল্লেখিত «هُوَ» যমীরটি মুফরাদ মুযাক্কার। এটি বহুবচন «الْمَرْفُوعَاتُ»-এর দিকে সরাসরি ফিরতে পারে না। তাই «الْمَرْفُوعَاتُ» থেকে তার মূল مفرد মুযাক্কার সীগাহ্ «الْمَرْفُوعُ»-কে মাহযুফ মেনে «هُوَ» যমীরের মারজি‘ নির্ধারণ করা হয়েছে। (মূল তাক্বদীর হলো: «الْمَرْفُوعُ هُوَ مَا اشْتَمَلَ...»)।

২. «عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ» (ফায়িলিয়্যাতের আলামত)-এর রূপভেদ:

‘ফায়িলিয়্যাতের আলামত’ দ্বারা মূলত রাফ‘ (رفع)-এর সেই সমস্ত চিহ্নকে বোঝানো হয়েছে যা শব্দকে মারফূ‘ বানায়। এটি দুইভাবে বাস্তবায়িত হয়:

(ক) إعراب بالحركة-এর ক্ষেত্রে:

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ضمة (পেশ)। যেমন: «جَاءَنِي زَيْدٌ»

(খ) إعراب بالحرف-এর ক্ষেত্রে:

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো الف এবং واو

  • الف : تثنية-এর হালতে রাফ‘ঈতে। যেমন: «جَاءَنِي الزَّيْدَانِ»
  • واو : أسماء ستة مكبرة এবং جمع مذكر سالم-এর হালতে রাফ‘ঈতে। যেমন: «جَاءَنِي أَخُوكَ» এবং «جَاءَنِي مُسْلِمُونَ»

خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ

মারফূ‘আতের অগ্রাধিকার:

মারফূ‘আত হলো কালামের عُمْدَة (মৌলিক ভিত্তি / مسند إليه), আর মানসূবাত ও মাজরূরাত হলো فَضْلَة (অতিরিক্ত অংশ)। কায়েদা অনুযায়ী عمدة সর্বদা فضلة-এর পূর্বে আসে।

«الْمَرْفُوعَاتُ» পড়ার اعرابی সুরতসমূহ:

শব্দটিকে মুবতাদা, খবর, মাফ‘উল বিহ অথবা মাজরূর হিসেবে মারফূ‘, মানসূব ও মাজরূর—তিনভাবেই (মোট ৬ সুরতে) পড়া জায়েয।

مفرد ও বহুবচনের রূপ:

«الْمَرْفُوعَاتُ»-এর একবচন হলো মুযাক্কার «مَرْفُوعٌ»غير ذوي العقول হওয়ার কারণে এর বহুবচন জমা মুয়ান্নাস সালেম («مَرْفُوعَاتٌ») হয়েছে।

মারফূ‘আতের তা'রীফ ও عَلَمِ الْفَاعِلِيَّةِ:

মারফূ‘ হলো এমন ইসম যা ফায়িলিয়্যাতের আলামত ধারণ করে। ফায়িলিয়্যাতের আলামত হরকতের ক্ষেত্রে ضمة এবং হরফের ক্ষেত্রে الف (তাকনিয়ায়) ও واو (জমা মুযাক্কার সালেম ও আসমায়ে সিত্তাহয়)।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন