কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
ইবারতের সরল অনুবাদ:
"ওযনে ফে‘ল (وَزْنُ الْفِعْلِ)-এর শর্ত হলো: তা এমন ওযন হওয়া যা ফে‘লের সাথে খাস বা সুনির্দিষ্ট; যেমন: «شَمَّرَ» এবং «ضُرِبَ»; অথবা তার শুরুতে ফে‘লের অতিরিক্ত হরফের ন্যায় অতিরিক্ত হরফ (حروف أتين) থাকা এমতাবস্থায় যে তা গোল ‘তা’ (تاء مدورة / ة) গ্রহণ করবে না। আর এ কারণেই ‘আহমার’ (أَحْمَرُ) গায়রে মুনসারিফ হয়েছে এবং ‘ইয়া‘মাল’ (يَعْمَلُ) মুনসারিফ হয়েছে।"
দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):
আজকের দরসে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে বিশদ ও তাহকীকী আলোচনা করা হয়েছে:
- প্রথম বিষয়: وَزْنُ الْفِعْلِ-এর তা'রীফ (تعريف) এবং এর প্রসিদ্ধ ওযনসমূহ।
- দ্বিতীয় বিষয়: ওযনে ফে‘ল গায়রে মুনসারিফের কারণ হওয়ার দুটি বিকল্প শর্ত।
- তৃতীয় বিষয়: উক্ত শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত ভাষাতাত্ত্বিক কারণ ও যৌক্তিকতা (شرائط کی وجہ)।
প্রথম বিষয়: وَزْنُ الْفِعْلِ-এর তা'রীফ ও প্রসিদ্ধ ওযনসমূহ
১. ইস্তিলাহী তা'রীফ (পারিভাষিক সংজ্ঞা):
নাহব শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় ওযনে ফে‘ল বলা হয়:
অনুবাদ: "কোনো ইসমের এমন কোনো ওযনে গঠিত হওয়া যা ফে‘লের জন্য নির্ধারিত বা ফে‘লের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ওযনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"
২. আরবি ভাষায় ওযনে ফে‘লের প্রসিদ্ধ রূপসমূহ:
- «شَمَّرَ» : বাব তাফঈল থেকে فَعَّلَ ওযনে।
- «ضُرِبَ» : মাযী মাজহূল থেকে فُعِلَ ওযনে।
- «أَحْمَدُ» : أَفْعَلُ ওযনে — হামযা (أ) দ্বারা।
- «يَزِيدُ» এবং «يَشْكُرُ» : يَفْعِلُ ও يَفْعُلُ ওযনে — ইয়া (ي) দ্বারা।
- «تَغْلِبُ» এবং «تَدْمُرُ» : تَفْعِلُ ও تَفْعُلُ ওযনে — তা (ت) দ্বারা।
- «نَرْجِسُ» : نَفْعِلُ ওযনে — নূন (ن) দ্বারা।
দ্বিতীয় বিষয়: ওযনে ফে‘ল গায়রে মুনসারিফ হওয়ার দুটি শর্ত
মুসান্নিফ (المصنف) কিতাবে বয়ান করেছেন যে, কোনো শব্দে ওযনে ফে‘ল কার্যকর হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত দুটি শর্তের যেকোনো একটি শর্ত পাওয়া যাওয়া অপরিহার্য:
ওযনে ফে‘ল-এর দুটি বিকল্প শর্ত
১ম শর্ত: ওযনটি সরাসরি ফে‘লের সাথে খাস (خاص بالفعل) হওয়া:
শব্দটির ওযন এমন হতে হবে যা মূল ভাষাগত সৃষ্টিতে (اصل وضع) কেবল ফে‘লের জন্যই ব্যবহৃত হয়, ইসমের ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয় না। পরবর্তীতে উক্ত ফে‘ল থেকে কোনো সত্তার ব্যক্তিনাম (اسم علم) হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে।
এটি মূলত باب تفعيل থেকে ফে‘লে মাযী মা‘রূফের প্রথম সীগাহ্; যার আভিধানিক অর্থ: ‘কাপড় গুটিয়ে দ্রুত চলার প্রস্তুতি নেওয়া’। পরবর্তীতে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের একটি অত্যন্ত দ্রুতগামী ও তেজস্বী ঘোড়ার নাম রাখা হয়েছিল «شَمَّرَ» (কারণ দৌড়ানোর সময় ঘোড়াটি লেজ গুটিয়ে ক্ষিপ্রগতিতে ছুটত)। ঘোড়ার নাম হওয়ার পর এটি العلمية এবং وَزْنُ الْفِعْلِ-এর কারণে غَيْرُ مُنْصَرِفٍ হয়েছে।
এটি ফে‘লে মাযী মাজহূলের সীগাহ্। যদি এটি দ্বারা কোনো ব্যক্তির নাম রাখা হয়, তবে এটিও গায়রে মুনসারিফ হবে।
মাযী মা‘রূফের সাধারণ ওযন «فَعَلَ» (যেমন: ضَرَبَ) ইসমের মধ্যেও প্রচুর ব্যবহৃত হয় (যেমন: «قَلَمٌ», «شَجَرٌ»)। কিন্তু মাজহূলের ওযন «فُعِلَ» এবং তাফঈলের ওযন «فَعَّلَ» কেবল ফে‘লের সাথেই খাস; তাই মুসান্নিফ এমন সুনির্দিষ্ট উদাহরণ এনেছেন যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।
২য় শর্ত: ফে‘লের সাথে খাস না হলে শুরুতে ‘আতাইনা’ থাকা এবং ‘তা’ গ্রহণ না করা:
শব্দটির ওযন যদি কেবল ফে‘লের সাথে খাস না হয় (অর্থাৎ ইসম ও ফে‘ল উভয়ের মাঝে প্রচলিত হয়), তবে তাকে দুটি উপ-শর্ত পূর্ণ করতে হবে:
- শব্দের শুরুতে ফে‘লে মুযারে‘-এর অতিরিক্ত হরফসমূহের (حروف أتين — أ، ت، ي، ن) কোনো একটি হরফ অতিরিক্ত হিসেবে বিদ্যমান থাকতে হবে।
- শব্দের শেষে স্ত্রীলিঙ্গের গোল ‘তা’ (تاء مدورة / ة) গ্রহণ করা চলবে না (غير قابل للتاء হতে হবে)।
«أَفْعَلُ» ওযনটি ফে‘লের সাথে খাস নয়। তা সত্ত্বেও «أَحْمَرُ»-এর শুরুতে حروف أتين-এর হামযা (أ) রয়েছে এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ আসে «حَمْرَاءُ» (আলিফে মামদূদাহসহ); অর্থাৎ এর শেষে কখনো গোল ‘তা’ আসে না («أَحْمَرَةٌ» বলা নাজায়েয)। ফলে উভয় উপ-শর্ত পূর্ণ থাকায় এটি وَصْف এবং وَزْنُ الْفِعْل-এর কারণে সর্বসম্মতভাবে غَيْرُ مُنْصَرِفٍ।
«يَعْمَلُ» (কর্মঠ ও দ্রুতগামী উট)-এর শুরুতে حروف أتين-এর ‘ইয়া’ (ي) থাকা সত্ত্বেও এটি গায়রে মুনসারিফ নয়, বরং তানভীন ও যেরসহ مُنْصَرِفٌ। কারণ: এর স্ত্রীলিঙ্গে গোল ‘তা’ প্রবেশ করে থাকে; যেমন আরবরা বলে: «نَاقَةٌ يَعْمَلَةٌ» (কর্মঠ উষ্ট্রী)। যেহেতু এটি গোল ‘তা’ গ্রহণ করে ফেলেছে, তাই ফে‘লের সাথে এর ওযনগত সাদৃশ্য বিনষ্ট হয়ে এটি মুনসারিফে পরিণত হয়েছে।
তৃতীয় বিষয়: শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত ভাষাতাত্ত্বিক কারণ
১. ১ম শর্ত (أن يختص به)-এর হিকমত:
যে ওযন সরাসরি ফে‘লের সাথে খাস, তাতে ফে‘লিয়্যাতের প্রচুর শাব্দিক ভার বা ثقل বিদ্যমান থাকে। এই ثقل শব্দটিকে এতটাই ভারী করে তোলে যে তা অতিরিক্ত কোনো উপ-শর্তের মুখাপেক্ষী ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মান‘-এ সারফের শক্তিশালী কারণে রূপ নেয়।
২. ২য় শর্তের ১ম অংশ (حروف أتين থাকা)-এর হিকমত:
যে ওযন ফে‘লের সাথে খাস নয় (অর্থাৎ ইসমের সাথে সাধারণ), তাতে ফে‘লের সাথে বিশেষ সাদৃশ্য তৈরির জন্য শুরুতে মুযারে‘-এর আলামত ‘আতাইনা’ থাকা আবশ্যক করা হয়েছে; যাতে অন্তত শব্দের বাহ্যিক অবয়বে ফে‘লের পূর্ণ রূপ প্রকাশ পায়।
৩. ২য় শর্তের ২য় অংশ (تاء مدورة গ্রহণ না করা)-এর হিকমত:
গোল ‘তা’ (ة) হলো খাঁটি ইসমের আলামত (علامة الاسم)। কোনো ফে‘লের শেষে কখনো গোল ‘তা’ যুক্ত হতে পারে না। কোনো শব্দ যদি গোল ‘তা’ গ্রহণ করে নেয়, তবে তা শতভাগ ইসমের স্বভাবে ফিরে যায় এবং ফে‘লের সাথে তার সাদৃশ্য সম্পূর্ণরূপে মুছে যায়। তাই ফে‘লের সাদৃশ্য অটুট রাখতে গোল ‘তা’ বর্জন করাকে আবশ্যক করা হয়েছে।
خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ
কোনো ইসমের ফে‘লের নির্দিষ্ট ওযনে গঠিত হওয়া।
- ১ম শর্ত: ওযনটি সরাসরি ফে‘লের সাথে খাস হওয়া (যেমন: «شَمَّرَ» এবং «ضُرِبَ»)।
-
২য় শর্ত: ওযনটি ফে‘লের সাথে খাস না হলে—
- শুরুতে حروف أتين (أ، ت، ي، ن)-এর কোনো একটি হরফ অতিরিক্ত থাকা।
- শব্দের শেষে تاء مدورة (গোল ‘তা’) গ্রহণ না করা।
- «أَحْمَرُ» (غَيْرُ مُنْصَرِفٍ): কারণ এর শুরুতে হামযা আছে এবং স্ত্রীলিঙ্গ «حَمْرَاءُ» হওয়ায় গোল ‘তা’ গ্রহণ করে না।
- «يَعْمَلُ» (مُنْصَرِفٌ): কারণ এর শুরুতে ‘ইয়া’ থাকলেও স্ত্রীলিঙ্গে গোল ‘তা’ আসে («يَعْمَلَةٌ»)।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন