কিতাবের মূল ইবারত (المتن الأصلي) (অর্থ দেখতে শব্দের ওপর স্পর্শ/ক্লিক করুন)
ইবারতের সরল অনুবাদ:
"আলিফ ও নূন যায়েদাতান (اَلْأَلِفُ وَالنُّونُ الزَّائِدَتَانِ) যদি কোনো ইসম জামেদ (اسم جامد)-এর মধ্যে থাকে, তবে তার (গায়রে মুনসারিফ হওয়ার) শর্ত হলো ‘আলামিয়্যাত (العلمية / সুনির্দিষ্ট নাম হওয়া); যেমন: «عِمْرَانُ»। আর যদি কোনো সিফাত (صفت)-এর মধ্যে থাকে, তবে তার শর্ত হলো স্ত্রীলিঙ্গ ‘ফা‘লানাহ’ (فَعْلَانَة)-এর ওযনে না আসা (انتفاء فعلانة); আবার কারো কারো মতে স্ত্রীলিঙ্গ ‘ফা‘লা’ (فَعْلَى)-এর ওযনে বিদ্যমান থাকা (وجود فعلى)। আর এ কারণেই ‘রাহমান’ (رَحْمٰنُ)-এর ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে, কিন্তু ‘সাকরান’ (سَكْرَانُ) এবং ‘নাদমান’ (نَدْمَانُ)-এর ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই।"
দরসের মূল রূপরেখা (تشریح):
আজকের দরসে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ে বিশদ ও তাহকীকী আলোচনা করা হয়েছে:
- প্রথম বিষয়: الف نون زائدتان-এর নামকরণ এবং গায়রে মুনসারিফের কারণ হওয়ার অন্তর্নিহিত হিকমত।
- দ্বিতীয় বিষয়: এর গায়রে মুনসারিফ হওয়ার আবশ্যকীয় শর্তাবলি।
- তৃতীয় বিষয়: উক্ত শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত যৌক্তিক কারণসমূহ।
- চতুর্থ বিষয়: «وَمِنْ ثَمَّ اخْتُلِفَ...»-এর প্রায়োগিক শাখা এবং «رَحْمٰنُ», «سَكْرَانُ» ও «نَدْمَانُ»-এর ব্যাকরণিক পর্যালোচনা।
প্রথম বিষয়: الف نون زائدتان-এর নামকরণ ও কারণ হওয়ার হিকমত
উলামায়ে নাহব-এর পরিভাষায় এই বিশেষ কারণটির দুটি সুপ্রসিদ্ধ নাম রয়েছে:
শব্দের মূল বর্ণসমূহ (حروف اصلية)-এর অতিরিক্ত হিসেবে এই দুটি বর্ণ শব্দের শেষে যুক্ত হওয়ার কারণে এদের ‘যায়েদাতান’ (অতিরিক্ত) বলা হয়। যেমন: «عِمْرَانُ» (যার মূল বর্ণ: ع-م-ر) এবং «سَكْرَانُ» (যার মূল বর্ণ: س-ك-ر)।
আরবি ভাষায় ‘মুদারা‘আত’ (مضارعة) অর্থ হলো সাদৃশ্য। যেহেতু এই দুটি হরফ আলিফে তানীস মামদূদাহ (ألف التأنيث الممدودة যেমন: حَمْرَاءُ)-এর সাথে গভীর সাদৃশ্য রাখে, তাই এদেরকে ‘মুদারিয়াতান’ বলা হয়।
মান‘-এ সারফের কারণ হওয়ার হিকমত (মাযহাবসমূহ):
কূফী আলেমগণের মতে: অন্যান্য আসবাবে মান‘-এ সারফের মতো এটিও একটি শাখা (فرع)। যেমন: «عِمْرَانُ»-এ প্রথম তিনটি বর্ণ হলো মূল (اصل), আর শেষের ‘আলিফ ও নূন’ হলো তার অতিরিক্ত শাখা (فرع)।
বসরী আলেমগণের মতে: এদের মূল ভিত্তি হলো ألف التأنيث الممدودة-এর সাথে সাদৃশ্য রক্ষা করা। আলিফে মামদূদাহর শেষে যেমন কখনো গোল ‘তা’ (ة) যুক্ত হতে পারে না, ঠিক তেমনি গায়রে মুনসারিফ হওয়ার জন্য ‘ফা‘লান’ (فَعْلَانُ)-এর শেষেও গোল ‘তা’ যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয় বিষয়: الف نون زائدتان-এর গায়রে মুনসারিফ হওয়ার শর্তাবলি
আলিফ ও নূন যায়েদাতান সংবলিত শব্দ মূলত দুই ধরনের হালতে ব্যবহৃত হয়:
শর্তাবলির কাঠামোগত রূপরেখা
১. ইসম জামেদ (اسم جامد) হলে:
একমাত্র শর্ত: الْعَلَمِيَّةُ (সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, স্থান বা বস্তুর নাম হওয়া)।
দৃষ্টান্ত: «عِمْرَانُ», «عُثْمَانُ», «سَلْمَانُ»।
২. ইসম সিফাত (اسم صفت) হলে (দুটি মাযহাব):
শর্ত হলো انْتِفَاءُ فَعْلَانَةَ (স্ত্রীলিঙ্গ গঠনের সময় যেন শব্দের শেষে গোল ‘তা’ যুক্ত হয়ে ‘ফা‘লানাহ’ ওযনে না আসে)।
যেমন: «خَصْمَانُ»-এর স্ত্রীলিঙ্গ «خَصْمَانَةٌ» আসায় এটি মুনসারিফ; কিন্তু «سَكْرَانُ»-এর স্ত্রীলিঙ্গ «سَكْرَانَةٌ» আসে না বিধায় এটি গায়রে মুনসারিফ।
শর্ত হলো وُجُودُ فَعْلَى (স্ত্রীলিঙ্গটি অবশ্যই ‘ফা‘লা’ ওযনে কার্যকর ও বিদ্যমান থাকতে হবে)।
মুসান্নিফ কেন একে দুর্বল (قِيلَ) বললেন?
কারণ এই শর্ত মানলে আরবে প্রচলিত বিশুদ্ধ শব্দ—যেমন: «غَضْبَانُ» (রাগান্বিত — যার স্ত্রীলিঙ্গ غَضْبَى)-এর ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা দেখা দেয়, যা বিশুদ্ধ আরব্য ব্যবহারের পরিপন্থী।
তৃতীয় বিষয়: শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত কারণসমূহ
১. ইসম জামেদে العلمية শর্তের হিকমত:
অতিরিক্ত বর্ণসমূহ (حروف زائدة) সবসময় বিলুপ্ত ও পরিবর্তিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। ‘আলামিয়্যাত শব্দকে একটি সুরক্ষিত দুর্গের ন্যায় সংরক্ষণ করে। তাই আলিফ ও নূনের অতিরিক্ততাকে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় রূপ দিতে এর সাথে العلمية-এর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
২. ইসম সিফাতে انتفاء فعلانة শর্তের হিকমত:
অতিরিক্ত আলিফ ও নূনের মূল শক্তি হলো ألف التأنيث الممدودة-এর সাথে সাদৃশ্য রক্ষা করা। আর আলিফে মামদূদাহর সাথে সাদৃশ্যের মূল ভিত্তিই হলো কোনো অবস্থাতেই গোল ‘তা’ (ة) গ্রহণ না করা। যদি এর শেষে ‘তা’ যুক্ত হয়ে «فَعْلَانَةٌ» হয়ে যায়, তবে সেই সাদৃশ্য সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যাবে এবং শব্দটি মুনসারিফে পরিণত হবে।
চতুর্থ বিষয়: «وَمِنْ ثَمَّ اخْتُلِفَ...»-এর প্রায়োগিক শাখা ও ৩টি দৃষ্টান্ত
সিফাতের শর্তের মধ্যে দুটি ভিন্ন মাযহাব থাকার কারণে ৩টি সুনির্দিষ্ট শব্দের হুকুমের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য দেখা দিয়েছে:
১. «رَحْمٰنُ» (পরম দয়ালু — মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম):
এটি غَيْرُ مُنْصَرِفٍ। কারণ মহান আল্লাহর এই পবিত্র সিফাতের কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপই সৃষ্টি হতে পারে না; আর স্ত্রীলিঙ্গ না থাকা মানেই তা «فَعْلَانَةٌ» ওযনে আসেনি। ফলে ‘ফা‘লানাহ না হওয়া’-এর শর্তটি পূর্ণ হওয়ায় এটি গায়রে মুনসারিফ।
এটি مُنْصَرِفٌ। কারণ আল্লাহর কোনো স্ত্রীলিঙ্গ না থাকায় এর কোনো «فَعْلَى» (রাহমা)-ও বাস্তবে ব্যবহৃত নেই; ফলে ২য় শর্তটি অনুপস্থিত থাকায় তাদের মতে এটি মুনসারিফ।
২. «سَكْرَانُ» (মাতাল):
হুকুম: এটি সর্বসম্মতভাবে غَيْرُ مُنْصَرِفٍ।
কারণ: এর স্ত্রীলিঙ্গ আরবে ব্যবহৃত হয় «سَكْرَى» (ফা‘লা-এর ওযনে)। এখানে উভয় শর্তই পূর্ণরূপে বিদ্যমান: এতে «فَعْلَانَةٌ»-ও নেই এবং «فَعْلَى»-ও বিদ্যমান রয়েছে।
৩. «نَدْمَانُ» (অর্থভেদে দুটি ভিন্ন হুকুম):
এর স্ত্রীলিঙ্গ আসে «نَدْمَانَةٌ» (ফা‘লানাহ)।
হুকুম: এটি সর্বসম্মতভাবে مُنْصَرِفٌ; কারণ গোল ‘তা’ আসার ফলে انتفاء فعلانة-এর শর্তটি ভেঙে গেছে।
এর স্ত্রীলিঙ্গ আসে «نَدْمَى» (ফা‘লা)।
হুকুম: এটি সর্বসম্মতভাবে غَيْرُ مُنْصَرِفٍ; কারণ এতে উভয় শর্তই পূর্ণ রয়েছে।
خلاصة الدرس : দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ
শব্দের মূল বর্ণের অতিরিক্ত হিসেবে শেষে ‘আলিফ ও নূন’ যুক্ত হওয়া।
- اسم جامد-এর ক্ষেত্রে: العلمية (নির্দিষ্ট নাম) হওয়া ওয়াজিব (যেমন: «عِمْرَانُ»)।
- اسم صفت-এর ক্ষেত্রে: انتفاء فعلانة (স্ত্রীলিঙ্গে ‘তা’ না আসা) আবশ্যক (যেমন: «سَكْرَانُ» → «سَكْرَى»)।
- «رَحْمٰنُ»: রাজেহ মতে غير منصرف (কারণ আল্লাহর সিফাতে স্ত্রীলিঙ্গ ‘ফা‘লানাহ’ হওয়া অসম্ভব)।
- «سَكْرَانُ»: সর্বসম্মতভাবে غير منصرف (উভয় শর্ত পূর্ণ থাকায়)।
-
«نَدْمَانُ»:
- অনুতপ্ত (نادم) অর্থে হলে منصرف (স্ত্রীলিঙ্গ: ندمانة)।
- পানসঙ্গী বা সহচর (نديم) অর্থে হলে غير منصرف (স্ত্রীলিঙ্গ: ندمى)।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন