المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"আর এর (গায়রে মুনসারিফের) হুকুম হলো: এতে কাসরাহ (کسرة) এবং তানভীন (تنوين) আসবে না। তবে কবিতার অপরিহার্য প্রয়োজনে (ضرورةِ شعرى) অথবা ছন্দ ও শব্দগত পারস্পরিক সামঞ্জস্যের কারণে (تناسب) একে মুনসারিফ পড়া জায়েয; যেমন পবিত্র কুরআনের বাণী: ﴿سَلَاسِلَا وَأَغْلَالًا﴾। আর যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত (قائم مقام) হয়, তা হলো: জমা (جمع منتهى الجموع) এবং তা’নীসের দুই আলিফ (ألفا التأنيث)।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত চারটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- গায়রে মুনসারিফের হুকুম।
- গায়রে মুনসারিফে কাসরাহ (যের) ও তানভীন না আসার অন্তর্নিহিত কারণ।
- গায়রে মুনসারিফকে মুনসারিফ বানিয়ে পড়ার ক্ষেত্রসমূহ (ضرورتِ شعری ও تناسب)।
- দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত (قائم مقامِ سببین) কারণদ্বয়ের গভীর পর্যালোচনা।
প্রথম বিষয়: গায়রে মুনসারিফের হুকুম
মুসান্নিফ (المصنف) গায়রে মুনসারিফের তা'রীফ ও তার ৯টি কারণ বয়ান করার পর এর বিধান উল্লেখ করেছেন:
গায়রে মুনসারিফে কখনো کسرة (যের) এবং تنوين প্রবেশ করতে পারে না। অর্থাৎ হালতে রাফ‘ঈতে তানভীন ছাড়া ضمة হবে এবং হালতে নাসবী ও জাররীতে তানভীন ছাড়া فتحة হবে।
দ্বিতীয় বিষয়: গায়রে মুনসারিফে কাসরাহ ও তানভীন না আসার কারণ
فعل (ক্রিয়া)-এর সাথে গভীর সাদৃশ্য:
আরবি ভাষায় ক্রিয়া বা فعل-এর মধ্যে দুটি মৌলিক দিক থেকে শাখা বা فرع বিদ্যমান:
- معنوی (অর্থগত) দিক থেকে: ফে‘ল তার অস্তিত্ব প্রকাশের জন্য فاعل-এর মুখাপেক্ষী। আর فاعل যেহেতু ইসম, তাই ফে‘ল হলো ইসমের শাখা।
- لفظی / اشتقاقی (শব্দগত) দিক থেকে: ফে‘ল উৎপন্ন হয় مصدر থেকে। আর মাসদার যেহেতু একটি ইসম, তাই ফে‘ল শব্দগতভাবেও ইসমের শাখা।
গায়রে মুনসারিফে দুই শাখার উপস্থিতি:
অনুরূপভাবে গায়রে মুনসারিফের মধ্যেও ৯টি কারণের মধ্য থেকে দুটি কারণ (বা দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত এক কারণ) থাকার দ্বারা দুটি فرع বা শাখা পাওয়া যায়:
সিদ্ধান্ত: যেহেতু ফে‘লের ওপর কখনোই کسرة (যের) এবং تنوين প্রবেশ করতে পারে না, তাই ফে‘লের সাথে হুবহু সাদৃশ্য বজায় রাখতে গিয়ে গায়রে মুনসারিফেও کسرة ও تنوين প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তৃতীয় বিষয়: গায়রে মুনসারিফকে মুনসারিফ পড়ার ক্ষেত্রসমূহ
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَيَجُوزُ صَرْفُهُ لِلضَّرُورَةِ أَوِ التَّنَاسُبِ»। অর্থাৎ দুটি বিশেষ অবস্থায় গায়রে মুনসারিফকে মুনসারিফ বানিয়ে তানভীন ও কাসরাহসহ পড়া জায়েয:
কবিতার ছন্দ ও ওযন রক্ষার জন্য
শব্দ ও সুরের সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য
১. ضَرُورَتِ شِعْرِي (কবিতার অপরিহার্য প্রয়োজনে):
কবিতার গঠন ও ছন্দ ঠিক রাখার স্বার্থে গায়রে মুনসারিফকে মুনসারিফ পড়া যায়। এটি ৩টি কারণে হতে পারে:
গায়রে মুনসারিফকে গায়রে মুনসারিফ হিসেবে পড়লে যদি কবিতার بحر বা ছন্দ ভেঙে যায়, তবে তানভীন দিয়ে পড়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
দৃষ্টান্ত: সায়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমা (رضي الله عنها) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রওজা মোবারকের পবিত্র ধূলিকণা চোখে লাগিয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় যে পঙ্ক্তি পাঠ করেছিলেন:
«صُبَّتْ عَلَيَّ مَصَائِبُ لَوْ أَنَّهَا ... صُبَّتْ عَلَى الْأَيَّامِ صِرْنَ لَيَالِيَا»
দৃষ্টান্ত: হযরত আলী (رضي الله عنه)-এর কবিতা:
«بَشِيرٍ نَذِيرٍ هَاشِمِيٍّ مُكَرَّمٍ ... عَطُوفٍ رَؤُوفٍ مَنْ يُسَمَّى بِأَحْمَدِ»
যেমন ইমাম শাফেয়ী (رحمه الله) ইমাম আবু হানীফা (رحمه الله)-এর প্রশংসায় বলেছেন:
২. التَّنَاسُب (ছন্দ ও শব্দগত পারস্পরিক সামঞ্জস্য):
যখন কোনো বাক্যে একটি মুনসারিফ শব্দের পাশে গায়রে মুনসারিফ শব্দ আসে, তখন মুনসারিফের সাহচর্যের কারণে গায়রে মুনসারিফকেও তানভীন দিয়ে মুনসারিফ পড়া জায়েয হয়। (যেমন ফার্সি প্রবাদ: «صُحْبَتِ صَالِح تُرَا صَالِح كُنَدْ» — সৎসঙ্গ মানুষকে সৎ বানায়)।
কুরআনী দলিল:
বিশ্লেষণ: এখানে «سَلَاسِلَ» শব্দটি صيغة منتهى الجموع হিসেবে গায়রে মুনসারিফ। কিন্তু পরবর্তী শব্দ «أَغْلَالًا» এবং «سَعِيرًا» মুনসারিফ ও তানভীনযুক্ত হওয়ায় তাদের সাথে শাব্দিক ও অর্থগত تناسب বজায় রাখতে এক ক্বিরাআতে একে তানভীনসহ «سَلَاسِلًا» পড়া হয়েছে।
• لفظی মিল: পাশাপাশি শব্দ হিসেবে একই ছন্দে আসা।
• معنوی মিল: «سلاسل» (শিকল) এবং «أغلال» (বেড়ি)—উভয়টিই জাহান্নামের শাস্তির উপকরণ।
চতুর্থ বিষয়: قائم مقام سببین (দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত কারণসমূহ)
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَمَا يَقُومُ مَقَامَهُمَا الْجَمْعُ وَأَلِفَا التَّأْنِيثِ»। মান‘-এ সারফের ৯টি কারণের মধ্যে দুটি কারণ এমন শক্তিশালী যা একাই দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত:
(الف مقصورة ও الف ممدودة)
(مَفَاعِلُ ও مَفَاعِيلُ-এর ওযন)
১. أَلِفَا التَّأْنِيثِ (তা’নীসের দুই আলিফ: الف مقصورة ও الف ممدودة):
কেন এটি দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত?
• ১ম কারণ: এতে স্বয়ং স্ত্রীলিঙ্গ বা تَأْنِيث বিদ্যমান।
• ২য় কারণ: এতে রয়েছে لُزُومُ التَّأْنِيث (তা’নীসটি শব্দের সাথে চিরস্থায়ীভাবে অবিচ্ছেদ্য থাকা; গোল ‘ة’-এর মতো শব্দ থেকে পৃথক হতে পারে না)।
এই চিরস্থায়ী লুযূম (لزوم) নিজেই একটি স্বতন্ত্র তা’নীসের হুকুমে। ফলে শব্দটিতে যুগপৎ দুটি তা’নীস একত্রিত হওয়ার কারণে এটি দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত।
উদাহরণ: «حُبْلَى» (الف مقصورة) এবং «حَمْرَاءُ» (الف ممدودة)।
২. جَمْعُ مُنْتَهَى الْجُمُوعِ (জমা মুনতাহাল জুমূ‘):
কেন এটি দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত?
কারণ এতে বহুবচনের পুনরাবৃত্তি বা تِكْرَارُ الْجَمْعِ (বহুবচনের ওপর বহুবচন) বিদ্যমান। এই تکرار দুইভাবে হতে পারে:
- تكرار حقيقي (প্রকৃত পুনরাবৃত্তি): যেখানে বাস্তবেও বহুবচনের ওপর আবার বহুবচন গঠিত হয়। যেমন: «كَلْبٌ» (একবচন) → «أَكْلُبٌ» (জমা) → «أَكَالِبُ» (জমাউল জমা / মুনতাহাল জুমূ‘)।
- تكرار حكمي (হুকমী পুনরাবৃত্তি): যেখানে বাস্তবে পূর্বে জমা না থাকলেও শব্দটি সরাসরি صيغة منتهى الجموع-এর ওযনে (যেমন: «مَفَاعِلُ» বা «مَفَاعِيلُ») গঠিত হয়। যেমন: «مَسَاجِدُ» এবং «مَصَابِيحُ»।
যেহেতু এই ওযনে পৌঁছানোর পর আরবিতে আর কোনো বহুবচন গঠন করা সম্ভব নয়, তাই এই ওজনটি হুকমীভাবে দুইবার জমা হওয়ার মর্যাদা রাখে। ফলে এটি একাই দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন